ইসলামে পীরের স্থান–
মুসলমানরা কেউ পীর মানে,কেউ মানে না৷যারা মানে তাদের আক্রমণ করে যারা মানে না তারা,কখনও মাজার ভাঙ্গে৷আবার মুসলমানরাই দাবী করছে মহম্মদ ই প্রথম পীর কে মান্যতা দিয়েছে তাহলে অন্যরা আবার অমান্য করে কি করে?ওদের কিছু বক্তব্য,প্রশ্ন,উত্তর তুলে ধরলাম৷
পীর সম্পর্কে ১৫ টি চ্যালেঞ্জের প্রশ্নের উত্তর
প্রশ্ন।১। পৃথিবীর ইতিহাসে প্রথম পীর কে?
উত্তর: যেভাবে জানতে চেয়েছেন, ওভাবেই বলছি, পীরের সংজ্ঞা হচ্ছে, সাধারণত যে ওলী-আল্লাহ অন্তত কোনো তরীকার প্রতিষ্ঠাতা বা খলীফা, তাঁকে পীর বলে। পৃথিবীর ইতিহাসে প্রথম তরীকার নাম উয়াইসিয়া। রইসুত তাবিঈন উয়ায়েস করনীকে (রাদ্বিআল্লাহুতা’লা ’আনহু) এর প্রতিষ্ঠাতা ধরা হয়। তাই, তিনিই প্রথম পীর। ‘বুখারী শরীফ’ নামটি যেমনি ইমাম বুখারী দেননি, বরং তাঁর ভক্তরা দিয়েছেন – তেমনি ‘উয়াইসিয়া’ তরীকাও ভক্তগণ পীর সাবের নামে নামকরণ করেছেন।
মহানবী (ছল্লল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ) তাঁর প্রশংসাও করেছেন। যেমন- উমর ফারূক (রাদ্বিআল্লাহু তায়ালা ’আনহু) বলেন: আমি আল্লাহ’র রাসুলকে (সল্লাল্লাহুতা’লা ’আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলতে শুনেছি যে, তাবেঈদের মাঝে উয়ায়েসই সেরা। তাঁর মা-ই শুধু আছেন এবং তাঁর শ্বেতী হয়েছিলো। তোমরা তার কাছে তোমাদের মাগফিরাতের জন্যে দোয়া করতে অনুরোধ করবে। (মুসলিম শরীফ)
লক্ষ্যণীয়, নবীজী তাঁর সাহাবীদের বলেছেন তাঁদের গুণাহ মাফ করাতে একজন তাবেয়ীকে অনুরোধ করতে বা তাঁর শরণাপন্ন হতে! মুকাম্মেল পীরগণ এমনই বিশিষ্ট হয়ে থাকেন।
২. পীর আরব দেশে নেই কেন?
উত্তর: কদু খেয়ে যদি বলেন, লাউ কেন দেন নি? যেই লাউ সেই কদু।পীর শব্দ ফারসি আর শায়েখ আরবি, ডিকশনারি খুলে দুইটার অর্থ একটু মিল করে নেন। সৌদিতে শায়েখের অভাব নেই।
৩. পীরেরাই যে আল্লাহর ওলি – এর প্রমাণ কী?
উত্তর: সহজ প্রমাণ হচ্ছে, মুরীদান। প্রত্যেক পীর সাবকে তাঁর মুরীদান আল্লাহ’র ওলি ভেবে থাকেন; ঠিক যেভাবে ইমাম বুখারী ও মুসলিমের ভক্তরা বুখারী ও মুসলিম শরীফ কে সহীহ ভেবে থাকেন। অথচ এ দু’টি কিতাবকে কুরআন-হাদীছে কোথাও সহীহ বলা হয়নি!
৪. পীরেরা যে তাদের মুরিদদের শাফায়াত করবেন – এর গ্যারান্টি কোথায় পেল?
উত্তর: কোথায় আবার পাবো – আল-কুরআনেই তো রয়েছে:
ﺃَﻟَﺎ ﺇِﻥَّ ﺃَﻭْﻟِﻴَﺎﺀَ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﻟَﺎ ﺧَﻮْﻑٌ ﻋَﻠَﻴْﻬِﻢْ ﻭَﻟَﺎ ﻫُﻢْ ﻳَﺤْﺰَﻧُﻮﻥَ
মনে রেখো যারা আল্লাহর ওলি, তাদের না কোন ভয় ভীতি আছে, না তারা চিন্তান্বিত হবে। (ইউনুস – ৬২)
৫. আওলিয়া কারা?
এ প্রশ্নের উত্তরে নবীজী (’ছল্লল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন: যাদের দেখলে আল্লাহর কথা মনে হয় (তারাই আওলিয়া)। তিনি আরও ফরমান: আল্লাহ বলেন: আমার আলোচনায় যাদের স্মরণ করা হয় এবং যাদের আলোচনায় আমায় স্মরণ করা হয়, আমার বান্দাদের মাঝে ওরাই আওলিয়া। নবীজী আরও বলেন: রোজ হাশরে তাদের চেহারা নূরান্বিত হবে, তারা নূরের ভেতরে থাকবে, আল্লাহ্ নূরের আসনে তাদের বসতে দেবেন এবং তাঁর কাছে তাদের উঁচু মর্তবা দেখে নবীগণ ও শহীদরাও ঈর্ষান্বিত হবেন! সকল মানুষ যখন ভীত ও চিন্তিত থাকবে, তখন তারা ভীত ও চিন্তিত হবেন না। এরপর তিনি আলোচ্য আয়াতে কারীমা ইউনুস – ৬২ নং তিলাওয়াৎ করলেন (তাফসীরে তাবারী, মেশকাত, আবূ দাউদ, শারহে সুন্নাহ, তাফসীরে মাযহারী ইত্যাদি)।
সুতরাং আল্লাহ’র ওলী বা হাক্কানি পীরগণ রোজ হাশরে নির্ভয়ে ও নিশ্চিন্তে নূরের ভেতরে নূরের আসনে বসে থেকে তাঁদের মুরীদানকে নির্বিঘ্নে শাফায়াত করতে পারবেন।
# পির ধরা কি সবার জন্য ফরজ?
কোরানের কোন আয়াত দ্বারা ফরয হয়েছে?
উত্তর: হাক্কানি পীর ধরা কারো জন্যে ফরজ নয়, বরং মাযহাবিদের জন্যে এটি একটি ঐচ্ছিক বা অতিরিক্ত (নফল) বিষয়।
#বাংলাদেশে প্রায় ২ লক্ষ ৯৮ হাজার পীর আছে। এদের মধ্যে কে হাক্কানি পীর? কেন তারা হক পীরদের তালিকা প্রকাশ করে না? কেন একে অপরকে বাতিল ফতোয়া দেয়?
উত্তর: কি করে জানলেন যে, এদেশে এতো পীর আছে? কুরআন-হাদীছে পেয়েছেন নাকি ইবলিসের সাথে স্বপ্ন মুলাকাতে পেয়েছেন? প্রশ্ন করবেন মনগড়া; অথচ উত্তর চাবেন কুরআন-হাদীছ থেকে! এটা কেমন ইনসাফ? প্রত্যেক পীর সাহেব তার মুরীদানের কাছে হাক্কানি। তবে, পৃথিবীতে যেমনি গাছের চেয়ে আগাছা বেশি, মানুষের চেয়ে অমানুষ বা জানোয়ার বেশি – তেমনি, সাচ্চা পীরের চেয়ে ভণ্ডপীর বেশি। তাই ভালো আলেমের মাধ্যমে অনায়াসেই চিনে নিতে পারেন।
৬. কেন তারা হক পীরদের তালিকা প্রকাশ করে না?
আপনিই তো বললেন ২ লক্ষ ৯৮ হাজার পীর এদেশে আছে। তো ভাইজান আপনিই তলিকা প্রকাশ করুন না!
৭. যদি মূর্খ লোকদের জন্য পীর ধরা ফরজ হয়, তাহলে তারা হাক্কানি পীর চিনবে কীভাবে? পীরেরা মুরিদদের কোর’আন-হাদিস পড়ার পরিবর্তে জিকির ও মুরাকাবার সবক দেয় কেন?
উত্তর: কারো জন্যেই পীর ধরা ফরজ নয়। মূর্খ লোকেরা মুরীদ হতে চাইলে, অবশ্যই বিজ্ঞ লোকদের দিয়ে পীর যাচাই করে নিতে হবে। যেমন- আল্লাহ তা’লা ফরমান:
ﻭَﻣَﺎ ﺃَﺭْﺳَﻠْﻨَﺎ ﻣِﻦ ﻗَﺒْﻠِﻚَ ﺇِﻟَّﺎ ﺭِﺟَﺎﻟًﺎ ﻧُّﻮﺣِﻲ ﺇِﻟَﻴْﻬِﻢْ ۚ ﻓَﺎﺳْﺄَﻟُﻮﺍ ﺃَﻫْﻞَ ﺍﻟﺬِّﻛْﺮِ ﺇِﻥ ﻛُﻨﺘُﻢْ ﻟَﺎ ﺗَﻌْﻠَﻤُﻮﻥَ
………… অতএব জ্ঞানীদেরকে জিজ্ঞেস কর, যদি তোমাদের জানা না থাকে।(আন নাহল – ৪৩)
#কোরআন হাদিসের পরিবর্তে কেন দেবে? সর্বত্তম জিকিরই তো কোরআন তেলয়াত। বেশি বেশি জিকির করতে বলে এইজন্য যে, যখন বিভিন্ন কাজে লিপ্ত থাকে তখন মুখে জিকির চালু রাখা, যাতে সময়টা ইবাদতে কাটে।
৮. কেয়ামতের দিন পীরদের কয়টা জাহাজের ঘাট থাকবে? প্রত্যেক পীরের কয়টি জাহাজ থাকবে?
উত্তর: আগে বলুন যে, কেয়ামতের দিন পীর সাবগণ যে জাহাজ চালাবেন, তা কিকরে জানলেন? যদি কুরআন-হাদীছ দিয়ে তা প্রমাণ করতে পারেন, তাহলে সেদিন তাঁদের ক’টি জাহাজ-ঘাট থাকবে, তা মুখ্য নয়, বরং তাঁদের জাহাজ গুলোতে চড়তে পারাটাই বড় কথা। যেহেতু ‘হাশর’ শব্দের অর্থ জড়ো বা সমাবেশ, অর্থাৎ সেদিন আল্লাহ তা’লা সবাইকে একই ময়দানে জড়ো বা একত্রিত করবেন – সেহেতু একটি ঘাট হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। আবার সবাই এক কাতারের ঈমানদার নয় বলে ভিন্ন ভিন্ন ঘাটও হতে পারে। তবে, সদরঘাট একটিই হবে। আল্লাহ তা’লার যেমন মর্জি।
৯. .ইমাম আবু হানিফা, ইমাম শাফেয়ী, ইমাম মালিক ও ইমাম আহমদসহ প্রমুখ ইমামগনের পির কে ছিলেন? তাদের মুরিদ কারা ছিলেন?
উত্তর: একজন হাক্কানি পীর সাহেবের যতো যোগ্যতা থাকা দরকার, ইমামগণের সবই ছিলো। তাই, তারা প্রথম কাতারের মুকাম্মেল পীর ছিলেন। তাদের পীর তাদের উস্তদ এবং মুরিদ ছত্ররা।
১০. ইমাম আবু হানিফা রহঃ কোন পীরের মুরিদ হতে বলেছে৷
উত্তর: ইমাম আবু হানীফা নির্দিষ্ট ভাবে কোনো পীরের মুরীদ হতে বলেননি। তাছাড়া, পীরের মুরীদ হওয়াটা শুধু হানাফীদের বৈশিষ্ট্য নয়, বরং চার মাযহাবের অনুসারীরা কম-বেশি তা হয়ে থাকেন। কেননা, এ ব্যাপারে আল্লাহ তা’লা তাঁর বান্দাদের ইঙ্গিত করেছেন। যেমন- তিনি ফরমান:
– ﻳَﺎ ﺃَﻳُّﻬَﺎ ﺍﻟَّﺬِﻳﻦَ ﺁﻣَﻨُﻮﺍ ﺃَﻃِﻴﻌُﻮﺍ ﺍﻟﻠَّﻪَ ﻭَﺃَﻃِﻴﻌُﻮﺍ ﺍﻟﺮَّﺳُﻮﻝَ ﻭَﺃُﻭﻟِﻲ ﺍﻟْﺄَﻣْﺮِ ﻣِﻨﻜُﻢْ ۖ ﻓَﺈِﻥ ﺗَﻨَﺎﺯَﻋْﺘُﻢْ ﻓِﻲ ﺷَﻲْﺀٍ ﻓَﺮُﺩُّﻭﻩُ ﺇِﻟَﻰ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﻭَﺍﻟﺮَّﺳُﻮﻝِ ﺇِﻥ ﻛُﻨﺘُﻢْ ﺗُﺆْﻣِﻨُﻮﻥَ ﺑِﺎﻟﻠَّﻪِ ﻭَﺍﻟْﻴَﻮْﻡِ ﺍﻟْﺂﺧِﺮِ ۚ ﺫَٰﻟِﻚَ ﺧَﻴْﺮٌ ﻭَﺃَﺣْﺴَﻦُ ﺗَﺄْﻭِﻳﻠًﺎ
“হে ঈমানদারগণ! আল্লাহর নির্দেশ মান্য কর, নির্দেশ মান্য কর রসূলের এবং তোমাদের মধ্যে যারা উলিল আমর তাদের। তারপর যদি তোমরা কোন বিষয়ে বিবাদে প্রবৃত্ত হয়ে পড়, তাহলে তা আল্লাহ ও তাঁর রসূলের প্রতি প্রত্যর্পণ কর-যদি তোমরা আল্লাহ ও কেয়ামত দিবসের উপর বিশ্বাসী হয়ে থাক। আর এটাই কল্যাণকর এবং পরিণতির দিক দিয়ে উত্তম।(আন নিসা – ৫৯)
এখানে উলিল আমর বলতে মূলত ইসলামী শাসক, মাযহাবের ইমাম ও তরীকতের পীর সাবকে বোঝানো হয়েছে। সাহাবায়ে কেরামের (রাদ্বিআল্লাহু তা’লা ’আনহুম) যুগে আল্লাহ পাক ও রাসুলে পাকের (’ছল্লল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) পর, খলীফা বা আমিরের তাবেদারিই যথেষ্ট ছিলো। এরপর প্রয়োজনের খাতিরে মাযহাব মানাটা ওয়াজিব হয়েছে। কাজেই, মাযহাবের ইমামদের মানলেই এ আয়াতে কারীমার হুকুম আদায় হয়ে যাবে। তরীকতের হাক্কানি পীর সাবের কাছে মুরীদ বা বায়াত হওয়াটা ঐচ্ছিক বিষয়। কোনো মাযহাবি কোনো হাক্কানি পীর সাবের কাছে বায়াত বা মুরীদ না হলে, কোনো গুণাহ হবে না। কেননা, মাযহাবের ইমাম তো আছেনই। তাঁকে পীর মানলেও হয়। আল্লাহ তা’লা ফরমান:
ﻳَﻮْﻡَ ﻧَﺪْﻋُﻮ ﻛُﻞَّ ﺃُﻧَﺎﺱٍ ﺑِﺈِﻣَﺎﻣِﻬِﻢْ ۖ ﻓَﻤَﻦْ ﺃُﻭﺗِﻲَ ﻛِﺘَﺎﺑَﻪُ ﺑِﻴَﻤِﻴﻨِﻪِ ﻓَﺄُﻭﻟَـٰﺌِﻚَ ﻳَﻘْﺮَﺀُﻭﻥَ ﻛِﺘَﺎﺑَﻬُﻢْ ﻭَﻟَﺎ ﻳُﻈْﻠَﻤُﻮﻥَ ﻓَﺘِﻴﻠًﺎ
স্মরণ কর, যেদিন আমি প্রত্যেক দলকে তাদের ইমামসহ ডাকব, অতঃপর যাদেরকে তাদের ডান হাতে আমলনামা দেয়া হবে, তারা নিজেদের আমলনামা পাঠ করবে এবং তাদের প্রতি সামান্য পরিমাণও জুলুম হবে না।(বনী-ইসরাঈল – ৭১)
তবে, হাক্কানি পীর সাবের কাছে মুরীদ হলে, আখেরাতে বাড়তি সুবিধা বা বোনাস পাওয়া যাবে বৈকি। কেননা, তিনি আল্লাহ’র ওলী হয়ে থাকলে, রোজ হাশরে তিনি নির্বিঘ্নে তাঁর ঈমানদার মুরীদানকে শাফায়াত করতে বা তরাতে পারবেন, অর্থাৎ তিনি নবীজীর শাফায়াত পেতে সহায়ক হতে পারবেন।
১১.ইমাম বোখারি ও মুসলিম কার মুরিদ ছিলেন? তারা কয় তরিকার ছবক দিয়েছেন?
উত্তরঃ- ৯ নম্বরে আলোচনা হয়েছে।
১২.আঃ কাদের জিলানি বড় পীর হলেন কিভাবে?
উত্তর:জানতে চাই বুখারি শরীফ সহিহ কিভাবে হল? কোরআন হাদিসের কেথায় আছে? এটা যেমন অনুসরণ করিরা সহিহ বলে, তেমন ওনার ভক্তগণ কে বড়পীর বলা হয়৷
১৩.তাহলে নবিজী কত নাম্বার পীর?
উত্তরঃ নবিজি পীর নন পরোক্ষভাবে পীরের অনুমতি দাতা।
১৪.খোলাফায়ে রাসেদিন বা সাহাবীগন কেন পীর উপাধি গ্রহন করেন নি?
উত্তর:কারণ তাদের সাহাবি উপাধি বিদ্যমান ছিল।
১৫.তাবেয়িন ও তাবে তাবেয়িনদের মধ্যে কে কে পীর ছিলেন?
উত্তর: রইসুত তাবিঈন উয়ায়েস করনী (রাদ্বিআল্লাহুতা’লা ’আনহু) সহ অনেকেই…।
সংগৃহীত-