মীরা আলফাসা,অরোভিল ও কিছু প্রশ্ন

মীরা আলফাসা(Mirra Alfassa) যাকে ভারতীয়রা শ্রীমা বলে চেনে জন্মানোর সময় মীরার পুরো নাম ছিল ব্লাঞ্চে রাসেল মীরা আলফাসা৷তিনি ছিলেন একজন ফরাসি বংশোদ্ভূত ইহুদি মহিলা৷তাঁর জন্ম ২১ ফেব্রুয়ারি ১৮৭৮ সালে প্যারিস, ফ্রান্সে।মৃত্যু ১৯৭৩ সালের ১৭ নভেম্বর, ৯৫ বছর বয়সে তার মৃত্যু হয় ভারতের পুদুচেরিতে৷ সমাধীস্থল ও পুদুচেরিতে৷ তিনি ফরাসি নাগরিক ছিলেন।তাঁর পরিবার ছিল ইহুদী (বিশেষত সেফার্দি ইহুদি) বংশোদ্ভূত৷ মীরা আলফাসার পিতা মোজেস মরিস আলফাসা (Maurice Alfassa) অটোমান সাম্রাজ্যের অন্তর্গত তুরস্কের (সেফার্ডিক) ইহুদী পরিবারের,পেশাগত ভাবে একজন ব্যাংকার ছিলেন৷ধর্ম-সংস্কৃতিগত ভাবে সেফার্ডিক ইহুদী ঐতিহ্য বহন করতেন এবং ফরাসি সমাজে বসবাসের ফলে পাশ্চাত্য শিক্ষিত পরিবেশ ও ওনার উপর প্রভাব বিস্তার করেছিল মরিস আলফাসা কর্মসূত্রে ফ্রান্সে বসবাসের কারণে সেখানে স্থায়ী হন এবং পরিবারকে একটি আর্থিকভাবে সচ্ছল ও শিক্ষামুখী পরিবেশ দেন।মাতিল্ডা ইস্মালুন (Mathilde Ismalun)মীরা আলফাসার মাতা৷মিশরীয় ইহুদী পরিবার ভুক্ত ছিলেন,পেশা/ঝোঁক: সঙ্গীতচর্চা (গায়িকা) ও শিল্প-রুচি বোধ সম্পন্ন ছিলেন৷ইউরোপীয় শিল্প ও সঙ্গীতমুখী পরিবেশ তাকে প্রভাবিত করেছিল৷মাতিল্ডার শিল্পানুরাগ মীরার শৈশবেই সৃজনশীলতার বীজ বপন করে।মীরার ভাই মাত্তো ম্যাথিউস মরিস আলফাসা (Matteo Alfassa) খ্যাতনামা সাহিত্যিক ও সমালোচক,ফরাসি প্রতীকবাদী সাহিত্যধারার সঙ্গে যুক্ত ,কবি পল ভ্যালেরি (Paul Valéry)-র ঘনিষ্ঠ সহযোগী,ভাইয়ের সাহিত্যিক পরিমণ্ডল মীরার বৌদ্ধিক ও নান্দনিক বিকাশে প্রভাব ফেলেছিল।তবে তার জন্মের আগে পিতা দেশ ছেড়ে ফ্রান্সে চলে যান। শৈশবের প্রথম আট বৎসর মীরা ৬২ বুলেভার্ড হাউসম্যান নামক একটি স্থানে কাটিয়েছেন। সাত বৎসর বয়সে তার পড়াশোনা শুরু হয় এবং নয় বৎসর বয়সে স্কুলে যান। টেনিস খেলতে ও সঙ্গীতচর্চা করতে পছন্দ করতেন। স্কুল শিক্ষা শেষে ১৮৯৩ খ্রিস্টাব্দে ১৪ বৎসর বয়সে একটি আর্ট সেন্টার আকাদেমি জুলিয়ানে  ভর্তি হয়েছিলেন শিল্পকলা শেখার জন্য এবং ইতোমধ্যে পিতার সংগ্রহের বেশিরভাগ বই পড়ে ফেলেন। ছোটবেলা থেকেই তার মধ্যে অতিপ্রাকৃতিক কিছু  নিদর্শন লক্ষ্য করা যেত(এমন প্রচার করা হয়)। শৈশবকালীন অভিজ্ঞতার কথা মীরা পরবর্তীতে তার একটি বইতে উল্লেখ করেছেন। এক বৎসর ধরে তিনি এক রহস্যময় গ্রন্থ ” দ্য নট অব লেটার অন (আলফাসা)” রচনা করেন(এনারা এত রহস্যময় কাজ কেন করেন?রহস্যময় বই কেন লেখেন?)এরপর ষোল বৎসর বয়সে  মায়ের সাথে মীরা ইতালি যান এবং  এক নাটক সংস্থায় কাজ করতে থাকেন। আকাদেমির প্রাক্তন ছাত্র হেনরি মরিসেটের(এনার ধর্ম গোপন করা হয়েছে)সাথে পরিচয়ের সূত্রে ১৮৯৭ খ্রিস্টাব্দের ১৩ অক্টোবর বিবাহ করেন। ১৮৯৮ খ্রিস্টাব্দের ২৩ আগস্ট তাঁদের পুত্র আন্দ্রে জন্ম গ্রহণ করে। ইতোমধ্যে মীরা আলফাসা স্বামী বিবেকানন্দর(মীরার সাথে ও বিবেকানন্দ যোগ দেখা যাচ্ছে) রাজযোগ সম্পর্কিত বই পড়ে ফেলেন এবং তখন থেকেই তার মনে ভারতীয় সংস্কৃতি, সভ্যতা এবং ধর্ম জানার আকাঙ্ক্ষা বেড়ে যায়। ফরাসি ভাষায় ভাগবত গীতা ইত্যাদি পড়ে ফেলেন এবং এতে তার প্রভূত  মানসিক পরিবর্তন ঘটে(বলা হয়)। ১৯০৫ সালে(এই সময় ভারতে বৃটিশরা বঙ্গ ভঙ্গ করার জন্য উন্মাদ হয়ে গেছিল)৷ মীরা ও হেনরি ম্যাক্স থাওন(একজন অকাল্টিস্ট) নামের এক সাধকের সাথে দেখা করেন এবং আলজেরিয়ার টেলমসেনে ম্যাক্স থাওন ও আলমা(ম্যাক্স থাওনের স্ত্রী,একজন অকাল্টিস্ট) থাওনের বাসভবনে আধ্যাত্মিক শিক্ষায় সাধনায় লিপ্ত থাকলেন(১৯০৬–১৯০৭)৷১৯০৮ খ্রিস্টাব্দে তার  এবং হেনরির বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটে যায়। প্যারিসে এক ছোট্ট অ্যাপার্টমেন্ট একাই থাকতে লাগলেন মীরা। অতঃপর ১৯১১ খ্রিস্টাব্দে মীরা পল রিচার্ডকে বিবাহ করেন। রিচার্ড চার বৎসর সেনাবাহিনীতে(অবশ্য ই সন্দেহজনক),কাজ করেছেন ও নিজে দর্শন ও ধর্মতত্ত্বে যুক্ত থাকতেন। ১৯১৪ খ্রিস্টাব্দের ২৯ মার্চ তারা প্রথম পুদুচেরিতে আসেন।মীরা আলফাসা নিজে একজন ইহুদী অকাল্টিস্ট হওয়ার কারণে পৃথিবীর নানা দেশের বহু ইহুদী অকাল্টিস্ট এবং গোপন তত্ব চর্চাকারীদের সাথে সব সময় যোগাযোগ রেখে চলতেন কিন্তু তিনি প্রচার করেছিলেন,তিনি হিন্দু ধর্মের প্রতি আকৃষ্ট হয়ে ফ্রান্স থেকে ভারতে এসে অরবিন্দের কাছে গিয়ে ওনার থেকে দীক্ষা নিয়ে আধ্যাত্মিক চর্চা করতেন৷অথচ অরবিন্দের আশ্রমে  তাঁর পারিবারিক ইতিহাস মূলত ফরাসি-ইহুদী সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলের সঙ্গে যুক্ত।এসবের পরে ও কেন বিশ্বাস করতে হবে তিনি হিন্দু ধর্ম গ্রহন করেছিলেন এবং হিন্দু ধর্ম পালন করতেন?ওনার প্রতিষ্ঠিত পন্ডিচেরী অরবিন্দ আশ্রম এবং অরভিল আশ্রম কোথাও কি হিন্দু ধর্মের কোন চিহ্ন আছে?অথবা হিন্দু ধর্ম পালনের কোন প্রমান আছে?হেলেনা পেট্রোভনা ব্লাভাটস্কি, প্রায়ই ম্যাডাম ব্লাভাটস্কি নামে পরিচিত, একজন রাশিয়ান এবং আমেরিকান রহস্যবাদী এবং লেখিকা ছিলেন যিনি 1875 সালে থিওসফিক্যাল সোসাইটির সহ-প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। তিনি একটি বিশ্বাস ব্যবস্থা হিসাবে থিওসফির প্রাথমিক প্রতিষ্ঠাতা হিসাবে একটি আন্তর্জাতিক সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।মহাবিশ্ব এবং মানবজাতির উৎপত্তি ও বিবর্তনের উপর হেলেনা পেট্রোভনা ব্লাভাটস্কির রচিত ” দ্য সিক্রেট ডকট্রিন” , তর্কসাপেক্ষে সবচেয়ে বিখ্যাত এবং সম্ভবত সবচেয়ে প্রভাবশালী, গুপ্ত গ্রন্থ যা এখন পর্যন্ত লেখা হয়েছে।এই মহিলার সাথে সব সময় যোগাযোগ রেখে চলতেন মীরা আলফাসা৷মীরা আসফাসা দুটো জাতীয়তা বহন করতেন ফরাসী এবং ভারতীয়৷মীরা আলফাসা ও তার স্বামী পল রিচার্ড ১৯১৪ সালের ২৯ শে মার্চ পণ্ডিচেরী আশ্রমে শ্রী অরবিন্দের কাছে দীক্ষা নিয়ে সেখানেই বসবাস করতে থাকেন।  প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় তাঁদের পন্ডিচেরি ছেড়ে জাপানে যেতে হয়েছিল। সেখানে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সাথে সাক্ষাৎ হয়৷১৯২৬ সালের ২৪ নভেম্বর, মীরা আলাফাসা পণ্ডিচেরি ফিরে আসেন এবং স্থায়ীভাবে বসবাস করতে থেকেন।১৯৭৩ সালে বাধ্য হয়ে ভারতীয় নাগরিকত্ব গ্রহন করে ফরাসি নাগরিকত্ব টা বাতিল করেন কারণ ১৯৭৩ সালে ফরাসি শাষণ সম্পূর্ণ বাতিল হয় অবশ্য সেটা কাগজে কলমে৷তিনি তার জীবনের শেষ ৩০ বছরের অভিজ্ঞতা ইংরেজিতে “দ্য এজেন্ডা”(কিসের এজেন্ডা?কার এজেন্ডা?এমন বই কেন লিখতে হলো কোন এজেন্ডার সাথে জড়িত না থাকলে?) নামক বইতে লিপিবদ্ধ করেছেন। শ্রী অরবিন্দ তাঁকে দিব্যমায়ের অবতার হিসাবে বর্ণনা করে বিশদে “দ্য মা” নামক গ্রন্থে ব্যক্ত করেছেন(এসব ই বাহ্যিক পরিচয়,এই পরিচয়ের আড়ালে ই অন্য কাজ চালিয়ে গেছেন)৷অরবিন্দের প্রতিষ্ঠিত অরবিন্দ আশ্রমকে ই পরে মীরা নাম পরিবর্তন করে অরোভিল বানান৷

পন্ডিচেরীর সেই সময়ের কলোনিয়াল আইন কানুন নীচে তুলে ধরছি—-

১) পন্ডিচেরীতে ফরাসী শাসন কত সাল পর্যন্ত ছিল?

ডি ফ্যাক্টো (বাস্তব প্রশাসনিক হস্তান্তর): ১ নভেম্বর ১৯৫৪

এই দিন থেকে পন্ডিচেরী, কারাইকাল, মাহে ও ইয়ানাওনের প্রশাসন ভারতের হাতে আসে।

ডি জ্যুরে (আইনি/আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি): ১৬ আগস্ট ১৯৬২

ফ্রান্স এই দিন আনুষ্ঠানিকভাবে ভারতের সার্বভৌমত্ব স্বীকার করে।

 তাই বলা যায়, প্রশাসনিকভাবে ১৯৫৪ পর্যন্ত, কিন্তু আইনগতভাবে ১৯৬২ পর্যন্ত ফরাসী শাসনের অবসান সম্পূর্ণ হয়নি।

২) পুলিশ কত সাল পর্যন্ত ফরাসি পোশাক (ইউনিফর্ম) পরত?

পন্ডিচেরীর পুলিশ ও কিছু প্রশাসনিক কর্মী ১৯৫৪–এর পরও কয়েক বছর ফরাসী স্টাইলের ইউনিফর্ম,কেপি হ্যাট (ফরাসী হ্যাটের স্টাইলে কাটিং ফরাসী ক্যাপ) ব্যবহার করত।

ধাপে ধাপে ভারতীয় ব্যবস্থায় রূপান্তর হয়।

আনুমানিক ১৯৬২–১৯৬৩ সালের মধ্যে ফরাসী পোশাক পুরোপুরি উঠে যায় এবং ভারতীয় পুলিশ ইউনিফর্ম বাধ্যতামূলক হয়।

 অর্থাৎ, ফরাসি পোশাকের ব্যবহার ১৯৬০-এর দশকের শুরু পর্যন্ত টিকে ছিল।

১) পন্ডিচেরীতে ফরাসি প্রশাসনিক রীতিনীতি

ফরাসি শাসনামলে পন্ডিচেরীর প্রশাসন পুরোপুরি ফরাসি ঔপনিবেশিক মডেল অনুসরণ করত। গভর্নর ছিলেন সর্বোচ্চ ক্ষমতার অধিকারী, তাঁর অধীনে ছিল Conseil Général (পরামর্শদাতা পরিষদ)। সরকারি নথি, আদেশ, আদালতের ভাষা—সবই প্রধানত ফরাসি ভাষায় চলত। শিক্ষা, পৌরসভা, ভূমি রেকর্ড, পুলিশ ব্যবস্থা—সবক্ষেত্রেই ফরাসি আমলাতান্ত্রিক ধারা বজায় ছিল। ১৯৫৪ সালে প্রশাসনিক হস্তান্তরের পরও বহু বছর ফরাসি ভাষায় নথি রচনা ও পুরনো নিয়মকানুন চালু ছিল,কারণ তখন ও বসবাস করা ফরাসিরা  পুরো কাঠামো বদলাতে দেয়নি৷

২) আদালত ও সিভিল কোডে ফরাসি প্রভাব

পন্ডিচেরীর সবচেয়ে ব্যতিক্রমী দিক হলো—এখানে আজও French Civil Code (Code Civil des Français) কার্যকর। ভারতীয় সংবিধানের অধীনে থেকেও বিবাহ, সম্পত্তি, উত্তরাধিকার ও দেওয়ানি বিষয়ে অনেক ক্ষেত্রে ফরাসি সিভিল আইন প্রযোজ্য। ১৯৬২ সালে ডি জ্যুরে হস্তান্তরের পরও ভারত সরকার এই আইন বাতিল করেনি, কারণ স্থানীয় জনগণের একাংশ ফরাসি আইনি কাঠামোর অধীনে অধিকার ভোগ করছিল। ফলে পন্ডিচেরী ভারতের একমাত্র অঞ্চল যেখানে ফরাসি ও ভারতীয় আইনের যুগপৎ অস্তিত্ব দেখা যায়—যা ঔপনিবেশিক ইতিহাসের এক বিরল নিদর্শন।

৩) ভারতীয় ও ফরাসি আইনের যুগপৎ ব্যবহার ও রূপান্তর

প্রশাসনিকভাবে ভারতীয় শাসন চালু হলেও বাস্তবে রূপান্তর ছিল ধীর। পুলিশ, আদালত, ভূমি দপ্তর—সব জায়গায় ফরাসি নিয়ম ধাপে ধাপে ভারতীয় ব্যবস্থায় মিশে যায় যার অর্থ আজও ফরাসী আইন ই ভারতীয় নামে চলছে,ভারতীয় আইন প্রতিষ্ঠিত হয়নি৷ পুলিশের ইউনিফর্ম, পদবি, ট্রেনিং পদ্ধতিতে ফরাসি ছাপ ১৯৬০-এর দশকের শুরু পর্যন্ত দেখা গেছে। ভারতীয় দণ্ডবিধি (IPC) ও ফৌজদারি কার্যবিধি (CrPC) চালু হলেও দেওয়ানি ক্ষেত্রে ফরাসি আইন রয়ে যায়। এই দ্বৈত কাঠামো পন্ডিচেরীকে ভারতের অন্যান্য রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল থেকে আলাদা করে তোলে।

পন্ডিচেরী কেবল একটি ভূখণ্ডের হস্তান্তর নয়—এটি ফরাসি সভ্যতা ও আইনি ধারার সংমিশ্রণ। ফরাসি শাসন শেষ হলেও তার প্রশাসনিক ও আইনি ছাপ আজও পন্ডিচেরীর সামাজিক কাঠামোর গভীরে রয়ে গেছে।তাহলে সহজে ই বোঝা যায় সেই সময়ে ভারতের উপর কতটা প্রভাব ছিল আর মীরা আলফাসা তার সুযোগ,সুবিধা, সাহায্য পেয়েছিলেন৷যা করতে চাইতেন তাতে কতটা সহযোগীতা পেতেন তা সহজেই অনুমেয় আবার ফরাসি সরকার ও মীরা আলফাসাকে ভারতের বিরুদ্ধে তাদের উদ্দ্যেশ্য পূরণে ব্যাবহার করতো৷

আলজেরিয়ার টেলমসেনে ম্যাক্স থাওন ও আলমা থাওনের বাসভবনে (১৯০৬–১৯০৭)

১৯০৮ খ্রিস্টাব্দে তার  এবং হেনরির বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটে যায়। প্যারিসে এক ছোট্ট অ্যাপার্টমেন্ট একাই থাকতে লাগলেন মীরা। অতঃপর ১৯১১ খ্রিস্টাব্দে মীরা পল রিচার্ডকে বিবাহ করেন। রিচার্ড চার বৎসর সেনাবাহিনীতে কাজ করেছেন ও নিজে দর্শন ও ধর্মতত্ত্বে যুক্ত থাকতেন। ১৯১৪ খ্রিস্টাব্দের ২৯ মার্চ তারা প্রথম পুদুচেরিতে আসেন এবং শ্রী অরবিন্দের সহচরী ও আধ্যাত্মিক সহযোগী হিসেবে “শ্রীমা” বা “দ্য মাদার” নামে পরিচিত হন।

ইহুদী অরোভিল ষড়যন্ত্র তত্বকে আমরা যদি উড়িয়ে দেই সেটা কি ভারতের জন্য সঠিক কাজ?

অরভিলের প্রতিষ্ঠাতা মীরা আলফাসা ইহুদী বংশোদ্ভূত,

অরভিলে বহু বিদেশি, ইউরোপীয় ও ইজরায়েল-সংযোগ আছে,জমি, অর্থ ও প্রশাসনে “বিদেশি প্রভাব” প্রচুর দেখা যায়৷ভারতের বাইরের “গ্লোবাল নেটওয়ার্ক”-এর নিয়ন্ত্রণ আছে অরোভিলের উপর৷

“অরভিল একটি ইহুদী/জায়নিস্ট প্রকল্প”,

এই ধারণা তৈরি হওয়ার কারণ—

বলা হয় তিনি ইহুদী ধর্ম পালন করতেন না,কোনো ইহুদী সংগঠনের প্রতিনিধি ছিলেন না৷

তাহলে সারা পৃথিবীর ইহদীদের সাথে এত যোগাযোগ রেখে কেন চলতেন?যদি ধরে নেই নিজের কমিউনিটির সাথে যোগাযোগ রাখতেই পারেন,হ্যাঁ তা নিশ্চই রাখতে পারেন কিন্তু তারজন্য ম্যাক্স থিয়োন,মাদাম ব্লাভাস্তকির মত ফ্রিম্যাসনদের সাথে কেন যোগাযোগ রাখতেন?আর রাখলে ও কেন গোপনে রাখতেন?কেন এসব সম্পর্ক প্রকাশ্যে আনেননি?

কোনো ইহুদী সংগঠনের প্রতিনিধি ছিলেন না কেন এটা সব যায়গায় বলা হয়?

 অরভিলের আন্তর্জাতিক চরিত্র

অরভিল শুরু থেকেই—

“জাতি,ধর্ম,রাষ্ট্রের ঊর্ধ্বে” একটি পরীক্ষামূলক নগরী৷জাতি,ধর্ম,রাষ্ট্র কে বাদ দিয়ে বাস করতে হলে তো পৃথিবীর বাইরে বাস করা উচিৎ৷পৃথিবীতে এসব বাদ দিয়ে তো কোথাও কেউ নেই আর তেমন কিছু পরীক্ষা করার জন্য ভারতকে ই বা কেন সঠিক স্থান মনে হলো?কোন কারণ ছাড়া?

নাকি সব দেশের ভিন্ন জাতি,ভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের নিয়ে ভিন্ন রাষ্ট্র গঠন করে ভারত থেকে বিছিন্ন করার অভিপ্রায়?এটা কিন্তু ভুললে চলবে না ফরাসীরা ভারতে বৃটিশদের মত ই দখলদার৷

এখানে ইউরোপ, আমেরিকা, ইসরায়েলসহ বহু দেশের মানুষ বাস করে৷

বিদেশি অর্থ,বিকল্প সমাজব্যবস্থা,রাষ্ট্র বিহীন সমাজ এসবই ভারতীয় আমলাতন্ত্র ও রাজনীতিতে সন্দেহ তৈরি করেছিল,এই সন্দেহ থেকে ষড়যন্ত্র মনে হওয়া তো স্বাভাবিক কথা৷ অরোভিলের সত্য গোপন করার জন্য এই তত্বগুলো বলা হয় কিন্তু নীচে দেওয়া তথ্য কি সে কথা বলে?সব কিছু কি সত্যি ই মিথ্যা অপবাদ?নাকি যথেষ্ঠ গোলমাল ছিল এবং আছে বলেই সেসব জানা যায়?

বাস্তব ঐতিহাসিক তথ্য কী বলে?

 অরভিল প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৬৮ সালে

ভারত সরকারের অনুমতিতে কিন্তু সেই সময় ও ফরাসীরা ক্ষমতা ছেড়ে যায়নি৷

তৎকালীন রাষ্ট্রপতি ড. জাকির হুসেন-এর সমর্থনে প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ

Auroville Foundation Act, 1988

অরভিল সরাসরি ভারত সরকারের অধীনে গভর্নিং বোর্ডে ভারতীয় আমলা,সংসদ,মনোনীত সদস্য,আশ্রম প্রতিনিধি এনাদের নিয়ে কমিটি গঠিত হতো কিন্তু তার মানে এটা বলা যায়না তা স্বচ্ছ ছিল কারণ তখন ও ফরাসি শাষণ জারী ছিল এবং জাকির হুসেন একজন মুসলিম ছিলেন৷

যেহেতু ইসরায়েল রাষ্ট্র,মোসাদ,ওয়ার্ল্ড জিউইশ কংগ্রেস বা কোনো জায়নিস্ট সংস্থা জড়িত থাকার লিখিত প্রমান পাওয়া যায় না তাই এদের ডাইরেক্ট দোষী বলা যাবে না কিন্ত ব্যাক্তিগত স্তরে বহু ইহুদী অরোভিলের সাথে যুক্ত,ইহুদী ধর্মের সিম্বল স্টার অফ ডেভিডের উপর ক্রিস্টাল গ্লোব অরোভিলের সেন্টারে রাখা হয়েছে কেন?পুরো গ্লোব স্টার অফ ডেভিডের কন্ট্রোলে আনা হবে তার ই সঙ্কেত কি?

অরভিল পরিচালনা, অর্থায়ন বা নীতি নির্ধারণ করে।

অরভিলের সাথে তামিল স্থানীয় জনগনের দ্বন্দ্ব প্রবল ছিল কারণ স্থানীয় জনগনের থেকে  (1960)অরভিল প্রতিষ্ঠার সময় প্রায় ৫,০০০ একর জমি জোর করে  অধিগ্রহন করা হয়েছিল৷

অধিকাংশ জমি ছিল দরিদ্র তামিল কৃষকদের৷যদিও খরাপ্রবণ হওয়াতে তেমন ভাবে চাষবাস করতে পারতো না কিন্তু জীবিকার একমাত্র ভরসা ছিল ওই জমি ই৷স্থানীয় গরীব চাষী ও তথাকথিত দলিত সম্প্রদায়গুলোর থেকে জোর করে বাজারদরের চেয়ে অনেক কম এবং মৌখিক সম্মতির মাধ্যমে জমির মূল্য দেওয়া নির্ধারণ করে জমি অধিগ্রহন করা হয়েছে৷তাছাডা শিক্ষার অভাবের জন্য গরীব সিধাসাধা জনগন আইনি জটিলতা বোঝেনি ফলে তারা প্রতারিত হয়৷”মানব ঐক্যের প্রকল্প”, “আধ্যাত্মিক প্রকল্প” 

বলে দাবী করার পর আপত্তি করলে নৈতিক চাপ তৈরী করা হতো৷ফলে স্থানীয়দের মধ্যে ধারণা তৈরি হয় “বিদেশিরা আমাদের জমিতে বসতি গড়ছে” কারণ আসলে ই তো বিদেশী ছিলেন মীরা আলফাসা৷অরভিল কে “শ্রমভিত্তিক স্বনির্ভর সমাজ” বলে দাবী করে সংস্থা কিন্তু উচ্চ সিদ্ধান্তে স্থানীয়দের অংশগ্রহণ নেই বললেই চলে৷তামিল শ্রমিকরা মূলত low-wage কাজেই সীমাবদ্ধ,এখান থেকেই ক্ষোভ জমে।

অরভিলের অর্থনীতি ও বিদেশি ফান্ডিং (নথিভিত্তিক)—

অরভিলের অর্থ আসে বিদেশি দান (Europe, USA, Japan ইত্যাদি),ভারত সরকার(Auroville Foundation-এর মাধ্যমে),অরভিলের নিজস্ব ইউনিট (হস্তশিল্প, শিক্ষা, রিসার্চ এসব থেকে৷ ওখানে তো খুব কম মানুষকে ঢুকতে দেওয়া হয় তাহলে হস্তশিল্প কেনে কারা?কত অর্থ আসে তার থেকে?ভারত সরকার কেন টাকা দেয় এদের?সেই টাকা কোন কাজে ব্যায় হয় জানে?

 সমস্যার জায়গা–

বিদেশি দানের উপর অতিনির্ভরতা

ফান্ড ব্যবহারে স্বচ্ছতার ঘাটতি (বিভিন্ন অডিট রিপোর্টে উল্লেখ পাওয়া যায়),

স্থানীয় মানুষের কাছে অর্থপ্রবাহের হিসাব অস্পষ্ট৷

শ্রী অরবিন্দ ও মীরা আলফাসা বলেছিলেন জাতি, ধর্ম, অর্থের ঊর্ধ্বে মানব ঐক্য,আত্মিক উন্নতির সঙ্গে সামাজিক রূপান্তর এসব প্রতিষ্ঠা করবেন কিন্তু বাস্তবে তার বিচ্যুতি দেখা গেল৷ অরভিল আজ NGO-ধাঁচের প্রকল্প কেন্দ্রিক bureaucratic সংস্থা৷তাই স্বাভাবিক ভাবে ই প্রশ্ন ওঠে“এটি কি সত্যিই আধ্যাত্মিক সাধনাক্ষেত্র, নাকি বিদেশি এলিট বসতি?”এলিটদের আধিক্য বেশী অরোভিলে,জনসাধারণের থেকে দূরত্ব বজায় রেখে চলে,গোপনীয়তা বজায় রাখে,বিদেশী ভাষার বেশী ব্যাবহার হয়,বিদেশী নেতৃত্বে চলে,বিদেশী মানুষের প্রবল আধিক্য সন্দেহের কারণ হয়ে ওঠে৷

শ্রম ও সামাজিক বৈষম্য প্রচুর

স্থানীয়দের মূলত নির্মাণ শ্রম,পরিস্কার পরিচ্ছন্নতার কাজ,কৃষিশ্রম ইত্যাদি কাজ দেওয়া হয়৷এর অর্থ তাদের নিজেদের জমিতে ই তারা কৃতদাসের মত কাজ করতে বাধ্য হয়৷ 

সিদ্ধান্ত গ্রহণের মত কাজে গ্রামবাসীদের অংশগ্রহণ প্রায় নেই বললে ই চলে৷

অরভিলের নিজস্ব ইউনিট—হস্তশিল্প,শিক্ষা,পরিবেশ গবেষণা এসব কথা বলা হয়ে থাকে কিন্তু বিদেশী শক্তিগুলো এসবের নামে ই নানা দেশে দখলদারী চালায়,বিশেষ করে পরিবেশ গবেষণা তো open secret ষড়যন্ত্রের প্রধান কারখানা৷

 আর্থিক স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে–

একাধিক অডিট রিপোর্টে উঠে এসেছে,হিসাব প্রকাশে দেরি করে,ইউনিটভিত্তিক ফান্ড ব্যবহারে অস্বচ্ছতা বিদ্যমান৷

Auroville Foundation Act, 1988 ধারা ভিত্তিক বিশ্লেষণ–

আইনটির উদ্দেশ্য–অরভিলকে ভারত সরকারের অধীনে আনা,জমি ও প্রশাসনে রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণ,Governing Board কেন্দ্রীয় সরকার মনোনীত,Residents Assembly, সীমিত ক্ষমতা,

International Advisory Council  পরামর্শমূলক–অর্থাৎ অরভিল এখন আর direct স্বাধীন রাষ্ট্র বা বিদেশি কলোনি নয় কিন্তু ওরা স্বাধীন নিয়ম কানুনে ই আজও চলে৷এলাকার বাসিন্দাদের স্বশাসন নেই বললেই চলে৷স্থানীয় তামিল জনগণের প্রতিনিধিত্ব প্রায় নেই৷

২০২১–এর পরে ভারত সরকারের হস্তক্ষেপ কেন বাড়ল?

কারণগুলো—জমি ও রাস্তা নিয়ে অনিয়ম,অভ্যন্তরীণ গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব,দীর্ঘদিনের প্রশাসনিক অচলাবস্থা,

সরকার হস্তক্ষেপ করেছে বলা হয় এবং তা–উন্নয়ন প্রকল্পে,মাস্টার প্ল্যান বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে কিন্তু এতে ওদের স্বাধীনতায় মোটেও কোন হস্তক্ষেপ করা হয় না৷কিন্তু ওরা দাবী করে এতে অরভিলের আদর্শ ক্ষতিগ্রস্ত হয়,স্বাধীনতা খর্ব হয়৷

“আশ্রম–ষড়যন্ত্র” কথাটা ভাবার যথেষ্ট কারণ আছে যেমন—অতীতের শত শত বছরের দীর্ঘ ঐতিহাসিক স্মৃতি জড়িত বিভিন্ন বেদেশী  শাসন,মিশনারিদের থেকে পাওয়া  অভিজ্ঞতা৷“আধিপত্য” আসলে কী—এবং কেন এমন মনে হয়?প্রথমেই একটা পার্থক্য পরিষ্কার করা দরকার—বাস্তব প্রশাসনিক প্রাধান্য — রাজনৈতিক/জাতিগত ষড়যন্ত্র অরভিলে যে “আধিপত্য” চোখে পড়ে, তার উৎস মূলত ৩টি কাঠামোগত কারণে।প্রতিষ্ঠাকালীন ক্ষমতার অসমতা– (Foundational Asymmetry)

অরভিল গঠিত হয়েছিল (১৯৬৮) এমন এক সময়ে যখন—স্থানীয় তামিল জনগণ দরিদ্র,শিক্ষাবঞ্চিত,

ইংরেজি ও আইনি ভাষায় দুর্বল ছিল৷অপরদিকে বিদেশিরা ছিল শিক্ষিত,আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্কযুক্ত,অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী৷পরিকল্পনা,ভাষা,নথি সবকিছুই বিদেশি-নিয়ন্ত্রিত হয়ে পড়ে।এটি আধিপত্যের অনুভূতি তৈরি করে৷ প্রশাসনিক কাঠামোই বিদেশি-সহায়ক ছিল–Auroville Foundation Act অনুযায়ী কমিটি এব বোর্ড,রেজোলিউশনের মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নেয়ইংরেজি দক্ষতা থাকতে হবে,আইনি জ্ঞান থাকতে হবে,আমলাতান্ত্রিক অভিজ্ঞতা থাকতে হবে,স্থানীয়  তামিল জনগণ এখানে স্বাভাবিকভাবেই পিছিয়ে পড়ে।এটা structural dominance— “Idealism” বনাম “Everyday Survival”অনেক বিদেশি এসেছে,আধ্যাত্মিক আদর্শে,পরিবেশবাদী পরীক্ষায়,স্থানীয়রা এসেছেন বাধ্য হয়ে মজুরী নিয়ে কাজ করতে কিন্তু মনে প্রতারিত হয়ে জমি হারানোর গভীর  ক্ষত নিয়ে কারণ তাদের কাউকে সঠিক মূল্য দেওয়া হয়নি,সামান্য অর্থ দিয়ে প্রতারণা করা হয়েছিল৷সাধারণ মানুষে জীবিকার কণ্ঠ চাপা পড়ে গেছিল৷এখান থেকেই “ওরা আধিপত্য চালায়”অভিজ্ঞতা জন্ম নেয়৷

আন্তর্জাতিক প্রকল্প হিসেবে

UNESCO-র ১৯৬৬–৬৮ প্রস্তাবে অরভিলকে বলা হয়েছিল—

“A city belonging to nobody in particular, but to humanity as a whole.”তাই এটি শুরু থেকেই—আন্তর্জাতিক,বহুজাতিক,বহুভাষিক বিদেশিরা এখানে অনুপ্রবেশকারী নয়(কোন যুক্তিতে অনুপ্রবেশকারী নয়?শুধু মাত্র বিদেশী অর্থাৎ ফরাসী শাষণের অধীনে তারা যাকে খুশী ভারতে নিয়ে আসতে পারে?কোন উদ্দ্যেশ্য ছাড়া এটা কেন করবে?)৷বরং প্রকল্পের নকশাতেই অন্তর্ভুক্ত।সহজ বসবাস কাঠামো (বিশেষ করে আগে) ১৯৭০–৯০ দশকে—দীর্ঘমেয়াদি ভিসা দেওয়া হতো,ধর্মীয়/শিক্ষা/স্বেচ্ছাসেবী ক্যাটাগরিতে নজরদারি ঢিলেঢালা থাকতো ফলে বহু বিদেশি এখানে দীর্ঘকাল থেকেছেন।

যথেষ্ঠ গোলমাল আছে,ওখানে(বেশ কিছু মানুষের কথা থেকে তা জানা গেছে)তাই মানুষ বিশেষ করে বিদেশিরা ইচ্ছাকৃতভাবে কম দৃশ্যমান থেকে সংঘাত এড়িয়ে চলে ভেতরের কথা প্রকাশ করলে বেড় করে দেওয়া হয়৷এমনিতে ওদের সবার নাগরিকত্ব ও থাকে না৷মিডিয়া এড়িয়ে চলে পরিচয় প্রচার করে না৷ self-protection এর জন্য কারোর সাথে তেমন কথা বলে না৷ব্যক্তিগত ট্রমা ও বিকল্প জীবনধারা আকর্ষণে ও অনেক বিদেশি এসেছেন৷দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ কালীন পরিস্থিতিতে পুঁজিবাদী সমাজের চাপ ও ব্যক্তিগত বিপর্যয় থেকে পালিয়ে ও অনেকে এসেছিলেন৷তারা চাইতেন শান্ত,পরিচয়হীন,বিকল্প জীবন,এটা সমাজতাত্ত্বিক বাস্তবতা।

মীরা আলফাসার সাথে ম্যাক্স থিয়নের যোগাযোগের প্রমান হিসেবে কিছু তথ্য ইংরেজী ও তার বাংলা করে দিলাম যার দ্বারা প্রমান হয় মীরা পুরোপুরি ভাবে একজন কট্টর ইহুদী অকাল্টিস্ট এবং ফ্রিম্যাসন ছিলেন৷হিন্দু ধর্মের সাথে ওনার কোন সম্পর্ক ছিল না৷উনি অরবিন্দকে ব্যাবহার করে ফরাসী সরকারের জন্য এবং ইহুদী ধর্মের জন্য কাজ করেছেন৷

Max Théon (né Louis-Maximilian Bimstein, 1848-1927), a Polish Jewish, was a cabbalist and an occultist. Known under several names, I will refer to him with the pseudonym he adopted while in Algeria, Max Théon. Considered by some to be an epitome of Gnosticism, Théon was the master who taught occultism to the Mother, at the time a young woman by the name of Mirra Alfassa. When he first moved to London he made a living advertising himself as a psychic healer, also capable of curing cholera. According to the Wikipedia, in 1870 Théon established The Hermetic Brotherhood of Luxor, “but seemed to have little to do with the day to day running of the organisation, or indeed its actual teachings”. Other sources mention preternatural entities—the adepts acknowledged as the Interior Circle—as the real founders of the brotherhood, which combined hybrid elements of freemasonry, ancient Egyptian religion and Ansari Islamic Tantrism. In 1873, at the age of twenty-six, Théon was made Grand Master of the Exterior Circle, the humans who carried out the instructions of the Interior Circle. The existence of The Hermetic Brotherhood of Luxor was publicly announced in 1884. Shortly afterwards Théon married Mary Christine Woodroffe, a medium who founded the Universal Philosophical Society, where she gave spiritualist lectures. In 1886 the couple moved to Paris, and in 1888 to Algeria.He had assumed two names: one was an Arab name he had adopted when he took refuge in Algeria (I don’t know for what reason). After having worked with Blavatsky and having founded an occult society in Egypt, he went to Algeria, and there he first called himself ‘Aia Aziz’ (a word of Arabic origin meaning ‘the beloved’). Then, when he began setting up his Cosmic Review and his ‘cosmic group,’ he called himself Max Théon, meaning the supreme God (!), the greatest God! And no one knew him by any other name than these two—Aia Aziz or Max Théon. A diversity of subjects interested him—scientific or artistic or sociological. He could always hold his own against the experts in any line. With his refinement, his aristocratic bearing, he became a much sought-after guest in London’s high society. Very quickly he gained a reputation almost matching that of the Count of Saint-Germain—in the Court of Louis XV – who claimed to be several centuries old. Théon never made any such claims. But rumours about him flew around at a great pace. Some spoke of his earthly immortality, others said he was the son of a Russian Prince, and so on and so forth. Dr Théon’s enigmatic personality aroused everybody’s curiosity, but he took good care never to satisfy it. In the Agenda the Mother reports that Théon taught Madame Blavatsky Kabbalah. In fact some of the ideas of Théon’s cosmic tradition were similar to those of Blavatsky. But while the latter did not mention Théon, she grew vocally hostile towards The Hermetic Brotherhood of Luxor, with which she severed all relationship in 1977. However, in his hagiographic essay on Théon, the spiritual philosopher and writer Pascal Themanlys mentions Madame Blavatsky and Mirra Alfassa as Théon’s pupils. Moreover Théon’s esoteric philosophy, Theosophy and other interrelated systems of thought shared essential concepts such as the seven planes of existence and the foremost importance of evolution, as well as the cardinal tenet of a Higher Self or reincarnating Soul, to be clearly distinguished from the psycho-physical personality. Also, the magus Paulos Metamon, a Copt or a Chaldean whom many believed was Théon’s father, was Blavatsky’s first Master. Whereas Paul Johnson argues that the ‘mahatmas’ were adepts dramatized with invented names and he presents Tuitit Bey as none other than Louis Maximilien Bimstein, alias Max Théon.Around the turn of the century the Théons founded the Cosmic Movement. This was based on material referred to as the Cosmic Tradition, which was channeled by Théon’s wife, by then known as Alma. Together they founded the Cosmic Review, dedicated to the “study and re-establishment of the original Tradition”. The Mother highly regarded Alma as a clairvoyant and occultist; as for Théon, in spite of his extraordinary knowledge, he had mediocre capacities as a medium. At that time, his major students were the metaphysician Charles Barlet and Louis Themanlys, already mentioned above. The latter was a friend of Matteo Alfassa, Mirra’s brother, and he was the one who introduced to her Théon and his Cosmic Philosophy. Around 1905 the Mother moved to Tlemcen, Algeria, to study occultism with them.Like Plato, Théon wished for a political system that empowered the wise, and considered war “the greatest crime, because life is sacred.” Despite this idealistic veneer, the Mother looked at him as a Vibhuti of the Asura of Death. Although she was wary about Théon’s essential nature, having observed similarities in his comprehensive cosmology in comparison to that of Sri Aurobindo, although they had never met, she transmitted some of Theon’s metaphysical concepts to the latter. Indeed, Sri Aurobindo’s and the Mother’s path includes knowledge of intermediate worlds and interaction with their occult forces, within the framework of their all-embracing Yoga. Moreover, Sri Aurobindo adopted from the Mother what they will rename the psychic being, the entity of which the Mother was first given hints from Théon. Even the Mother’s first drawing (below, right) of Sri Aurobindo’s symbol is inspired from a drawing by Théon (below, left). The final drawing of Sri Aurobindo’s symbol, executed by Pavitra on the Mother’s instruction, is even more similar to that originated by Théon.

ম্যাক্স থিওন (জন্মনাম লুই-ম্যাক্সিমিলিয়ান বিমস্টেইন, ১৮৪৮–১৯২৭) ছিলেন একজন পোলিশ ইহুদি কাব্বালাবিদ ও গুপ্তবিদ্যাচর্চাকারী। তিনি একাধিক নামে পরিচিত ছিলেন; এখানে আমি আলজেরিয়ায় থাকার সময় তিনি যে ছদ্মনাম গ্রহণ করেছিলেন—ম্যাক্স থিওন—সেই নামেই তাঁকে উল্লেখ করছি। কারও কারও মতে, থিওন ছিলেন গনস্টিসিজমের এক প্রতিমূর্তি। তিনিই ছিলেন সেই গুরু, যিনি তরুণী মীরা আলফাসাকে পরবর্তীকালে যিনি ‘দ্য মাদার’ নামে পরিচিত করেন এবং   গুপ্তবিদ্যা শিক্ষা দিয়েছিলেন। লন্ডনে প্রথম আসার সময় তিনি নিজেকে একজন মানসিক শক্তিসম্পন্ন চিকিৎসক (সাইকিক হিলার) হিসেবে প্রচার করে জীবিকা নির্বাহ করতেন এবং এমনকি কলেরা সারানোর ক্ষমতার দাবিও করতেন।

উইকিপিডিয়া অনুযায়ী, ১৮৭০ সালে থিওন ‘দ্য হার্মেটিক ব্রাদারহুড অব লাক্সর’ প্রতিষ্ঠা করেন, তবে সংগঠনের দৈনন্দিন পরিচালনা কিংবা তার প্রকৃত শিক্ষাদানের সঙ্গে তাঁর বিশেষ সম্পর্ক ছিল বলে মনে হয় না। অন্যান্য সূত্রে বলা হয়, অতিপ্রাকৃত সত্তারা—যাদের ‘ইন্টেরিয়র সার্কেল’-এর অধিপতি বা অ্যাডেপ্ট হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হতো—আসলে এই ব্রাদারহুডের প্রকৃত প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন। এই সংগঠনটি ফ্রিম্যাসনরি, প্রাচীন মিশরীয় ধর্ম এবং আনসারি ইসলামি তন্ত্রের সংকর উপাদানকে একত্র করেছিল। ১৮৭৩ সালে, ছাব্বিশ বছর বয়সে, থিওন ‘এক্সটেরিয়র সার্কেল’-এর গ্র্যান্ড মাস্টার(গ্র্যান্ড মাষ্টার পদ টি ফ্রিম্যাসনের তিনটে ডিগ্রীলাভ করার পর ই পাওয়া যায়) নিযুক্ত হন—এই এক্সটেরিয়র সার্কেল ছিল সেই মানব সদস্যরা, যারা ইন্টেরিয়র(যারা লজের  একদম ভেতরে কাজ করে) সার্কেলের নির্দেশ বাস্তবায়ন করত। ‘দ্য হার্মেটিক ব্রাদারহুড(ফ্রিম্যাসনের পুরুষরা ব্রাদারহুডের অংশ সবাই) অব লাক্সর’-এর অস্তিত্ব ১৮৮৪ সালে প্রকাশ্যে ঘোষণা করা হয়। এর অল্পদিন পরেই থিওন মেরি ক্রিস্টিন উডরফকে বিয়ে করেন—তিনি ছিলেন একজন মিডিয়াম এবং ‘ইউনিভার্সাল ফিলোসফিক্যাল সোসাইটি’-র প্রতিষ্ঠাতা, যেখানে তিনি স্পিরিচুয়ালিস্ট বক্তৃতা দিতেন। ১৮৮৬ সালে দম্পতি প্যারিসে চলে যান এবং ১৮৮৮ সালে আলজেরিয়ায় বসবাস শুরু করেন।তিনি দুটি নাম গ্রহণ করেছিলেন। একটি ছিল আরবি নাম, যা তিনি আলজেরিয়ায় আশ্রয় নেওয়ার সময় গ্রহণ করেছিলেন৷ ব্লাভাতস্কির সঙ্গে কাজ করার পর এবং মিশরে একটি গুপ্তসংঘ প্রতিষ্ঠা করার পর তিনি আলজেরিয়ায় যান এবং সেখানে প্রথমে নিজেকে ‘আইয়া আজিজ’ নামে পরিচয় দেন (এটি আরবি উৎসের একটি শব্দ, যার অর্থ ‘প্রিয়’ বা ‘প্রিয়তম’)। পরে, যখন তিনি তাঁর ‘কসমিক রিভিউ’ এবং ‘কসমিক গ্রুপ’ গঠন করতে শুরু করেন, তখন তিনি নিজেকে ‘ম্যাক্স থিওন’ নামে অভিহিত করেন—যার অর্থ দাঁড়ায় সর্বোচ্চ ঈশ্বর (!), সর্বশ্রেষ্ঠ ঈশ্বর! এবং এই দুটি নাম—আইয়া আজিজ বা ম্যাক্স থিওন—ছাড়া অন্য কোনো নামে তাঁকে কেউ চিনত না।উপরে উল্লিখিত তথ্য থেকে কি আমরা মীরা আলফাসাকে হিন্দু ধর্ম প্রেমী বলে মনে করতে পারি?তিনি নানা বিষয়ে আগ্রহী ছিলেন—বৈজ্ঞানিক, শিল্পকলা কিংবা সমাজবিজ্ঞানের ক্ষেত্রেও। যে কোনো শাখার বিশেষজ্ঞদের সঙ্গেই তিনি অনায়াসে পাল্লা দিতে পারতেন। তাঁর রুচিশীলতা ও অভিজাত ভঙ্গিমার কারণে লন্ডনের উচ্চ সমাজে তিনি দ্রুতই অত্যন্ত কাঙ্ক্ষিত অতিথিতে পরিণত হন। অল্প সময়ের মধ্যেই তাঁর খ্যাতি প্রায় লুই পঞ্চদশের দরবারে কিংবদন্তিতুল্য কাউন্ট অব সাঁ-জার্মেনের সমতুল্য হয়ে ওঠে—যিনি নিজেকে কয়েক শতাব্দী বয়সী বলে দাবি করতেন। থেওঁ কখনোই এমন কোনো দাবি করেননি। তবু তাঁকে ঘিরে গুজব দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। কেউ বলত তিনি পার্থিব অমরত্বের অধিকারী, কেউ বলত তিনি কোনো রুশ রাজপুত্রের সন্তান—এমন নানা কথা। ড. থেওঁ-এর রহস্যময় ব্যক্তিত্ব সকলের কৌতূহল জাগিয়েছিল, কিন্তু তিনি সচেতনভাবেই সেই কৌতূহল কখনো তৃপ্ত হতে দেননি। ‘অ্যাজেন্ডা’-য় মাদার উল্লেখ করেছেন যে থেওঁ ম্যাডাম ব্লাভাতস্কিকে কাব্বালাহ শিক্ষা দিয়েছিলেন। বাস্তবে থেওঁ-এর কসমিক ট্র্যাডিশনের কিছু ধারণা ব্লাভাতস্কির চিন্তার সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ ছিল। কিন্তু ব্লাভাতস্কি কোথাও থেওঁ-এর নাম উল্লেখ করেননি; বরং তিনি হার্মেটিক ব্রাদারহুড অব লুক্সরের প্রতি প্রকাশ্য বিরোধিতা শুরু করেন এবং ১৮৭৭ সালে তাদের সঙ্গে সমস্ত সম্পর্ক ছিন্ন করেন। তবে থেওঁ সম্পর্কে রচিত তাঁর সাধু-জীবনীমূলক প্রবন্ধে  আধ্যাত্মিক দার্শনিক ও লেখক পাস্কাল থেমনলিস উল্লেখ করেছেন যে ম্যাডাম ব্লাভাতস্কি ও মিরা আলফাসা—উভয়েই থেওঁ-এর শিষ্যা ছিলেন। তদুপরি, থেওঁ-এর গুপ্তদর্শন, থিওসফি এবং অন্যান্য পারস্পরিক সম্পর্কযুক্ত চিন্তাধারাগুলির মধ্যে কয়েকটি মৌলিক ধারণা অভিন্ন ছিল—যেমন অস্তিত্বের সাতটি স্তর, বিবর্তনের সর্বোচ্চ গুরুত্ব, এবং ‘উচ্চতর আত্মা’ বা পুনর্জন্মশীল আত্মার মৌলিক তত্ত্ব, যা মানসিক-দৈহিক ব্যক্তিত্ব থেকে স্পষ্টভাবে পৃথক। আরও বলা হয়, জাদুকর পাউলস মেটামন—যিনি একজন কপ্ট বা খালদীয় ছিলেন এবং যাঁকে অনেকেই থেওঁ-এর পিতা বলে বিশ্বাস করতেন—তিনি ছিলেন ব্লাভাতস্কির প্রথম গুরু। অন্যদিকে পল জনসন  যুক্তি দেন যে তথাকথিত ‘মহাত্মা’রা ছিলেন কল্পিত নামসহ নাটকীয়ভাবে উপস্থাপিত সিদ্ধপুরুষ, এবং তিনি টুইটিট বে-কে আর কেউ নন, লুই ম্যাক্সিমিলিয়ান বিমস্টাইন ওরফে ম্যাক্স থেওঁ হিসেবেই শনাক্ত করেন।উনিশ শতকের শেষ ভাগে ও বিংশ শতকের সূচনালগ্নে থেওঁ দম্পতি কসমিক মুভমেন্ট প্রতিষ্ঠা করেন। এই আন্দোলনের ভিত্তি ছিল এমন এক জ্ঞানভাণ্ডার, যা কসমিক ট্র্যাডিশন নামে পরিচিত—এবং যা থেও-এর স্ত্রী, তখন যিনি আলমা নামে পরিচিত ছিলেন, তাঁর মাধ্যমে চ্যানেল করা হয়েছিল। দু’জনে মিলে তাঁরা কসমিক রিভিউ পত্রিকাটি প্রতিষ্ঠা করেন, যার উদ্দেশ্য ছিল “আদি ট্র্যাডিশনের অধ্যয়ন ও পুনঃপ্রতিষ্ঠা”।মাদার আলমাকে একজন দূরদর্শী (clairvoyant) ও গুপ্তবিদ্যাবিদ হিসেবে অত্যন্ত উচ্চ মর্যাদা দিতেন; কিন্তু থেওঁ-এর ক্ষেত্রে, তাঁর অসাধারণ জ্ঞান থাকা সত্ত্বেও, একজন মাধ্যম (medium) হিসেবে তাঁর সক্ষমতা ছিল মধ্যম মানের। সেই সময়ে তাঁর প্রধান ছাত্রদের মধ্যে ছিলেন অধিবিদ্যাবিদ চার্লস বারলে এবং পূর্বে উল্লিখিত লুই থেমনলিস। থেমনলিস ছিলেন মাত্তেও আলফাসা—মিরার ভাই—এর বন্ধু, এবং তিনিই মিরাকে থেওঁ ও তাঁর কসমিক দর্শনের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন। আনুমানিক ১৯০৫ সালের দিকে মাদার আলজেরিয়ার ত্লেমসেনে চলে যান, তাঁদের সঙ্গে গুপ্তবিদ্যা অধ্যয়নের উদ্দেশ্যে।প্লেটোর মতোই থেও এমন একটি রাজনৈতিক ব্যবস্থার পক্ষে ছিলেন যেখানে জ্ঞানীদের ক্ষমতায়ন করা হবে, এবং তিনি যুদ্ধকে “সর্বশ্রেষ্ঠ অপরাধ” বলে মনে করতেন, কারণ তাঁর মতে জীবন পবিত্র। এই আদর্শবাদী আবরণের আড়ালেও মাদার তাঁকে মৃত্যুর অসুরের এক বিভূতি হিসেবে দেখতেন। থেও-এর মৌলিক স্বভাব সম্পর্কে তিনি সতর্ক ছিলেন, তবে শ্রীঅরবিন্দের সঙ্গে তাঁর কখনো সাক্ষাৎ না হলেও, থেওঁ-এর বিস্তৃত বিশ্বতত্ত্বে শ্রীঅরবিন্দের দর্শনের সঙ্গে সাদৃশ্য লক্ষ্য করে তিনি থেওঁ-এর কিছু অধিবিদ্যাগত ধারণা শ্রীঅরবিন্দের কাছে পৌঁছে দেন।বাস্তবে শ্রীঅরবিন্দ ও মাদারের সাধনাপথে মধ্যবর্তী জগতগুলির জ্ঞান এবং সেসব জগতের গুপ্ত শক্তির সঙ্গে পারস্পরিক ক্রিয়া অন্তর্ভুক্ত রয়েছে—যা তাঁদের সর্বগ্রাহী যোগসাধনার কাঠামোর মধ্যেই অবস্থান করে। আরও উল্লেখযোগ্য যে, শ্রীঅরবিন্দ যাকে পরে “সাইকিক সত্তা” (psychic being) নামে অভিহিত করবেন, সেই ধারণাটি তিনি মাদারের কাছ থেকেই গ্রহণ করেন—যার প্রথম আভাস মাদার পেয়েছিলেন থেওঁ-এর কাছ থেকে। এমনকি মাদারের হাতে আঁকা শ্রীঅরবিন্দের প্রতীকের প্রথম অঙ্কনটিও (নীচে ডানে) থেওঁ-এর একটি অঙ্কন থেকে অনুপ্রাণিত (নীচে বাঁয়ে)। পরবর্তীতে মাদারের নির্দেশে পবিত্র (Pavitra) কর্তৃক অঙ্কিত শ্রীঅরবিন্দের প্রতীকের চূড়ান্ত রূপটি থেওঁ-এর মূল নকশার সঙ্গে আরও বেশি সাদৃশ্যপূর্ণ হয়ে ওঠে।

 

প্রায় ৫০–৬০টি দেশের নাগরিক অরোভিলে স্থায়ী বা দীর্ঘমেয়াদি ভাবে বাস করেন৷বর্তমানে (সময়ভেদে সংখ্যা একটু কম–বেশি হয়)৷মোট জনসংখ্যা আনুমানিক ৩,২০০–৩,৫০০ জন এর মধ্যে প্রায় ৩০–৩৫% বিদেশি বাকি অংশ ভারতীয় নাগরিক৷অরোভিল নিজে দাবি করে: “Auroville belongs to nobody in particular but to humanity as a whole”—এই আদর্শের ভিত্তিতেই বহু দেশের মানুষ এখানে থাকে।

কোন কোন দেশের লোক অরোভিলে বাস করতে পারে?

তাত্ত্বিকভাবে যে কোনো দেশের নাগরিক অরোভিলে থাকতে পারে, তবে শর্তসাপেক্ষে।

শর্তগুলো হলো—অরোভিলের আদর্শ (Sri Aurobindo–Mirra Alfassa দর্শন) মেনে চলা কমিউনিটির অনুমোদন (Auroville Entry & Integration process) দীর্ঘমেয়াদি ভিসা / OCI / ভারত সরকারের অনুমতি

আয় বা দক্ষতা দিয়ে কমিউনিটিতে অবদান রাখা বাস্তবে যেসব দেশের মানুষ বেশি দেখা যায় সেগুলো হলো— ফ্রান্স, জার্মানি,ইতালি,নেদারল্যান্ডস,যুক্তরাষ্ট্র,যুক্তরাজ্য,কানাডা,অস্ট্রেলিয়া, জাপান,ইসরায়েল,বেলজিয়াম,সুইজারল্যান্ড,এছাড়া ল্যাটিন আমেরিকা ও স্ক্যান্ডিনেভিয়ান দেশ থেকেও লোক আছে, তবে সংখ্যা কম।

বৃটিশ শাষকদের হাত থেকে দূরে থাকার জন্য ঋষি অরবিন্দ প্রথমে চন্দননগরের ফরাসীদের কাছে আশ্রয় নেন তারপর তারা পন্ডিচেরীতে পাঠিয়ে দেয় কারণ বাংলায় বৃটিশরা ওনাকে গ্রেফতার করে ফাঁসি দিত৷পন্ডিচেরীতে পাঠানোর পর ই ফরাসীরা মীরাকে ফ্রান্স থেকে এনে অরবিন্দের মাথার উপর বসিয়ে রাখে৷মীরা ধীরে ধীরে অরবিন্দকে নিজের মুঠোয় বন্দী করে ফেলেন৷অরবিন্দকে অন্তরালে রেখে মীরা পুরো আশ্রমের কন্ট্রোল নিজের হাতে নিয়ে নেন,এমন কি অরবিন্দের খাওয়া থেকে শুরু করে এক কাপ চা পর্যন্ত মীরার কন্ট্রোলে ছিল৷অরবিন্দ ওনার নিজের রাজ্য বাংলা ত্যাগ করতে বাধ্য হয়ে পন্ডিচেরী থাকতে বাধ্য হন তারপরে ওনার ভক্ত মীরা আলফাসা কি ভাবে ওনার ই প্রতিষ্ঠিত আশ্রমে সেই বৃটিশদের ঢোকার আর থাকার এন্ট্রি দিলেন?পশ্চিমরা সবাই সমান খারাপ৷

অরোভিল প্রতিষ্ঠা হয় ১৯৬৮ সালে। শুরু থেকেই যেসব দেশের নাগরিকরা ছিল—

ফ্রান্স ছিল প্রধান,পন্ডিচেরী ফরাসী কলোনী ছিল তাই তারা যা খুশী তাই করতো৷ঋষি অরবিন্দ কে বৃটিশদের থেকে সুরক্ষিত রাজনৈতিক আশ্রয় দেওয়ার অজুহাতে ওনার তৈরী আশ্রম(উনি যেহেতু রাজনীতি থেকে সরে গিয়ে আধ্যাত্মিকতা চর্চা শুরু করেন তাই একটা আশ্রম বানিয়েছিলেন)ফরাসী সরকার প্রথমে মীরা আলফাসাকে ঢোকায় তারপর মীরা আলফাসা ঋষি অরবিন্দের আশ্রম কব্জা করে নেন এবং অরবিন্দকে অন্তঃপুর বন্দী করে ফেলেন৷পরবর্তী কালে আমরা যেভাবে দেখি রজনীশের আশ্রম শীলা কব্জা করে নেন৷অরবিন্দ আশ্রমের নাম বদলে অরভিল করেন,এখন আবার একই ভাবে অরভিল তৈরী হচ্ছে,সেখানে নানা ধর্মীয় চিহ্ন আঁকা পতাকার সারি রাখতে দেখা যায়৷দাবী করা হয় অরোভল কোন ধর্মীয় সংগঠন না,তরপর ধর্মীয় পতাকা রাখা হয় কেন?দাবী করা হয় মীরা অরবিন্দের কাছে হিন্দু ধর্ম গ্রহন করেছিলেন তারপর শুধু হিন্দু ধর্মের পতাকা কেন রাখা হয় না?হিন্দু কোন দেবদেবী কেন নেই?কোন কোন পুজা হয় না?অরবিন্দ রামায়ন,মহাভারত চর্চা করতেন তাহলে কেন তার কোন চিহ্ন রাখা হয় না?অরভিলি নাম দিলে ও এখানে ও মীরা ই প্রধান,অরবিন্দকে ও রাখা হয়েছে৷এমন কোন প্ল্যান আছে?নাম কেন বদল করা হলো? আশ্রম সবকিছু মীরা ই পরিচালনা করতেন এমনকি অরবিন্দের প্রাত্যহিক জীবন ও৷অমন ও শোনা গেছে মীরার কার্যকলাপ দেখে অরবিন্দের স্ত্রী আত্মহত্যা করেছিলেন তবে এটার সত্যতা নিয়ে নিশ্চিত না৷তবে মীরা অরবিন্দকে সব সময় ঘিরে রাখতেন৷দ্বিতীয় স্বামীকে সাথে নিয়ে আশ্রমে আসার পর ও তাকে ডিভোর্স করেন অবং সেই ব্যাক্তি ফ্রান্স ফিরে যান অথচ সেই ব্যাক্তি ও আধ্যাত্মিকতার টানেই নাকি অরবিন্দ আশ্রমে এসেছিলেন৷তা সত্বে ও যেতে কেন হলো?

মীরার (Mirra Alfassa) জন্মসূত্রে পন্ডিচেরিতে ফরাসী আধিপত্যের দৌলতে ই এসেছিলেন তার থেকে ও বড় কথা ফরাসী সরকার মীরাকে ওখানে ঢোকানোর ব্যাবস্থা করেছিল কারণ সামনে আধ্যাত্মিকতার  বর্ম রেখে ফরাসী সরকারের এজেন্ডা পূরণ করা সহজ হবে৷প্রথম দিকের প্রশাসনিক ও সাংস্কৃতিক আধিপত্য চালাতো জার্মানি,ইতালি,নেদারল্যান্ডস,যুক্তরাজ্য(বাংলা থেকে অরবিন্দকে অ্যারেস্ট করবে বলেই অরবিন্দ ফরাসী আশ্রয় নেন কিন্তু তারপর কি কারণে আর কেন ওনার আশ্রমে ঢোকে বৃটেন?তখন অ্যারস্ট করার কথা মনে হয়নি?

যুক্তরাষ্ট্র প্রথম দিকের “কোর গ্রুপ” মূলত ইউরোপীয় আর ফরাসি উভয় নেটওয়ার্ক থেকেই এসেছিল—এটি ঐতিহাসিকভাবে নথিভুক্ত।একটি গুরুত্বপূর্ণ বাস্তব দিক (যেটা প্রায় বলা হয় না)

অরোভিল UNESCO World Heritage Site নয়,তবে UNESCO-এর একাধিক Resolution (1966, 1968, 1970) অরোভিলকে সমর্থন করেছিল সেই কারণেই একে অনেক সময় প্রচার করা হয় “UNESCO-recognized International Township” হিসেবে বাস্তবে এটি একটি বিশেষ আইন দ্বারা পরিচালিত অঞ্চল৷Auroville Foundation Act, 1988 (ভারত সরকার) অরোভিল একটি আন্তর্জাতিক বসতি, কিন্তু শুরু থেকে ইউরোপীয় (বিশেষত ফরাসি) প্রভাব প্রবল এখানে থাকা মানে সাধারণ বসবাস নয়৷এটি আদর্শভিত্তিক, নিয়ন্ত্রিত, আংশিক স্বচ্ছ–আংশিক গোপন কাঠামো বিদেশিদের দীর্ঘস্থায়ী উপস্থিতি ভারতীয় সমাজে স্বাভাবিক নয়—এ নিয়ে বিতর্ক বহুদিনের কেন অরোভিলে বিদেশিদের জন্য আলাদা আইনগত সুবিধা তৈরি হলো অরোভিল কোনো সাধারণ গ্রাম বা শহর নয়। এটি জন্ম নিয়েছে একটি আধ্যাত্মিক,দার্শনিক প্রকল্প হিসেবে  যার রূপরেখা তৈরি করেছিলেন শ্রী অরবিন্দ ও মীরা আলফাসা। ১৯৬৮ সালে উদ্বোধনের সময়ই এটিকে বলা হয়—“A place that belongs to humanity, not to any one nation.”(কোন দেশের ভেতর এমন ভাবে কোন দেশ তৈরী করতে অন্য কোন দেশ দেবে কি?ফ্রান্স নিজে দেবে কি?হিউম্যানিটি করার জন্য ভারতের জমি ই দরকার হলো?এত বড় পৃথিবীর আর কোথাও যায়গা পাওয়া যায়নি?ফ্রান্সের নিজের যত জমি আছে সেই তুলনায় জনসংখ্যা নেই বললেই চলে তাহলে সেখানে কেন হিউম্যানিটি করার কথা মনে হয়নি?বা হয়না?সেখানে কেন মনে হয়না এক জনের দেশ না?সেখানে কেন এমন গোপনীয়তা বজায় রেখে বাস করে না 50/60 দেশের লোক নিয়ে?কোন একজনের দেশ না,কথাটার মানে কি?ওই জমি আমাদের দেশের জমি তাই আমাদের দেশ তারপর এতগুলো দেশের লোক ঢুকিয়ে রেখে দিয়ে বলা হচ্ছে কোন এক জনের দেশ না তার মানে যত দেশের লোক থাকে অর্থাৎ 50/60 টা লোকের দেশ?তার মানে ভবিষ্যতে প্রথমে ওই জমি নিয়ে 50/60 দেশের লোক অধিকারের লড়াই করবে তারপর সারা ভারত দখল করতে নেমে পড়বে?ওরা তো চিরদিন এটাই করে থাকে)৷ব্যাবসা করার নামে,সভ্য করার নামে দখল করেছিল তাই এখন ছলের মাধ্যমে দখল করতে চাইছে৷ভারত সরকার প্রথমদিকে অরোভিলকে সরাসরি নিয়ন্ত্রণে আনেনি। কারণ—পন্ডিচেরি ছিল সদ্য ফরাসি শাসন থেকে মুক্ত অঞ্চল ফরাসি নাগরিক ও প্রতিষ্ঠান তখনও সেখানে সক্রিয়৷আন্তর্জাতিক মহলে অরোভিলকে একটি “মানবতার পরীক্ষাগার” হিসেবে তুলে ধরা হচ্ছিল এর ফলে অরোভিল কার্যত একটি আইনগত শূন্যতার (legal grey zone) মধ্যে ঢুকে পড়ে।

১৯৮৮ সালের Auroville Foundation Act,এই আইনের মাধ্যমে অরোভিলকে কেন্দ্রীয় সরকারের অধীনে আনা হয় কিন্তু সাধারণত বাইরে একটি আলাদা কাঠামো দেওয়া হয়৷ বিদেশিদের জন্য দীর্ঘমেয়াদি বসবাসকে “অধ্যাত্মিক ও সেবামূলক অবদান” হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয় ফলে যে সুবিধাগুলো তৈরি হয়—বিদেশিরা দীর্ঘদিন জমির ব্যবহার করতে পারে (মালিক না হয়েও) স্থানীয় নাগরিকদের মতো কর বা সম্পত্তি আইনের আওতায় পুরোপুরি পড়ে না৷প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে বিদেশি কমিউনিটির ভূমিকা অস্বাভাবিকভাবে বেশি হয়,এটি ভারতীয় বাস্তবতায় একেবারেই ব্যতিক্রম।

অরোভিল বনাম ভারতীয় সংবিধান: সংঘর্ষের ইতিহাস

ভারতীয় সংবিধানের মূল কাঠামো—

সার্বভৌমত্ব অর্থাৎ আইনের চোখে সমতা,নির্বাচিত স্থানীয় শাসন কিন্তু অরোভিলের কাঠামোতে কোনো নির্বাচন নেই,“আধ্যাত্মিক পরিপক্বতা” দিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়,নাগরিকত্ব না “কমিটমেন্ট” মুখ্য হয়ে দাঁড়ায়৷ এই দুই দর্শনের মধ্যে সংঘর্ষ অনিবার্য ছিল।PIL এ সংসদীয় প্রশ্ন উঠেছে–রাষ্ট্র অরোভিলকে পুরোপুরি ভাঙেনি, আবার পুরোপুরি গণতান্ত্রিকও করেনি,এক ধরনের controlled exception হিসেবে রেখে দিয়েছে।

ফরাসি প্রশাসনিক ধারার ধারাবাহিকতা

এখানেই বিষয়টি সবচেয়ে সমস্যাজনক-মীরা আলফাসা ছিলেন জন্মসূত্রে ফরাসি ফলে ফরাসি সাংস্কৃতিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক পরিবেশে বড় হয়ে ছিলেন,পন্ডিচেরিতে ফরাসি শাষণকালে তিনি রাষ্ট্রীয় ছাড় পেয়েছিলেন,

ফরাসি শাসনের একটি বৈশিষ্ট্য ছিল-এলিট ইনস্টিটিউশনকে স্থানীয় আইনের ঊর্ধ্বে রাখা,“Mission civilisatrice” ধারণা—আমরা সভ্যতা আনছি এই মানসিকতার পোষণ আর প্রচার করা৷অরোভিলের শুরুর সময়ে এই ছাপ স্পষ্ট ছিল৷সেই কারণে ফরাসি ভাষার প্রাধান্য ছিল যা পরে ও থেকে যায়,এমন কি আজও আছে৷ ফরাসি নাগরিকদের নেতৃত্ব ছিল প্রবল,প্রশাসনে ফরাসি ইউরোপীয় চিন্তার আধিপত্য ছিল প্রবল৷পরে পন্ডিচেরি ভারতের সঙ্গে যুক্ত হলেও ফরাসি স্কুল,ফরাসি সাংস্কৃতিক কেন্দ্র,ফরাসি কনস্যুলেট এখনও অত্যন্ত সক্রিয়।অরোভিল এমন একটি স্থান যেখানে এখন আর সরাসরি ফরাসী শাষণ না থাকলেও সাংস্কৃতিক,প্রশাসনিক প্রভাব রয়ে গেছে পুরোপুরি সাথে আধিপত্য ৷

অরোভিল ও কেন্দ্রীয় সরকারের গোপন টানাপোড়েন–

এই টানাপোড়েন কখনো প্রকাশ্যে আসে না, কিন্তু ভেতরে ভেতরে দীর্ঘদিন ধরে চলছে।কেন্দ্রীয় সরকারের দ্বিধা অরোভিল ভাঙলে আন্তর্জাতিক সমালোচনা হবে আবার রেখে দিলে সার্বভৌমত্ব প্রশ্নে আপস করতে হয়৷ তাই কেন্দ্র দ্বিমুখী নীতি নিয়ে চলছে–বাইরে থেকে নিয়ন্ত্রণ করে আর ভেতরে স্বশাষণ চলতে দেয়৷সাম্প্রতিক বছরগুলোতে রাস্তা, বন, জমি,উন্নয়ন নিয়ে সংঘাত চলছে৷“Development বনাম Original Auroville Ideal” বিতর্ক,পুরনো বিদেশি গোষ্ঠী বনাম নতুন ভারতীয় প্রশাসন,এগুলো আসলে একটাই প্রশ্নের রূপ—অরোভিল কি ভারতের ভেতরে একটি আন্তর্জাতিক এনক্লেভ, না কি ভারতেরই একটি বিশেষ শহর?এই প্রশ্নের উত্তর আজও চূড়ান্ত নয়।অরোভিল নিছক একটি আশ্রম নয়,নিছক একটি শহরও নয়,এটি একটি আদর্শ, ক্ষমতা, আন্তর্জাতিক রাজনীতি ও ভারতীয় বাস্তবতার সংঘর্ষস্থল৷

অরোভিল গঠনে মীরা আলফাসার যেসব মানসিকতার প্রভাব পড়েছিল সেগুলো হলো

ফরাসি বোহেমিয়ান বুদ্ধিবৃত্তিক সমাজ,ইহুদী মানসিকতা,থিওসফি, গ্নোস্টিসিজম, কাব্বালা, হারমেটিক চিন্তা ম্যাক্স থিওন ও “Cosmic Movement” ইউরোপীয় গোপন দর্শনচর্চার নেটওয়ার্ক (occult salons) ইত্যাদি যেসব ১৯শ–২০শ শতকের ইউরোপের খুব পরিচিত প্রবণতা।মীরা ভারতে এসে সেগুলোর ই প্রয়োগ শুরু করেন৷

অরোভিল নিয়ে সংসদে প্রশ্ন ওঠে মূলত ১৯৭০-এর দশক থেকে।

প্রধান অভিযোগ ও প্রশ্ন–কেন স্থানীয় তামিল জনগণের মতামত উপেক্ষিত?কেন বিদেশিরা দীর্ঘদিন বসবাস করেও স্থানীয় আইনের আওতায় পুরোপুরি আসে না?অর্থায়ন ও দাতা সংস্থার স্বচ্ছতা কোথায়?

এই বিতর্কের ফলেই Auroville Foundation Act, 1988 পাশ হয়৷

অরোভিল কেন্দ্রীয় সরকারের অধীনে আসে কিন্তু আইনটি ছিল বোঝাপড়া ভিত্তিক৷অরোভিল ভাঙা হয়নি আবার পুরোপুরি পৌরসভাও করা হয়নি ফলে তৈরি হয় এক ধরনের আধা-রাষ্ট্রীয়, আধা-আন্তর্জাতিক কাঠামো।

এটি একটি আন্তর্জাতিক NGO হিসেবে চলে,ফলে বহু অর্থ দাতা সংস্থা আছে যারা বিদেশী অর্থ দান করে থাকে৷এটা সবচেয়ে সমস্যাজনক কারণ ওই অর্থ কত?কি উদ্দ্যেশ্য খরচ হয় তার কোন তথ্য সরকার জানতে পারে না,ভারতের বিরুদ্ধে কোন কাজ হলে সেটা ও জানা যায় না৷ইউরোপ,জাপান(ওখানে অ্যামেরিকা ই সব কন্ট্রোল করে),আমেরিকা থেকে বহু NGO পরিবেশ, বিকল্প শিক্ষা, আধ্যাত্মিক গবেষণার নামে অনুদান দিয়ে থাকে(অ্যামেরিকা এসব কারণ দেখিয়ে যেসব দেশে অর্থ ঢোকায় সেসব অর্থ সেসব দেশের বিরুদ্ধে কাজ করার জন্য ই দেওয়া হয়৷UNESCO-র স্বীকৃত এই কথা প্রচার করে International Township হিসেবে অরোভিল কে দাবী করে কতৃপক্ষ৷

কিন্তু প্রমাণের অভাবে  রাষ্ট্রীয় গুপ্তচর ঘাঁটি বলা যায় না,কোনো সামরিক বা জীবাণু যুদ্ধ কেন্দ্র বলা যায় না,কোনো  “ইহুদি বিশ্ব ষড়যন্ত্র” বলা যায় না কিন্তু এসবগুলো ই হয়তো আছে কারণ এখানে বহু রিসার্চের কাজ চলে কিন্তু কি রিসার্চ চলে কেউ জানে না৷ দানের অর্থ কোন কাজে ব্যাবহার হয় কেউ জানে না৷বিশ্বের বহু ইহুদীর সাথে মীরার সময় থেকেই সংযোগ আছে,এখনও বহু ইহুদীর আসা যাওয়া,থাকা সব ই চলছে৷ইহুদী ধর্মীয় চিহ্ন ই ওখানের প্রধান এবং একমাত্র চিহ্ন৷এছাড়া খ্রিশ্চানরা আসে এমনকি মুসলমানরা ও আসে যদিও মুসলমানদের সাথে ইহুদীদের সাপ বেজির সম্পর্ক,খ্রিশ্চান মুসলমানের সম্পর্ক ও কাফেরের সম্পর্ক তারপর হিন্দু সংখ্যাগুরুর দেশে,সব আব্রাহামিকদের কাছে ই যারা কাফের এবং যাদের সাথে সহাবস্থান নিষিদ্ধ তাদের দেশে ই কেন মানবতার কেন্দ্র বানাতে এবং চালাতে হয়?তিনটে আব্রাহামিক ধর্মের যে কোন দেশে তো সেটা করা উচিৎ ছিল৷

অরোভিল ভবিষ্যতে কোন দিকে যেতে পারে

এখন অরোভিল দাঁড়িয়ে আছে তিনটি সম্ভাব্য পথের মোড়ে।

পথ ১: আন্তর্জাতিক আধ্যাত্মিক শহর (বর্তমান ধারা),

বিদেশি উপস্থিতি থাকবে,

ভারতীয় প্রশাসনের সীমিত হস্তক্ষেপ,

আদর্শ বনাম বাস্তবতার সংঘাত চলবে৷

পথ ২:পূর্ণ ভারতীয় নাগরিক কাঠামো ও

নির্বাচিত স্থানীয় প্রশাসন,

ভূমি ও সম্পদে স্বচ্ছতা,

আন্তর্জাতিক মর্যাদা কমে যেতে পারে৷

পথ ৩: দ্বৈত মডেল (সবচেয়ে সম্ভাব্য)

ভারতীয় সার্বভৌমত্ব স্পষ্ট,

বিদেশিদের ভূমিকা সীমিত কিন্তু স্বীকৃত,

অরোভিলকে পরীক্ষাগার হিসেবে রাখা কিন্তু এনক্লেভ নয়,

বর্তমান সরকার তৃতীয় পথের দিকেই ধীরে ধীরে এগোচ্ছে—যার ফলেই উন্নয়ন, রাস্তা, বন নিয়ে সংঘাত দেখা যাচ্ছে।

UNESCO কখনো অরোভিলের আইন, জমি, নিরাপত্তা বা প্রশাসন চালায় না

এটি কোনো “UN Territory” নয় ভারতের সার্বভৌমত্ব এখানে প্রশ্নাতীত৷তবু এই স্বীকৃতি অরোভিলকে একটি আন্তর্জাতিক ঢাল দিয়েছে।ফলে ভারত সরকারও বরাবরই সাবধানে চলেছে—পুরো ভাঙা নয়, আবার পুরো ছাড়ও নয়

শ্রী অরবিন্দের দর্শনের মূল কথা ছিল—

আত্মার রূপান্তর (inner transformation),

জাতি, ধর্ম, বর্ণের ঊর্ধ্বে উঠে চেতনার বিকাশ,ক্ষমতা নয়, আত্মশাসন৷

তিনি কখনোই একটি শহরের প্রশাসনিক নকশা এঁকে বা লিখে যাননি।

অরোভিল মূলত গড়ে ওঠে মীরা আলফাসার ব্যাখ্যা ও প্রয়োগে।

দর্শনের জায়গায় আসে ব্যবস্থাপনা,

আত্মিক সাধনার জায়গায় আসে প্রকল্প, কমিটি, তহবিল৷

“মানব ঐক্য”-এর জায়গায় দাঁড়ায় বাস্তব ক্ষমতার প্রশ্ন,

 ফলে দেখা যায় বহু বাসিন্দা যোগ বা ধ্যানের চেয়ে প্রশাসনিক দ্বন্দ্বে জড়িত,

আধ্যাত্মিক সমতা থাকলেও সাংস্কৃতিক বৈষম্য স্পষ্ট৷

ইউরোপীয় জীবনধারা প্রভাবশালী হয়ে ওঠে, স্থানীয় তামিল সংস্কৃতি প্রান্তিক হয়ে পড়ে৷

এই ফারাক থেকেই আজ প্রশ্ন ওঠে—

অরোভিল কি এখনো অরবিন্দের স্বপ্ন,

না কি একটি আদর্শের নামে গড়ে ওঠা বিশেষ সুবিধাপ্রাপ্ত কলোনি?

 

তবে একটা ব্যাপারে বলা যায় অরোভিল পরিবেশ পুনরুদ্ধারে অসাধারণ কাজ করেছে।শুরুতে এই অঞ্চল ছিল প্রায় মরুভূমির মতো৷জলের স্তর ভয়াবহভাবে নীচে ছিলগাছ কাটা ও ক্ষয়প্রাপ্ত জমি ছিল৷৫০ বছরের মধ্যে লক্ষ লক্ষ গাছ লাগানো হয়,জল সংরক্ষণে বড় সাফল্য আসে,বালুময় ভূমি আবার সবুজ হয়,এটি আন্তর্জাতিকভাবেই প্রশংসিত।

আবার বিতর্কও আছে—

বন তৈরি করতে গিয়ে স্থানীয় গ্রামবাসীর জমি ও চলাচল সীমিত হয়েছে,পরিবেশের নামে উন্নয়ন বনাম জীবিকার সংঘর্ষ আছে,নতুন রাস্তা ও নির্মাণে আবার বন কাটার অভিযোগ ও আছে৷

অর্থাৎ— অরোভিল একদিকে পরিবেশ রক্ষার দৃষ্টান্ত,

অন্যদিকে “কে সিদ্ধান্ত নেবে”—এই প্রশ্নে বারবার জড়িয়ে পড়ে।আবার ওখানকার বাসিন্দাদের ঘর জঙ্গলের আড়ালে গোপন,কারা থাকে জানার কোন উপায় নেই৷যাকে মাতৃমন্দির বলা হয় তা পরিখা কেটে বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে,তারপর ও বিশাল ফাঁকা জমি,সবাই কে ওখানে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়না,এমনকি পরিখার ওপারে ও যেতে দেওয়া হয় না৷সব থেকে চিন্তার বিষয় মাতৃ মন্দির কোন মায়ের মন্দির?মীরা আলফাসার?মা কালি বা মা দুর্গারমত সনাতন ভারতীয় কোন দেবী মায়ের?কোনটা ই না৷ওখানে সেন্ট্রাল হলের মাঝখানে ইহুদী স্টার অফ ডেভিডের উপর একটা ক্রিস্টাল গ্লোব আছে৷এমন সিম্বল কেন আছে সেটা আমাদের ভাবতে হবে বৈকি৷এর অর্থ ইহুদী স্টারের হাতে থাকবে পুরো গ্লোব বা পৃথিবী,ভারতে বসে ই সেই ষড়যন্ত্র চালিয়ে যাচ্ছে,হয়তো সব আব্রাহামিকরাই এক যোগে কাজ করছে৷ফ্রান্স আবার ভারত দখলের বা তাদের দখল করা স্থানগুলো ই আবার অধীনে নেওয়ার কাজ করছে৷হয়তো ওখান থেকে ই বাকি সব দেশগুলো ও একই কাজ করছেআর ধর্মকে বর্ম বানাচ্ছে৷




অরোভিলের দূর্নীতি–

https://youtu.be/dZCixV6a6Vo?si=YOpFZ0ZHioaga5Oy

 

দূর্নীতি,কলোনিজম–

https://youtu.be/D9-z9EFYCCQ?si=s1AJi4f_ELPRAl2z



 আরবী লেখা দেখা যাবে,এত দোকানে কারা কেনে?

https://youtu.be/OFqZKzoGMqI?si=qoqaoCFGBqp3Gqd2



 বুদ্ধ আছে,দলাই লামা আছে,বৌদ্ধ স্টল,পেন্টিং আছে– https://youtu.be/ZqsjCJTY6Z0?si=erLTsuIgmpIpPfz6

 

কোন ধর্ম নেই শুধু পয়সা আছে–

https://youtube.com/shorts/tV-CeS0W2wM?si=yr_pHqcZ0Tu8GWDy



ভারতে ইহুদীদের কব্জা,হিন্দু ধর্ম কব্জা–

https://youtu.be/YIHQnpkBJ_0?si=BYGNRpgwttvxVToF



এটায় স্টার অফ ডেভিড আছে–

https://youtu.be/THLjBfLeKRI?si=6B–ZcEU47ZVyJ6j

 

এসব কি হয়?

https://youtube.com/shorts/XFqX_umXNZs?si=RNg3LVYVahA8lOT0

 

এসব কি?

https://youtube.com/shorts/_7UQWS116as?si=w7YtbVctASPNzCab

 

প্রচুর রং,জ্যামিতিক ডিজাইন 

https://youtu.be/aT13zhHFqik?si=VcF_nz6hbSdk3jZD

 

আশ্রমে এত হুল্লোড?নাচানাচি?প্রচুর ঘোড়া পোষে,কেন এত ঘোড়া পোষে?আশ্রমে গরু পোষে কিন্তু কোন আশ্রমে তো কোনদিন এত ঘোড়া পুষতে দেখা যায় না৷

https://youtu.be/GxsqFDKJyow?si=dcSM-QT4c_du6ZLP



ভূতুরে কেন মনে হলো?কি এমন 

আছে যা বললে লোক ভয় পাবে তাই 

বলা যাবে না?

https://youtu.be/S6GdfCbrjIY?si=ISgtav7s9O93QI7v

 

কথাগুলো শুনতে হবে,স্টার অফ ডেভিড আছে–

https://youtu.be/c0OKRm9JIFk?si=9I_dRMiuK900sAt1



অরোভিলি এখানে ও স্টার অফ ডেভিডের উপর গ্লোব আছে৷নামটা একটু বদলানো হয়েছে কিন্তু ওই মীরা আলফাসা কে কেন্দ্র করেই তৈরী৷কোন বিদেশী ই চালাচ্ছেন৷পোষাকে পরিবর্তন ঢুকে গেছে,আব্রাহামিক আবায়া চলে এসেছে৷

https://youtu.be/AHK8Ldt976I?si=Vr9K5PNROuttZI_f

1 thought on “মীরা আলফাসা,অরোভিল ও কিছু প্রশ্ন”

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *