ভোটের আগে আসাম আর পশ্চিমবঙ্গে বড় আতঙ্কী হামলার ষড়যন্ত্র,আতঙ্কীদের ভয়াবহ ষড়যন্ত্র প্রকাশ হলো—- ইমাম মোহাম্মদ উর খলিফার নাম অনেকে ই জানে না কিন্তু এই নামের ব্যাপারে বলার আগে একটা ঘটনা বলতে হয়৷ঘটনাটা হলো, ৩০ ডিসেম্বর আসামে ১১ জনকে ধরা হয়। তারা ডাইরেক্ট সন্ত্রাসী কার্যকলাপে জড়িত ছিল। সেই ১১ জনের মধ্যে কিছু লোকাল ছিল আর প্রায় ছয়জন ছিল বাংলাদেশী।যখন এই লোকগুলো আসামে ধরা পড়ল, তখন থেকেই একটা নাম সামনে এসেছে,ইমাম মোহাম্মদ উর খলিফা। এটা একটা নতুন সন্ত্রাসী সংগঠন, যা বাংলাদেশ থেকে পরিচালিত হচ্ছে এবং ভারতের বিরুদ্ধে কাজ করছে।নর্থ ইস্ট,আসাম আর পশ্চিমবঙ্গ কে টার্গেট করছে।আসামেও জিহাদি আছে, আর এর প্রমাণ লাস্ট ১০ বছর ধরে বারবার আমরা দেখেছি। এখনো অনেক স্লিপার সেল লুকিয়ে আছে,এই স্লিপারগুলো চিন্তার কারণ। আসামের নিরাপত্তা সবসময় একটা বড় চিন্তার ব্যাপার বাংলাদেশ এবং আরও নানা জিওপলেটিক্যাল কারণে৷
এটা কিছুটা পাকিস্থানের লস্কর তাইবা আর জইশ মোহাম্মদের মতোই, কিন্তু আমরা পাকিস্তানকে বেশী গুরুত্ব দেই তাই লস্কর আর জইশ সম্পর্কে জানি।এটা একটা নতুন তৈরী করা সংগঠন ” ” ” ইমাম মোহাম্মদ উর খলিফা,” তাই এর ব্যাপারে আমরা “আই এম কে” হিসেবে মনে রাখবে। এখন ঘটনার দ্বিতীয় অংশ বলছি,এর প্রধান বা চিফের নাম জুয়েল শেখ, এবং সে বাংলাদেশ থেকে সবকিছু অপারেট করে। “আইএমকে” তিনটা সংগঠনের জঙ্গিদের মিলিয়ে তৈরি হয়েছে। প্রথম সংগঠন হলো “জামাতুল মুজাহিদিন বাংলাদেশ”। দ্বিতীয় সংগঠন হলো “আনসার উল বাংলা” এবং তৃতীয় সংগঠন হলো “আল কায়দা বাংলাদেশ”। এই তিনটা সংগঠনের সব জঙ্গিরা যারা তাদের মিলিটেন্ট উইং ছিল, তারা সবাই মিলে “আইএমকে” তৈরি করেছে, এবং ডিসেম্বর ২০২৪ সালে এর প্রতিষ্ঠা হয়েছে। এরপর থেকে এটা ভারতে বড় পরিসরে কাজ করছে।তারা জঙ্গী রিক্রুট করার কাজ করছিল। এমনটা নয় যে সব জঙ্গিরাই বাংলাদেশ থেকেই আসবে,কিছু লোকাল মানুষও আছে, যেমন বাংলা, আসাম, ত্রিপুরার কিছু এলাকায় তারা ধীরে ধীরে তাদের ভর্তি করার জন্য ক্যাম্প চালাচ্ছিল। আর সবচেয়ে ইন্টারেস্টিং ব্যাপার হলো, এটা প্রথম এমন সংগঠন যারা তাদের লোকদের সঠিক টাকা দেয়। বাংলাদেশ থেকে ভারতে আসত টাকা আসে রিয়েল এস্টেট সেক্টরর জন্য, রিয়েল এস্টেটে বড় পরিমাণ কালো টাকা সাদা করা হয় আর আগে তারা ওখানেই টাকা জমা করে। তারপর ওখান থেকে রিয়েল এস্টেট সেক্টরে সেই কালো টাকাটা খরচ করা হয় আর তারপর ভারতের রিয়েল এস্টেট সেক্টরের এই ধরনের ব্যবসায়ীদের সঙ্গে মিলে ওখান থেকে টাকা তুলে দেয়া হয় সন্ত্রাসীদের কাছে। এই সন্ত্রাসী গোষ্ঠীটা পূর্ব ভারতে বড় রকমের ঝামেলা,ষড়যন্ত্র করছে আর করার চেষ্টা সব সময় চালিয়ে যাচ্ছে। এদের মধ্যে কিছু সন্ত্রাসী কেরলে গিয়েছিল ট্রেনিং নিতে। নসীমুদ্দিন এদের ভারতের হেড আর ওর বয়স ২৪ বছর। নসীমুদ্দিন ই সব লিড করছিল। আসামের পুলিশ তাকে ধরেছে, আর বাকিরাও ধরা পড়েছে। তাদের নাম দেখা যায় সব মুসলমান আর বয়স দেখা যায় সব কম,তবে ৪৬ বছর বয়সের এক সন্ত্রাসীও আছে তাদের মধ্যে। আর ওই ৪৬ বছর বয়সের সন্ত্রাসীটা ও যথেষ্ট অ্যাক্টিভ,তাকে দিয়ে কাজ করাচ্ছে ২৪ বছরের নসীমউদ্দিন।পশ্চিমবঙ্গ,আসাম ই শুধু অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের কারণে সমস্যা ভোগ করছে না।সেখানে সন্ত্রাসী সংগঠনগুলোর ঘাঁটি পাকা করে ফেলেছে।সবথেকে বিস্ফোরক অংশ হলো নতুন দিল্লির লালকেল্লার যে বিস্ফোরণ হয়েছিল,ওই বিস্ফোরণ থেকে একটা খবর ছড়ায় যে এই সন্ত্রাসীদের সংগঠন পশ্চিমবঙ্গ থেকেও আসতে পারে, আর তাকে বলা হয়েছিল বাংলাদেশের সন্ত্রাসবাদী মডিউল।এখন যে খবর আসছে, সেটা হলো কাশ্মীরে যারা জৈশ-ই-মোহাম্মদের সঙ্গে যুক্ত ছিল, ওই সন্ত্রাসীরাও “আইএমকের” সঙ্গেও তাদের সম্পর্ক গড়ে তুলেছে।দেশের বিভিন্ন জায়গায় ওদের ব্লাস্ট করার প্ল্যান ছিল,তার মধ্যে পশ্চিমবঙ্গ আর আসামও ছিল। কলকাতার ভিআইপি এলাকা সল্ট লেক সিটিতে ও ব্লাস্ট করার কথা ছিল।সেখানে গাড়িতে বিস্ফোরক ভরে বোমা ফাটানোর পরিকল্পনা ছিল। আর ওই আরডিএক্স,আলফলা ইউনিভার্সিটিতে হারিয়ানা থেকে এসেছে। তারপর সেখান থেকে সাহারানপুর, সাহারানপুর থেকে প্রয়াগরাজ, প্রয়াগরাজ হয়ে ধীরে ধীরে দেশের ২২টা শহরে পাঠানো হয় যার দ্বারা সব যায়গায় ব্লাস্ট করার প্ল্যান ছিল যাতে সারা দেশে সন্ত্রাস ছড়িয়ে পড়ে। আমাদের ইন্টেলিজেন্স এজেন্সি আর জম্মু কাশ্মীর পুলিশকে ধন্যবাদ,তারা এত বিশাল ষড়যন্ত্র ধরতে পেরেছে নাহলে দেশে সাংঘাতিক বিপর্যয় হতো,প্রচুর নরহত্যা হতো৷তারা ওখানে সেই জাইশ-এ-মোহাম্মদের লোককে ধরেছে, আর এখানে আসাম পুলিশ আইএমকের ১১ জন সন্ত্রাসী ধরে প্রায় তাদের হাড় ভেঙে দিয়েছে। কিন্তু এখনো বিপদ কাটেনি। নাসিমুদ্দিন তার ইকবালিয়া বয়ানে বলেছে যে সে পশ্চিমবঙ্গ আর ত্রিপুরাতেও বড় আকারে যুবকদের একত্রিত করেছে আর একত্রিত করার উপায় বলেছে, “আমরা সোশ্যাল মিডিয়ার প্রোফাইল খতিয়ে দেখি কার কী লেখা,কার ঝোঁক কার দিকে।”যে একটু কট্টর আর ধর্মীয় টাইপের তাদের টার্গেট করি। ওদের কাছে আমরা একটা ইমাম পাঠাই, তারপর ইমাম আর মোলভী সাহেব ওর ভালোভাবে পরীক্ষা করেন। তারপর একটা অনলাইনে শপথ করানো হয়, যাকে বাপেথিলো বলে। শপথ নেওয়ার পর একটা ফরমাল যোগদান হয়, আর তারপর ওদের ট্রেনিং এর জন্য যেমন আমি বলেছি, কেরল ইত্যাদিতে পাঠানো হয়।” এখন পুলিশ চেষ্টা করছে খুঁজে বের করতে পশ্চিমবঙ্গে এই নেটওয়ার্কে কারা কারা আছে আর ত্রিপুরাতেও কারা কারা আছে?এখন ও পর্যন্ত যে সন্ত্রাসী ঘটনা গুলো
পাকিস্তানের তরফ থেকে ঘটানো হয়েছিল পশ্চিম ভারতে যেমন মুম্বইতে,দিল্লীতে ঠিক তেমন ই করতে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে৷ভবিষ্যতে যে হামলা হবে, সেটা পশ্চিমবঙ্গে হবে, বিহারে হবে, ঝাড়খণ্ডে হবে, আসামে হবে, ত্রিপুরায় হবে, উত্তর-পূর্বের বিভিন্ন রাজ্যে হবে। ব্যাপক পরিমাণে বাংলাদেশি এই রাজ্যগুলোতে ঢুকে পড়েছে এবং সরাসরি যোগাযোগ রয়েছে আনসারুল বাংলা, আলকায়েদা বাংলা, অর্থাৎ বাংলাদেশে যারা আছে, এবং এই ইমাম মুজাহিদিন,মুজাহিদ বাংলা বা আই এম জে—এই তিনটি সংগঠনের সঙ্গে।লোকেরা সরাসরি তাদের সঙ্গে যোগাযোগে আছে আর রিক্রুটমেন্ট অনলাইনে চলছে। বিস্ফোরক বানানো, ব্লাস্ট কিভাবে করতে হবে, বন্দুক কোথা থেকে ব্যবহার করতে হবে,এই সব চলছে। এখন পর্যন্ত কতজন এই সংগঠনে আছে, আইএমকে-তে সেটা জানা যায়নি। সিকিউরিটি এজেন্সি সেটা খুঁজে বের করার চেষ্টা করছে, এটা প্রথম তথ্য।এই নামগুলো সবার মনে রাখা উচিৎ নাসিমুদ্দিন,জুয়েল ইত্যাদি৷ জে এ ডব্লিউ এল হীরা এই নাম তার আকা’র৷ইমাম মোহাম্মদ উর খলিফা এমন ই কোন ইমাম হবে যে কোনো খলিফা হিসেবে হয়তো নির্বাচিত।সে কে তা জানা যায়নি কিন্তু এটা একটা নাম। এ ব্যাপারে আপনারা আরও তথ্য সংগ্রহ করুন আর যদি আপনাদের কাছে কিছু জানার থাকে তবে কমেন্ট করে অবশ্যই জানান।এরা ভারতের থেকে নর্থ ইস্টকে স্থায়ীভাবে আলাদা করে ফেলতে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। না পারলেও কমপক্ষে এক মাস-আধ মাসের জন্য তো আলাদা করতে পারবেই এমন ও বলে।এরা প্রচার করছে,”রেলপথ আর সড়কে এত বাধা সৃষ্টি করো যে তাদের সরাতে এক মাস লাগবে।তখন যাক, এয়ারফোর্স কে আসামে ব্যাস্ত হতে হবে৷মানুষ প্লেন ছাড়া বিচ্ছিন্ন হয়ে থাকবে৷বিচ্ছিন্ন করাটাই আমাদের দায়িত্ব। আসাম আর ভারতকে কেটে আলাদা করে দিলে সরকার আমাদের কথা শুনতে বাধ্য হবে৷”
এটাই ওদের পরিকল্পনা৷