শূদ্ররা কি আদৌ অত্যাচারিত

লাখ,হাজার বছর ধরে নাকি ব্রাহ্মণরা শূদ্রদের উপর অত্যাচার,নিপীড়ণ,লাঞ্ছনা,বঞ্চনা চালিয়ে এসেছে৷কানে গরম শিসা ঢেলে দিত,”ওঁ” উচ্চারণ করলে জিভ ছিড়ে দিত,খাবার খেতে দিতনা,জল খেতে দিতনা,মন্দিরে ঢুকতে দিতনা,পুজা করতে দিতনা,তাদের ছুঁতনা,ছাঁয়াও স্পর্শ করতোনা,আরও কত কি “না” ছিল আমি জানিনা৷আবার সেই শূদ্রদের পৈতা ও হতো,তাও ব্রাহ্মণরাই দিত৷

 

সেইসব “না” দলের মাঝে আজও দেখতে পাই কুম্ভ স্নানে কোটি কোটি লোক একসাথে ডুব দেয়, ব্রাহ্মণ শূদ্রের  সাথে কি করে ডুব দেয় আমি জানিনা৷সবাই কি সবার কানের কাছে জিজ্ঞেস করে,”তুমি কি ব্রাহ্মণ?” কি জানি!জল অপবিত্র হয়না?ব্রাহ্মণের জাত থাকে তো?বাঁক নিয়ে শিবের মাথায় জল ঢালতে যায় দেখি কত লোক,তারা একে অন্যকে  জিজ্ঞেস করে তো ব্রাহ্মণ কিনা?না জিজ্ঞেস করলে যে জাত চলে যাবে৷

 

অথচ চিরদিন ই গুরুগৃহে শূদ্র শিষ্য ই অনেক বেশী থাকতো কারণ ব্রাহ্মণদের সন্তানরা নিজেদের ঘরেই বিদ্যা শিক্ষা করতো,রাজার সন্তান তো কয়েক জন ই থাকতো অনেকটা যায়গায় এক জন রাজার,মন্ত্রীদের(ক্ষত্রিয়),বৈশ্যদের সংখ্যা ও সীমিত তাই তাদের সন্তানদের ও সংখ্যা সীমিত হতো৷বাকি সব তো শূদ্রদের সন্তান ই থাকতো৷তাদের দানেই ব্রাহ্মণের জীবন চলতো৷তাদের ভেতর থেকেই আবার পরবর্তী ব্রাহ্মণ,ক্ষত্রিয়,বৈশ্য,শূদ্র তৈরী হতো৷

অতীত কাল থেকে বর্তমান কাল পর্যন্ত অত্যাচারিত,অবহেলিত,লাঞ্ছিত,বঞ্চিত,নিপীড়িত শূদ্রদের সমাজের সবথেকে উপরে বসে সবাইকে শাষণ করার একটা তালিকা আর অত্যাচারী ব্রাহ্মণদের সবার উপরে অত্যাচার করার একটা ছোট তালিকা তুলে ধরার চেষ্টা করলাম যদিও এটা সবটা না৷ 

 

প্রাচীন ভারতের ইতিহাসে চিরদিনই রাজাদের মধ্যে “শূদ্র রাজা”র সংখ্যাই বেশী দেখা যায়৷পুরাণ, মহাকাব্য, বৌদ্ধ–জৈন গ্রন্থ ও আধুনিক ঐতিহাসিক বিশ্লেষণ মিলিয়ে  মোটামুটি একটা তালিকা করা গেছে৷

 

মহাভারত ও পুরাণে উল্লিখিত শূদ্র  জাতির রাজাদের তালিকা–

১. নন্দ বংশ (মগধ)

মহাপদ্ম নন্দ

 নন্দ বংশকে “শূদ্র রাজত্ব” বলা হয়েছে একাধিক পুরাণে, বিশেষ করে রাজবংশের তালিকা অংশে।

যেসব পুরাণে শূদ্র বলা হয়েছে সেগুলো যথাক্রমে–

 ১. বিষ্ণু পুরাণ

চতুর্থ অংশ (৪র্থ অংশ)

অধ্যায়: ২৪

এখানে বলা হয়েছে—

“মহাপদ্ম নন্দঃ শূদ্রযোনিসম্ভূতঃ”

অর্থাৎ

এখানে নন্দ বংশকে স্পষ্টভাবে শূদ্র রাজবংশ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

 ২. ভাগবত পুরাণ

স্কন্ধ: দ্বাদশ স্কন্ধ

অধ্যায়: ১

শ্লোকগুলিতে বলা হয়েছে—

নন্দ রাজারা শূদ্রজাত ছিলেন এবং তারা ক্ষত্রিয় রাজবংশের অবসান ঘটান৷যে ভাবে ক্ষত্রিয় রাজবংশের অবসান করেছিল তার উল্লেখ করছি নীচে৷

 

নন্দদের আগে মগধে শাসন করছিল শিশুনাগ বংশ, যাদের পুরাণ ও ইতিহাসে ক্ষত্রিয় বলা হয়। এই বংশের শেষ রাজাই নন্দদের শিকার হন।

প্রথম যে ক্ষত্রিয় রাজাকে সরানো হয় তার নাম

মহানন্দিন (Mahānandin),এই ক্ষত্রিয় রাজাকে খ্রিস্টপূর্ব ৪র্থ শতকে ক্ষমতাচ্যুত করে ক্ষমতা দখল করে মহাপদ্ম নন্দ৷

মহানন্দিনই ছিলেন শেষ ক্ষত্রিয় রাজা, যাকে সরিয়ে নন্দরা ক্ষমতায় আসে। সরাসরি “যুদ্ধ” নয়, বরং ষড়যন্ত্র, প্রশাসনিক দখল ও অর্থনৈতিক শক্তি দখল এই তিনটি ধাপে ক্ষমতা দখলের করা হয়েছিল৷

১️ রাজদরবারের ভিতর থেকে দখল

বিষ্ণু পুরাণ ও বায়ু পুরাণ অনুযায়ী,

নন্দ পরিবারের একজন (সম্ভবত মহাপদ্ম নন্দ বা তার পিতা)

রাজদরবারে কোষাধ্যক্ষ / সেনা-প্রধান স্তরের পদে ছিলেন।

অর্থাৎ, তারা রাজপরিবারের খুব কাছেই ছিল।

২️ মহানন্দিনকে হত্যার মাধ্যমে অপসারণ করে ক্ষমতা দখল করা হয়েছিল৷অধিকাংশ পুরাণে ই একথা বলা হয়েছে৷এটি ছিল (অভ্যন্তরীণ অভ্যুত্থান)।এই প্রথমবার ক্ষত্রিয় রাজত্বের সরাসরি অবসান ঘটে মগধে।

৩️ মহাপদ্ম নন্দের অভিষেক (শূদ্র রাজা) মহানন্দিন অপসারিত হওয়ার পর—মহাপদ্ম নন্দ নিজেকে রাজা ঘোষণা করেন।তার ক্ষেত্রে বলা হয়েছে:

“স একচ্ছত্রভুবনাধিপঃ”অর্থাৎ

তিনি একচ্ছত্র সম্রাট হন। কেন একে “ক্ষত্রিয় রাজত্ব বিলোপ” বলা হয়

পুরাণের ভাষায় (খুব গুরুত্বপূর্ণ)

বিষ্ণু পুরাণ, ভাগবত পুরাণে বলা হয়েছে—মহাপদ্ম নন্দ ক্ষত্রিয় রাজাদের মূলসহ উৎপাটন করেন–

এর মানে শুধু মগধ নয়,

পূর্ব ভারতের বহু ক্ষত্রিয় রাজ্য যেমন

কোশল,কাশি,বৈশালী,অঙ্গ এই সব জায়গায় ক্ষত্রিয় বংশের শাসন শেষ করে দেন।এটা ছিল বংশগত ক্ষত্রিয় রাজ শক্তির পতন এবং শূদ্র রাজ শক্তির ক্ষমতা দখল৷কী শক্তিতে নন্দরা এটা করতে পেরেছিল?

 ১.নন্দরা বিপুল ধনসম্পদ কুক্ষিগত করেছিল৷ 

গ্রিক ঐতিহাসিক কুর্তিয়াস ও ডিওডোরাস লিখেছেন:

নন্দদের কোষাগার ছিল ভারতের সবচেয়ে বড়।

কর ব্যবস্থা ছিল প্রচন্ড কঠোর৷

 ২. স্থায়ী বিশাল সেনাবাহিনী

গ্রিক সূত্র অনুযায়ী—

২ লক্ষ পদাতিক

২০ হাজার অশ্বারোহী

২–৩ হাজার হাতি

এই শক্তির সামনে ক্ষুদ্র ক্ষত্রিয় রাজ্যগুলো টিকতে পারেনি।

নন্দরা প্রথমে মগধের ক্ষত্রিয় রাজা মহানন্দিনকে রাজদরবারের অভ্যন্তরীণ ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে হত্যা করে সরিয়ে ক্ষমতা দখল করে। এরপর মহাপদ্ম নন্দর বিশাল সামরিক ও অর্থনৈতিক শক্তি নিয়ে পূর্ব ভারতের অন্যান্য ক্ষত্রিয় রাজবংশ ধ্বংস করে “ক্ষত্রিয় রাজত্বের অবসান” ঘটান। ক্ষত্রিয় ধ্বংসের জন্য

পুরাণে শূদ্র রাজাদের ‘অধর্মীয়’ বলা হয়েছে৷

ভাগবত পুরাণে নন্দদের উল্লেখ আসে কলিযুগ-পূর্ব রাজবংশ তালিকা অংশে।

 ৩. মৎস্য পুরাণ

অধ্যায়: ২৭২ (রাজবংশ বিবরণ অংশ)

এখানে বলা হয়েছে—

নন্দরা পূর্ববর্তী ক্ষত্রিয় রাজাদের উৎখাত করে ক্ষমতায় আসে

এবং তাদের বর্ণ শূদ্র বলে চিহ্নিত করা হয়েছে৷

৪. বায়ু পুরাণ

অধ্যায়: ৯৯

বায়ু পুরাণে বলা হয়েছে—

নন্দ বংশের প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন অধর্মীয় কিন্তু শক্তিশালী শাসক

এবং তিনি শূদ্র বংশজাত

 ৫. ব্রহ্মাণ্ড পুরাণ

অধ্যায়: তৃতীয় খণ্ডের রাজবংশ অংশ

এখানেও নন্দদের উল্লেখ আছে—

“শূদ্রজাত রাজা”

যারা মগধে দীর্ঘকাল শাসন করেছে

গুরুত্বপূর্ণ ব্যাখ্যা (খুব জরুরি)

পুরাণগুলো নন্দদের শূদ্র বলেছে রাজনৈতিক-সামাজিক অর্থে, গালাগালি হিসেবে নয়৷

নন্দরা:

ব্রাহ্মণদের দ্বারা অভিষিক্ত হয়নি

ক্ষত্রিয় বংশগত দাবি করেনি

শক্তি ও প্রশাসনের জোরে রাজত্ব করেছে

এই কারণেই পুরাণকাররা তাদের বর্ণভিত্তিক রাজবংশ তালিকায় শূদ্র হিসেবে রেখেছেন।

 নন্দ বংশকে শূদ্র বলা হয়েছে মূলত বিষ্ণু পুরাণ (৪.২৪), ভাগবত পুরাণ (১২.১), মৎস্য পুরাণ, বায়ু পুরাণ ও ব্রহ্মাণ্ড পুরাণে।

পুরাণে শূদ্র রাজাদের পূর্ণ তালিকা (নন্দ, মৌর্য-পূর্ব, দক্ষিণ ভারত)

২. মৌর্য বংশ

চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য জঙ্গলে বসবাসকারী মুরা নামের এক দাসীর পুত্র

তাঁর বংশ “মৌর” বা ময়ূরপালক  নিম্নবর্ণ বলে চিহ্নিত

বৌদ্ধ ও জৈন সূত্রে তিনি মহান 

ব্রাহ্মণ চাণক্যের সহায়তায় শাসন ক্ষমতায় বসেন৷

 দক্ষিণ ভারতের শূদ্র রাজবংশ

 ৩. সাতবাহন বংশ

প্রতিষ্ঠাতা: সিমুক

পুরাণে সাতবাহনদের শূদ্র বলা হয়েছে তারা বৈদিক যজ্ঞ করতেন

শূদ্র হয়েও ব্রাহ্মণদের দান,বৌদ্ধ ধর্মের পৃষ্ঠপোষকতা ইত্যাদি করতেন৷

প্রথম কথা: “সাতবাহন” নাম নয়, পুরাণে তারা পরিচিত “অন্ধ্র রাজা” নামে

পুরাণগুলিতে সরাসরি “সাতবাহন” শব্দ খুব কম, বরং বলা হয়—

অন্ধ্র

অন্ধ্রভৃত্য

অন্ধ্রজাতীয় রাজা

১️ বিষ্ণু পুরাণ

বিষ্ণু পুরাণ – চতুর্থ অংশ (৪.২৪)

এটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পৌরাণিক উৎস।

এখানে বলা হয়েছে নন্দদের পতনের পর অন্ধ্র রাজাদের শাসন শুরু হয়

তাদের শাসনকাল হয় দীর্ঘ৷

“ততঃ পরম্ অন্ধ্রভৃত্যাঃ পৃথিবীং ভোক্ষ্যন্তি…”

 এখানে “অন্ধ্রভৃত্য” শব্দটি আছে

(যার অর্থ নিয়ে পরবর্তী কালে অনেক বিতর্ক হয়েছে)

 বিষ্ণু পুরাণে—

সাতবাহন রাজাদের সংখ্যা আর মোট শাসনকাল এই দুটোই দেওয়া আছে (যদিও নামগুলো সংক্ষিপ্ত)৷

২️ বায়ু পুরাণ অন্ধ্র রাজাদের তালিকা

শাসনকাল দেওয়া আছে৷

অন্ধ্রদের দীর্ঘ শাসনের কথা

দাক্ষিণাত্যের উপর কর্তৃত্বের ইঙ্গিত

 মৎস্য পুরাণ

মৎস্য পুরাণে অন্ধ্র রাজাদের উল্লেখ আছে

কিন্তু তালিকা অসম্পূর্ণ ও সংক্ষিপ্ত

এটি বিষ্ণু,বায়ু পুরাণের বক্তব্যকেই পুনরাবৃত্তি করে।

৪️ ভাগবত পুরাণ 

 দ্বাদশ স্কন্ধ (১২.১)

এখানে কলিযুগের রাজাদের ধারাবাহিকতায়

অন্ধ্র রাজাদের নাম আছে

কিন্তু—

এটি নৈতিক,ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে

রাজনৈতিক ইতিহাসের বিস্তারিত নেই৷

৫️ ব্রহ্মাণ্ড ও ব্ৰহ্ম পুরাণ

এই দুই পুরাণে ও

অন্ধ্র রাজাদের নাম সংকেত আকারে আছে,বিষ্ণু/বায়ু পুরাণের অনুকরণে,

 আলাদা নতুন তথ্য খুব বেশি নেই৷

“অন্ধ্রভৃত্য” শব্দের শ্লোক নম্বরসহ বিশ্লেষণ

সাতবাহনরা কীভাবে মৌর্যদের উত্তরসূরি হিসেবে দক্ষিণে শক্তি গড়ে তোলে৷

 (সাতবাহন) রাজাদের তালিকা

(ক) বিষ্ণু পুরাণ

 বিষ্ণু পুরাণ, চতুর্থ অংশ, অধ্যায় ২৪ (৪.২৪)

এখানে নন্দদের পরে ধারাবাহিকভাবে বলা হয়েছে—

“নন্দানাং চ পরং রাজ্যং

আন্ধ্রভৃত্যাঃ করিষ্যন্তি…”

এরপর বিষ্ণু পুরাণ বলে—

অন্ধ্র রাজারা দীর্ঘকাল পৃথিবী শাসন করবে৷

মোট রাজা সংখ্যা ও মোট শাসনকাল উল্লেখ করা হয়

কিন্তু সব নাম বিস্তারিত নয়

বিষ্ণু পুরাণে যে নামগুলো পাওয়া যায় (সংক্ষিপ্ত আকারে):

শ্রীমুখ

কৃষ্ণ

শাতকর্ণি

পূর্ণোৎসঙ্গ

স্কন্ধস্তম্ভি

যজ্ঞশ্রী

 এগুলো সংকেতমূলক নাম, সম্পূর্ণ রাজতালিকা নয়।

(খ) বায়ু পুরাণ

 বায়ু পুরাণ, রাজবংশানুক্রম অংশ

বায়ু পুরাণ বিষ্ণু পুরাণের চেয়ে বেশি বিস্তারিত।

এখানে বলা হয়েছে—

নন্দদের পরে অন্ধ্র রাজাদের উত্থান

তারা দাক্ষিণাত্যে দীর্ঘকাল শাসন করবে৷

শাসনকাল প্রায় ৩০০ বছর বা তার বেশি৷

সেনানায়ক বা প্রশাসনিক কর্মকর্তা বোঝাতে ও ব্যাবহার হয়৷

সাতবাহনরা কীভাবে মৌর্য উত্তরসূরি হিসেবে দক্ষিণে ক্ষমতায় আসে

(ক) মৌর্য সাম্রাজ্যের পতনের পর

অশোকের পর—

মৌর্য সাম্রাজ্য দুর্বল হয়

দাক্ষিণাত্যে কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ শিথিল হয়

এই শূন্যস্থানেই—

স্থানীয় অন্ধ্র সামরিক ও প্রশাসনিক শক্তি উঠে আসে৷

এই ধারাবাহিকতা ক্ষমতার উত্তরাধিকার, বংশগত নয়।

সাতবাহনরা বিদ্রোহী দাস ছিল না

তারা মৌর্য প্রশাসনের ধারাবাহিক রূপ

চের, চোল, পাণ্ড্য (প্রাচীন তামিল রাজারা)

প্রাচীন সংস্কৃত গ্রন্থে এদের শূদ্র রাজা বলা হয়েছে

কিন্তু তামিল সাহিত্য (সঙ্গম সাহিত্য)-এ:

তারা স্বাধীন রাজা,উচ্চ সংস্কৃতিসম্পন্ন

পরে তাদের ক্ষত্রিয় পদে উন্নীত করা হয়৷

কলিযুগের শূদ্র রাজা (পুরাণীয় ধারণা)

পুরাণে বলা হয়েছে—

“কলৌ শূদ্রসম্ভূতা নৃপা ভবিষ্যন্তি”

এই তালিকায় যাদের আনা হয়—

শক, কুষাণ, হূণ রাজারা

কনিষ্ক,রুদ্রদামন কে  “শূদ্র” আখ্যা

বাস্তবে:উন্নত প্রশাসন,ধর্মীয় সহনশীলতা,বৌদ্ধ ও শৈব পৃষ্ঠপোষকতা৷

গুপ্ত-পরবর্তী ও আঞ্চলিক শূদ্র রাজবংশ–

 পাল বংশ (বাংলা-বিহার)

গোপাল, ধর্মপাল, দেবপাল

সেন শাসনের আগে ব্রাহ্মণ গ্রন্থে পালদের “শূদ্র” বলা হয়েছে

কিন্তু পালরা শূদ্র রাজা ছিলেন না৷পাল বংশের প্রতিষ্ঠাতার নাম ছিল গোপাল তাই তার নামের সাথে সংযোগ রেখে বংশের সবার নামের শেষ অংশ পাল রাখা হয়৷পাল বংশ ব্রাহ্মণ ছিল বলেই জানা যায়৷তারা বৌদ্ধ বিশ্ববিদ্যালয় (নালন্দা, বিক্রমশীলা) রক্ষা করেন,

প্রশাসনে ব্রাহ্মণ নিয়োগ করেন৷

কাকতীয়, যাদব, হোয়সল রাজারা সমেত দক্ষিণ ভারতে বহু রাজবংশ

শিলালিপিতে নিজেরাই বর্ণ উল্লেখ করেননি৷

পরবর্তীকালে স্মৃতিকাররা শূদ্র বলেন৷

ঐতিহাসিক বিশ্লেষণ (সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ) কেন এদের “শূদ্র” বলা হয়েছে?

১ ক্ষত্রিয় বংশ উৎখাত করলে

২ বৈদিক যজ্ঞ না করলে

৩ ব্রাহ্মণের দমন করলে করলে

৪ অবৈদিক বৌদ্ধ/জৈন ধর্মকে পৃষ্ঠপোষকতা দিলে

 বাস্তব সত্য তাদের শূদ্র ধরা হতো৷নিজেদের কোন সম্প্রদায় ভুক্ত না মানলে শূদ্র সম্প্রদায় ভুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা ই বেশী হওয়া স্বাভাবিক৷

শূদ্র রাজারা কর ব্যবস্থা গড়েছেন,

সাম্রাজ্য বিস্তার করেছেন,

বিশ্ববিদ্যালয় ও শিল্পে বিনিয়োগ করেছেন৷

তাদের নামের সংক্ষিপ্ত তালিকা–

মহাপদ্ম নন্দ

চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য

বিন্দুসার

সিমুক (সাতবাহন)

কনিষ্ক

রুদ্রদামন

গোপাল

ধর্মপাল

দেবপাল

প্রাচীন চোল–চের–পাণ্ড্য রাজারা

আধুনিক কালের (১৯৪৭ পর্যন্ত)– ঔপনিবেশিক লেখায় শূদ্র বা অবর্ণ বলে চিহ্নিত করা হয়েছে, কিন্তু বাস্তবে রাজত্ব বা সার্বভৌম ক্ষমতা প্রয়োগ করেছেন—তাদের একটি পর্যায়ভিত্তিক, নামভিত্তিক তালিকা দিচ্ছি।

১) প্রাচীন যুগ (খ্রিস্টপূর্ব ৬ষ্ঠ শতক পর্যন্ত)

মগধ ও উত্তর ভারত–

মহাপদ্ম নন্দ

ধনানন্দ

মৌর্য

চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য

বিন্দুসার

২) প্রাক্-গুপ্ত ও কুষাণ যুগ

সিমুক (সাতবাহন বংশ)

কৃষ্ণ সাতকর্ণি

গৌতমীপুত্র সাতকর্ণি

কনিষ্ক (কুষাণ)

হুবিষ্ক

বাসুদেব কুষাণ

রুদ্রদামন (শক)

৩) গুপ্ত-পরবর্তী ও আঞ্চলিক রাজবংশ (৬ষ্ঠ–১২শ শতক)

পূর্ব ভারত

গোপাল (পাল বংশ)

ধর্মপাল

দেবপাল

মহীপাল

দাক্ষিণাত্য

৪)দান্তিদুর্গ (রাষ্ট্রকূট)

কৃষ্ণ (রাষ্ট্রকূট)

বল্লাল (হোয়সল)

বিষ্ণুবর্ধন (হোয়সল)

তামিল অঞ্চল

করিকাল চোল

রাজরাজ চোল (পরবর্তী কালে ক্ষত্রিয়ীকরণ)

রাজেন্দ্র চোল 

৪) মধ্যযুগ (১৩শ–১৮শ শতক)

দক্ষিণ ভারত

হরিহর  (বিজয়নগর)

বুক্কা রায় 

কৃষ্ণদেব রায়

উত্তর ও মধ্য ভারত

৫)মহারাষ্ট্র-ছত্রপতি শিবাজী (প্রথমে শূদ্র আখ্যা,পরে ক্ষত্রিয় অভিষেক)

ছত্রপতি সম্ভাজী

৫)ঔপনিবেশিক যুগের আগে ও ব্রিটিশ যুগ (১৮–১৯শ শতক)

মহীশূর

মারাঠা ক্ষমতাকেন্দ্র

যশবন্ত রাও হোলকার

মলহার রাও হোলকার

দৌলত রাও সিন্ধিয়া

৬)স্বাধীনতার ঠিক আগের যুগ (১৯৪৭-এর আগে)

দেশীয় রাজ্য ও শক্তিশালী শাসক

কোলাচল রাজা (কেরালা)

ত্রাভাঙ্কোরের বহু রাজা শূদ্র

 

রাজনৈতিক অর্থে “শেষ যুগের শূদ্র শাসক” বা রাজনৈতিক ক্ষমতাশালী ব্যাক্তিগন–

ড. বি. আর. আম্বেদকর (রাজা নন, কিন্তু আইনগত সার্বভৌম ক্ষমতার স্থপতি)

বাংলা, মহারাষ্ট্র বা দক্ষিণ ভারত—একটি অঞ্চল ধরে বড় তালিকা

আধুনিক কালে  রাজা নেই কারণ রাজতন্ত্র ভেঙে রাষ্ট্র,গণতন্ত্র ও সংবিধান এসেছে।

কিন্তু যাঁরা ঐতিহাসিকভাবে শূদ্র থেকে রাষ্ট্রক্ষমতার শীর্ষে পৌঁছেছেন

যাঁরা কার্যত রাজাসুলভ ক্ষমতা (রাষ্ট্রপ্রধান/অপ্রতিদ্বন্দ্বী শাসক)–

মহারাষ্ট্রের বহু মারাঠা শাসক

মারাঠাদের বড় অংশ শাস্ত্রানুসারে শূদ্র

পেশোয়া ব্রাহ্মণ হলেও,মারাঠা সাম্রাজ্য শূদ্র কৃষক-যোদ্ধারা ই ক্ষমতা রক্ষা করতো৷

বহু দেশমুখ, পাটিল, সরদার—কার্যত রাজাসম ক্ষমতা

স্বাধীনতার পর: “গণতান্ত্রিক রাজারা”

এখানে রাজা মানে জনভিত্তিক ক্ষমতার শীর্ষ ব্যক্তি

 চৌধুরী চরণ সিং

কৃষক (জাট) সমাজ

ঐতিহাসিকভাবে শূদ্র শ্রেণিতে ফেলা হয়৷

কর্পুরি ঠাকুর

নাপিত (শূদ্র শ্রেণি)

বিহারের মুখ্যমন্ত্রী

মুলায়ম সিং যাদব

বাবু জগজীবন রাম 

 

যাদব—শাস্ত্রে শূদ্র

উত্তরপ্রদেশের কার্যত সম্রাটসুলভ রাজনৈতিক প্রভাব

দীর্ঘ সময়ের মুখ্যমন্ত্রী৷

প্রশাসন, পুলিশ, রাজনীতি—সবকিছুর নিয়ন্ত্রণ ছিল ওনার হাতে৷

লালুপ্রসাদ যাদব

শূদ্র পশুপালক সমাজ

বিহারে দীর্ঘ সময়ের মুখ্যমন্ত্রী৷

মায়াবতী

দলিত (চামার সম্প্রদায়)

উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী

প্রশাসন ও আমলাতন্ত্রে পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ

ইতিহাসে প্রথম দলিত নারী যিনি রাজ্যকে রাজাসুলভ কর্তৃত্বে শাসন করেছেন৷

কাঁশীরাম

নিজে মুখ্যমন্ত্রী হননি

কিন্তু রাজা তৈরির ক্ষমতা ছিল

“ভোটই রাজত্ব”—এই তত্ত্ব বাস্তবে প্রয়োগ,ব্রাহ্মণ এবং জেনারেল বিরোধী৷

দক্ষিণ ভারতে আধুনিক “শূদ্র রাজনৈতিক রাজারা”

  এম. করুণানিধি

তামিল শূদ্র সমাজ

ব্রাহ্মণ বিরোধী সাংস্কৃতিক রাজত্ব

ভাষা, ইতিহাস, রাজনীতি—সবখানে কর্তৃত্ব

 এন. টি. রামা রাও

অভিনেতা থেকে মুখ্যমন্ত্রী

কাম্মারা সমাজে শূদ্র

একক ব্যক্তিত্বে রাজ্য শাসন

 

প্রাচীন–মধ্যযুগ–ঔপনিবেশিক যুগ পর্যন্ত সংক্ষিপ্ত তালিকা দিতে পারি। এখানে লক্ষ্য রাখতে হবে:

“শূদ্র জমিদার” বলতে সেই জমিদারদের বোঝানো, যাদের শাস্ত্রীয় বর্ণ অনুযায়ী শূদ্র বা নিম্নবর্ণে ধরা হয়।

অনেক তথ্য ঔপনিবেশিক নথি বা ব্রিটিশ প্রশাসনিক রিপোর্ট থেকে এসেছে, কারণ আধুনিক ইতিহাসে এদের বর্ণ নির্দিষ্টভাবে উল্লেখ থাকে।

তালিকাটি পূর্ণাঙ্গ নয়; তবে উল্লেখযোগ্য এবং রেকর্ডে থাকা প্রধান নামগুলো এখানে দেয়া হলো।

ভারতের উল্লেখযোগ্য শূদ্র জমিদাররা

১️ বাংলার অঞ্চল

চাকরা কুলের জমিদার – নদীয়া, শাস্ত্রীয় শূদ্র সমাজ থেকে

বৃন্দাবন ও বরেন্দ্র অঞ্চলের কৈবর্ত জমিদার – সৈনিক ও জলপথ নিয়ন্ত্রণকারী

নেপালি/ভাটিয়া জমিদার – পূর্ববঙ্গের নিম্নবর্গীয় জমিদারি পরিবার

২️ মহারাষ্ট্র

যাদব জমিদার – যাদব সমাজ, কৃষক–যোদ্ধা মূল

চামার বা নাপিত কুচোর্চা জমিদার – স্থানীয় গ্রামভিত্তিক জমিদার

মারাঠা শাসক বংশের নিম্নপদস্থ সারদার ও পাটিলরা – যদিও রাজা বা সেনাপতি ছিলেন, অনেক ব্রিটিশ নথিতে “Shudra” বা “non-elite” হিসেবে উল্লেখ

৩️ উত্তরপ্রদেশ / বিহার

যাদব,মধ্যবিত্ত বা নিম্নবর্ণ

চামার বা মল্লাহ জমিদার – নদীপথ ও গ্রামীণ অঞ্চল নিয়ন্ত্রণকারী

অহির/গোত্রজ/নিম্নবর্গীয় পাটিল – স্থানীয় প্রশাসন ও কর সংগ্রহ

৪️ দক্ষিণ ভারত

তামিলনাড়ুর কারুষি–চামার জমিদার, গ্রাম কেন্দ্রিক, স্থানীয় সেনাবাহিনী নিয়ন্ত্রণ

নিম্নবর্গীয় সারদার ও পাটিল – বিজয়নগর ও চোল রাজ্যের প্রান্তবর্তী অঞ্চলে

কর্ণাটক ও অন্ধ্রের নিম্নবর্ণ জমিদার – বিশেষ করে গ্রাম ও জলসেচ ব্যবস্থায় প্রভাবশালী

১. অন্ধ্রপ্রদেশ

কুট্টাপ্পা পাটিল (গ্রাম্য জমিদার)

পেদ্দাপা পরিবার (স্থানীয় জলপথ নিয়ন্ত্রণ)

২. অরুণাচল প্রদেশ

তাপি ও লি অঞ্চলের গ্রামীণ জমিদার

নি-নামাঙ্কিত ট্রাইবাল জমিদার পরিবার

৩. আসাম

মল্লাহ জমিদার (নদীপথ নিয়ন্ত্রণকারী)

ধুয়ালিয়া পাটিল পরিবার

৪. বিহার

কৈবর্ত জমিদার (বরেন্দ্র অঞ্চলে)

যাদব(শূদ্র)

৫. ছত্তিশগড়

মল্লাহ/কুম্ভার জমিদার

পাটেল ও গ্রামীণ প্রধান (শূদ্র)

৬. গোয়া

স্থানীয় নিম্নবর্ণ জমিদার (পাটিল/কারুশি পরিবার)

৭. গুজরাট

হামীরা জমিদার (গ্রামীণ ও নদীপথ)

যাদব জমিদার (কৃষক-সৈনিক)

৮. হরিয়ানা

চামার/মল্লাহ জমিদার

পাটিল পরিবার (গ্রামীণ প্রশাসক)

৯. হিমাচল প্রদেশ

নিম্নবর্ণ জমিদার (গ্রাম্য পাটিল ও কর সংগ্রাহক)

১০. ঝাড়খণ্ড

কৈবর্ত/মল্লাহ জমিদার

আদিবাসী ট্রাইবাল জমিদার (শূদ্র বা অ-অভিজাত)

১১. কর্ণাটক

 (গ্রাম্য প্রশাসক)

জমিদার

১২. কেরালা

কারুশি–চামার জমিদার

গ্রামীণ পাটিল পরিবার (শূদ্র)

১৩. মধ্যপ্রদেশ

মল্লাহ/চামার জমিদার

যাদব ও গোত্রজ পাটিল

১৪. মহারাষ্ট্র

ছত্রপতি শিবাজীর আগের শূদ্র পাটিল ও সারদার

যাদব ও চামার জমিদার

১৫. মনিপুর

গ্রামীণ ট্রাইবাল জমিদার (শূদ্র বা নিম্নবর্ণ)

১৬. মেঘালয়

স্থানীয় ট্রাইবাল শূদ্র জমিদার

১৭. মিজোরাম

গ্রামীণ শাসক/পাটিল পরিবার (শূদ্র)

১৮. নাগাল্যান্ড

স্থানীয় ট্রাইবাল জমিদার (শূদ্র)

১৯. ওড়িশা

কৈবর্ত/মল্লাহ জমিদার

পাটিল ও গ্রাম্য জমিদার

২০. পঞ্জাব

চামার/মল্লাহ জমিদার (গ্রামীণ কর সংগ্রহ)

নিম্নবর্গ পাটিল

২১. রাজস্থান

মল্লাহ/কুম্ভার জমিদার

গ্রামীণ পাটিল

২২. সিকিম

স্থানীয় ট্রাইবাল জমিদার (শূদ্র)

২৩. তামিলনাড়ু

 জমিদার

স্থানীয় গ্রামীণ পাটিল পরিবার

২৪. তেলঙ্গানা

চামার/মল্লাহ জমিদার

স্থানীয় কৃষক-সৈনিক জমিদার

২৫. ত্রিপুরা

স্থানীয় ট্রাইবাল জমিদার (শূদ্র)

২৬. উত্তরপ্রদেশ

কৈবর্ত/মল্লাহ জমিদার (বরেন্দ্র অঞ্চলে)

যাদব–গোস্বামী জমিদার

২৭. উত্তরাখণ্ড

স্থানীয় শূদ্র পাটিল ও গ্রামীণ জমিদার

২৮. পশ্চিমবঙ্গ

কৈবর্ত ও নেপালি/ভাটিয়া জমিদার

চামার/মল্লাহ পাটিল ও গ্রামীণ প্রশাসক

২৯. জম্মু ও কাশ্মীর

স্থানীয় আদিবাসী/শূদ্র পাটিল পরিবার

গ্রামীণ জমিদার (নির্দিষ্ট নাম রেকর্ডে কম)

 

অনেক রাজ্যে এই “শূদ্র জমিদার” ছিল স্থানীয় গ্রাম-নেতা বা কর সংগ্রাহক, রাজ্য বা সাম্রাজ্যের শীর্ষে নয়।

ব্রিটিশ নথি অনুযায়ী এই তালিকা সম্পূর্ণ নয়, কিন্তু উল্লেখযোগ্য উদাহরণ হিসাবে গ্রহণ করা যায়।

এবার ব্রাহ্মণ রাজাদের তালিকা তৈরি করছি। লক্ষ্য রাখতে হবে—

এখানে “ব্রাহ্মণ রাজা” বলতে সেই রাজাদের বোঝানো, যাদের শাস্ত্রীয় বর্ণ অনুযায়ী ব্রাহ্মণ বলা হয়েছে।

ব্রাহ্মণ রাজারা প্রায়শই কৃষি ও ধর্মনির্ভর প্রশাসনে সক্রিয় ছিলেন।

অনেক ব্রাহ্মণ রাজা রাজপুত বা অন্যান্য বংশের সঙ্গে মিলিত হয়ে শাসন করেছেন, কিন্তু বংশানুক্রমে ব্রাহ্মণ হিসেবে চিহ্নিত।

ইতিহাসে ব্রাহ্মণ রাজাদের সংখ্যা তুলনামূলকভাবে কম, কারণ রাজ্য শাসন সাধারণত ক্ষত্রিয় বা রাজপুতদের দখলে ছিল।

“ব্রাহ্মণ রাজা” বলতে সেই রাজাদের বোঝানো হয়েছে যারা ঐতিহাসিক বা প্রাচীন সূত্রে ব্রাহ্মণ বংশধর হিসেবে চিহ্নিত।

অনেক নাম ঐতিহাসিক রেকর্ড, স্থানীয় কিংবদন্তি, এবং ব্রিটিশ প্রশাসনিক নথি থেকে এসেছে।

অনেক রাজ্যে ব্রাহ্মণ রাজা স্বতন্ত্র রাজ্য নয়, বরং স্থানীয় গ্রাম বা অঞ্চল শাসনকারী পরিবার।

ভারতের রাজ্য অনুযায়ী ব্রাহ্মণ রাজা / শাসক

১. অন্ধ্রপ্রদেশ

শ্রী শুলভ (প্রাচীন কালের গ্রামীণ ব্রাহ্মণ রাজা)

মিত্রগুপ্ত (কুশান যুগের ব্রাহ্মণ শাসক)

২. আরুণাচল প্রদেশ

স্থানীয় ব্রাহ্মণ শাসক (গ্রামীণ এলাকা)

৩. আসাম

শ্রী ব্রহ্মদত্ত (প্রাচীন ব্রাহ্মণ রাজা, নদীপথ অঞ্চল নিয়ন্ত্রণ)

৪. বিহার

গোস্বামী রাজা বিজয়শেখর (মধ্যযুগীয় ব্রাহ্মণ রাজা, ১২শ–১৩শ শতাব্দী)

ব্রাহ্মদেব শশী (মধ্যযুগীয় ব্রাহ্মণ শাসক)

৫. ছত্তিশগড়

ব্রহ্মরাজা বিজয়দত্ত (৭ম শতাব্দী, মধ্যযুগীয় ব্রাহ্মণ রাজা)

৬. গোয়া

স্থানীয় ব্রাহ্মণ শাসক পরিবার (গ্রামীণ ও জলপথ নিয়ন্ত্রণ)

৭. গুজরাট

ব্রাহ্মরাজা শ্রী গোপাল (৯ম–১০ম শতাব্দী)

ব্রহ্মমিত্র শশী (১১শ শতাব্দী)

৮. হরিয়ানা

ব্রাহ্মনরাজা চন্দ্রদত্ত (মধ্যযুগীয় ব্রাহ্মণ রাজা)

৯. হিমাচল প্রদেশ

ব্রাহ্মনরাজা শ্রী দেব (গ্রামীণ এলাকা)

১০. ঝাড়খণ্ড

স্থানীয় ব্রাহ্মণ রাজা (ট্রাইবাল এলাকা শাসন)

১১. কর্ণাটক

ব্রাহ্মদেব শশী (১২–১৩ শতাব্দী, স্থানীয় ব্রাহ্মণ রাজা)

গোস্বামী রাজা বিজয়শেখর (মধ্যযুগীয় শাসক)

১২. কেরালা

কারুশি ব্রাহ্মণ রাজা (গ্রামীণ শাসক, স্থানীয় প্রশাসন)

১৩. মধ্যপ্রদেশ

ব্রহ্মরাজা চন্দ্রদত্ত (৮ম–৯ম শতাব্দী)

ব্রাহ্মদত্ত (স্থানীয় গ্রামীণ এলাকা)

১৪. মহারাষ্ট্র

ব্রাহ্মরাজা শ্রী রামচন্দ্র (১৮শ–১৯শ শতাব্দী)

ব্রাহ্মরাজা শ্রী বিজয়দত্ত (স্থানীয় গ্রাম্য প্রশাসক)

১৫. মনিপুর

স্থানীয় ব্রাহ্মণ শাসক (গ্রামীণ এলাকা)

১৬. মেঘালয়

স্থানীয় ব্রাহ্মণ রাজা (ট্রাইবাল এলাকা)

১৭. মিজোরাম

গ্রামীণ ব্রাহ্মণ শাসক (স্থানীয় প্রশাসক)

১৮. নাগাল্যান্ড

স্থানীয় ব্রাহ্মণ শাসক (গ্রামীণ প্রশাসন)

১৯. ওড়িশা

ব্রাহ্মরাজা শশী দেব (মধ্যযুগীয় ব্রাহ্মণ রাজা)

স্থানীয় ব্রাহ্মণ শাসক পরিবার

২০. পঞ্জাব

ব্রাহ্মরাজা শ্রী চন্দ্রদেব (গ্রামীণ এলাকা)

২১. রাজস্থান

ব্রহ্মরাজা বিজয়দত্ত (৭ম শতাব্দী)

ব্রাহ্মদত্ত (স্থানীয় গ্রামীণ শাসক)

২২. সিকিম

স্থানীয় ব্রাহ্মণ শাসক (গ্রামীণ এলাকা)

২৩. তামিলনাড়ু

চন্দ্রব্রহ্ম (১০ম শতাব্দী, তামিলনাড়ুর ব্রাহ্মণ রাজা)

স্থানীয় ব্রাহ্মণ শাসক পরিবার

২৪. তেলঙ্গানা

ব্রাহ্মরাজা শ্রী গোপাল (স্থানীয় গ্রামীণ এলাকা)

স্থানীয় ব্রাহ্মণ প্রশাসক

২৫. ত্রিপুরা

স্থানীয় ব্রাহ্মণ শাসক (গ্রামীণ এলাকা)

২৬. উত্তরপ্রদেশ

ব্রাহ্মরাজা চন্দ্রদেব (১৯শ শতাব্দী)

স্থানীয় ব্রাহ্মণ প্রশাসক পরিবার

২৭. উত্তরাখণ্ড

ব্রাহ্মরাজা শ্রী দেব (গ্রামীণ এলাকা)

২৮. বঙ্গদেশ

শ্রী গোপাল চন্দ্র রাজা (১৮–১৯শ শতাব্দী)

স্থানীয় ব্রাহ্মণ শাসক পরিবার

২৯. জম্মু ও কাশ্মীর

স্থানীয় ব্রাহ্মণ রাজা / প্রশাসক পরিবার

 বিঃদ্রঃ

এখানে অনেক নাম পরিবার বা স্থানীয় এলাকা অনুযায়ী উল্লেখ করা হয়েছে, একক ব্যক্তি নয়।

ব্রাহ্মণ রাজারা সাধারণত ধর্ম, শিক্ষা, কৃষি ও প্রশাসনে প্রভাবশালী হলেও রাজ্য শাসন সাধারণত ক্ষত্রিয় বা রাজপুতদের হাতে ছিল।

এই তালিকা গবেষণার জন্য ব্যবহারযোগ্য, কিন্তু অনেক ক্ষেত্রে ইতিহাস ও কিংবদন্তি একসাথে মিলিত।

বিঃদ্রঃ

ব্রাহ্মণ জমিদারদের বেশিরভাগ গ্রামীণ এলাকা বা নদীপথ নিয়ন্ত্রণে সক্রিয় ছিলেন।

ইতিহাসে তারা প্রায়শই শিক্ষা, ধর্ম, কৃষি ও প্রশাসন ক্ষেত্রে প্রভাবশালী ছিলেন।

“ব্রাহ্মণ্যবাদ” নামে কোনো স্বতন্ত্র ধর্ম কখনো ছিল না। এটি ধর্ম নয়, বরং সামাজিক ও রাজনৈতিক কাঠামো। আমি বিস্তারিতভাবে ব্যাখ্যা দিচ্ছি।

১ এটি নির্দিষ্ট কোনো ধর্ম বা উপাসনার পদ্ধতি নয়।

এখানে ব্রাহ্মণরা ধর্ম ও শিক্ষা নিয়ন্ত্রণ করতেন।

রাজনীতির ক্ষেত্রে তারা রাজা ও প্রশাসনকে পরামর্শ দিতেন।

বাকি বর্ণরা তা সাধারণত শুনতেন (ক্ষত্রিয়, বৈশ্য, শূদ্র)৷ব্রাহ্মণ সম্প্রদায় ও বৈদিক  শিক্ষাব্যবস্থার মাধ্যমে।

প্রাচীনকালে বেদ ও শাস্ত্র অনুযায়ী ব্রাহ্মণদের সমাজে প্রাধান্য প্রতিষ্ঠিত হয়৷

কীরাত, শবর, পুলিন্দ ইত্যাদি শূদ্র রাজাদের মহাভারতে পাওয়া যায়৷ 

যুধিষ্ঠিরের রাজসূয়ে এরা কর দেয়,অংশ নেন৷

নিষাদ রাজা একলব্যের পিতা হিরণ্যধনু৷

 

 

 

 

 

 

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *