রওশন বিবির দরগাহ বসিরহাটে অবস্থিত পীর গোরাচাঁদের ভগিনীর সমাধি স্থল৷রওশন বিবির দরগাহ হল পশ্চিমবঙ্গের উত্তর চব্বিশ পরগণার বসিরহাটের বাদুড়িয়া থানার তারাগুনিয়া গ্রামে ইছামতি নদীর পশ্চিমতীরে অবস্থিত পীরানী বিবি রওশনের সমাধি দরগাহ।রওশন বিবি বা রওশনারা বিবি ছিলেন চতুর্দশ শতকের গোড়ার দিকে ইসলাম ধর্ম প্রচারের উদ্দেশ্যে সৌদি আরব থেকে বাংলায় আগত সুফি সন্ত পীর গোরাচাঁদের (সৈয়দ আব্বাস আলী) কনিষ্ঠা সহোদরা , পিতা হজরত করিম উল্লাহের একমাত্র কন্যা। তার জন্ম আরবের মক্কা শহরে ১২৭৯/৮০ খ্রিষ্টাব্দে এবং মৃত্যু দক্ষিণ বাংলার কাথুলিয়া পরগনার তারাগুনিয়া গ্রামে ১৩৪২ খ্রিষ্টাব্দে। কথিত আছে, এই অঞ্চলের কুখ্যাত তিতুমীরের পূর্বপুরুষের সঙ্গে তার বিবাহ হয়েছিল।রওশনারা তার ভ্রাতার সন্ধানে সৌদি আরব
থেকে প্রথমে ভারতবর্ষের দিল্লি, তারপর দক্ষিণ বাংলার কাথুলিয়া পরগনায় আসেন। তার মুর্শিদের নির্দেশ ছিল, যে স্থানে তিনি দিনের বেলায় আকাশে তারা দেখতে পাবেন(মিথ্যা গল্প),সেখানে তার আস্তানা বানাতে। সম্ভবত এই ঘটনার স্মৃতিতেই গ্রামটির নাম ‘তারাগুনিয়া’ রাখা হয়। প্রতিবছর চৈত্র মাসের কৃষ্ণা-ত্রয়োদশীতে তারাগুনিয়া গ্রামে পীরানী রওশনের উৎসব উপলক্ষে দরগাহ-প্রাঙ্গনে ১০/১২ দিন ব্যাপী বিরাট মেলা বসে। মেলায় কাওয়ালি গান, নানারকম বাজনা ও বাউল গানের হাট বসে। এছাড়া, ফাল্গুন মাসে হাড়োয়ার পীর গোরাচাঁদের দরগাহের উৎসবের সময়ও এখানে একটি অনুষ্ঠান ও মেলা বসে। প্রচলিত রীতি অনুযায়ী, পীর গোরাচাঁদের সেবায়েত(ইসলামে আবার সেবায়েত কি ভাবে হয়?সেবায়েত হিন্দু মন্দিরে হয়) এসময় হাড়োয়া থেকে ফুল, ফল, মিষ্টি তারাগুনিয়ায় পাঠিয়ে দেন। শোনা যায়, নদিয়ার মহারাজা কৃষ্ণচন্দ্র রায় প্রায় তিন শতাধিক বিঘা জমি পীরানী রওশনের নামে পীরোত্তর(দেবত্তর হয় কিন্তু পিরোত্তর আবার কি ভাবে হয়?) দান করেছিলেন(হিন্দুরা চিরদিন ই সেকুলারী ভূতগ্রস্থ,শত্রুকে দান করে ও পূণ্য করার প্রয়াসে সিদ্ধহস্ত,আবার এমন ও হতে পারে মুসলমানদের চরিত্র অনুসারে ওই জমি দখল করে নিয়েছিল আর দান বলে প্রচার করে) রওশন বিবির দরগাহ (পশ্চিমবঙ্গ ও বিহারের কিছু অঞ্চলে পরিচিত) নিয়ে স্থানীয় হিন্দু সমাজে কয়েকটি বিশ্বাস প্রচলিত—
দরগাহের স্থানে আগে দেবীচণ্ডী / শীতলা / কোনো গ্রামদেবীর পূজাস্থান ছিল দরগাহের আশেপাশে পাওয়া ভাঙা পাথর, ইট, খোদাই করা স্তম্ভ ইত্যাদি দেখে অনেকে এটিকে প্রাচীন মন্দিরের অবশেষ বলে মনে করেন কিছু এলাকায় হিন্দু ও মুসলিম উভয় সম্প্রদায়ই সেখানে মানত করে—যা বাংলায় বহু রূপান্তরিত ধর্মস্থানের সাধারণ বৈশিষ্ট্য৷বাংলার বহু সুফি দরগাহ ১৩–১৬ শতকে তৈরি হয়েছে, যখন—
গ্রামদেবী পূজাস্থল,বৌদ্ধ বিহার,শাক্ত তান্ত্রিক স্থান
সেই জায়গাগুলোতে পরে দরগাহ গড়ে ওঠে৷এক সময় মুসলমানরা নারায়নকে সত্য নারায়ন বানায় তারপর সত্য নারায়ন থেকে সত্যপীর বানিয়ে মন্দির কে পীরের থান বা দরগা বানিয়ে নেয়৷বনদুর্গা কে বনবিবি বানিয়েছে,ধর্মঠাকুর কে গাজী কালু বানিয়েছে,
রওশন বিবির দরগাহকেও অনেক গবেষক এমন ই কোন হিন্দু মন্দির দখল করে বানানো দরগা বলে৷জায়গাটি সম্ভবত প্রাক-ইসলামি ধর্মীয় গুরুত্বসম্পন্ন স্থান ছিল পরে সুফি প্রভাবের সঙ্গে দরগাহে রূপান্তরিত হয়েছে৷পীর একদিল শাহের দরগাহ
বারাসতের কাজীপাড়ায় অবস্থিত চতুর্দশ শতকের ইসলামী ধর্মপ্রচারকের সমাধি স্থল পীর একদিল শাহের দরগাহ হল পশ্চিমবঙ্গের উত্তর চব্বিশ পরগণার বারাসতের কাজীপাড়ায় অবস্থিত পীর হজরত একদিল শাহের মাজার শরীফ। সৌধসদৃশ ও প্রাচীরবেষ্টিত কাজীপাড়ার এই দরগাহে প্রতি বছর পৌষ সংক্রান্তির আগের রাত থেকে পরের আটদিন একদিল শাহের স্মরণে উৎসব পালিত হয়(ইসলামে কি উৎসব করা জায়েয?)। তাছাড়া, প্রতি শুক্রবার হিন্দু-মুসলমান নির্বিশেষে সকল সম্প্রদায়ের মানুষ প্রার্থনা জানাতে ভিড় করেন।পীর একদিল শাহের দরগাহের তোরণ
পীর হজরত একদিল শাহ চতুর্দশ শতকের গোড়ার দিকে পীর গোরাচাঁদের (সৈয়দ আব্বাস আলী) সঙ্গে যে একুশজন পীর-আউলিয়া সৌদি আরব থেকে দক্ষিণ বাংলায় ইসলাম ধর্মপ্রচারে আসেন, হজরত একদিল শাহ ছিলেন তাদের অন্যতম। চব্বিশ পরগণার আনোয়ারপুর(ইসলাম আসার আগে আনোয়ার পুর কি ভাবে হবে ভারতের কোন যায়গার নাম?বাংলার পরগণা ছিল তার ধর্মপ্রচারের স্থান। এখানকার বারাসতের কাজীপাড়ায় ছুটি খাঁর বাড়িতে তিনি থাকতেন। তার ধর্মপ্রচার বেশ ছলচাতুরী পূর্ণ ছিল তাই বহু হিন্দুকে সহজে ধর্মান্তরিত করতে পেরেছিলেন৷ অর ফলে তিনি বেশ প্রতিপত্তিশালী ও হয়েছিলেন। কোনও এক পৌষ সংক্রান্তির আগের রাতে তিনি ইহলোক ত্যাগ করেন। স্থানীয় লোককাব্যে পীর একদিল শাহের রূপ বর্ণিত হয়েছে এইভাবে:
উপনীত হইল পীর রাজ-দরবারে
আকাশের চন্দ্র নামিল ভূমেতে…
কাল মেঘের আড় বিজলীর ছটা
কাঁচা সোনা জ্বলে যেন সানিরের বেটা
দু আঁখে কাজল অতি দেখিতে উত্তম
চলন খঞ্জন পাখি পাইবে শরম
হাতে পদ্ম পায় পদ্ম কপালে রতন জ্বলে(হিন্দু ধর্মকে অপমান করে পদ্ম ফুল কে এই মুসলমান পীরের হাতে,পায়ে রাখার কথা বলে বর্ণনা করা হয়েছে)৷
পীরকে দেখিয়া প্রজা ধন্য ধন্য করে।।
দরগাহের বার্ষিক উৎসব
পীর একদিল শাহের সমাধি দরগাহে পৌষ সংক্রান্তির আগের রাত থেকে তার মৃত্যুর দিন স্মরণ করে প্রতি বছর আটদিন ব্যাপী বিশেষ উৎসব ও মেলা হয়(কারোর মৃত্যু দিবসে উৎসব হয় কোন সভ্য মানুষের ক্ষেত্র?আসলে হিন্দুদের পৌষ সংক্রান্তির উৎসবকে ই কব্জা করেছে)।মেলায় কাওয়ালি তরাণা, মানিকপীরের গান, নানারকম বাজনা, পুতুলনাচ ও ফকির-দরবেশের ধুম লাগে(কারোর মৃত্যু দিবসে এসব হয়?)। কথিত আছে, রাজা রামমোহন রায়ের প্রপৌত্র এখানে খুব সকালে এসে শিরনি দিতেন৷ পরবর্তীতে, পীরোত্তর(আবার ও সেই দেবত্তর জমি কে পীরত্তর জমিতে বদলে দেওয়া হয়েছে দখল করার মাধ্যমে)ভূমিদানের ফলে রামমোহনের সেরেস্তার তরফ থেকে শিরনি দেওয়ার ব্যবস্থা হয়(রামমোহনের পরিবার হিন্দু ধর্ম পালন করতেন তার মানে এটা নিশ্চই তাদের পারিবারিক মন্দির ছিল কারণ তাদের অনেকগুলো পারিবারিক মন্দির ছিল।যে পরিবারে রামমোহন ব্রাহ্ম ধর্ম পালন করার জন্য তাকে ত্যাজ্য করা হয় সেই পরিবার মুসলমানের দরগায় শিরনি দেবে?এসব মিথ্যা প্রচার৷আবার মন্দির ছিল,হিন্দুরা পুজা করতো তাই তারা সেই অধিকার ছানেনি আজও তাই)এই দরগাহে সকলের আগে হিন্দুদের শিরনি দেওয়ার রীতি আছে। হিন্দু-মুসলমান নির্বিশেষে সকল সম্প্রদায়ের ভক্তরা ফুলপাতা দেন(ফুলপাতা দেওয়ার রীতি হিন্দু দেবদেবীকে,কোন মুলমানের কবরে গোলাপ ফুল দিলে ও অন্য সব ফুল বা কোন পাতা দেওয়ার রীতি নেই তাছাড়া শান্তিবারি কবরে দেওয়া যায়?শান্তিবারি আবার ইসলামে কি করে হয়?শান্তিজল হিন্দুদের যে কোন পুজার পর ঘরে এবং গায়ে মাথায় দেওয়ার রীতি পুরোহিত বা পুজারীর৷বারি শব্দটা সংস্কৃত,জলকে বলা হয়৷ইসলাম তো সংস্কৃত কে কাফের ভাষা বলে অবজ্ঞা করে তারপর কি ভাবে শান্তিবারি গ্রহন করে?)খাদিমদারের(খাদেম নামাজ পড়ানো ছাড়া এসব কি করে করে?) হাতে এবং পীরের প্রসাদ(পীরের প্রসাদ জায়েয কি?) ও শান্তিবারি লাভ করেন। ভক্তদের মধ্যে ‘পীরের লুট'(পীরের লুট জায়েয?লুট হরির নামে হয় তার মানে এই দরগা অতীতে হরি মন্দির ছিল এটা নিশ্চিত) দেওয়ার রীতিও আছে।অন্যান্য নজরগাহ বা স্মৃতিসৌধ পীর একদিল শাহের নামে বারাসত শহরের মধ্যস্থলে একটি; বারাসত-বসিরহাট রোডের ধারে ঘোলা-কাজীপাড়ায় একটি এবং বালিপুর, রঘুবীরপুর, কাটারহাট, জাফরপুর, পাটুলিধলা, গোপালপুর, আবদেলপুর, গোবরা প্রভৃতি স্থানে একটি করে নজরগাহ আছে।
পীর সাহান্দীর দরগাহ
পীর সাহান্দির দরগাহ হল পশ্চিমবঙ্গের উত্তর চব্বিশ পরগণার বসিরহাট মহকুমার হিঙ্গলগঞ্জ থানার বাঁকড়া গ্রামে অবস্থিত পীর সাহান্দী সাহেবের সমাধি দরগাহ।
খড়ের ছাউনি দেওয়া ইটের তৈরী দরগাহটি প্রায় দুশো বছর প্রাচীন। পাশে বনবিবির একটি থান আছে এবং পীর সাহেবের ছোট ভাইয়ের একটি মাজার আছে। দরগাহটি বড়-বড় গাছ-গাছালির মধ্যে একটি নির্জন স্থানে অবস্থিত। দরগাহের সমাধিস্তম্ভের গায়ে কয়েকটি গর্তের মধ্যে বিষধর সাপের আস্তানা আছে বলে লোকজনের বিশ্বাস(সাপ সাধারণত শিব লিঙ্গ বা মনসা মন্দিরে থাকে)। প্রতি শুক্রবার ‘পীরের দয়া’ লাভের জন্য কলাপাতা ও ফুল নিয়ে ভক্তরা সমবেত হন(কলাপাতা হিন্দুরা ব্যাবহার করে,মুসলমানরা করে না)। পীরের সমাধির একপাশে ইটের ওপর কলাপাতা রেখে ফুলটি ঢেকে দেওয়া হয়(এ ধরণের বিশ্বাস সাধারণত মন্দিরে পালন করা হয়)। ‘পীরের দয়া’ হলে ফুলটি তাড়াতাড়ি ইটের তলা দিয়ে নিচে গড়িয়ে পড়ে এবং ঐ ফুলধোয়া জল খেলে মনোস্কামনা পূর্ণ হয় বলে ভক্তদের বিশ্বাস(ফুল,বেলপাতা ধোয়া জল খাওয়ার রীতি)৷
দরগাহের বার্ষিক উৎসব
প্রতিবছর ১ মাঘ তারিখে বাঁকড়া গ্রামে পীর সাহান্দির উৎসব উপলক্ষে দরগাহ-প্রাঙ্গনে বিরাট মেলা বসে। মেলায় কাওয়ালি গান, নানারকম বাজনা ও অন্যান্য জিনিসপত্রের হাট বসে। পীরের কাছে হাজত-মানত করা হয়, ভক্তরা দুধ, ফল, মিষ্টি(দুধ,ফল,মিষ্টি দেবদেবীর মন্দিরে পুজায় দেওয়া হয় মুসলমানদের এমন কোন রীতি নেই ই) শিরনি পীরের উদ্দেশ্যে নিবেদন করে। ইচ্ছাপূরণের জন্য অনেক ভক্ত পীরের কাছে ‘হত্যে'(হত্যা দেওয়ার রীতি হিন্দু দেবদেবীর কাছে হিন্দুদের,মুসলমানরা হত্যা দেবে কার কাছে?ইসলামে হত্যা দেওয়ার রীতি আছে?মক্কায় হত্যা দেওয়ার চল আছে কি?)দিয়ে থাকেন।
শফিকুল আলম (পীর)
চতুর্দশ শতকে বাংলায় আগত ইসলামী ধর্মপ্রচারক
পীর হজরত শফিকুল আলম হলেন পশ্চিমবঙ্গের উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলার বারাসতের মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষদের এক বিশিষ্ট পীর। চতুর্দশ শতকের গোড়ার দিকে পীর গোরাচাঁদের সঙ্গে যে একুশজন পীর-আউলিয়া সৌদি আরব থেকে দক্ষিণ-পশ্চিম বাংলায় ইসলাম ধর্মপ্রচারে আসেন, হজরত শফিকুল আলম ছিলেন তাদের অন্যতম। চব্বিশ পরগণার বারাসত অঞ্চল ছিল তার ধর্মপ্রচারের স্থান।
পীরের দরগাহ
বর্তমান পশ্চিমবঙ্গের উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলার বারাসতের কেমিয়া-খামারপাড়া গ্রামে একটি মাঠের মধ্যে পীর শফিকুল আলমের দরগাহ অবস্থিত। দরগাহটি টালির ছাউনি দেওয়া, ইটের তৈরী। মাঠের গাছপালার মধ্যে একটি পুকুর আছে, যা ‘পীরপুকুর’ নামে খ্যাত(কোন মন্দিরের পাশে ই পুকুর থাকতো অতীত কালে)৷
দরগাহের বার্ষিক উৎসব
প্রতি বছর ২১ মাঘ উরস উপলক্ষে এখানে বিশেষ জিয়ারৎ হয় ও মেলা বসে। প্রায় একসপ্তাহ ব্যাপী চলা এই মেলায় হিন্দু-মুসলমান স্ত্রী-পুরুষ নির্বিশেষে অসংখ্য মানুষ যোগদান করে এবং মানত করে শিরনি দেয়(হিন্দুদের ই উৎসব ছিল তাই তারা আগাগোড়া অংশ নেয়৷মুসলমানদের এতদিন ধরে কোন উৎসব চলার রীতি আছে?মক্কায় কি এমন কোন রীতি পালন হয়?)