“খাটা পায়খানা” বা পিট ল্যাট্রিন (Pit Latrine) হল মাটির ভেতরে একটি গর্ত খুঁড়ে তার উপর বসার জায়গা বানানো পায়খানা।
প্রাচীন যুগ হরপ্পা–মহেঞ্জোদারো সভ্যতায় ঘরে ঘরে নালা ও মল নিষ্কাশনের ব্যবস্থা ছিল।পিট ল্যাট্রিন কোথাও ছিলনা৷
তবে গ্রামীণ সমাজে সহজভাবে খুঁড়ে কুঁয়া তৈরী করে কুঁয়া পায়খানার চল অনেক পরে হয়েছিল৷
ঔপনিবেশিক যুগে “পিট ল্যাট্রিন” বা খাটা পায়খানা ব্রিটিশ আমলেই সারা ভারতে সরকারিভাবে চালু হতে শুরু করে।
১৮৭০–১৮৮০ দশকের দিকে কলকাতা, বোম্বে, মাদ্রাজের মতো শহরে স্যানিটেশন মডেল হিসেবে এই ধরনের ল্যাট্রিন বানানো হয়।
বিশেষ করে ব্রিটিশরা সামরিক ছাউনি (cantonment), রেলওয়ে বসতি এবং শহরে জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থার জন্য পিট ল্যাট্রিন চালু করে।
স্বাধীনতার পর ১৯৫০–৬০-এর দশকে গ্রামীণ উন্নয়ন কর্মসূচির অংশ হিসেবে পিট ল্যাট্রিন প্রচার করা হয়।
১৯৮৬ সালে সরকার “সেন্ট্রাল রুরাল স্যানিটেশন প্রোগ্রাম” চালু করে, যেখানে প্রধানত pit latrine প্রচলিত হয়।
(তখন এর প্রচার কেন করা হয়েছিল?কারা করেছিল?স্বাধীনতার আগেও তো স্যানিটারী ল্যাট্রিন ই ছিল৷তাহলে নতুন করে ১৯৮৬ সালে কেন পিট ল্যাট্রিন চালু করা হয়েছিল?আগে মানুষের বাড়ির সাথে লাগানো কোন বাথরুম,ল্যাট্রিন থাকতো না,কেউ বানাতো না,হাইজিনের কথা ভেবে বাড়ি থেকে দূরে জমির শেষের দিকে বানাতো বা বাড়ি থেকে বেশ কিছুটা দূরত্ব রেখে বানাতো কিন্তু সবই তো স্যানিটারী ল্যাট্রিন থাকতো)৷
প্রধানত শহুরে ও সরকারিভাবে ব্রিটিশ আমলে ১৯শ শতকের শেষের দিকে প্রথম চালু হয়।
স্বাধীনতার পর থেকে গ্রামীণ স্যানিটেশন কর্মসূচির মূল ভিত্তি ছিল এই পিট ল্যাট্রিন।
কেন ব্রিটিশরা পিট ল্যাট্রিন চালু করেছিল?
সামরিক ও শ্রমিক নিয়ন্ত্রণের জন্য
ব্রিটিশরা সেনা ছাউনি, চা-বাগান, রেলওয়ে ক্যাম্পে সহজে বানানো ও সস্তা টয়লেট চাইত।সব বৃটিশরা তাদের ময়লা ভারতীয়দের দিয়ে পরিস্কার করানোর জন্য তৈরী করতো৷নিজেদের স্বাস্থ্য রক্ষা করার জন্য৷
পিট ল্যাট্রিন দ্রুত বানানো যেত, রক্ষণাবেক্ষণ সহজ ছিল, আর মূলত এই কাজ করিয়ে এক শ্রেনীর মানুষকে নীচু জাতি বানিয়ে তুলতে চেয়েছিল৷
(পিট ল্যাট্রিন বানানো আর চালু করেছিল বৃটিশরা একটা শ্রেনীর মানুষকে দিয়ে অন্য শ্রেনীর মানুষদের বিশেষ করে বৃটিশদের নিজেদের মলমূত্র হাতে করে পরিস্কার করিয়ে তাদের হেয় করে,বিচ্ছিন্ন করে,ঘৃণা করে হিন্দুদের মধ্যে বিভাজন তৈরী করার জন্য৷আমার একদম শিশু বয়স থেকে স্যানিটারী ল্যাট্রিন ই তো সব বাড়িতে দেখেছি,হঠাৎ 1980 দশকে পিট ল্যাট্রিন দেখে বুঝে উঠতে পারিনি এমন অদ্ভুত ব্যাবস্থা কেন চালু হলো৷মানুষ কেন এমন ময়লা মাথায় বয়ে নিয়ে যাবে?এমন না তখন স্যানিটারী ল্যাট্রিন উঠে গেছে বা মানুষ বানাচ্ছিল না৷তাহলে কেন পিট ল্যাট্রিন তৈরী শুরু হয়েছিল?এখন কোন সন্দেহ ই নেই বৃটিশরা,অ্যামেরিকানরা কি ভাবে তখন ও নোংরা রাজনীতি চালিয়ে গেছে!সেই কিছু বছরের ষড়যন্ত্র চিরদিনের মত বিভাজন তৈরী করে দিয়েছে হিন্দুদের মধ্যে৷তখনও কোথাও দলিত,বাঙ্গী এসব শব্দ চালু হয়নি,শব্দগুলো কোথাও শোনাও যেতনা)৷
ইউরোপীয়রা ভারতে ম্যালেরিয়া, কলেরা, ডায়রিয়ার মতো মহামারির জীবানু নিয়ে এসেছিল,ওরা ছিল প্রচন্ড অপরিস্কার অপরিচ্ছন্ন,স্নান করতোনা,ল্যাট্রিন করার পর জল,সাবান কিছু ব্যাবহার করতো না ফলে ওদের মাধ্যমে নানা রোগ জীবানু ভারতে ছড়ায়৷ফ্রান্সের লোক তো ঘরের ভেতর ল্যাট্রিন করতো তা ওই ভাবেই পড়ে থাকতো বা ওরা যেসব ক্রিতদাস রাখতো তাদের দিয়ে পরিস্কার করাতো৷সব ইউরোপীয়ানদের ই মোটামুটি এক রকম অভ্যাস ছিল৷
তারা ভাবত স্থানীয় মানুষের খোলা জায়গায় শৌচ বা কুঁয়া পায়খানা(এগুলো গভীর গর্ত হতো,কুঁয়ার মত ত্রিশ/চল্লিশ ফুট গভীর,উপরে ইঁট গেঁথে পাকা করে দেওয়া হতো৷ত্রিশ/চল্লিশ বছর পর ভরে গেলে সেটা মাটি চাপা দিয়ে বন্ধ করে দিয়ে নতুন কুঁয়া পায়খানা তৈরী করা হতো৷ওটার ময়লা বহকাল থাকার পর মাটি হয়ে যেত,কেউ তো ওটা আর খুলতো না) স্যানেটারী ল্যাট্রিন(open defecation) আর প্রথাগত জল-ভিত্তিক টয়লেট (যা হরপ্পা থেকে প্রচলিত ছিল) তাদের জন্য “ঝুঁকি” তৈরি করছে।
ব্যয় বাঁচাতে প্রাচীন ভারতীয় ড্রেনেজ ব্যবস্থা (হরপ্পা, মহেঞ্জোদারো, এমনকি মধ্যযুগেও নগরপট্টিতে) ছিল জল-ভিত্তিক, সায়েন্টিফিক ও স্বাস্থ্যসম্মত(আমরা তো ছোটবেলা তেমন ই দেখেছি)।
ওটা বানাতে টাকা, পরিকল্পনা আর প্রকৌশল দরকার।
ব্রিটিশরা গ্রামের কোটি কোটি মানুষের জন্য ব্যয়বহুল ব্যবস্থা করতে চায়নি। তাই সস্তা “pit latrine” চাপিয়ে দিল।
কেন আমাদের উন্নত প্রথা ধ্বংস করা হলো?
হরপ্পার উন্নত নিকাশী ব্যবস্থা পরে আর টিকে থাকেনি, কারণ রাজনৈতিক ভাঙন, রাজশক্তির পতন আর শহরের পরিবর্তন।
পরে গ্রামীণ ভারতে খোলা জায়গায় শৌচ ছিল সাধারণ ব্যাপার, কারণ জায়গা প্রচুর ছিল, আর প্রকৃতি-নির্ভর পদ্ধতিই সহজ লাগত।
ব্রিটিশ সামাজিক বিভাজননীতি
ব্রিটিশরা “ম্যানুয়াল স্ক্যাভেঞ্জিং” (হাতে মল পরিষ্কার করানো) কে একটা স্থায়ী ব্যবস্থা বানাল।
ফলে তারা একদিকে সস্তা শ্রম পেল, অন্যদিকে জাতিভিত্তিক অপমানও টিকিয়ে রাখল।
“সভ্য করার” অজুহাত
ব্রিটিশরা বলত, ভারতীয়রা “অসভ্য”, তাই তাদের নতুন “স্যানিটেশন” শেখানো দরকার।
কিন্তু আসলে তারা আমাদের প্রাচীন উন্নত ব্যবস্থা ধ্বংস করে সস্তা, অপমানজনক ও দাসত্বমূলক পিট ল্যাট্রিন চাপিয়ে দিয়েছিল।
ভারত হাজার বছর আগে বিশ্বের সবচেয়ে উন্নত টয়লেট ও ড্রেনেজ সিস্টেম বানিয়েছিল।
প্রাচীন ভারত (হরপ্পা–মহেঞ্জোদারো সভ্যতা)
হরপ্পা ও মহেঞ্জোদারোতে ঘরে ঘরে আলাদা টয়লেট ছিল।
টয়লেটগুলো ইট দিয়ে বানানো এবং নিকাশী (ড্রেন) পাকা ছিল।
প্রতিটি বাড়ির ড্রেন প্রধান নালায় গিয়ে মিলত, আর সেগুলো শহরের বাইরে বেরিয়ে যেত।কমোড ব্যাবস্থা ছিল৷
গবেষকরা বলেন, এটাই বিশ্বের প্রথম ‘ফ্লাশ টয়লেট সিস্টেম’।
আজকের পশ্চিমা বিশ্ব যে সিস্টেমকে আধুনিক বলে মানে, ভারতে সেটা ৪০০০/৫০০০ বছর আগে করেছিল।
বৈদিক ও উত্তরবৈদিক যুগ
বৈদিক সাহিত্যে শৌচাচারের নিয়ম ছিল সকালে, নির্দিষ্ট দূরত্বে, গর্ত খুঁড়ে, মাটি দিয়ে ঢেকে আসা।
“মাটি দিয়ে ঢেকে রাখা” ছিল পরিবেশ-বান্ধব ও স্বাস্থ্যসম্মত।
শহরাঞ্চলে রাজপ্রাসাদ ও নগরে নালা বা ড্রেনের ব্যবস্থা থাকত।
মধ্যযুগে অনেক নগর (যেমন কাশী, পাটলিপুত্র, বিজয়নগর) রাজকীয় নিকাশী ব্যবস্থা ছিল।
কিন্তু ধীরে ধীরে রাজনৈতিক অস্থিরতা ও আক্রমণের কারণে বড় শহরগুলির ড্রেনেজ ব্যবস্থা নষ্ট হতে থাকে।
গ্রামীণ মানুষ প্রকৃতিনির্ভর পদ্ধতিতে (জঙ্গল, নদীর ধারে বা গর্তে) শৌচ করতে থাকে।
সমকালীন সময় (২০০০ থেকে বর্তমান)–
২০১৪ সালে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী “স্বচ্ছ ভারত মিশন” শুরু করেন।
লক্ষ্য: প্রতিটি পরিবারকে টয়লেট দেওয়া।
তবে আজও বহু গ্রামে “পিট ল্যাট্রিন” ব্যবহৃত হয়, কারণ জল-ভিত্তিক ফ্লাশ সিস্টেম সবার নাগালে নেই।
ভারত একসময় বিশ্বের অগ্রগামী টয়লেট সভ্যতা ছিল।
স্বাধীনতার পরে ভারত ধীরে ধীরে আবার আধুনিক টয়লেট সংস্কৃতির দিকে ফিরছে, কিন্তু ব্রিটিশ আমলের ক্ষত আজও পুরোপুরি মুছেনি।
ভারতের টয়লেট ও নিকাশী ব্যবস্থার পতনকে শুধু ব্রিটিশদের দায়ে ফেলা যায় না, মুসলিম শাসনকালও একটি বড় ভূমিকা রেখেছিল।মুসলিম শাসনকালে কী ঘটল?মুসলিম আক্রমণকারীরা নগর ধ্বংস করতো,পুনর্নির্মাণ করা সম্ভব হতোনা দেশের মানুষের পক্ষে আক্রমণ,হত্যালীলার ধাক্কা সামলে৷
দিল্লি, কাশী, মথুরা, পাটলিপুত্রের মতো বহু প্রাচীন নগর ধ্বংস হয়।
পুনর্নির্মাণে অগ্রাধিকার দেওয়া হতো দুর্গ, মসজিদ, প্রাসাদকে; ড্রেনেজ বা টয়লেটকে তেমন গুরুত্ব দেওয়া হয়নি।
ফলে পূর্ববর্তী উন্নত ব্যবস্থার ধারাবাহিকতা ভেঙে যায়।প্রজাদের অবহেলা–সুলতান ও মুঘলরা বেশীর ভাগ ই হিন্দু রাজাদের প্রাসাদ,কেল্লা দখল করে বাস করতো তাই সেসব প্রাসাদ,কেল্লায় ল্যাট্রিন,বাথরুম থাকতো ওরা সেসব ই ব্যাবহার করতো(যেমন ফতেহপুর সিক্রির কিছু স্থাপত্যে পাওয়া গেছে)এমন আরও অনেক প্রাসাদে উন্নত স্নানের বাথরুম,গরম জলের ব্যাবস্থা,কলের ব্যাবস্থা,কমোড সবই দেখতে পাওয়া যায়৷কিন্তু সাধারণ মানুষের জন্য কোনো কাজ ওরা করতোনা৷
ফলে সাধারণ শহরবাসী ও গ্রামীণ মানুষ ক্রমশ খোলা জায়গায় বা অস্থায়ী গর্তে শৌচ করতে অভ্যস্ত হয়ে যায়।
শহর পরিকল্পনার পতন–
প্রাচীন ভারতের শহর ছিল “পরিকল্পিত শহর” (planned city)।
মুসলিম শাসকরা মূলত সামরিক–প্রশাসনিক শহর গড়ে তোলে।ড্রেনেজ/ল্যাট্রিন,বাথরুম এজেন্ডায় ছিল না,ফলে প্রাচীন জ্ঞান ধীরে ধীরে হারিয়ে যায়৷
মুসলিম শাসন পুরনো টয়লেট–ড্রেনেজ প্রযুক্তি ধরে রাখতে ব্যর্থ হয়েছিল।
তাদের নতুন প্রযুক্তি আনার যোগ্যতা বা মানসিকতা কোনটাই ছিলনা,বরং অনেক ক্ষেত্রে পুরনো ব্যাবস্থাও ধ্বংস হয়ে গেছে।
ফলে ১০ম–১৭শ শতকের মধ্যে ভারতের সাধারণ মানুষের শৌচব্যবস্থা অত্যন্ত পশ্চাৎপদ হয়ে পড়ে।
এই অবহেলার ফলেই ব্রিটিশরা পরে সহজে “পিট ল্যাট্রিন” চাপিয়ে দিতে পেরেছিল।
তারা এটাও চাইতো না হিন্দুরা কোন ভাল উন্নত ব্যাবস্থার সুবিধা নিক৷অন্যদিকে হিন্দুরা তাদের অত্যাচারে জর্জরিত ছিল,ভয়ানক করের বোঝা বইতে গিয়ে জীবন অতিবাহিত করাই অসম্ভব ছিল তার মধ্যে বাথরুম,ল্যাট্রিনের মত বিলাসিতার কথা ভাবার অবকাশ ছিলনা৷জমি,জঙ্গলের অভাব না থাকাতে মানুষ বাইরেই কাজ সারতো৷কাউকে দিয়ে নিজেদের ময়লা পরিস্কার করাতো না৷
অর্থাৎ মুসলিম আমল এক ধরনের “শূন্যতা” তৈরি করেছিল, যেখানে প্রাচীন উন্নত পদ্ধতি নষ্ট হলো, কিন্তু বিকল্প উন্নয়নও এল না।এই শূন্যতার সুযোগে ব্রিটিশরা নিজেদের সস্তা, দাসত্বমূলক পদ্ধতি চাপিয়ে দিল৷
পিট ল্যাট্রিনের মূল বৈশিষ্ট্য
মাটিতে গর্ত খুঁড়ে মল ফেলা হয়।
নিয়মিত সেটি পরিষ্কার করতে হয় (অধিকাংশ সময় নিম্নবর্ণের মানুষ দিয়ে)। তারা যখন ভারতে আসে তখন স্যানিটারী ব্যাবস্থা কিছুটা হারিয়ে গেছিল তাই তারা সহজেই নিজেদের সস্তা পিট ল্যাট্রিন চাপিয়ে দিতে পেরেছিল।
অতএব,পিট ল্যাট্রিন চালুর ক্ষেত্রে মুসলিম শাসনকালকে ‘পরোক্ষ দায়ী’ বলা যায়।
“দলিত”, “বাঙ্গী” এগুলো শুধু শব্দ নয়, বরং সামাজিক দমন, অপমান আর শোষণের প্রতিফলন।
“দলিত” শব্দ
সংস্কৃত “দল” = চাপা দেওয়া, চূর্ণ করা।
“দলিত” মানে = যাকে চাপা দেওয়া হয়েছে, পিষ্ট, ভেঙে ফেলা হয়েছে।
প্রাচীন সাহিত্যে এই শব্দ পাওয়া যায়, তবে সামাজিক পরিচয়ের অর্থে ব্যবহার শুরু হয় পরে।
কে ব্যবহার শুরু করে?
১৯শ শতকে মহারাষ্ট্রের জ্যোতিবা ফুলে প্রথমে “দলিত” শব্দ ব্যবহার করেন অত্যাচারিত মানুষের পরিচয় হিসেবে।
২০শ শতকে ড. বি.আর. আম্বেদকর এটি রাজনৈতিক ও সামাজিক অর্থে জনপ্রিয় করেন।এনারাই বৃটিশদের প্রতিনিধি হয়ে বিভাজনকে চির প্রতিষ্ঠিত করেন৷“বাঙ্গী” শব্দ
“বাঙ্গী” বা “ভাঙ্গী” উত্তর ভারতের অনেক জায়গায় মল পরিষ্কার করা এক শ্রেণির জন্য ব্যবহার করা হয়।
শব্দের উৎপত্তি কেউ বলেন এটি ফার্সি/উর্দু “ভাঙ” (ভাঙা বা নোংরা জিনিস) থেকে এসেছে।কেউ বলেন “ভাঙ্গী” মানে সেই ব্যক্তি যে “ভাঙা-চোরা নোংরা কাজ” করে।
মূলত মুসলিম শাসনকাল থেকে এই শব্দ বেশি প্রচলিত হয়, পরে ব্রিটিশরা প্রশাসনিক নথিতেও ব্যবহার করতে শুরু করে। “বাঙ্গী” শব্দটা ছিল একেবারে গালি, যা দিয়ে একটা জনগোষ্ঠীকে স্থায়ীভাবে নিচু দেখানো হতো।
আম্বেদকর জন্মগ্রহন করেছিলেন মহার জাতিতে একথা বলা হয়,তিনি দলিত সম্প্রদায় ভুক্ত একথা বলা হয়,তিনি চরম অত্যাচারিত একথা বলা হয় অথচ তাঁর নামের সাথে রাও দেখা যায়,তাঁর পিতার নামের আগে রাও দেখা যায়,তাঁর পিতামহের নামের আগে রাও দেখা যায় এর কারণ আম্বেদকরের পিতামহ মারাঠা সাম্রাজ্যের যোদ্ধা ছিলেন৷মারাঠা সাম্রাজ্যের সব যোদ্ধাকে রাও উপাধী দেওয়া হতো,সেই অনুসারে আম্বেদকরের পিতামহকে মারাঠা সাম্রাজ্য থেকে রাও পদবী দেওয়া হয়েছিল৷আম্বেদকরের পিতা বৃটিশ সেনা কর্মী ছিলেন কিন্তু তার পিতার রাও পদবী তাঁর নামের সাথে ও ছিল,আম্বেদকরের নামের সাথেও ছিল,পরবর্তী প্রজন্মের সবার নামের সাথেই থেকেছে৷এরপর ও আম্বেদকর কিভাবে দলিত হয়ে ওঠেন সেটা বোঝা খুব কঠিন৷ওনারা তো ক্ষত্রিয় পরিবার৷দুই প্রজন্ম ক্ষাত্র ধর্ম পালন করেছেন৷ভীমরাও আম্বেদকর জীবনে এত শিক্ষা অর্জন করছিলেন তাতে তিনি তো ব্রাহ্মণ হয়ে গেছিলেন,শূদ্র কি ভাবে হলেন?ওনার এক ব্রাহ্মন শিক্ষক কৃষ্ণকেশব আম্বেদকর ওনাকে পুত্রবত স্নেহ করতেন স্কুলে নিজের খাবার খাওয়াতেন এবং তিনি ওনাকে আম্বেদকর পদবীটা লিখতে অনুমতি দেন হাইস্কুলে ভর্তির সময়৷অন্যদিকে আবার ভীম রাওদের পরিবার যেহেতু মহারাষ্ট্রের আম্বেডাওয়ে গ্রামে বসবাসকারী পরিবার তাই তাদের নামের এবং পদবীর সাথে গ্রামের নাম লেখাটাও ঐতিহ্য তাই তাঁরা আম্বেডাওয়ে লিখতেন৷তাদের পারিবারিক পদবী ছিল সকপাল৷তাই ভীম রাও আসলে ছিলেন ভীম রাও সকপাল আম্বেডাওয়ে সেটা বদলে হয়ে গেছিল ভীম রাও আম্বেদকর৷
বরোদার রাজা সয়াজী রাও গায়কোয়াড় আম্বেদকরকে পড়াশুনার সব খরচ(তিনি লন্ডন স্কুলে পড়াশোনা করেন,লন্ডন এবং কলম্বিয়ার বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়াশোনা করেছেন।ব্রিটিশ আইনি ব্যবস্থা ও প্রথা থেকে শিক্ষালাভ করেন, পড়াশুনা,থাকা,খাওয়া সব সমেত)জুগিয়েছিলেন৷
পরবর্তী কালে আম্বেদকর বিবাহ করেছিলেন ব্রাহ্মণ মেয়ে সারদা কবীরকে আবার বিবাহের পর তার নাম বদলে করেন সবিতা আম্বেদকর৷একদম লাভ জেহাদ কেস,নাহলে নামটা বদলানোর কি ছিল?পদবী না হয় বদলায় বিবাহের পর৷এই ব্রাহ্মণ মেয়ে আম্বেদকরের থেকে ছত্রিশ/কুড়ি(একেক যায়গায় একেক রকম জানা যায়)বছরের ছোট ছিলেন৷এটা ব্রাহ্মণের উপর আক্রোশ ছাড়া আর কি হতে পারে?এরপর আম্বেদকরের মৃত্যুর পর ওনার প্রথম স্ত্রীর সন্তানরা প্রচন্ড অত্যাচার আর দুর্ব্যাবহার করতেন সারদা বা সবিতার উপর৷
ব্রাহ্মণদের প্রতি তার সমালোচনা বা “ঘৃণা” ছিল৷
উদাহরণ: “Untouchability: Who Were the Depressed?” (1948) – এখানে তিনি দেখান কিভাবে সমাজশাস্ত্র ও ধর্মশাস্ত্র শোষণকে ন্যায্যতা দেয়।
নিম্নবর্ণের অধিকার ও মর্যাদার নামে তিনি সমাজে বিষবৃক্ষ বপন করেন৷তিনি বৃটিশদের নিকটস্থ ছিলেন তাই আসল সমস্যার কারিগর কারা ছিল সেটা ওনার না জানার কথা না তারপর ও তিনি ব্রাহ্মণদের ভিলেন বানিয়ে তুলে প্রচার করেছেন,তথাকথিত নীচু জাতকে প্ররোচিত করেছেন ঘৃণা বিদ্বেষ পুষে যেতে৷হিন্দু ধর্ম ত্যাগ করেছেন,তাও প্রচন্ড ঘৃণা বর্ষণের মাধ্যমে৷ইতিহাসের দিকে মনোযোগ দিয়ে দেখা যায়—ড. বি. আর. আম্বেদকর হিন্দু ধর্ম ত্যাগের আগে এবং পরে সামাজিক ও
ধর্ম ত্যাগের পটভূমি
হিন্দু দেবদেবীর প্রতি সমালোচনা করেন প্রচন্ড ভাবে
তিনি রচনা করেছিলেন: Annihilation of Caste (1936) – যেখানে হিন্দু ধর্মের “অস্পৃশ্যতা, জন্মভিত্তিক শোষণ এবং দেবদেবীর পূজা”–কে তীব্র সমালোচনা করেছেন।
সেখানে তিনি দেবদেবীকে আধ্যাত্মিক বা ধর্মীয় স্তরে নয়, বরং সমাজের শোষণমুক্তির পথে বাধা হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
ধর্ম ত্যাগের ঘটনা
১৯৫৬ সালে বৌদ্ধ ধর্ম গ্রহণ
আম্বেদকর পুরো পরিবারসহ বৌদ্ধ ধর্ম গ্রহণ করেন হিন্দু দেবদেবীকে প্রচন্ড গালি দিয়ে,ঘৃণা ছড়িয়ে৷দেবদেবী কি ভাবে ওনাকে ঘৃণা করেছিল?শোষণ করেছিল?এর থেকেই বোঝা যায় ওনার সবটাই ছিল প্ল্যানমত করা হিন্দু ঘৃণা৷সরকারি আইন (Constitution of India, Article 17) এবং আদালতের রায় নিশ্চিত করে: Untouchability অবৈধ।এরপর অত্যাচার হয় কি করে?আইন কি ছেড়ে দিত?
আম্বেদকরের বৃটিশ শিক্ষাজীবন
শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও বিষয়
লন্ডন স্কুল অফ ইকোনোমিকস (LSE), ইউনিভার্সিটি অফ লন্ডন, এবং কলম্বিয়ার বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়াশোনা।
অর্থনীতি, আইন, সমাজবিজ্ঞান, রাজনৈতিক বিজ্ঞান, ধর্ম ও ইতিহাস নিয়ে শিক্ষা।তিনি পড়েছেন ব্রিটিশ শিক্ষাব্যবস্থা অনুযায়ী এটি অবশ্যই পশ্চিমা দৃষ্টিভঙ্গি এবং প্রথাগত ব্রিটিশ দর্শন ও ইতিহাসে ভিত্তি করে এবং সেই বৃটিশদের দেখানো পথেই চলেছেন৷
বৃটিশ অনেকসময় ভারতীয় সমাজকে “ভিন্নভাবে” দেখায় — উদাহরণ: “Indians are caste-bound, backward, untouchable”।
আম্বেদকর এই তথ্যগুলোকে সমালোচনামূলকভাবে বিশ্লেষণ করলে সমাজ সংস্কার করতেন কিন্তু তিনি সেটা করার পক্ষপাতী ছিলেন না৷অন্যদিকে বৃটিশদের মধ্যে জাতি প্রথা অনেক বেশী ছিল,সেটাই তারা ভারতীয়দের মধ্যে রোপণ করেছিল আর আম্বেদকর তাকে ভারতীয় সমস্যা বলে প্রতিষ্ঠিত করে দিয়েছিলেন৷বৃটিশরা “নীচু জাতি”কে পোষণ করতো কি?
প্রাথমিকভাবে ব্রিটিশরা ভারতীয় সমাজকে ঔপনিবেশিক প্রশাসনের জন্য সুবিধাজনকভাবে ভাগ করতে চেয়েছিল।নিম্নবর্ণকে “পোষণ” বা “রক্ষা” করার বিষয়টি মানবিক বা সমানাধিকারের কারণে করেনি৷মূল উদ্দেশ্য ছিল উচ্চবর্ণদের (ব্রাহ্মণ/রাজা) প্রভাব সীমিত করা এবং প্রশাসনিক সুবিধা পাওয়া।
কৌশলগত দিক ছিল “Divide and Rule” নীতি।
নিম্নবর্ণ বা দলিতদের সরকারি চাকুরি, স্কুল বা পুরস্কার দিয়ে প্রভাবিত করা।
ফলে সমাজে বিভাজন, এবং ব্রিটিশদের শাসন সহজ হয়।সেটাকে ই এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার কাজ করেন আম্বেদকর৷
শহরে কিছু সুযোগ (চাকরি, শিক্ষা) দেওয়া হলেও, গ্রামে বহু অঞ্চলে কিছুই করেনি অর্থাৎ, পোষণ এবং শোষণ দুটোই ঘটেছে প্রেক্ষাপট অনুযায়ী।
নীচু জাতি বলে সহানুভূতি দেখিয়ে কিছু সুবিধা দিয়ে, শিক্ষা, চাকুরি দিয়ে প্রভাবিত করেছিল৷
প্রশাসনিক কাজে নির্দিষ্ট নীচু কাজের দায়িত্ব চাপিয়ে দিত৷
“Divide and Rule”, করে নিয়ন্ত্রন বজায় রাখতো,স্থায়ী বর্ণবৈষম্য ও সমাজে শোষণ বজায় রাখা এসব করেছিল৷এতে সাময়িক উন্নতি মনে হলেও আসলে ঘৃণা ও শোষণ চিরস্থায়ী হয়৷ নিম্নবর্ণের ওপর দমনের প্রথাই তারা চালিয়ে গেছিল৷আম্বেদকর নিজেও কিন্তু দলিতদের হাতের ছোঁয়া খেতনে না তারপর ও তাঁর সম্প্রদায়ের লোকরা কোন যুক্তিতে তাঁকে ভগবান বানিয়ে পুজা করে বুঝিনা৷
জ্যোতিবা ফুলে উনিশ শতকের ভারতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সমাজসংস্কারক, চিন্তাবিদ ও শিক্ষাবিদ। জ্যোতিরাও গোবিন্দ রাও ফুলে মিশনারী স্কুলে পাদ্রীর কাছে লেখাপড়া করে ছিলেন৷তার স্ত্রী সাবিত্রী রাও ফুলে ও শিক্ষিত৷ব্রাহ্মণরা তার স্কুল খোলার জন্য পাশে ছিল,সহযোগীতা করেছিল৷আর সহযোগীতা করেছিল খৃশ্চান মিশনারীরা৷বৃটিশরা ভারত থেকে যাক এটা তিনি চাননি৷ভারতীয়রা তাদের তাড়াতে চাইছিল সেটা তাঁর পছন্দ ছিলনা৷মারাঠী ভাষার উত্থান হলে শূদ্রদের এবং অতি শূদ্রদের(এটা কি বস্তু জানিনা) উত্থান হবে এটা তাঁর বিচার ছিল৷সনাতনীদের উপর প্রচন্ড আক্রোশ ছিল৷তাঁর পিতাকে এমনও বলছিলেন তিনি খৃশ্চান হবেন এমন হয়তো তাঁর পিতা শুনেছেন৷বৃটিশরা মারাঠী ভাষার উপর লেখার একটা আয়োজন করেছিল তাতে সনাতনীদের হয়তো বলা যায় ব্রাহ্মণদের বক্তব্য ছিল সংস্কৃত ভাষায় কেন হবেনা?এই নিয়ে কিছুটা উত্তেজনা তৈরী হওয়াতে জ্যোতিবা রাও বলেছিলেন এক শত/দুই শত আখাড়ার পালোয়ান শূদ্রকে লাঠি হাতে পাঠাবেন৷
সনাতনীরা তাঁকে ভয় পেত৷গুলামগীরি নামে বই লিখেছিলেন৷কানপুর আর দিল্লীতে ইংরেজদের বিরুদ্ধে সৈন্যদের বিদ্রোহের খবর শুনে বলেছিলেন ইংরেজ বাকি বিদ্রোহের মত ওই বিদ্রোহকে ও কুচলে দেবে৷১৮২২ সাল থেকে ৪৬ সাল পর্যন্ত মহারাষ্ট্রে কম বিদ্রোহ তো হয়নি সেগুলো যেমন কুচলে দিয়েছে তেমন ই কুচলে দেবে আর সফল হলেও ইংরেজ চলে গেলে চালাবে কে?যারা নিজেদের মুকুট তাদের পায়ে রেখেছিল তারা চালাবে?হাজার মানুষ শহীদ হবে৷সমাজ না বদলালে বিদ্রোহ করে কি হবে?”আমি ওরকম দেশভক্ত না যে বলবো আমাদের সমাজ যথেষ্ট ভাল৷বৃটিশরা আমাদের পড়াচ্ছে,ব্রাহ্মণরা কি আমাদের জন্য পাঠশালা খুলতে দেবে?”জ্যোতিবা ফুলে প্রথম বলেছিলেন তিনি ব্রাহ্মণ বিরোধী নন,ব্রাহ্মণ্যবাদের বিরোধী৷তবে দুটো ব্যাপারে সঠিক ছিলেন,এক ব্রাহ্মণ বিধবাদের পুনঃর্বিবাহ,আর বিধবাদের মাথা ন্যাড়া করা বন্ধ করা,বয়স্ক লোকদের নাবালিকা মেয়েদের বিবাহ করার বিরোধী ছিলেন যেমন তেমন ই আবার ব্রাহ্মণদের দ্বারা বিবাহ,অন্নপ্রাশন,পুজা,শ্রাদ্ধ এসব করানোর ও বিরোধী ছিলেন৷ সত্যশোধক সমাজ নামে একটা দল বানান এসবের বিরুদ্ধে শূদ্রদের মধ্যে প্রচার করার জন্য,ব্রাহ্মণদের হুমকি ও দেন৷আবার কাশি বাই নামের এক ব্রাহ্মণ বিধবা মহিলা কোন আত্মীয়র দ্বারা গর্ভবতী হলে সাবিত্রী বাই ফুলে তাকে নিজের বাড়িতে রেখে সন্তান জন্ম দেওয়ার জন্য জ্যোতিবা ফুলেকে রাজি করান,এমনকি তার সন্তানকে দত্তক নিতে ও রাজি করান৷রামমোহনদের সমাজ সংস্কার শুধুমাত্র উঁচু জাতের জন্য ছিল এটায় তিনি ক্ষুব্ধ ছিলেন৷মহারানী ভিক্টোরিয়ার প্রশংসক ছিলেন৷মুসলমান,খৃশ্চান আর শূদ্রদের উপরওয়ালার বান্দা বলেছেন৷১৮৯০ সালে তাঁর মৃত্যু হয়৷তিনি এমন এক সময়ে জন্মগ্রহণ করেন, যখন ভারতীয় সমাজ কঠোর বর্ণভেদ, ধর্মীয় কুসংস্কার, নারীশিক্ষার অভাব এবং সামাজিক বৈষম্যে জর্জরিত ছিল। তাঁর জীবন ও কর্মধারা মূলত নিম্নবর্ণ ও বঞ্চিত মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা, নারীশিক্ষা প্রসার, এবং ব্রাহ্মণ্যবাদী আধিপত্যের সমালোচনার মধ্য দিয়ে গড়ে ওঠে। তিনি সমাজের প্রচলিত শক্ত কাঠামোর বিরুদ্ধে যুক্তি, শিক্ষা ও সংগঠনের মাধ্যমে সংগ্রাম পরিচালনা করেন।জ্যোতিবা ফুলের জন্ম ১১ এপ্রিল ১৮২৭ সালে মহারাষ্ট্রের পুনে শহরে। তাঁর পূর্ণ নাম জ্যোতিরাও গোবিন্দরাও ফুলে। তিনি মালি সম্প্রদায়ভুক্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন, যারা পেশাগতভাবে উদ্যানপালন ও ফুলের ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ছিল। তাঁর পিতা গোবিন্দরাও ফুলে ছিলেন পরিশ্রমী ও স্বনির্ভর ব্যক্তি। অল্প বয়সেই মাতৃহারা হওয়ায় জ্যোতিবা শৈশবে পারিবারিক স্নেহের ঘাটতি অনুভব করেন। তবুও তাঁর পিতা শিক্ষা লাভের সুযোগ করে দেন, যা সে সময় নিম্নবর্ণের পরিবারের জন্য অস্বাভাবিক ছিল।প্রথমদিকে তিনি স্থানীয় বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেন। পরে স্কটিশ মিশন স্কুলে ভর্তি হন। এই বিদ্যালয়ে তিনি পাশ্চাত্য শিক্ষা, যুক্তিবাদী চিন্তাধারা এবং মানবাধিকারের ধারণার সঙ্গে পরিচিত হন। শিক্ষাজীবনে তিনি সামাজিক বৈষম্যের তীব্র অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হন৷প্রশ্ন হলো এটা কি ভাবে হলো?তিনি তো বৃটিশদের ইংরেজী স্কুলে লেখাপড়া করেছেন।তাহলে কি ধরে নেব না বৃটিশরাই আসল জাতিভেদ করতো?তা না হলে তাদের স্কুলে কি ভাবে তাদের সামনে ই কেউ জাতিভেদ নিয়ে ঘৃণা বিদ্বেষ ছড়াতে পারে?তারা যখন এসব দূর করতে চাইতো তখন এসব হতে দিত কি করে?শাস্তি দিতনা?বাধা দিতনা?তিনি নাকি এক ব্রাহ্মণ বন্ধুর বিয়েতে নিমন্ত্রণ পেয়ে সেখানে গিয়ে অপমানিত হন, কারণ তিনি নিম্নবর্ণের ছিলেন,এমন বলা হয়েছে। এই ঘটনা তাঁর মনে গভীর প্রভাব ফেলে এবং বর্ণভিত্তিক শোষণের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার সংকল্প দৃঢ় করেন।জ্যোতিবার ব্যক্তিগত জীবনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন তাঁর স্ত্রী সাবিত্রীবাই ফুলে। তাঁদের বিবাহ হয় অল্প বয়সে। সে সময় নারীশিক্ষা প্রায় অগ্রহণযোগ্য ছিল। জ্যোতিবা নিজেই স্ত্রীকে পড়াশোনা শেখান। পরবর্তীকালে সাবিত্রীবাই ভারতের প্রথম নারীশিক্ষিকাদের একজন হিসেবে পরিচিত হন। এই দম্পতির যৌথ প্রচেষ্টায় নারীশিক্ষা আন্দোলনের সূচনা হয়। ১৮৪৮ সালে জ্যোতিবা ও সাবিত্রীবাই পুনেতে মেয়েদের জন্য প্রথম আধুনিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেন। এই বিদ্যালয় ছিল জাতি, বর্ণ ও ধর্ম নির্বিশেষে সকল কন্যাশিশুর জন্য উন্মুক্ত। সে সময় সমাজে ধারণা ছিল যে নারীশিক্ষা অশুভ ও ধর্মবিরোধী। বিদ্যালয় পরিচালনার কারণে তাঁদের তীব্র সামাজিক প্রতিক্রিয়া, অপমান ও হুমকির মুখোমুখি হতে হয়। তবুও তাঁরা কাজ চালিয়ে যান। পরবর্তী কয়েক বছরে তাঁরা একাধিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেন, যেখানে নিম্নবর্ণের শিশুদেরও শিক্ষা দেওয়া হতো।শিক্ষা প্রসারের পাশাপাশি জ্যোতিবা বিধবাদের অবস্থার উন্নতির জন্য কাজ করেন। উনিশ শতকে উচ্চবর্ণের সমাজে কিশোরী বয়সে বিয়ে এবং অল্পবয়সে বিধবা হওয়া ছিল সাধারণ ঘটনা। বিধবাদের ওপর সামাজিক নিয়ন্ত্রণ ও নির্যাতন ছিল কঠোর। অনেক ক্ষেত্রে অবাঞ্ছিত গর্ভধারণের ফলে নবজাতক হত্যা করা হতো। জ্যোতিবা ও তাঁর স্ত্রী গর্ভবতী বিধবাদের আশ্রয়ের জন্য একটি কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করেন, যেখানে নিরাপদে সন্তান প্রসবের সুযোগ দেওয়া হতো। এই পদক্ষেপ ছিল মানবিক ও প্রগতিশীল।১৮৭৩ সালে তিনি সত্যশোধক সমাজ প্রতিষ্ঠা করেন।
তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ গুলামগিরি ১৮৭৩ সালে প্রকাশিত হয়। এসবের জন্য ব্রাহ্মণরা কি ভাবে দায়ী হলো?কি ভাবে ঘৃণা করলো? ব্রাহ্মণদের দোষ কোথায়?আম্বেদকর,ফুলে কতটা বৃটিশদের মানসিকতা পোষণকারী মানুষ!বৃটিশদের এজেন্ডা সফল করার জন্য তাদের এজেন্ট হয়ে হিন্দুদের মধ্যে চিরস্থায়ী বিভাজন তৈরী করার জন্য নিজেদের জাতিকেই মাছের চারের মত ব্যাবহার করেছেন আর তাদের জাতি এতই মূর্খ সেই চালাকি আজও জানার চেষ্টা না করে সেই ফাঁদে ই পা দিয়ে চলছে৷ব্রাহ্মণ ঘৃণার নামে দেশদ্রোহীতা করছে,যা ওনারা চেয়েছিলেন৷আসলে তো বিশাল সংখ্যাকে বিচ্ছিন্ন করে খৃশ্চান বানিয়ে তোলা উদ্দ্যেশ্য৷সেই উদ্দ্যেশ্য নিয়েই আজকের দেশের প্রধানমন্ত্রী ও কাজ করছেন৷তিনি ও সেই ভীমবাদী নাম নিয়ে ই,তাদের জন্য নকল কান্না দেখিয়ে ই,নিজেকে ও আম্বেদকর বা ফুলের মত অত্যাচারিত দলিত বলে(কিন্তু উনি ব্যাবসায়ী পরিবারের ছেলে মানে বৈশ্য) বলে গল্প শুনিয়ে,ভিক্টিম কার্ড খেলে বিশাল সংখ্যার মানুষ কে খৃশ্চান বানানোর দিকে নিয়ে যাচ্ছেন৷অন্যদিকে আবার ওদের প্রতি সুবিচারের নামে ব্রাহ্মণ,ক্ষত্রিয়,বৈশ্যদের আইনের ফাঁসে ফাঁসি দিয়ে মারার পরিস্থিতি তৈরী করে তাদের ও খৃশ্চান হতে বাধ্য করার ব্যাবস্থা করছেন৷আজ পর্যন্ত কোন নিম্ন বর্ণের নেতা বা মন্ত্রী নিম্ন বর্ণের মানুষের জন্য কোন উপকার করেছেন?যদি করতেন তাহলে কেউ কি নিম্ন বর্ণের হয়ে থাকতো?কেউ কি পিছিয়ে থাকতো?এক সময় মায়াবতী উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন,তিনি রাজ্য জুড়ে নিজের মুর্তি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন কিন্তু নিজের জাতির জন্য কোন কাজ করেছেন?আজ মোদী নাকি কান্না কাঁদেন,ব্রাহ্মণ হত্যা করানোর জন্য প্ররোচিত করেন কিন্তু ১২ বছরে দলিতদের হাইড্রেনে নেমে পরিস্কার করা বন্ধ করতে পারলেন না৷কত মানুষের বিষাক্ত গ্যাসে মৃত্যু হয়৷উনি দামী ট্রেন করছেন ভাল কথা কিন্তু তার আগে সাকশান ব্যাবস্থায় ড্রেন পরিস্কার করা চালু করা উচিৎ ছিল না?মানুষের দামী ট্রেনে যাওয়ার থেকে কি ওটা বেশী গুরুত্বপূর্ণ না?সেই অন্যায়ের বিরুদ্ধে ও ব্রাহ্মণ আমিই বলছি৷কোন দলিতের মসিহা সাজা দলিতের মনে হয়না৷এত দলিত তাস খেলার পরও দলিতরা আজও কেন গরীব আছে?আজও কেন অশিক্ষিত আছে?আজও কোন অভুক্ত আছে?আজও কেন স্ত্রী,সন্তান বা পিতার মৃত্যু হলে কাঁধে করে বা ব্যাগে করে সেই মৃতদেহ বয়ে পায়ে দশ কিলোমিটার হেঁটে বাড়ি নিয়ে যেতে হয় হাসপাতাল থেকে?দলিত প্রধানমন্ত্রী হোক বা নেহেরুর মত সাহেব প্রধানমন্ত্রী হোক কেউ কেন সমস্যা দূর করলেন না?এত দীর্ঘ সময় সংরক্ষণ রাখার পরও কেন সবাই সমান যায়গায় নেই?একদল সুবিধা নিয়েই চলেছে প্রজন্মের পর প্রজন্ম আর নানা দুর্নীতি করে করে সম্পদ বৃদ্ধি করেই চলেছে,আরেক দল যেমন গরীব ছিল তেমন গরীব ই থাকছে,কত মানুষ খেতে পর্যন্ত পায়না৷তারা ভীমবাদ কানে শোনেনি কোনদিন,আম্বেদকর কে জানেনা,তিনি তাদের কোন উপকার করেছেন শোনেনি কোনদিন৷রাজ্য ভিত্তিক দলিত নেতাদের কিছু নাম তুলে ধরলাম,তারা কে কি করেছে দলিতদের জন্য?প্রশ্নটা রাখলাম৷যদি করে থাকে তারপর ও কেন দলিত দলিত ই আছে আজও?
অন্ধ্র প্রদেশ
দামোদরাম সঞ্জীবাইয়া
জি. এম. সি. বালায়োগী
কিল্লি কৃপারণী
অসম
ভোলানাথ দাস
রানী নরাহ
বিহার
রামবিলাস পাসওয়ান
চিরাগ পাসওয়ান
জিতন রাম মাঞ্জি
মহেন্দ্র নারায়ণ সরদার
ছত্তীসগড়
মিনিমাতা আগম দাস
শিবকুমার দাহারিয়া
দিল্লি
উদিত রাজ
রাজ কুমার আনন্দ
গোয়া
রামকৃষ্ণ ধাভালিকার
গুজরাট
জিগনেশ মেভানি
শঙ্কর চৌধুরী
হরিয়ানা
কুমারী সেলজা
রতনলাল কাটারিয়া
হিমাচল প্রদেশ
ঈশ্বর দাস ধিমান
ঝাড়খণ্ড
গীতা কোড়া
রমেশ্বর ওরাঁও
কর্ণাটক
মল্লিকার্জুন খাড়গে
জি. পরমেশ্বরা
কেরল
কে. আর. নারায়ণন
কে. কে. রেমা
মধ্যপ্রদেশ
জামুনা দেবী
ফুল সিং বারাইয়া
মহারাষ্ট্র
বি. আর. আম্বেদকর
রামদাস আঠাওয়ালে
প্রকাশ আম্বেদকর
মণিপুর
ওয়াই. এরাবত সিং
ওড়িশা
ভক্তচরণ দাস
শ্রীকান্ত জেনা
পাঞ্জাব
চরণজিৎ সিং চন্নি
রাজ কুমার ভার্কা
রাজস্থান
বুটা সিং
রাজেন্দ্র পাল গৌতম
তামিলনাড়ু
থোল তিরুমাভালাভান
এ. রাজা
তেলেঙ্গানা
টি. রাজাইয়া
ত্রিপুরা
সুদীপ রায় বর্মন
উত্তর প্রদেশ
মায়াবতী
কানশি রাম
স্বামী প্রসাদ মৌর্য
উত্তরাখণ্ড
যশপাল আর্য
পশ্চিমবঙ্গ
যোগেন্দ্রনাথ মণ্ডল
মনোহর মৌলিক
এত নেতা ৮০ বছরে দলিতদের কোন উপকার কি করেছে?শুধু নিজেদের সম্পদ বানিয়েছেন৷তারপর ও সবার শুধু দলিত তাস খেলা আজও জারী আছে৷শেষ পেরেকটা সমাজে পুঁতছেন মসিহা মোদী৷তিনি পণ করেছেন হিন্দু নিশ্চিহ্ন না করে পৃথিবী ত্যাগ করবেন না৷