নারায় তাকবীর, নারায় তাকবীর, আল্লাহ্ আকবর, এখন আমার সাথে নারা লাগাও, মিঞা জিন্দাবাদ, মিঞা জিন্দাবাদ, মিঞা জিন্দাবাদ, মিঞা জিন্দাবাদ। আল্লাহ সলামত রাখুক। সালাম আলাইকুম,
কি মনে হচ্ছে বন্ধুরা,আমি এসব বলছি? আরে নানা,আমি এসব বলছিনা।এসব বলছে haydrabad এর মুকূট বিহীন রাজাকার সুলতান আসাদউদ্দিন ওয়েইসী,এক ভিডিওতে।
আসাদউদ্দীন ওয়েইসীর বাবার এবং সেই সময়ের মুসলমানদের রক্ত তৃষ্ণা মিটিয়ে,দাবি পূরণ করে ১৯৪৭ সালে ভারতকে খণ্ড খণ্ড করে তাদের তিন তিনটে মুসলিম দেশ(আফগানিস্তান,পাকিস্তান এবং ১৯৭১ সালে বাংলাদেশ)ঝুলিতে দিয়ে অবশিষ্ট টুকরো দেশে ও হিন্দুরা অপদমুক্ত হয়ে থাকতে পারেনি কারণ তিনটে দেশ নেওয়ার পরও মুসলমানরা সেই সব দেশে না গিয়ে অবশিষ্ট ভারতে থেকে যায় ভারতপ্রেমী সেজে ভবিষ্যতে অবশিষ্ট ভারত ও গ্রাস করবে বলে। সংখ্যা বৃদ্ধি করে করে আজ তাদের সেই ভবিষ্যৎ হাতের মুঠোয়।তাই আজ আবার সেই একই পথে তারা হাঁটা শুরু করলো আর সেই পথ হলো রাজনীতির পথ।
মুসলমানরা আবার মুসলমান রাজনীতি শুরু করলো পুরোপুরি এবং খোলাখুলি ভাবে।তারা নতুন ভাবে মুসলমানের নিজেদের একটা পার্টি চাইছে।
আগেরবার ও দেশে একটা মুসলিম পার্টি হয়েছিল, যার নাম মুসলিম লীগ, তারপর কী হল দেশটা, সেটা তো তোমরা সবাই জানো। এখন সরাসরি চলে যাই পশ্চিমবঙ্গের দিকে।
পশ্চিমবঙ্গে একটা মুসলিমদের পার্টি তৈরী হয়েছে জনতা উন্নয়ন পার্টি, যা হুমায়ূন কবীরের, আর সেই পার্টিকে আসাদউদ্দিন ওয়াইসির পার্টি সমর্থন দিয়েছে।ওয়াইসি মুর্শিদাবাদে এসেছিল। ওখানে ভাষণ দিচ্ছিল। আর ওয়াইসি যা বলছিল, সেটা প্রায় ১৯৪৫ সালে সোহরাবর্দি যা বলছিল তার মতোই। হুসেইন শহীদ সোহরআবর্দি, যাকে ‘বঙ্গলার কসাই’ বলে ডাকা হয়।
আগে আসাদউদ্দিন ওয়াইসির বলা কথাগুলো বলি,একই কথা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পার্লামেন্টে বলেছিল, ডেপুটি স্পিকারের সামনে ফাইল ছুঁড়ে ফেলে দিয়ে।
কেন ফেললো?মমতা বলেছিল বাংলায় অনুপ্রবেশকারীরা ঢুকছে। আজকের কথা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ২০০৫ সালে বলেছিল।মোদী আর অমিত শাহ এসে বাংলায় ২০১৪ থেকে বলছেন অনুপ্রবেশকারীরা ঢুকেছে। এদের মধ্যে কি পার্থক্য?এদের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই।ওরা কখনো চায়নি গরীব আর নিপীড়িত মানুষের স্বাধীন নেতৃত্ব উঠে আসুক। মমতা আর মোদী, মমতা আর মোদী, দুইজন যেন এক রকম ভাইবোন। ওদের বিশ্বাস করা যায় না। যদি কাউকে বিশ্বাস করতে হয়, তো ওযেইসিকে করো, আর আমার ভাই হুমায়ুন কবিরকে করো।
মমতা আর মোদির একটা সেটিং হয়ে গেছে যে তারা দুজনেই চায় বাংলায় কোনোভাবেই মুসলিম মাইনরিটির স্বাধীন রাজনৈতিক নেতৃত্ব উঠে না আসে। TMC-এর লোকদের কাছে আমরা প্রশ্ন করতে চাই, চারজন বিজেপির MLA ছিল, তারা কী করে ৪ থেকে ৭৭ হয়ে গেল? কারা তাদের সফল করল? বিজেপির কতজন MP ছিল? ১০-১২ বছর আগে, আর এখন এতজন MP কী করে সফল হল? আমি মুর্শিদাবাদের মানুষ, বাংলার মানুষকে বলতে চাই, আমাদের লড়াই অবশ্যই মুসলিম মাইনরিটির নেতৃত্ব গড়ে তোলার জন্য। না হুমায়ূন কবীর, না ওয়াইসী কখনো কোনো হিন্দু ভাইয়ের বিরুদ্ধে ছিল না, আর কখনো থাকবে না।১৯৪৭ সালেও মুসলমানদের জন্যই লড়াইটা ছিল।
ইনশাআল্লাহ তালা। আমরা আমাদের অধিকার চাই। আমরা অংশীদারিত্ব চাই আর আমরা TMC বা মমতার সামনে মাথা নত করবো না। আমরা মোদির কাছে ভয় পাবো না। আমরা শুধু আল্লাহর কাছে ভয় পাবো, আর কারো কাছে নয়। আমরা আমাদের অধিকার চাই। আমাদের অধিকার পাওয়া উচিত। আর মনে রেখো, নওদার মানুষরা ২৩ তারিখে তোমাদের ভোট দিয়েছিল যেহেতু তোমরা মমতার দাসত্ব থেকে মুক্ত হওয়ার জন্য, আর মোদীর ভয়ের হাত থেকে মুক্ত হতে হবে তোমাদের। এই দুজনের বিরুদ্ধে তোমাদের সিটি বাজাতে হবে। ২৩ তারিখে শুধু সিটি বাজবে।
সোহরাওয়ার্দি কম্বাইন্ড বেঙ্গল অর্থাৎ আজ যা বাংলাদেশ আর পশ্চিমবঙ্গ দুটোকে মিলিয়ে তখন ওই জায়গার প্রধান নেতা ছিল সোহারাওয়ার্দী, আর কংগ্রেসের অনেক বিশ্বাস ছিল তার ওপর। বারবার এমন তথ্য আসত যে বাংলার অবস্থা খারাপ, উত্তেজনা চলছে। তবুও তখন কংগ্রেস সোহারাওয়ার্দীকে নিয়েও কিছু করেনি। তারপর মানব ইতিহাসের সবচেয়ে বড় সাম্প্রদায়িক হিন্দু গণহত্যা হলো বাংলায়। হাজার হাজার মানুষ মারা গেছে আর এসব মাত্র এক বছর পরে ঘটেছিল। অর্থাৎ ১৯৪৬ সালে এমন একটি ভাষণ দেওয়া হয়েছিল। ১৬ আগস্ট ১৯৪৬-এ ডাইরেক্ট অ্যাকশন ডে ঘোষণা করা হয়েছিল আর তার পর পশ্চিমবঙ্গে দাঙ্গা হয়েছিল।
পরে সোহরাওয়ার্দী যে একবার পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীও হয়েছিলও। ঠিক একই রকম কিছু প্যাটার্ন বাংলা-তেও আজ আবার চলছে। আর যখন আপনি ডটগুলো যোগ করবেন, শুরুতেই ছিল এমন যে মুসলমানদের উপর অত্যাচার হচ্ছে। মুসলমানদের নিজেদের একটা পার্টি করা উচিত। আর এটা শুধু বাংলাতেই হচ্ছে না। আজকের বাংলায় আর আসামে এটা চলছে। একটা ছবি দেখাই আপনাকে। এটা বদরুদ্দীন আজমলের ছেলের এবং ওয়েইসির। দুজনার মধ্যে দেখা হয়েছে। আর ওয়াইসি আসামে বদরুদ্দীন আজমলের পার্টিকে(AIDUF) সাপোর্ট করছে। মানে ওখানেও মুসলমানদের পার্টি অবশ্যই হবে।
আসামে একটা মুসলিম পার্টি আর হায়দরাবাদে ওয়াইসি নিজের পার্টি(AIMIM) ও একটা মুসলিম পার্টি। বাংলা, আসাম আর হায়দরাবাদ এই তিনটা জায়গার কথা মাথায় রাখো, কারণ দেশের ভাগাভাগির সময় এই তিন শহরের কি রোল ছিল, বুঝতে পারবে। প্রথমেই আসাদউদ্দিন ওয়াইসি যখন নওগাঁও গিয়েছিল, তখন সে কি বলেছিল, একবার শুনে নাও। লোকেরা নামাজ পড়ে বের হয়, তখন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় হাত তুলে নাটক করে। তৃণমূল ১৫ বছর ধরে ক্ষমতায় আছে। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এখানে এসে বলেছিলেন যে কোল্ড স্টোরেজ বানাবেন। কোল্ড স্টোরেজ বানানো হলো, কিন্তু সেটা কি কৃষকদের জন্য? কেউ কি কোল্ড স্টোরেজ
এখানে বানালো? বানায়নি।
২৩ তারিখে তোমাদের TMC-কে ঠাণ্ডা গুদামে রাখতে হবে আর কৃষকদের জন্য ঠাণ্ডা গুদাম ইনশাল্লাহ এখানে ইমায়ূন কাবির সাহেব বানাবেন। ১৫ বছর ধরে TMC সরকার আছে। এক বছর আগে কলকাতা হাইকোর্ট মুসলমানদের OBC কাস্টের সার্টিফিকেট বাতিল করে দিয়েছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে জিজ্ঞেস করো, ওরা ব্যাকওয়ার্ড
দেখেন।
আমি পুরো আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বলছি যে ভারতে আরেকটা মুসলিম লীগ গড়ে উঠতে চলেছে, আর আসাদউদ্দিন ওয়াইসি তার সবচেয়ে বড় নেতা। বিভিন্ন রাজ্যে তাদের সৈন্য হবেন হুমায়ূন কবীর, বদরুদ্দীন আজমল মতো মানুষরা। এখনই অনেক রাজ্যে এই ধরনের মুসলিম লিডারশিপ, যারা মুসলিমদের রাজনৈতিক দল, বদরুদ্দীন কিংবা আসাদউদ্দিন ওয়াইসির পাশে থাকবে। বুঝতেই পারেন তারা কী করবে? বদরুদ্দীন আজমলকে সাধারণত একটু লিবারেল ভাবা হয়। আমি আপনাকে নবভারত টাইমসের একটা খবরের স্ক্রিনশট দেখাচ্ছি।
বদরুদ্দিন আজমল কি বলছে, একবার নির্বাচন হলেই মিঞা আবার আসবে আর মিঞার দাদাগিরি শুরু হবে আসামে। এটাই ভাবনা, পুরো দেশে বাংলা এবং আসামের নির্বাচন ঠিক করবে মুসলমানদের রাজনীতি কোন দিকে যাবে। যদি এই পরীক্ষা সফল হয়, যেমন মুম্বইতে হয়েছিল, যেমন হায়দরাবাদে হচ্ছে, যেমন বিহারে হচ্ছে। এখন বাংলা ও আসামে সফল হলেই আর বেশী কিছু দরকার নেই। আর চার পাঁচটা রাজ্যের দরকার আছে, আর ওই চার পাঁচ রাজ্যে যদি মুসলমানদের পার্টি দাঁড়ায়, তাহলে তার পর কী হবে,কি হতে পারে সেটা কেবল অনুমান করা যায়।
মুসলমানদের পার্টি বা মুসলমানদের নেতারা কংগ্রেসকেও মেনে না, অন্য সেক্যুলার দলগুলোকেও মেনে না। তাদের কথা হলো, এই সব সেক্যুলার দল ফালতু, আর সরাসরি লড়াই হবে বিজেপি আর মুসলমানদের পার্টিগুলোর মধ্যে। অর্থাৎ আবার প্রায় একই পরিস্থিতি তৈরি হবে যা স্বাধীনতার আগে ছিল। যদি ১৯৪৭ সালে দেশ স্বাধীন হয়ে থাকে। যদি দুই-তিন বছর আগে মুসলিম লীগের ব্যাপারে কেউ জিজ্ঞাসা করত, অনেকেই বলত, ‘আরে এটা অনেক দূরের কথা ভাবছো।’ কিন্তু পরিস্থিতি খুব দ্রুত বদলাচ্ছে। বিশ্বেও বদলাচ্ছে।
ভারত নিজের মধ্যেই বদলাচ্ছে। ভারতে একটা মুসলিম পার্টি গড়ার চেষ্টা শুরু হয়ে গেছে। আর এটা দেশের জন্য ভালো না খারাপ, সেটা ভাবো সবাই আর যেসব নেতা যেমন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, অখিলেশ যাদব বা তেজস্বী যাদব তাদের ভবিষ্যত খুবই অন্ধকারময়।যারা আজ মুসলমানদের সমর্থন দিচ্ছে যখন মুসলমানরা পর্যাপ্ত সংখ্যায় হবে আর যথেষ্ট রাজনৈতিক শক্তি পাবেন, তখন ওরা তাদের কিছুই বুঝবে না। আর এর উদাহরণ অধীর রঞ্জন চৌধুরী,
বড় নেতা কংগ্রেসের। মুরশিদাবাদ ছিল কংগ্রেসের গড়। এক সময় গুজরাত থেকে ইয়ুসুফ পাঠান এসেছিল। কংগ্রেসের গড়ও পরিষ্কার আর অধীরঞ্জন চৌধুরীও পরিষ্কার। নির্বাচন হারল। এবার বিধানসভা নির্বাচন লড়ছে, কিন্তু যা গ্রাউন্ড রিপোর্ট আসছে সেটা বলছে অধীরঞ্জন চৌধুরীর অবস্থা ভালো নয়। মানে, যখন সামনে মুসলমান আছে, তাহলে আমরা হিন্দুকে ভোট কেন দেব? সে কোনো সেকুলার পার্টির হিন্দুই হোক না কেন? যদি হেরে যাওয়ার অবস্থায় থাকে বিজেপি, তাহলে আমরা মুসলমানকেই বেছে নেব। এটা একটা লাইন আইডিয়োলজি আর একটা লাইন মেন্টালিটি। বুঝতে চাইলে বুঝে নাও, না চাইলে না বুঝলেও চলে।