দরগাহ ১

পীর গোরাচাঁদ বা হজরত পীর গোরাচাঁদ বা গোরাই পীর একজন সুফি মধ্যযুগে চতুর্দশ শতকের গোড়ার দিকে ইসলাম ধর্মের প্রচারের জন্য গুরু শাহজালাল-এর নির্দেশে আরও একশজন পীরকে নিয়ে বিশেষজ্ঞ। সারা থেকে গণ বঙ্গভূমিতে এসেছেন বাংলার আপনার চব্বিশ পর গণনার উত্তর চব্বিশ পর) বালাণ্ডানায় (এখনের পরচাঁপা ও বসিরহাট এলাকা)ইসলামের প্রচার শুরু হচ্ছে। হিন্দু রাজাদের সঙ্গে তার বাধা এবং লড়াইয়ে এই পীর হয়। বসিরহাটের হাড়োয়ায় বিদ্যা ধরী তীরে তারধী দরগাহ হিসাবে আছে।  

জন্ম-বৃত্তান্ত—

পীর গোঁদটা নারী গোরার নাম গোরা পীর সেই সময় নিজেদের শুরুর চাচাদের মনে আস্থা গঠনের জন্য আন্তঃ গোল্লাঁদের নাম প্রচলন করে আসের নাম হল পীর হজরত সৈয়দ আব্বাস আলী আলী। রাজী। তার নিজের নাম হজরত করিম উল্লাহ এবং মাতার নাম মায়মুনা সিদ্দিকা। আনুমানিক ১২৬৫ খ্রিস্টাব্দ সর্বের মক্কা নগরে জমজম মহল্লায় ফাস্ট কোরায়েশ বংশে এই লোকটির জন্ম হয়। ধর্মপ্রচার আসে। গোরাচাদ (সৈয়দ আব্বাস আলী) একজন কট্টর মুসলিম ছিল তাই ইসলামকে প্রতিষ্ঠা করার জন্য আমি উল্লাহর অনিচ্ছা দূর সুদূর ভারত ধর্মপ্রচারে আসতে মনস্থ করে, তার সাথে তার নিজের পালক মাতাবউদ্দীনকে তার দেখাশুনার জন্য প্রেরণ করা। 

ভারত আগমন–

শাহ জালাল ১২৯৭ খ্রিস্টাব্দের পথ সশিষ্য তৎকালীন ভারত-রাজনী দিল্লিতে উপস্থিত হয় এবং ১২৯৮ খ্রিস্টাব্দের শুরুতে তাদের নিয়ে বাংলার শ্রীহট্ট (বর্তমান সিলেট) মুখে রওনা হয়। ১৩০৩ খ্রিস্টাব্দে সর্বমোট ৩৬০ শিষ্য সহ শ্রীহট্টে গ্রুপ শিববর্গকে ভিন্ন দলে ভাগ করে বাংলার বিভিন্ন জায়গায় ইসলাম ধর্মপ্রচারের উদ্দেশ্যে প্রেরণা করে। নাম হয় শাহ জালাল বিমান বন্দর, বাংলাদেশের বর্তমান বর্তমান পরিস্থিতিরা অবিলম্বে এই নাম দেওয়া তাদের জন্য কোমর সম্মানের না৷

বিভক্ত একটি সন্ত্রাস গ্রহণ করে গোরাচাঁদ ২১ জন পীরভ্রতাকে নিয়ে দক্ষিণ বাংলায় ধর্মপ্রচারে আসে। তার আদেশে ২১ জন পীর-আউলিয়া এতদিনের বিভিন্ন অংশে পড়ে; যেমন: শাহ সুকি পান্ডুয়ায়, দারাফ খাঁজি গাজী ত্রিবেণীতে, আব্দাল্লা সিনীতে, একদিল শাহ বারাসতের কাজীপাড়ায়, শাহ ছকুদেওয়ান খামারপাড়ায়, শাহ-সিদ আকবর সোহাইয়ে। গোরাচাঁদ নিজে ‘ভাটিমুল্লুক’ বালান্ডা পরগনায় হাজির হয়। মাহতাবউদ্দীন ওরফে শাহ সোন্দল গোরাচাঁদের মৃত্যুকাল পর্যন্ত শেষপর্যন্ত ‘খেলাফৎ’ প্রাপ্ত হয়ে তার হুকুমে বীরভূমে গামন করে। উত্তর চব্বিশ পরগনার বারাসাত মহাকুমার রায়কোলা নামক আজও “বাইশ আউলিয়ার দরগাহ” একটি দরগাহ আছে। 

স্থানীয় রাজাদের সাথে বিরোধ ও মৃত্যু—-

গোরাচাঁদ ও চন্দ্রকেতু

লোককথা অনুসারে, তিনি দেউলিয়ার (‘দেবালয়’) হিন্দুরাজা চন্দ্রকেতুকে (যার নামে সম্পর্কীত চন্দ্রকেতুগড় প্রত্নস্থলটি আবিষ্কৃত হয়েছে) ইসলামধর্ম গ্রহণের অনুরোধ করলে রাজা তা প্রত্যাখ্যান করেন।রাজার মনে বিশ্বাস তৈরীর জন্য গোরাচাঁদ রাজপ্রাসাদের চারিদিকে লোহার বেড়ায় ফুল সমেত চাঁপা গাছ লাগিয়েছিল এবং প্রচার করেছিল সে অলৌকিক ক্ষমতা বলে ওই ফুল ফুটিয়েছে কিন্তু রাজা(যা থেকে পরবর্তীকালে ঐ স্থানের নাম হয় ‘বেড়াচাঁপা’)তাতেও নতি স্বীকার করলেন না। শেষে গোরাচাঁদের কথায় গৌড় বাদশাহ চন্দ্রকেতুকে ধর্মান্তরিত হওয়ার আদেশ দিলে বিরোধ চরমে ওঠে এবং যুদ্ধ অনিবার্য হয়ে পড়ে।যুদ্ধের আগে রাজা তার রাণী ও নগরবাসীদের বলে যান তিনি যুদ্ধে জিতলে রাজধানীর দিকে সাদা পায়রা উড়ে আসবে কিন্তু পরাজিত হলে উড়ে আসবে কালো পায়রা। গৌড়ের সুলতানের প্রেরিত পাঠান শাসক পীর গোরাচাঁদের পক্ষ নিয়ে রাজা চন্দ্রকেতুর বিরুদ্ধে যুদ্ধ পরিচালনা করে। যুদ্ধটি হয়েছিল চাঁপাতলার রণখেলার প্রান্তরে যেখানে রাজা চন্দ্রকেতুর দুই প্রিয়পাত্র হামা ও দামা যুদ্ধানুশীলন করতেন। যুদ্ধে রাজা চন্দ্রকেতু জয়ী হবার সমীপে চলে এসেছিলেন,এমন সময় পীরের আলত্বাকিয়ার আশ্রয় নিয়ে রাজধানীর দিকে উড়িয়ে দেয় কালো পায়রা। সেটা দেখে নগরবাসীগণ বিমর্ষ হয়ে পড়ে এবং রানী পদ্মদহে ডুবে আত্মহত্যা করেন। এই খবর রাজার কাছে পৌঁছাতেই রাজা মনোবল হারিয়ে যুদ্ধে পরাজয় বরণ করেন। পরাজিত রাজা চন্দ্রকেতু রাজ্যে ফিরে পদ্মদহে প্রাণ বিসর্জন দেন। এরপর গোরাচাঁদ গৌড়ের বাদশাহের সহায়তা নিয়ে স্থানীয় হিন্দুদের উপর চরম অত্যাচার চালিয়ে জোর করে প্রচুর হিন্দুকে গায়ের জোরে ইসলাম ধর্মে ধর্মান্তরিত করে আরও দক্ষিণে অগ্রসর হতে শুরু করে ইসলাম প্রচারের জন্য।

অকানন্দ-বকানন্দের হাতে মৃত্যু—–

সুন্দরবনের হাতিয়াগড় পরগনার শিবভক্ত রাজা মহিদানন্দের দুই পুত্র অকানন্দ (মতান্তরে অক্ষয়ানন্দ) ও বকানন্দ (বিনয় ঘোষের মতে, এরা ছিলেন স্থানীয় চাষী-ধীবরদের সর্দার) গোরাচাঁদের ধর্মান্তরকরণ অভিযান প্রতিরোধ করেন। প্রতিরোধযুদ্ধে পীর ভীষণরকম আহত হয়,প্রতিপক্ষের বাণাঘাতে তার অর্ধেক গ্রীবা কাটা যায়। তবুও, শিরস্ত্রাণের কাপড় দিয়ে আহত স্কন্ধ বেঁধে পীর লড়াই চালিয়ে গিয়েছিল দীর্ঘ সময়।

স্থানীয় ফকিরদের লোকায়ত গানে এই লড়াইয়ের বিবরণ পাওয়া যায় এইভাবে—

গোরাচাঁদ একদিল রহিল অনেক দূর।

গোরা গেল বালাণ্ডায়, একদিল আনারপুর।।

হেতেগড়ে যেতে গোরার মা দিয়েছে বাধা।

হেতেগড়ে যায় না গোরা আছে হারামজাদা।।

মায়ের বাধা গোরাচাঁদ না শুনিল কাণে।

আকনের সঙ্গে যুদ্ধ হইল হেনকালে।।

আকানন্দ বাকানন্দ রাবণের শালা।

তার সঙ্গে যুদ্ধ হইল আড়াইপক্ষ বেলা।।

কি জানি আল্লার মর্জি নসিবের ফের।

চেকোবাণে গোরাচাঁদের কাটা গেল ছের।।

অবশেষে, ১৩৪৫ খ্রীষ্টাব্দের ১২ ফাল্গুন প্রায় আশি বছর বয়সে বালাণ্ডা পরগনার ভার্গবপুরের জঙ্গলে অবসন্ন শরীরে মুমূর্ষু অবস্থায় এসে পীর মৃত্যুবরণ করে। শোনা যায়, কালু ঘোষ নামে এক ব্যক্তি নিজ গাভীর অনুসন্ধানে জঙ্গলে প্রবেশ করলে তার মৃতদেহ দেখতে পেয়ে তাকে বিদ্যাধরী নদীর তীরে সমাধিস্থ করেন(হিন্দুরা মানবিক মূল্যবোধ ত্যাগ করতে পারেনা তাই মৃতদেহকে অসন্মান করেনা)। উল্লেখ্য, গোরাচাঁদের হাড় এখানে সমাধিস্থ করা হয়েছিল বলেই এই অঞ্চলের নাম হয় ‘হাড়োয়া’।

পীর গোরাচাঁদের দরগাহ ও নজরগাহ—

দরগাহের বাৎসরকৌহমানব বসতিরহাটের হাড়োয়ায় পীর গোরাচাঁদের সমধি দরগাহে ১২ই ফাল্গুন সমাহার তার দিন সামনে করে প্রতি বছর বিশেষত্ব ও মেলা শুরু হয়। গোরাচাঁদের মাজার চত্বরে রাজনৈতিক আদর্শ। সেই আমার এক মাস ধরে মেলায়। দেশ-বিদেশ থেকে বহু মানুষ এখানে আসে। মেলায় কাওয়ালি তরানা, মানিকপির গান, ভিন্ন বাজানা, সার্কাস, ম্যাজিক প্রদর্শনী ও বাউল গানের হাটের গান। ‘সোন্দল’ বা শোভাযাত্রা করে আনীত ভক্তদের উপহার খাদিমদাররা পীরের সমধিরের উপর সাজিয়ে গোলাপজল আমি দেয়। বারগোপপুরের গোপদের আনা গোদুগ্ধ সর্বপ্রথম পীরের সমধিতে ঢেলে দেওয়া হয় (হিন্দুরা ইতিহাস নাহিনি চিরদিন ইসলাম প্রসারকে অজান্তেই মদ দিয়ে আসা এবং চাপ)। ভাষা মুহম্মদ পুলিশর বাবা মাজুদ্দিন আহ্‌মেদ বিশিষ্ট গোরাচাঁদের একজন ভক্ত।

বিভিন্ন নজরগাহ বা স্মৃতিসৌধ—-

সেপুরের দরগাহ (অশোকনগরের কাছে)–

বারাসতের চন্দনহাটি প্রাচীন পুরাতন তেঁতুলতলা (কথিত, গোরাচাদ তার ঘোড়ায় চেপে পীরভাই একদিল শাহের সাথে একসাথে করতে এখানে আসতো)।

বারাসতের কামদেবপুরের নজরগাহ—

 (হি সেবায়েত নির্মিত পীরের স্মৃতিমন্দির বিদ্যমান) হিন্ডুদের যুগ যুগ ধরে ধরে হিন্দুদের ফলমূদের চিরস্থায়ী হচ্ছে। সীমান্ত অন্তর্গত খুড় জেলা নজরগাহ—

বসিরহাট অন্তর্গত ঘোড়াশ ও নেহালপুরের নজরগাহ।

বামনপুকুর নজরগাহ (হিন্দু সেবা দ্বারা স্থিত;

দেগঙ্গা অন্তর্গত গাঙ্গুলিয়া, নারায়ণপুর, হাসিয়া, গাংধুট, সাতহাটিয়া, গোসাইপুর, এয়াজপুর, সুহাই, ভাসলিয়া প্রভৃতি স্থানের নজরগাহ।

আরও, পীর গোরাচাঁদের দরগাহ আছে খাস কলের মালিকও; পার্ক সার্কাস এর গোরাচাঁদ দরগা রোড এখন দরগা রোডক সমধিক পরিচিত। গোরাচাঁ রোড এবং গোরাচাঁদ।

এমন দরগাহ আছে যেগুলো মূর্খের মত বহুরা লালন করে। আমাদের মালিকানা জানাচ্ছেন গোরাচাঁদ বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় পীর করা হয়েছে বলে মনে করা হয়েছে। রাখা হয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *