অনন্ত না নগেন্দ্র কি যেন নাম এটা নাকি মহারাজ,এখনও নাকি মহারাজ,এমন ই দাবী করছে ফালতু লোকটা।গণতন্ত্র নাকি মাত্র ১০০ বছর ও হয়নি তার আগে ওরা হাজার হাজার বছর ধরে নাকি রাজত্ব করেছে।লর্ড থাকতো আর ওরা থাকতো এমন ই দাবী করছে। ব্রিটিশের ভাষায় নেতাজীকে ব্রিটিশের যুদ্ধাপরাধী বলার সাহস দেখাচ্ছে।কেন তাকে হত্যা করা হয়নি প্রশ্ন করছে।এত সাহস দেখাচ্ছে কি করে? হঠাৎ এ কোথা থেকে আমদানি হলো?ওর রাজ পরিবার নাকি হাজার হাজার বছরের পুরাতন,ওর নাকি এখনও রাজসভা আছে। এতদিন কখনও শোনা যায়নি কেন সেসব?আসল রাজপরিবারের ই কোন রাজসভা নেই,ওর কি করে থাকে?এ কি সত্যিই কুচবিহার রাজ পরিবারের সদস্য?নাকি রাস্তাঘাটের কোন ফালতু লোক?যদি সত্যিই রাজ পরিবারের লোক হয় তাহলে কি রাজ পরিবারের বাকি সবাই ও এই মানসিকতাই পোষণ করে?যদি না করে তাহলে তারা কেন প্রতিবাদ করছে না?কেন একে পরিবার থেকে বেড় করার কথা ঘোষণা করছে না?
আসলে এ কুচবিহার রাজ পরিবারের কোন সদস্য ই না, কুচবিহার রাজ পরিবারের সাথে কোন সম্পর্ক নেই এর।এর সম্পর্কে খুঁজতে গিয়ে যা তথ্য পেলাম তা দিচ্ছি।
এই ব্যক্তি যে নিজেকে “অনন্ত মহারাজ” বলে দাবি করছে মাথায় একটা পাগড়ির উপর একটা ব্রোচ লাগিয়ে নিজেকে রাজা বলে প্রচার করে।সে ঐতিহাসিক কোচবিহার রাজপরিবারের বর্তমান মহারাজা না। তার আসল নাম নগেন্দ্র রায় (Nagendra Roy)।সে উত্তরবঙ্গের একজন প্রভাবশালী রাজবংশী নেতা ও রাজনীতিক, এবং ২০২৩ সালে বিজেপির সমর্থনে পশ্চিমবঙ্গ থেকে রাজ্যসভায় নির্বাচিত হয়। Indian Express +1সে কেন “মহারাজ” নামে পরিচিত?নগেন্দ্র রায় নিজেকে রাজবংশী সমাজের “মহারাজ” হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে এবং ১৯৯৪ সালে কোচবিহারের গোঁসাইবাড়িতে তাঁর কথিত “রাজ্যাভিষেক” হয়েছিল বলে সংবাদমাধ্যমে উল্লেখ আছে এটা সে প্রচার করেছে।তার পরিবার সম্পর্কে তার নিজের বক্তব্য অনুযায়ী, তারা মহারাজা নরকের বংশধর। তবে এই বংশপরিচয়টি তার নিজস্ব/পারিবারিক দাবি—এটিকে কোচবিহারের স্বীকৃত ঐতিহাসিক রাজপরিবারের সরকারি বংশতালিকার সঙ্গে এক করে দেখা ঠিক হবে না। TV9 Banglaতাহলে সে কি করে কোচবিহারের রাজপরিবারের লোক?কোচবিহারের রাজ পরিবার নিজেদের নরকের বংশধর বলে কোনদিন দাবী করেনি।
ঐতিহাসিক কোচবিহার রাজবংশের প্রতিষ্ঠিত ধারাটি বিশ্বসিংহ → নরনারায়ণ → পরবর্তী কোচ রাজারা → নৃপেন্দ্র নারায়ণ → জিতেন্দ্র নারায়ণ ইত্যাদি।
অন্যদিকে অনন্ত মহারাজ নিজেকে অন্য একটি প্রাচীন রাজবংশীয় ধারার উত্তরাধিকারী হিসেবে দাবি করে। সংবাদমাধ্যমে তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী সেই বংশের যোগ মহারাজা নরক বা নরকাসুরের সঙ্গে। কিন্তু এই দাবির ঐতিহাসিক প্রমাণ নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। TV9 Banglaতার রাজনৈতিক পরিচয়তিনি Greater Cooch Behar People's Association (GCPA)-এর সঙ্গে যুক্ত এবং দীর্ঘদিন ধরে বৃহত্তর কোচবিহারের পৃথক রাজনৈতিক মর্যাদা/রাজ্যের দাবির আন্দোলনের অন্যতম মুখ। ২০২৩ সালে সে রাজ্যসভার সাংসদ হয়। Ananda Bazar +1সুতরাং সহজ কথায়:অনন্ত মহারাজ = নগেন্দ্র রায়, রাজবংশী নেতা ও রাজনীতিক; সে কোচবিহারের ঐতিহাসিক রাজপরিবারের স্বীকৃত বর্তমান মহারাজা না। তার “মহারাজ” পরিচয় মূলত তাঁর নিজস্ব বংশদাবি ও রাজবংশী সমাজের রাজনৈতিক-সামাজিক পরিচয়ের সঙ্গে যুক্ত। India Today
১. অনন্ত মহারাজ কে?অনন্ত মহারাজের আসল নাম নগেন্দ্র রায়। তাঁর পিতার নাম দেবকান্ত গগেন্দ্র রায়। সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত তার নিজের বক্তব্য অনুযায়ী, সে মহারাজা নরকের বংশধর এবং তার পূর্বপুরুষদের সঙ্গে কামাখ্যার সম্পর্ক ছিল। ১৯৯৪ সালে কোচবিহারের গোঁসাইবাড়ির প্রাসাদে তাঁর কথিত “রাজ্যাভিষেক” হয়। TV9 Banglaতবে খুব গুরুত্বপূর্ণ কথা হলো—এই বংশপরিচয় তার নিজের/সমর্থকদের দাবি; এটি কোচবিহার জেলা প্রশাসনের প্রকাশিত ঐতিহাসিক কোচ-রাজাদের বংশতালিকায় প্রতিষ্ঠিত নয়।২. আসল কোচবিহার রাজপরিবারের বংশধারা কী?কোচবিহার জেলা প্রশাসনের সরকারি ইতিহাসে কোচ রাজাদের ধারাটি শুরু হয়েছে:বিশ্বসিংহ (১৫২২–১৫৫৪)↓নরনারায়ণ↓লক্ষ্মীনারায়ণ↓পরবর্তী কোচ রাজারা↓নৃপেন্দ্র নারায়ণ↓রাজ রাজেন্দ্র নারায়ণ↓জিতেন্দ্র নারায়ণ↓জগদ্দীপেন্দ্র নারায়ণ (১৯২১–১৯৪৯)এই সরকারি তালিকায় মোট ২১ জন কোচ শাসকের নাম দেওয়া হয়েছে। Cooch Behar District +1৩. তাহলে অনন্ত মহারাজের সঙ্গে এই রাজপরিবারের সম্পর্ক আছে কি?প্রকাশ্য নির্ভরযোগ্য ঐতিহাসিক নথি অনুযায়ী, অনন্ত মহারাজকে নৃপেন্দ্র নারায়ণ–জিতেন্দ্র নারায়ণ–জগদ্দীপেন্দ্র নারায়ণের সরাসরি বংশধর হিসেবে প্রমাণ করা যায় না।
৪. কিন্তু একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য আছে২০১৬ সালের Indian Express-এর প্রতিবেদনে অনন্ত রায়কে “historically linked to the royal family of Cooch Behar” বলা হয়েছিল। অর্থাৎ তাঁর পরিবারকে কোচবিহারের প্রাক্তন রাজপরিবারের সঙ্গে কোনো ঐতিহাসিক যোগ আছে বলে উল্লেখ করা হয়েছিল। কিন্তু সেই প্রতিবেদনে কোন ব্যক্তি থেকে কোন ব্যক্তির মাধ্যমে সরাসরি বংশসম্পর্ক, তার পূর্ণ প্রমাণিত genealogy দেওয়া হয়নি। হঠাৎ কেন Indian Express এমন দাবী করলো?Indian Expressতাই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত হলো:অনন্ত মহারাজের রাজবংশীয় পরিচয়ের দাবি আছে এবং তাঁর সঙ্গে কোচবিহারের রাজপরিবারের ঐতিহাসিক যোগের কথাও কিছু সূত্রে বলা হয়েছে; কিন্তু তাঁকে বর্তমান/প্রাক্তন কোচবিহার মহারাজাদের সরাসরি বংশধর বলে প্রমাণিত করার মতো পরিষ্কার সরকারি বংশতালিকা প্রকাশ্যে নেই।
এক কথায়: অনন্ত মহারাজকে কোচবিহারের ঐতিহাসিক রাজপরিবারের স্বীকৃত সরাসরি উত্তরাধিকারী বলা ইতিহাসসম্মত নয়। তার নিজের বংশদাবি আলাদা—সে নিজেকে নরক রাজবংশের বংশধর বলে দাবি করে। TV9 Bangla +1
পিতা: দেবকান্ত গগেন্দ্র রায়। TV9 Bangla-র প্রতিবেদনে এই তথ্য এবং তাঁর নিজের বক্তব্য দুটিই উল্লেখ আছে।
অনন্ত মহারাজের নিজের বক্তব্য অনুযায়ী তাদের পারিবারিক শিকড় কামাখ্যা/অসমের সঙ্গে যুক্ত। সে বলেছে, তাদের পূর্বপুরুষদের “প্যালেস” কামাখ্যা মন্দিরের সঙ্গে সম্পর্কিত ছিল এবং তারা মহারাজা নরকের বংশধর। TV9 Banglaতবে এটাকে প্রমাণিত ঐতিহাসিক বংশতথ্য বলা যাবে না। মহারাজা নরক বা নরকাসুরের বংশধর হওয়ার দাবি পৌরাণিক/রাজবংশীয় ঐতিহ্যের সঙ্গে যুক্ত; এর জন্য আধুনিক অর্থে প্রজন্ম-প্রজন্মের দলিলভিত্তিক genealogy প্রকাশ্যে নেই।
তবে “রাজবংশী” পরিচয় এবং “কোচবিহারের রাজপরিবারের বংশধর” হওয়া একই বিষয় নয়।এই লোকটা একজন বিচ্ছিন্নতাবাদী,দেশদ্রোহী।
অনন্ত মহারাজের দূরবর্তী পূর্বপুরুষদের সম্পর্কে,তাদের পেশা কী ছিল কিছু জানা যায় না।বরং অনন্ত মহারাজের নিজের জীবনের একটি তথ্য পাওয়া যায়: রাজনীতিতে পরিচিত হওয়ার আগে সে অসমের একটি শোধনাগারে কাজ করতো এবং তার বাড়ি ছিল সিতাই এলাকায়। একজন রাজার কি এমন আর এইটুকু পরিচিতি থাকে?TV9 Bangla
নরকাসুরের “পূর্ববর্তী বংশতালিকা” বলতে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আগে পরিষ্কার করা দরকার: এটি মূলত পুরাণ ও মহাকাব্যের বংশকথা, আধুনিক অর্থে প্রমাণিত ঐতিহাসিক genealogy নয়। বিভিন্ন গ্রন্থে কাহিনির কিছু পার্থক্যও আছে। Wikipedia +1পুরাণের বংশপরম্পরাপ্রচলিত বৈষ্ণব পুরাণীয় বর্ণনা অনুযায়ী:ব্রহ্মা↓মহর্ষি কশ্যপ↓অদিতি/দিতি-সংক্রান্ত দেব-অসুর বংশধারা↓বিষ্ণু↓বরাহ অবতার + ধরিত্রী/ভূদেবী↓নরকাসুর (ভৌম)↓ভগদত্ত↓বজ্রদত্ততবে এখানে একটি সংশোধন জরুরি: নরকাসুরের সরাসরি পিতা হিসেবে বরাহ-বিষ্ণু এবং মাতা হিসেবে ভূদেবী-র কথা পরবর্তী পুরাণগুলিতে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে। তাই “ব্রহ্মা → কশ্যপ → … → নরক” অংশটি নরকের পুরাণীয় দেব-বংশের বৃহত্তর ধারার ব্যাখ্যা, সরাসরি মানব রাজবংশের দলিল নয়। Wisdom Library +1আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বংশধারা—নরকের আগে কামরূপের রাজারাকালিকা পুরাণের কাহিনি অনুযায়ী নরকাসুরের আগে প্রাগ্জ্যোতিষ/কামরূপ অঞ্চলে একটি দানব রাজবংশ ছিল:মহীরঙ্গ দানব (Mahiranga Danava)↓হটকাসুর↓সম্বরাসুর↓রত্নাসুর↓ঘটকাসুর↓নরকাসুরএই কাহিনি অনুযায়ী নরকাসুর ঘটকাসুরকে পরাজিত করে নতুন ভৌম/নরক বংশ প্রতিষ্ঠা করেন। AssamInfo.com +1অর্থাৎ মহীরঙ্গ দানব → ... → ঘটকাসুর হল নরকের আগের কামরূপীয় রাজবংশের পুরাণকথা; আর ভূদেবী + বরাহ → নরক হল নরকের দেবীয় জন্মকাহিনি।কিন্তু ইতিহাসের দিক থেকে কী বলা যায়?এখানেই সবচেয়ে আকর্ষণীয় বিষয়।নরকাসুর, ভগদত্ত ও বজ্রদত্তের কাহিনি মহাভারত-রামায়ণের প্রাচীন স্তরেও পাওয়া যায়, কিন্তু পরবর্তী কালে কালিকা পুরাণ (প্রায় ১০ম–১২শ শতকের মধ্যে রচিত বলে সাধারণত ধরা হয়) নরক-কাহিনিকে কামরূপের সঙ্গে আরও দৃঢ়ভাবে যুক্ত করে। আধুনিক গবেষণায় নরকের এই বংশকে legendary/পুরাণীয় dynasty হিসেবে দেখা হয়। Wikipedia +1পরবর্তী কামরূপের বাস্তব ঐতিহাসিক রাজারা নিজেদের বংশপরিচয় নরক-ভগদত্তের সঙ্গে যুক্ত করার চেষ্টা করেছিলেন। একটি গবেষণায় দেখা যায়, বিভিন্ন সময়ের কামরূপীয় রাজাদের শিলালিপিতে নরক–ভগদত্ত–বজ্রদত্তের বংশধারা দাবি করা হয়েছে। অর্থাৎ নরকাসুরের বংশপরিচয় শুধু ধর্মীয় কাহিনি ছিল না—পরবর্তী রাজারা এটিকে রাজনৈতিক বৈধতার বংশকথা হিসেবেও ব্যবহার করেছিলেন। Scribdতাই খুব সংক্ষেপেপুরাণীয় নরক-বংশ:মহীরঙ্গ দানব → হটকাসুর → সম্বরাসুর → রত্নাসুর → ঘটকাসুর → নরকাসুর → ভগদত্ত → বজ্রদত্তআর নরকের দেবীয় জন্মপরিচয়:বরাহ-বিষ্ণু + ভূদেবী → নরকাসুর (ভৌম)এই দুটি কাহিনি একই ধরনের বংশতালিকা নয়—প্রথমটি প্রাগ্জ্যোতিষের পুরাণীয় রাজাদের ধারাবাহিকতা, দ্বিতীয়টি নরকাসুরের পৌরাণিক জন্মকাহিনি। Wikipedia +1 সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো: অনন্ত মহারাজ যদি নিজেকে “নরকাসুরের বংশধর” বলেন, তাহলে তাঁর দাবির পরের ধাপটি হওয়া উচিত—নরক → ভগদত্ত → পরবর্তী কোন কোন রাজা → কোন শিলালিপি/গ্রন্থে তাঁদের নাম → সেখান থেকে আধুনিক রাজবংশে কীভাবে সংযোগ দেখানো হয়। এই অংশেই আসল ঐতিহাসিক যাচাই করা সম্ভব।
একটি সংযোগের দাবি আছে, কিন্তু সেটি প্রমাণিত বংশতালিকাগত সংযোগ নয়—এটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কথা।অনন্ত মহারাজের নিজের দাবিঅনন্ত মহারাজ, অর্থাৎ নগেন্দ্র রায়, প্রকাশ্যে বলেছে:তার পরিবার মহারাজা নরকের বংশধর এবং কামাখ্যা মন্দির তাদের পূর্বপুরুষদের প্রাসাদ ছিল।তার পিতা হিসেবে দেবকান্ত গগেন্দ্র রায়ের নামও ওই প্রতিবেদনে উল্লেখ আছে। TV9 Banglaকিন্তু নরকাসুর → ভগদত্ত → পরবর্তী কোনো ঐতিহাসিক রাজা → অনন্ত মহারাজ—এইভাবে প্রজন্ম ধরে সংযোগ দেখানো কোনো নির্ভরযোগ্য প্রকাশিত বংশতালিকা বা শিলালিপি থেকে বর্তমানে প্রতিষ্ঠিত করা যায় না।আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ মতভেদএখানে সূত্রগুলির মধ্যেও পার্থক্য আছে।২০১৩ সালের Hindustan Times সরাসরি লিখেছিল যে অনন্ত রায় তৎকালীন কোচবিহার রাজপরিবারের সঙ্গে সম্পর্কিত নয়, বরং Greater Cooch Behar আন্দোলনের লোকেরা তাকে “রাজা” হিসেবে নির্বাচিত করেছিল। Hindustan Timesঅন্যদিকে ২০২১ সালের Indian Express তাকে কোচবিহার রাজপরিবারের descendant হিসেবে উল্লেখ করেছে। Indian Expressঅর্থাৎ সংবাদসূত্রেই তার বংশপরিচয় নিয়ে অভিন্ন বক্তব্য নেই।তাহলে নরকাসুরের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক কতটা সত্য?এখন পর্যন্ত তিনটি স্তর আলাদা করা সবচেয়ে সঠিক:দাবিপ্রমাণের অবস্থাঅনন্ত মহারাজের নাম নগেন্দ্র রায় প্রতিষ্ঠিতসে রাজবংশী সমাজের নেতা প্রতিষ্ঠিত Indian Expressসে নিজেকে নরকাসুরের বংশধর বলে তাঁর নিজের বক্তব্য হিসেবে প্রমাণিত TV9 Banglaতাঁর পূর্বপুরুষরা কামাখ্যার সঙ্গে যুক্ত ছিলো তাঁর নিজের দাবি হিসেবে প্রকাশিত TV9 Banglaনরকাসুর থেকে অনন্ত মহারাজ পর্যন্ত ধারাবাহিক বংশতালিকা নির্ভরযোগ্যভাবে প্রমাণিত নয়সে কোচবিহারের শেষ রাজপরিবারের সরাসরি উত্তরাধিকারী নিশ্চিতভাবে প্রমাণিত নয়তাই আমার ঐতিহাসিক মূল্যায়ন: অনন্ত মহারাজের নরকাসুর-বংশের দাবি একটি রাজবংশীয়/ঐতিহ্যগত দাবি, কিন্তু সেটিকে এখনই প্রমাণিত রক্তের বংশপরম্পরা বলা যাবে না।আর একটা বিষয় খুব আকর্ষণীয়—নরকাসুরের বংশের দাবি এবং কোচ রাজবংশের বংশকথা কীভাবে পরবর্তী সময়ে একে অপরের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে, সেটি অনুসন্ধান করলে অনন্ত মহারাজের দাবির ঐতিহাসিক ভিত্তি আরও পরিষ্কার হবে।
আমি যতদূর যাচাই করলাম, অনন্ত মহারাজ (নগেন্দ্র রায়) ও নরকাসুরের মধ্যে কোনো প্রমাণিত বংশগত যোগসূত্র পাওয়া যাচ্ছে না।তার নিজের বক্তব্য অনুযায়ী সে নরকাসুরের বংশধর বলে দাবি করে। কিন্তু:নরকাসুর থেকে অনন্ত মহারাজ পর্যন্ত প্রজন্মভিত্তিক কোনো নথিভুক্ত বংশতালিকা পাওয়া যায়নি।কোন পূর্বপুরুষের মাধ্যমে এই সংযোগ হয়েছে—তার নামসহ নির্ভরযোগ্য দলিলও পাওয়া যায়নি।তাই “নরকাসুর → ... → অনন্ত মহারাজ” এমন বংশধারা ইতিহাসসম্মতভাবে লিখে দেওয়ার মতো প্রমাণ নেই।এমনকি কোচবিহারের প্রাক্তন রাজপরিবারের সঙ্গেও তাঁর সম্পর্ক নিয়ে সূত্রগুলির মধ্যে মতভেদ আছে—Hindustan Times তাঁকে ঐ রাজপরিবারের সঙ্গে সম্পর্কহীন বলেছে, অন্যদিকে Indian Express তাকে রাজপরিবারের বংশধর হিসেবে উল্লেখ করেছে। hindustantimes.com +1অর্থাৎ নরকাসুরের সঙ্গে অনন্ত মহারাজের **প্রমাণিত যোগসূত্র নেই,বংশতালিকা নেই।রাজ পরিবারে বংশতলিকা থাকবেই।এছাড়া অনন্ত দাবী করছে সে নাকি হাজার হাজার বছরের রাজ পরিবারের রাজা এবং এখনও রাজা আর আসল রাজপরিবারের রাজত্বের সময়কাল ৫০০ বছর।বর্তমানে তাদের আর কোন রাজত্ব নেই,কোন রাজ নেই তাহলে অনন্তের কি করে রাজত্ব আর রাজসভা থাকে?এত ঘাঁটাঘাঁটি করেও রাজা হিসেবে তার কোথাও কোন বংশতালিকা খুঁজে পেলাম না তাই তাকে রাজা বলে কোন মতেই মেনে নেওয়ার কোন প্রশ্ন ই নেই।এ একজন বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতা,নিশ্চিত করে বলতে পারি বৃটিশদের এজেন্ট।যে ধরনের কথা বলছে তাতে বৃটিশদের প্রতি আনুগত্য ছাড়া আর কিছু দেখা যাচ্ছেনা।এর যদি সুযোগ হতো নেতাজীকে বৃটিশদের হাতে তুলে দিয়ে প্রচুর অর্থ এবং একটা রাজত্ব আদায় করে নিত সেইকাল হলে আর এখনও অবশ্যই প্রচুর অর্থ পাচ্ছে লাগাতার নেতাজীকে নিয়ে নোংরামি করার জন্য।এমন চালিয়ে গেলে এক সময় উত্তর বঙ্গ আর দক্ষিণ বঙ্গের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হবে।রাজবংশী আর বাঙালীর মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হবে। একতা শেষ হবে ফলে উত্তরবঙ্গ আর দক্ষিণ বঙ্গের মধ্যে বিভাজন হবে।দক্ষিণবঙ্গের থেকে উত্তরবঙ্গ কে বিচ্ছিন্ন করতে পারলেই উত্তরবঙ্গ আর পুরো নর্থ ইস্ট কে একসাথে খ্রিস্টান দেশ বানাবে অ্যামেরিকা আর বৃটেন।নগেনের নোংরামি দেখে সবার রাজবংশীদের উপর আক্রোশ হচ্ছে, আবোল তাবোল বলছে কেউ কেউ রাগে।নগেন এবং নগেনের প্রভুরা তো সেটাই চাইছে।সংঘর্ষ না হলে বিচ্ছিন্ন হবে কি করে? তাই আমি সবাইকে অনুরোধ করবো নগেনকে যা খুশী বলুন কিন্তু রাজবংশীদের কেউ আজেবাজে কোন কথা বলবেন না কারণ তারাও প্রতিবাদ করছে নগেনের বিরুদ্ধে। অযথা আসল রাজ পরিবারকে ও গালাগালি দেবেন না কেউ।আসল রাজপরিবারের লোকজন শিক্ষিত,নগেনের মত এমন অশিক্ষিত না।এর কথাবার্তা ভাল করে শুনুন,এ একটা অশিক্ষিত ফালতু লোক।সরকার একে অ্যারেস্ট করে চাপ দিক এ কেন এসব করছে, কারা করাচ্ছে সব প্রকাশ হবে।নেতাজী সবার আবেগ তাই এই দুর্বল যায়গাটায় আক্রমন করতে বলা হয়েছে ওকে।খ্রিস্টান দেশ করার স্বরযন্ত্র আমাদের নষ্ট করতেই হবে তাই হিন্দুরা সবাই একতা রাখুন এর ফাঁদে কেউ পা দেবেন না।এর সঙ্গ সবাই ত্যাগ করুন।উত্তরবঙ্গের মানুষদের বলছি আপনারা ওকে যা করার করুন কিন্তু একতা নষ্ট করবেন না।তাতে আপনারা শেষ হয়ে যাবেন মণিপুরের মত।ধর্ম যাবে,ভাষা যাবে, সংস্কৃতি যাবে,খাদ্যাভ্যাস যাবে,পোশাক যাবে,উৎসব যাবে।খ্রীষ্টের জয়গান করতে বাধ্য হবেন,ঘর থেকে ঠাকুর দেবতার মূর্তি ফেলে দিতে হবে,শাঁখা,সিঁদুর ত্যাগ করতে হবে,গরু খেতে হবে,মইতেইদের মত ধর্ষিতা হবেন,হত্যা হবেন,ঘর জ্বলবে,হাহাকার করেও বাঁচতে পারবেন না ওদের হাত থেকে।তাই সবাই মিলে অনন্ত কে বয়কট করুন,উচিৎ শিক্ষা দিন।ও দেশবিরোধী কাজ করছে আপনারা ওর কথায় সেটা করবেন না কেউ দয়াকরে।Ratna Sanyal