মারতে গিয়ে ল্যাং উল্টে গেল ঠ্যাং

ভারতে বিজেপি এমন অনেক রাজ্য জিতেছে যেগুলোকে অসম্ভব ধরা হত। উত্তর-পূর্ব, বাংলা, কর্ণাটক বা এমনকি কেরল—সব জায়গায় বিজেপির রাজনৈতিক প্রভাব বাড়ল। কেরলেও বিজেপি নিজের উপস্থিতি জোরদার করল। কিন্তু একটা রাজ্য ছিল যেখানে বিজেপি বারবার চেষ্টা করছিল, তবুও দারুণ লড়াই করেও পিছিয়ে ছিল। সেটা ছিল তামিলনাড়ু। তামিলনাড়ু শুধু বিজেপির জন্য একটা নির্বাচন ক্ষেত্র ছিল না, এটা ছিল একটা দুর্গ, যেটা দশক ধরে কেউ ভাঙতে পারেনি কিন্তু তারপর তামিলনাড়ু এমন একটা মুখ পেল, যিনি সরাসরি পুরো সিস্টেমকে চ্যালেঞ্জ করলেন প্রথম বার। কে. আন্না মলাই কে পেলো,প্রথম বার তামিলনাড়ু কে রক্ষণাত্মক মনে হচ্ছিল না। প্রথম বার বিজেপির কর্মীরা জোরালো সজীবতা দেখাচ্ছিল। প্রথম বার তামিলনাড়ুতে বিজেপি শুধু সোশ্যাল মিডিয়ার দল ছিল না, মাটির দলও ছিল। তামিলনাড়ুতে বিজেপি অনেক বছর ধরে ভোটের ভাগে ২-৩% এর মধ্যে আটকে ছিল। কিন্তু ২০২৪ লোকসভা নির্বাচনে বিজেপির ভোট ভাগ বেড়ে দাঁড়ালো ১১.২%। আন্না মলাইয়ের নেতৃত্বে বিজেপি তামিলনাড়ুতে বড় কিছু করতে যাচ্ছে মনে হচ্ছিল। বিজেপির সমর্থকরা ভাবতে শুরু করল যে সেই রাজ্য যেটা অসম্ভব মনে হতো, সেটা অবশেষে খুলছে দরজা। তামিলনাড়ুতে কোনো হিন্দু নেতা এত জনপ্রিয়তা কখনো পায়নি। কিন্তু নির্বাচনের কয়েক মাস আগে, বিজেপি জোট রাজনীতির জন্য আপোস করল। আন্না মালাইয়ের ক্ষমতা কেড়ে নিল। তাঁকে তামিলনাড়ু বিজেপির সভাপতি পদ থেকে সরিয়ে দিল। আসলে, প্রার্থী তালিকা থেকেও বাদ দিল। AIA-DMK জোটকে বাঁচাতে বিজেপি তার সবচেয়ে জনপ্রিয় মুখটিকে পাশ কাটিয়ে দিল। ফল কী হলো? বিজেপি আবার ভোটের মাত্র ২% এর আশেপাশেই আটকে গেল। অর্থাৎ, যেখানে ভোটের অংশগ্রহণ বৃদ্ধি পাওয়া উচিত ছিল, সেখানে ৯% ভোটের অংশ হারিয়ে গেল। আর সবচেয়ে মজার ব্যাপার, ডিএমকে’র বিরুদ্ধে একটা পরিবেশ তৈরি করছিলেন আন্না মালাই, সেটা জোসেফ বিজয় সুযোগ নিয়ে ব্যবহার করল। অর্থাৎ, আন্না মালাই একটা যুদ্ধক্ষেত্র তৈরি করলেন। আন্না মালাই একটা পরিবেশ তৈরি করলেন কিন্তু শেষ পর্যন্ত লাভ উঠল অন্য কারো। তো প্রশ্ন হচ্ছে, বিজেপি কি তামিলনাড়ুতে তার সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক সুযোগটাই নষ্ট করে দিল? বিজেপির সবচেয়ে বড় ভুল কি ছিল আন্না মালাইকে পাশ কাটানো? আর বিজেপি কি কখনো এই ভুল ঠিক করতে পারবে? তামিলনাডু কেবল একটা রাজ্য ছিল না বিজেপির জন্য। এটা ছিল একটা দুর্গ, যা বিজেপি কখনো জয় করতে পারেনি। আর সেটাই বেশ বড় ব্যাপার। কারণ তামিলনাডু দক্ষিণ ভারতের সবচেয়ে রাজনৈতিক আর অর্থনৈতিক প্রভাবশালী রাজ্য। এটা ভারতের দ্বিতীয় সবচেয়ে বড় অর্থনীতির রাজ্য, যেখানে ৪৯টা লোকসভা আসন আছে। আর এজন্য তামিলনাডু জেতা সবসময়ই বিজেপির জন্য একটা কৌশলগত লক্ষ্য ছিল। কিন্তু সমস্যা ছিল যে বিজেপি শুধু এখানকার নির্বাচন লড়ছিল না, ওদের আরও অনেক কিছু করতে হচ্ছিল। দশক পেরিয়ে চলে আসা আদর্শগত পরিবেশের বিরুদ্ধে লড়াই করা। ১৯৬৭ সালের পর থেকে, তামিলনাড়ুর রাজনীতি পুরোপুরি ড্রাভিডিয়ান দলগুলোর নিয়ন্ত্রণে চলে আসে। প্রথমে DMK উঠে আসে। তারপর AI ও ADMK। আর এই দুটো দলের ওঠার সাথে সাথে কংগ্রেস ধীরে ধীরে তামিলনাড়ু থেকে সরে আসে।সেই সময় থেকে তামিলনাড়ুর রাজনীতি বেশিরভাগ সময় ড্রাভিডিয়ান পরিচয়, তামিল গর্ব আর হিন্দী-বিরোধী রাজনীতির চারপাশে ঘুরে বেড়ায়। DMK এই ভাবধারাটাকে সবচেয়ে জোরালোভাবে এগিয়ে নিয়ে গেছে। তারা শুধু হিন্দী বিরোধকে ভাষার সমস্যা হিসেবে দেখায়নি, সেটা পরিচয়ের সমস্যাও বানিয়েছে। এই প্রসঙ্গে, দক্ষিণ ভারত, বিশেষ করে তামিলনাড়ু, সবসময় ভারতের বিরোধীদের বিরুদ্ধে থেকেছে। ১৯৩৭ সাল থেকে আজ পর্যন্ত বিভিন্ন ধরনের বিক্ষোভ হয়েছে। আর এইভাবেই, ইভি রামাস্বামীর শুরু করা রাজনীতি ধীরে ধীরে তামিলনাড়ুর মধ্যে ব্যাপকভাবে প্রবেশ করেছে। আর এই সময়ে, ডিএমকের নেতাদের বক্তব্য নিয়মিতই বিতর্কের কেন্দ্রে ছিল। সেটা হোক সনাতন ধর্মকে রোগ হিসেবে আখ্যায়িত করা মন্তব্য, অথবা হিন্দু ঐতিহ্যকে পশ্চাদপদ দেখানোর ভাষা, কিংবা মন্দির রাজনীতিতে নির্বাচিত অবস্থান নেওয়া। এসবই প্রমাণ করছিল যে দ্রাবিড় দল খোলাখুলি হিন্দু বিরোধী রাজনীতি করছে।এসব দল একদম মাথা ঘামাচ্ছিল না কারণ ওরা কোনো ফল পাচ্ছিল না কারণ যারা চরম দ্রাবিড় রাজনীতি করছিল,ওদের ক্ষমতায় আসার সম্ভাবনা তেমন ছিল না। কিন্তু অন্যদিকে, বিজেপি এই কথাবার্তাকে জোরালোভাবে মোকাবিলা করতে পারছিল না কারণ তামিলনাড়ুর রাজনীতি বেশিরভাগই তামিলনাড়ুকে ঘিরে আবর্তিত হয় আর ওদের কাছে কোনো শক্তিশালী স্থানীয় মুখও ছিল না তামিলনাড়ুতে। তামিলনাড়ুর সবাই ড্রাভিডিয়ান মতবাদে অনুপ্রাণিত নয়। আজও তামিলনাড়ুতে একটা বড় অংশ আছে যারা ড্রাভিডিয়ানের বিরুদ্ধে কিন্তু তারা কখনো প্রকাশ্যে আসতে পারে না আর এটাই ছিল বিজেপির সবচেয়ে বড় দুর্বলতা। বিজেপি দেশের স্তরে শক্তিশালী হলেও তামিলনাড়ুতে তাদের স্থানীয় নেতৃত্ব খুবই দুর্বল ছিল। পার্টিটা বেশিরভাগ সময় জোট রাজনীতির ওপর নির্ভরশীল ছিল। কখনো এআইএডিএমকে’র সঙ্গে, কখনো সীমিত সংখ্যক আসনে লড়াই করত। কিন্তু তাদের নিজের শক্তি খুবই কম ছিল। ২০১১ সালের তামিলনাড়ু বিধানসভা নির্বাচনের দিকে দেখলে, BJP’র ভোটের অংশ ছিল মাত্র ২.২২%। ২০১৬ সালে সেটা বেড়ে হয় ২.৮৪%। আর ২০২১ সালে BJP জোটে লড়েছিল, ভোটের অংশ প্রায় ২.৬% ছিল। অর্থাৎ, BJP একটা দশক ধরে প্রায় একই অবস্থানেই ছিল। আর এর সবচেয়ে বড় কারণ ছিল মাটির স্তরের কোনো সংগঠনের অভাব। DMK এর ছিল দশকের পুরনো বুথ নেটওয়ার্ক, জেলা স্তরের প্রভাব, ছাত্র সংগঠন, মিডিয়া ইকোসিস্টেম, আর সিনেমা ইন্ডাস্ট্রির সমর্থন। AIADMK আর DMK’র ছিল সেবামূলক রাজনীতি(একদম খ্রিষ্টান স্টাইল) আর শক্তিশালী ক্যাডার বেস। কিন্তু তামিলনাড়ুতে বিজেপির কাছে এসব কিছুই ছিল না। পার্টি শহুরে এলাকায় সোশ্যাল মিডিয়ায় সাপোর্ট তৈরি করছিল কিন্তু গ্রামীণ তামিলনাড়ুতে প্রবেশ খুবই সীমিত ছিল।সিনেমার প্রভাব তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে একটা বড় ফ্যাক্টর। এখানে রাজনীতিবিদরা শুধু রাজনীতিবিদ নন ওরা মাস পার্সোনালিটি। এমজিআর নিজেই একজন অভিনেতা ছিলেন। জয় ললিতা ছিলেন সিনেমার সুপারস্টার। করুণানিধি সিনেমার লেখালেখির পটভূমি থেকে এসেছিলেন আর বিজয় ও সিনেমা থেকে রাজনীতিতে এসেছেন। মানে, তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে পার্সোনালিটি পলিটিক্সের দারুণ প্রভাব আছে আর বিজেপির কাছে এমন কোনো বড় তামিল মুখ ছিল না যিনি অন্তত নিজেদের নাম দিয়ে একটা হাইপ ক্রিয়েট করতে পারতেন বা সরাসরি ডিএমকের ন্যারেটিভ চ্যালেঞ্জ করতে পারতেন আর এজন্য মোদী ওয়েভ তামিলনাড়ুতে উত্তর বা পশ্চিম ভারতের মতো প্রভাব ফেলতে পারেনি। ২০১৪ সালে, পুরো দেশে বিজেপি জোরদার ভাবে উঠছিল। কিন্তু তামিলনাড়ুতে এআইএডিএমকে আর ডিএমকে ৩৭টি লোকসভা আসন জিতেছিল আর বিজেপি অ্যালায়েন্সের প্রভাব সীমিতই ছিল। ২০১৯ সালে বিজেপি ৩০৩টি আসন জিতেছিল দেশব্যাপী লেভেলে গিয়েছিলো আবার ফিরে এসেছে কিন্তু তামিলনাড়ুতে DMK জোট ৪৯টিতে ৩৮টা সিট জিতে নিয়েছে আর এসব দেখে স্পষ্ট হয়ে গেছে যে তামিলনাড়ুর জাতীয় জনপ্রিয়তা আর বাস্তবতা দুইটা আলাদা ব্যাপার। ধীরে ধীরে, এমনকি BJP সমর্থকদের মধ্যেও একটা ধারণা তৈরী হতে শুরু করেছে যে তামিলনাড়ু রাজনীতিতে BJP’র কাছে অজেয়, অগ্রহণযোগ্য জায়গা। একদম এমন একটা দুর্গ যা কখনো ভাঙা যাবে না। দল থাকবে সেখানে, কিন্তু মূল শক্তি কখনো গড়ে উঠতে পারবে না। এই সময়ে BJP পেয়েছে প্রথমবারের মতো এমন একজন মানুষ যিনি জোরালোভাবে DMK-র কথাবার্তা চ্যালেঞ্জ করতে শুরু করলেন। সেই মানুষটা স্পষ্টভাবে নিজের হিন্দু পরিচয় তুলে ধরলেন। আর তামিলনাড়ুতে বিজেপিকে রক্ষণশীল রাজনীতি থেকে বের করে আনতে চেষ্টা করলেন। সেই মানুষের নাম ছিল কে. আন্নামালাই। আন্নামালাইয়ের বিজেপিতে প্রবেশ শুধু নতুন কোনো রাজনীতিবিদের আগমন ছিল না। বিজেপি প্রথমবার বুঝতে পারল যে তামিলনাড়ুতে এমন একজন লোক পেল যারা সরাসরি DMK-র কথাবার্তা চ্যালেঞ্জ করতে পারে। কারণ আন্নামালাই সাধারণ কোনো রাজনীতিবিদ ছিলেন না। আন্নামালাই আগে একজন প্রশাসনিক কর্মকর্তা ছিলেন। তিনি কর্ণাটকের আইপিএস অফিসার ছিলেন। উডুপী আর চিকমঙ্গলুরের মতো জেলায় এসপি ছিলেন। তার শক্তিশালী পুলিশ ইমেজের কারণে ওকে উডুপীর সিংহ বলা হতো। তার ভিডিও ক্লিপগুলো সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হতে শুরু করলো। অপরাধের বিরুদ্ধে তার কাজকর্ম, সরাসরি কথা বলা আর তার আগ্রাসী শরীরী ভাষা—সব মিলিয়ে ওর ইমেজ একটা কঠোর অফিসারের মতো গড়ে উঠেছিল। ২০২০ সালে আইপিএস থেকে পদত্যাগ করার পর তার তামিলনাড়ু রাজনীতিতে আগ্রহ বেড়ে গিয়েছিল। কারণ সাধারণত মানুষ রাজনীতি ছেড়ে বুরোক্রেসি তে চলে যায় কিন্তু আন্নামালাই বুরোক্রেসি ছেড়ে রাজনীতিতে এসেছিলেন। বিজেপি প্রথমবার ভাবলো, তারা তামিলনাড়ুতে এমন একজন পেল যিনি শিক্ষিত মধ্যবিত্ত, তরুণ সমাজ আর রাজনীতিতে হতাশ হিন্দু ভোটারদের আকর্ষণ করতে পারবেন। এ কারণেই বিজেপি আন্নামালাইকে এগিয়ে নিয়ে গেলো। আন্নামালাই ২০২০ সালের আগস্টে বিজেপিতে যোগ দিলেন। আর এক বছরের মধ্যেই, ২০২১ সালের জুলাইতে, তাকে তামিলনাড়ুর বিজেপির সভাপতি করা হলো। এটা স্পষ্ট করে দেখালো যে বিজেপি তাকে তামিলনাড়ুর দীর্ঘমেয়াদি মুখ বানাতে চাচ্ছে। আন্নামালাইয়ের স্টাইল অন্য তামিলদের থেকে অনেক আলাদা ছিলো। আগেও বিজেপি তামিলনাড়ুতে বেশিরভাগ সময় ডিফেন্সিভ রাজনীতি করত। ডিএমকে কিছু বলত, বিজেপি সেটাjustify করত। এআইএডিএমকে তাদের ওপর একটু নরম রাজনীতি করত যাতে জোট না ভাঙে। কিন্তু আন্নামালাই আসতেই পুরো পরিস্থিতি বদলে গেল। তারা সরাসরি ডিএমকে কে টার্গেট করতে শুরু করল। স্ট্যালিন পরিবারকে রাজনীতির ক্ষেত্রে আড়াল করতে শুরু করল। উদয় নিধি স্ট্যালিনকে রাজনৈতিক সুবিধাবাদীর প্রতীক হিসেবে ডাকা শুরু করল। টাসম্যাক স্ক্যাম, বালি খনন, বিদ্যুৎ সমস্যা, দুর্নীতি, আইন এসব নিয়ে সরাসরি আক্রমণ চালালো। তারা এমন বিষয়গুলোকে ধারাবাহিকভাবে আক্রমণ করতে শুরু করল। সবচেয়ে বড় পরিবর্তন হল, আন্নামালাই সরাসরি তামিলনাড়ুতে হিন্দু পরিচয়কে সামনে নিয়ে রাজনীতি করতে শুরু করলেন। বহু বছর ধরেই বিজেপি তামিলনাড়ুতে হিন্দু বিষয় নিয়ে খুব সাবধানে কথা বলত। কারণ ডিএমকে বিজেপিকে উত্তর ভারতীয় সাম্প্রদায়িক দল বলে আক্রমণ করত। কিন্তু আন্নামালাই এই প্রতিরক্ষামূলক রাজনীতি ছেড়ে আক্রমণাত্মক মনোভাব নিয়ে এলেন। মন্দির প্রশাসন, সনাতনী মন্তব্য, হিন্দু উৎসব, ধর্মান্তর ইস্যু আর হিন্দু বিরোধী ভাবনা নিয়ে তিনি জোরালোভাবে কথা বলতে শুরু করলেন। উদয় নিধি স্ট্যালিনের ‘সনাতন ডেঙ্গু ম্যালেরিয়া’ বক্তব্যের পর, আন্নামলাই এটা নিয়ে ভারতে বড় ইস্যু বানিয়ে দিলেন। বিজেপির সমর্থকরা প্রথমবার ভাবল, তামিলনাড়ুতে এক জন নেতা আছেন যিনি ডিএমকের সিস্টেমের সামনে মাথা নীচু করছেন না। উনি তো চ্যালেঞ্জই দিচ্ছেন। এখান থেকেই আন্নামলাইয়ের জনপ্রিয়তা পুরো দেশে বিস্ফোরিত হতে শুরু করল। আন্নামলাই যিনি পার্টি তে খুব ভালোভাবে নেতৃত্ব দিয়েছেন। তাদের র‍্যালিগুলোতে অসংখ্য মানুষ জমায়েত হতো। যেখানে যেতেন, সেখানে লক্ষ লক্ষ মানুষের ভিড় থাকতো। তামিলনাড়ুর বিজেপি, যা আগে ছিল সোশ্যাল মিডিয়ার পার্টি,তা এখন মাটিতে স্পষ্ট দেখা যাচ্ছিল। বিজেপির কর্মীদের প্রথমবারের মতো উচ্ছ্বাস দেখা যাচ্ছিল। আগে তামিলনাড়ুতে বিজেপির ইভেন্টগুলোতে খুব কম জোর ছিল। কিন্তু আন্নামালাই আসার পরে পুরো পরিস্থিতি বদলে গিয়েছিল। যুব সমাজ তাদের সাথে বেশি যুক্ত হতে শুরু করেছিল। তাদের বক্তৃতার রীলগুলো ভাইরাল হতে শুরু করল। রাইট-উইং পেজগুলো তাকে তামিলনাড়ুর যোগী বলতে লাগল। প্রধানমন্ত্রী মোদীও খোলাখুলিভাবে আন্নামালাইকে প্রশংসা করতে শুরু করলেন। ২০২৪ সালের প্রচারণার সময় মোদী বলেছিলেন আন্নামালাই এর ইচ্ছা পরিষ্কার। সে তামিলনাড়ুতে বিজেপিকে নতুন দিশা দিচ্ছে। বিজেপির এই আদেশে একটা বড় সংকেত ছিল। কারণ বিজেপিতে পারফরম্যান্স ছাড়া কোনো নেতা এত দ্রুত জাতীয় মনোযোগ পায় না। ধীরে ধীরে পরিস্থিতি এমন হয়ে গেল যে তামিলনাড়ু বিজেপি মানেই আন্নামালাই। দলের পুরো পরিচিতি ও দৃশ্যমানতা তার আশেপাশেই ঘুরতে লাগলো। কিন্তু শুধু বক্তৃতাই জনপ্রিয় হয়নি। আন্নামালাই মাঠের রাজনীতিতেও ঢুকে পড়লেন জোরালোভাবে। এটা বিজেপির জন্য একটা বড় মোড় হয়ে গেল। হাজার হাজার কিলোমিটার ভ্রমণ করে তারা পৌঁছালো। জেলা পর্যায়ে তারা গ্রামে গিয়েছিল। স্থানীয় দুর্নীতি, জলের সংকট, মাদক, বেকারত্ব, শাসনের সমস্যা—এসব তুলে ধরেছিলেন তারা। এতে বিজেপির কর্মীদের মনে হলো যে জোট রাজনীতিতে প্রথমবারের মতো দলটা স্বাধীনভাবে সারা দেশে ছড়াতে সত্যিই মনস্থির করেছে। আর এই প্রভাব নির্বাচনের ফলাফলেই দেখা গেল। ২০২৪ লোকসভা নির্বাচনে বিজেপি তামিলনাড়ুতে কোনো আসন জিততে পারেনি। কিন্তু তাদের ভোটের হার পৌঁছেছিল ১১.২%। তামিলনাড়ুতে এটি বিজেপির সবথেকে ভালো লোকসভা পারফরম্যান্স ছিল। পুরনো সংখ্যার সাথে তুলনা করলে বোঝা যায়। ২০১৯ সালে বিজেপির প্রভাব খুবই সীমিত ছিল। কিন্তু ২০২৪ পর্যন্ত বিজেপি প্রথমবারের মতো দ্বি-অঙ্কের ভোট ভাগ পেয়েছিল। এতে বিজেপির সমর্থকরা মনে করতে শুরু করেছিল, যদি অন্নামলাইকে ৫-১০ বছর সময় দেওয়া হয়, তাহলে বিজেপি নিজে থেকেই তামিলনাড়ুতে দাঁড়াতে পারবে। কিন্তু এখানেই বড় দ্বন্দ্ব শুরু হয়। কারণ আন্নামলাই শুধু DMK-কে আক্রমণ করছিলেন না, অন্না DMK-কে চ্যালেঞ্জ করছিলেন। আগে বিজেপি অন্না DMK-কে মেনে চলত, কিন্তু আন্নামলাই চেয়েছিলেন বিজেপিকে একটা স্বাধীন শক্তি হিসেবে গড়ে তুলতে। আন্নামলাই জয়ললিতার যুগের দুর্নীতির কথাও উঠিয়ে ধরতে শুরু করেছিলেন। তিনি ড্রাবিডিয়ান মডেলকে দোষারোপ করা শুরু করলেন। এটা অন্না-ডিএমকের নেতৃত্বকে খুব অস্বস্তিতে ফেলল। কারণ প্রথমবারের মতো বিজেপি ছোট সঙ্গীর মতো আচরণ করছিল না। এখান থেকেই তারা নিজেদের একটা পরিচয় তৈরি করছিল। আর এখান থেকেই তামিলনাড়ুতে বিজেপির মধ্যে দুইটা চিন্তা জন্মালো। একদিকে তারা বিশ্বাস করত দীর্ঘমেয়াদী উন্নতির জন্য বিজেপিকে স্বাধীন হতে হবে। আর অন্যদিকে তারা ভাবত তামিলনাড়ুতে জয় লাভ করা অসম্ভব জোট ছাড়া। আর এই দ্বন্দ্ব থেকেই বিজেপির সবচেয়ে বিবাদিত রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত। ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের পর, তামিলনাড়ু বিজেপির অবস্থা একদম অদ্ভুত ছিল। ফলাফল বিজেপির পক্ষে ছিল না কারণ তারা একটাও আসন জিততে পারেনি। কিন্তু অন্যদিকে, প্রথমবারের মতো মনে হচ্ছিল যে তামিলনাড়ুতে বিজেপি শুধু একটা জোটদল নয়। কারণ বিজেপির ভোটের হার পৌঁছেছিল ১১.২%। বিজেপির কর্মীরা মাঠে বেশ উচ্ছ্বসিত ছিল।আন্নামালাইয়ের র‍্যালিতে প্রচুর ভিড় জমেছিল। তামিলনাড়ুর চলমান আলোচনার একটা বড় অংশ হয়ে উঠেছিল বিজেপি। DMK নেতাদের প্রায় প্রতিদিন আন্নামালাইয়ের বক্তব্যের জবাব দিতে হতো। মানে, ভোট হেরে গেলেও বিজেপি দুর্বল লাগছিল না। আর এর সবচেয়ে বড় কারণ ছিল আন্নামালাই। কিন্তু তামিলনাড়ুর রাজনীতি শুধু ভাষণ আর জনসমাবেশ দিয়ে চলে না। এখানে জাতি, জেলাভিত্তিক নেটওয়ার্ক, বুথ স্ট্রাকচার আর জোটের একটা বড় ভূমিকা থাকে। বিজেপির ভোট অংশ বাড়ছিল, কিন্তু তাদের মাঠের কাঠামো DMK আর AIA-DMK এর মতো শক্ত ছিল না। বিজেপি শহুরে ভোটারদের মধ্যে দ্রুত বাড়ছিল এবং যুব সমাজের মধ্যে। পার্টি তখনো গ্রামেগঞ্জে এতটা ঢুকতে পারেনি। আর এই সময়ে, বিজেপির সম্পর্ক আইএএ-ডিএমকের সঙ্গে ক্রমেই খারাপ হচ্ছিল আর এর সবচেয়ে বড় কারণ ছিল আন্নামালাই কারণ তিনি শুধু ডিএমকেকে আক্রমণ করছিলেন না। তিনি পুরো দ্রাবিড়বাদী মতবাদকেই সরাসরি চ্যালেঞ্জ করতে শুরু করেছিলেন। যেগুলো বিজেপি আগে খুব ধীরে ধীরে বলত,আন্নামালাই সেগুলো খুব স্পষ্টভাবে বলছিলেন। তিনি খোলাখুলি হিন্দু পরিচয়কে উস্কে দিচ্ছিলেন। আন্নামালাই এর মন্তব্য ক্রমাগত আসে এমন বিষয় নিয়ে— মন্দিরের রাজনীতি,সনাতন নিয়ে মন্তব্য, রাজবংশের রাজনীতি, দুর্নীতি, ধর্মান্তরিতের সমস্যা আর ধীরে ধীরে তামিলনাড়ুতে হিন্দুত্বের একটা দৃশ্যমান ঢেউ তৈরি হতে শুরু করেছিল আর এটা AIA-DMK-এর জন্য অস্বস্তিকর হয়ে উঠছিল। কারণ আন্নামলাই শুধু DMK-র বিরুদ্ধে একটা জায়গা তৈরি করছিলেন না,তিনি পুরো দ্রাবিড়িয়ান রাজনৈতিক মডেলের সূতাগুলো খুলে দিচ্ছিলেন। আর AIA-DMK-ও এই মডেলের একটা অংশ ছিল আর সত্যি বলতে, বিজেপির কর্মীরা সম্ভবত এটা সবচেয়ে বেশি পছন্দ করছিল। ওরা ভাবছিল অবশেষে পার্টি হিন্দুত্বের ইস্যুগুলো নিয়েই লড়ছে, শুধু দাঁড়িয়ে থাকার বদলে। কোনো অন্য দলের পেছনে লুকোছাপা করছিল না। কিন্তু অন্নামালাইয়ের এমন আগ্রাসী রাজনীতি AIA-DMK জোটের সম্পর্ক নষ্ট করছিল। ২০২৪ সালের নির্বাচনের পর, BJP’র নেতৃত্ব বুঝতে শুরু করলো, যদি AIA-DMK জোট ফিরে না আসে, তাহলে ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে BJP অনেক সমস্যায় পড়বে কারণ বাস্তবতা ছিল, AIA-DMK’র ভোটবেস এখনও অনেক বড় আর BJP একটা কাহিনী তৈরি করছিল কিন্তু সেটা সরকার গড়ার পর্যায়ে পৌঁছায়নি। এই সময়ে AIA-DMK কিছুটা পরোক্ষভাবে ই বলল,আন্নামলাই জীবিত থাকা পর্যন্ত আরামদায়ক জোট সম্ভব না। ইপিএস ক্যাম্প বারবার রেগে যাচ্ছিল আর দিল্লির বিজেপি নেতৃত্বের ওপর চাপ বাড়ছিল। তাই বিজেপির সামনে এখন দুই পথ ছিল। প্রথমটা ছিল দীর্ঘমেয়াদি পথ, যেখানে তাদের আন্নামলাইকে জোরদারভাবে তুলে দিতে হবে, নিজেদের কর্মীসংখ্যা বাড়াতে হবে এবং একাই বেড়ে উঠার চেষ্টা করতে হবে আর দ্বিতীয়টা ছিল নিরাপদ রাজনীতি, আইএআইএ-ডিএমকের সঙ্গে জোট করে আপস করা। বিজেপি নিরাপদ পথটাই বেছে নিল। এপ্রিল ২০২৫-এ,আন্নামালাই কে তামিলনাড়ু বিজেপির সভাপতি পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয় আর তার জায়গায় আনা হয় নাইনার নাগেন্দ্রনকে। নাইনার আগেই AIA-DMK-র সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং তাকে অ্যালায়েন্সের বন্ধু নেতারূপে ধরা হতো। বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব এটা বলছিলেন যে এটা একটা সাধারণ সাংগঠনিক পরিবর্তন কিন্তু মাঠে, প্রায় প্রতিটি বিজেপি কর্মী বুঝতে পারছিল যে এই সিদ্ধান্তটা AIA-DMK অ্যালায়েন্সকে খুশি করার জন্য নেওয়া হয়েছে। আর সম্ভবত এইটাই ছিল যা বিজেপির সমর্থকদের সবচেয়ে বেশি আঘাত দিয়েছে। কারণ কর্মীরা মনে করেছিল যে যিনি তামিলনাড়ুতে প্রথমবার বিজেপিকে লড়াই করতে শিখিয়েছিলেন, সেই মানুষটিকেই বাদ দেওয়া হলো। আন্নামালাই যার ভাষণ ভাইরাল হতো, যার রোডশোয় মানুষ ভিড় করতো, যা প্রথমবার ডিএমকের পরিবেশকে অস্বস্তিতে ফেলেছিল।এই মানুষটির হাত থেকে ক্ষমতা কেড়ে নেওয়া হলো। বিজেপি সমর্থকরা সোশ্যাল মিডিয়ায় স্পষ্টভাবে হতাশা প্রকাশ করছিলো। অনেক রাইট-উইং অ্যাকাউন্ট এটাকে তামিলনাড়ুতে বিজেপির সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক ভুল বলেছিল এবং পরবর্তীতে এটা সত্য প্রমাণিত হয়েছিল। বিজেপি তার দীর্ঘমেয়াদী দৃষ্টিভঙ্গি নষ্ট করেছে। স্বল্পমেয়াদী জোটের কারণে দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা পিছিয়ে গেল কিন্তু বিজেপি আন্নামালাইকে পুরোপুরি সরাতে চায়নি। কারণ দলীয় নেতৃত্বও ভাবত, তামিলনাড়ুতে বিজেপির পরিচিতির একটা বড় অংশ আসলে ওনার জন্য এজন্য আন্নামালাইকে প্রচারণায় রাখা হয়েছিল এবং তাকে স্টার ক্যাম্পেইনার করা হয়েছিল কিন্তু আসল সংগঠনগত নিয়ন্ত্রণ ওর হাত থেকে তুলে নেওয়া হয়েছিল।(বিজেপি আসলে কতটা স্বার্থপর আর ছোট মানসিকতার এখানেই তার প্রমাণ।আন্নামালাই কে ছুঁড়ে ফেলে দিয়ে চরম অপমান করলো কিন্তু স্বার্থের জন্য আবার ব্যবহার করার জন্য ডাকলো।লজ্জা বলে কিছু নেই। আন্নামালাই ভাল মানুষ বলেই গেলেন ওই যায়গায় আমি থাকলে কোন মতেই যেতাম না।)যখন ওকে ২০২৬ সালের নির্বাচনের প্রার্থীদের তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হলো, তখন সীমা ছাড়িয়ে গেল। অর্থাৎ টেকনিক্যালি আন্নামালাই শুধু বিজেপির পিআর-এর জন্য বাকি ছিল। দেখা যায় রাজনৈতিক সেই স্থানটা আন্নামালাই দীর্ঘ সময় ধরে তৈরী করেছিলেন।জোসেফ বিজয় ধীরে ধীরে ওই রাজনৈতিক জায়গাটা দখল করতে শুরু করেছিল। ২০২৬-এর তামিলনাড়ু নির্বাচনের সবচেয়ে চমকপ্রদ ব্যাপার ছিল শুধু ডিএমকের পরাজয় না। আসল চমক ছিল যে বিজেপি কয়েক বছর ধরে যে রাজনৈতিক জমি তৈরি করছিল, শেষমেশ বিজয় সেটার সবচেয়ে বড় সুবিধা নিয়েছিল কারণ সত্যি বলতে, বিজয় তো হঠাৎ করে আকাশ থেকে নামেনি। তামিলনাড়ুতে অনেক বছর ধরে ডিএমকের বিরুদ্ধে মনোভাব তৈরি হচ্ছিল। রাজবংশীয় রাজনীতির বিরক্তি অনেকের মধ্যে বাড়ছিল। অনেক বছর ধরে উধয় নিধি স্টালিনের দ্রুত পদোন্নতি মানুষজনের চোখে পড়ছিল। দুর্নীতির অভিযোগগুলো বারবার খবরের শিরোনামে আসছিল। টাসম্যাক সমস্যা, আইন-শৃঙ্খলা সমস্যা, মাদক সমস্যা, বেকারত্ব, ক্ষমতার রাজনীতি, পরিবারের নিয়ন্ত্রণ—এই সব নিয়ে জনমনে বিরক্তি অনেক বেড়ে গিয়েছিল। আর সবচেয়ে বড় কথা ছিল, দ্রাবিড় মতবাদ প্রথমবারের মতো স্পষ্টভাবে চ্যালেঞ্জ করা হচ্ছিল। যে কাজ কেউ দশক ধরে করতে পারেনি, সেটা করছিলেন আন্নামালাই।আন্নামালাই তামিলনাড়ুর রাজনীতি ছেড়ে দেননি। ডিসিএমকে বনাম আআইএ-ডিএমকে এর মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না। তিনি পুরো আলোচনা ঘুরিয়ে দিলেন। মন্দির রাজনীতি,সনাতন ধর্ম আর হিন্দু পরিচয়, রাজবংশের রাজনীতি, দুর্নীতি, অবৈধ ধর্মান্তর, তামিল গর্ব—আন্না মালাই এই সব বিষয় মুখ্য ধারায় নিয়ে এলেন। এর মানে বিজেপি প্রথমবার তামিলনাড়ুতে আইডিয়োলজিক্যাল লড়াই শুরু করেছিল কিন্তু সমস্যা ছিল যে বিজেপি এই গতি শেষ পর্যন্ত ধরে রাখতে পারেনি। কারণ যেদিন বিজেপি অন্না-ডিএমকে জোটের জন্য নরম রূপ নিতে শুরু করল, তার সিস্টেমবিরোধী ইমেজ দুর্বল হতে লাগল। ডিজিপি যা দ্রাবিড় মডেলকে চ্যালেঞ্জ করছিল, সেটাই একই ইকোসিস্টেমের সাথে জোটবদ্ধ দেখা গেল। এতে যুব ভোটারদের আর রাজনৈতিকভাবে হতাশ মানুষদের মাঝে বিভ্রান্তি তৈরি হলো আর একই সময়ে, বিজয় এলেন। বিজয় শুধু একজন অভিনেতা ছিলেন না। তার ফ্যান বেস তামিলনাড়ুতে আগেই অনেক বড় ছিল, বিশেষ করে যুব সমাজে। তার সিনেমাগুলো বহু বছর ধরে দুর্নীতি-বিরোধী, সিস্টেম-বিরোধী আর সাধারণ মানুষের নায়কের ছবি হয়ে গিয়েছে। যখন তিনি টিভিকেএ চালু করলেন, তখন নিজেকে প্রচলিত দ্রাবিড় দলগুলোর থেকে একটু আলাদা ভাবে উপস্থাপন করলেন। এইটা মানুষদের একে অপরের সাথে যুক্ত করতে শুরু করল। কিন্তু সবচেয়ে মজার ব্যাপার ছিল যে, যে রাজনৈতিক মাঠে বিজয় ঢুকছিলেন, সেই মাঠ তো আগেই তৈরি ছিল। আর কেউ সেই মাঠটা তৈরি করেনি, শুধু আন্নামালাই তৈরী করেছিলেন। তাই তামিলনাড়ুতে খোলাখুলি ডিএমকেকে বিরোধী আক্রমণাত্মক রাজনীতি একটা মেইনস্ট্রিম ব্যাপার ছিল না। বিজেপি ছিল সাধারণত সোশ্যাল মিডার মধ্যেই সীমাবদ্ধ। কিন্তু আন্নামালাই ধারাবাহিকভাবে ডিএমকেকে চ্যালেঞ্জ করছিলেন আর জনমত বদলে দিচ্ছিলেন।তিনি ডিএমকেকে বিরোধী ক্রোধকে রাজনৈতিকভাবে দৃশ্যমান করে তুললেন।তিনি হিন্দু পরিচয়কে খোলাখুলি রাজনৈতিক আলাপচারিতার অংশ করে তুললেন। তিনি একটা ধারণা তৈরি করেছিলেন যে তামিলনাড়ুতে দ্রাবিড়ীয় দলগুলোর বিরুদ্ধে চ্যালেঞ্জ করা সম্ভব, এটা অসম্ভব নয় কিন্তু যত তাড়াতাড়ি বিজেপি পিছিয়ে গেল, সেই জায়গাটা খালি হয়ে যেতে শুরু করলো আর রাজনীতিতে খালি জায়গা অনেকক্ষণ খালি থাকে না। সেই ফাঁকটাই ধরলেন বিজয়।তিনি নিজেকে নতুন এক বাইরের মানুষ হিসেবে উপস্থাপন করলেন। পরিবারের রাজনীতি থেকে আলাদা, ঐতিহ্যবাহী দ্রাবিড় শিবির থেকে আলাদা, বিজয় এলেন আর যুবকের মতো রাজনীতিবিদ হিসেবে ছড়িয়ে পড়লেন আর যেহেতু বিজেপি তখনই জোট রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েছিল, সেই কারণে বিরোধীদের বড় একটা অংশ,প্রথাগত দর্শকরা ধীরে ধীরে বিজয়ের দিকে ঝুঁকতে শুরু করল। এ কারণেই ২০২৬ সালের নির্বাচনে, টিভিক শুধু আসনই জিতছিল না, বরং একটা গতি পেয়েছিল। ডিএমকের বিরুদ্ধে তৈরি হওয়া আবেগময় শক্তির একটা বড় অংশ কেড়ে নিলেন বিজয় আর এটাই বিজেপির সবচেয়ে বড় বিদ্রূপে পরিণত হলো। সেই দল, যারা প্রথমবার তামিলনাড়ুতে মতাদর্শিক লড়াই শুরু করেছিল, সেই নেতা যিনি ড্রাবিডিয়ান রাজনীতিকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ দিয়েছিলেন, যিনি হিন্দু পরিচয়কে প্রতিরক্ষামূলক অবস্থান থেকে বেড় করে এনেছিলেন, শেষমেশ তার সুফল অন্য কেউ পেলো। আর এ কারণেই অনেক বিজেপি সমর্থকরা এখনও মনে করে তামিলনাড়ুতে বিজেপির সবচেয়ে বড় ভুল ছিল ডিএমকে-কে হালকাভাবে নেওয়া। তাদের সবচেয়ে বড় ভুল ছিল আন্নামালাইয়ের পাশে না দাঁড়ানো। কারণ যুদ্ধে জিতার আগেই বিজেপি তার সবচেয়ে আগ্রাসী যোদ্ধাকে সরিয়ে সরিয়ে দিয়েছিল। বিজেপির পুরাতন রোগ কারোর পপুলারিটি মেনে নিতে পারেনা,সহ্য করতে পারেনা।পুরোটা মোদীময় থাকতে হবে।মোদী ছাড়া আর কারোর নাম ই কোথাও থাকা চলবে না,কারোর নাম মানুষের বেশী পছন্দ হয়ে গেলেই ওদের সমস্যা তৈরী হয়।সাথে সাথে তাকে ধরে পেছনে টেনে ফেলে দেয়। তারপর আবার RSS এর লোক না হলে তো আরও সমস্যা, আন্নামালাই RSS এর না।যেটা বারংবার দেখেছি শুভেন্দু অধিকারীর ক্ষেত্রে,যোগী আদিত্যনাথের ক্ষেত্রে।বহু বার শুভেন্দু অধিকারীকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে,যোগীজীকে সরানোর চেষ্টা হয়েছে,এখনও রয়েছে।ওরা ভাবে মানুষ ওদের ছলচাতুরী বোঝেনা। ওদের মানসিকতা এমন যাতে নিজের নাক কেটে হলেও অন্যের যাত্রা ভঙ্গ করে আনন্দ লাভ করে।আন্নামালাই মোদীর মত ই জনতার প্রিয় হয়ে উঠেছিলেন তাও খুব কম সময়ে তাতে ওদের ভয় ধরে যায়।এমন মানসিকতা নিয়ে আন্নমালাইকে কেন চাকরী ছাড়ালো?নিজের কষ্টে,নিজের মেধায় IPS এর চাকরী করতেন,সেই ক্যারিয়ার শেষ করলো মাত্র দশ এগারো বছরে ভলান্টিয়ার রিটায়ারমেন্ট করালো।কাশ্মীরের জেহাদীরা তো জেহাদ করার জন্য চাকরী ছাড়লেও তাদের পায়ে ধরে আবার চাকরী ফেরত দেওয়া হয়, আন্নামালাইকে তো ওরা জোর করে চাকরী ছড়িয়েছে তাহলে আন্নামালাই এর চাকরী কেন ফেরত দেবেনা? আন্নামালাই খুব সৎ পুলিশ অফিসার ছিলেন।তিনি কর্ণাটক ক্যাডারের অফিসারর ছিলেন। কর্ণাটকে সবচেয়ে আলোচিত ছিল বেল্লারি অঞ্চলের খনি ব্যবসা, যেখানে স্থানীয় রাজনৈতিক গোষ্ঠী, খনি মালিক, ট্রেডার এবং বিভিন্ন রাজ্যের কোম্পানির সংযোগ নিয়ে বিতর্ক হয়। যেসব বড় গোষ্ঠীর নাম কখনও কখনও আলোচনায় এসেছে: Adani Group — বন্দর, কয়লা, লজিস্টিকস ও bulk cargo handling-এর মাধ্যমে iron ore export chain-এ পরোক্ষ ভূমিকা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। Essar Group — স্টিল ও বন্দর ব্যবসার কারণে iron ore supply network-এর সঙ্গে যুক্ত ছিল। JSW Steel — কর্ণাটকে বড় স্টিল প্ল্যান্ট রয়েছে, ফলে iron ore sourcing অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। Mysore Minerals Limited — এটি কর্ণাটক সরকারের সংস্থা। কর্ণাটকের iron ore গুরুত্বপূর্ণ কারণ বেল্লারি-হসপেট অঞ্চল ভারতের অন্যতম সমৃদ্ধ iron ore belt। এখানকার আকরিক— স্টিল শিল্পে ব্যবহৃত হয়, বন্দর দিয়ে রপ্তানি হয়, দক্ষিণ ভারতের শিল্পাঞ্চলে সরবরাহ হয়। ২০০০–২০১১ সময়ে অবৈধ খনি উত্তোলন, কম royalty, সীমান্ত পেরিয়ে পাচার ইত্যাদি নিয়ে বিশাল বিতর্ক হয়েছিল। সেই সময় B. S. Yediyurappa ও রেড্ডি ভ্রাতৃদ্বয়ের নাম রাজনৈতিকভাবে আলোচিত হয়। তবে সব ব্যবসায়িক সম্পর্ক আদালতে অপরাধ হিসেবে প্রমাণিত হয়নি। আন্নমালাই সরাসরি কর্ণাটকের বড় iron ore mining scam-এর প্রধান তদন্তকারী হিসেবে পরিচিত ছিলেন না তবুও উদাসীন ছিলেন কি? তিনি ২০১১–২০১৩ সময়ে কর্ণাটকের উদিপি ও চিকমাগালুরু জেলায় Superintendent of Police (SP) ছিলেন। সেই সময় তিনি বালি মাফিয়া,অবৈধ পরিবহন, স্থানীয় দুর্নীতি, কিছু অবৈধ খনি ও পরিবহন সংক্রান্ত কার্যকলাপের বিরুদ্ধে অভিযান চালান বলে সংবাদমাধ্যমে উল্লেখ আছে। বিশেষ করে চিকমাগালুরু জেলায় তিনি কঠোর প্রশাসনিক পদক্ষেপ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষার জন্য পরিচিত হন। তাঁর “সৎ ও কঠোর অফিসার” ইমেজ তখন তৈরি হয়। তবে বেল্লারি iron ore scam—যেখানে B. S. Yediyurappa, রেড্ডি ভ্রাতৃদ্বয় এবং বড় মাইনিং নেটওয়ার্ক নিয়ে জাতীয় স্তরে বিতর্ক হয়েছিল—সেই মামলার কেন্দ্রীয় তদন্তকারী হিসেবে আন্নামালাইয়ের নাম সাধারণত আসে না। সেই তদন্তে প্রধান ভূমিকা ছিল: কর্ণাটক লোকায়ুক্ত, বিচারপতি Santosh Hegde, CBI, Supreme Court পর্যবেক্ষণ ইত্যাদির। তবে IPS অফিসার হিসেবে তিনি কর্ণাটকের কিছু অঞ্চলে অবৈধ খনিজ ও মাফিয়া-সংক্রান্ত কার্যকলাপের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নিয়েছিলেন বলে তাঁর সমর্থকেরা প্রায়ই উল্লেখ করেন। আন্নামালাই কর্ণাটকে IPS অফিসার হিসেবে মূলত ২০১১ থেকে ২০১৯ সালের মধ্যে কাজ করেন। অবৈধ বালি/খনিজ পরিবহন ও স্থানীয় মাফিয়াদের বিরুদ্ধে যেসব কঠোর পদক্ষেপের জন্য তিনি পরিচিত হন, তার বেশিরভাগ ঘটে ২০১১–২০১৩ সালের মধ্যে উডিপি জেলায় SP থাকাকালীন। ২০১৩–২০১৪ : চিকমাগালুরু (Chikkamagaluru) জেলায় SP থাকাকালীন এই সময় তিনি রাতের চেকিং,অবৈধ ট্রাক আটক,বেআইনি পরিবহনের বিরুদ্ধে অভিযান,রাজনৈতিক প্রভাব উপেক্ষা করে পুলিশি ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংবাদমাধ্যমে আলোচিত হন। আন্নমালাইকে চাকরী ছেড়ে রাজনীতিতে যুক্ত হওয়ার জন্য উৎসাহিত করে বিজেপি। ২০১৯ সালে IPS থেকে পদত্যাগ করেন এবং আরও বলেন যে প্রশাসনিক চাকরির সীমাবদ্ধতার বাইরে গিয়ে সমাজ ও জনজীবনে বড় পরিসরে কাজ করতে চেয়েছিলেন। পরে তিনি management ও leadership সংক্রান্ত সামাজিক উদ্যোগেও যুক্ত হন। তিনি রাজনীতিতে প্রবেশ করেন ২০২০ সালে তিনি Bharatiya Janata Party (BJP)-তে যোগ দেন। তখন তামিলনাড়ু BJP-র কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব, বিশেষ করে Amit Shah-এর সঙ্গে তাঁর সাক্ষাৎ ও আলোচনা সংবাদমাধ্যমে উল্লেখিত হয়। BJP তাঁকে দ্রুত তামিলনাড়ু রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ মুখ হিসেবে তুলে ধরে। ২০২১ সালে তিনি তামিলনাড়ু BJP সভাপতি হন। অনেক বিশ্লেষক মনে করেন BJP-র কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব তাঁকে সক্রিয়ভাবে রাজনীতিতে নিয়ে আসে, কিন্তু “কে ব্যক্তিগতভাবে প্ররোচিত করেছিলেন” এই বিষয়ে নির্ভরযোগ্য প্রকাশ্য তথ্য জানা যায় না। এবার কিছু প্রশ্ন তো মনে জাগেই সেগুলো হলো — কেন একজন সৎ পুলিশ অফিসারকে চাকরীতে ইস্তফা দিতে অনুপ্রেরণা দেওয়া হলো?সৎ পুলিশ অফিসারের তো বিশাল অভাব।তারপর ও কেন একজন সৎ পুলিশ অফিসারকে চাকরী ছাড়তে অনুপ্রেরণা দেওয়া হলো?আন্নামালাই চাকরী করলে কারোর কি সমস্যা হচ্ছিল?সেইজন্য কি কেউ ওনাকে ওই চাকরী থেকে দূরে সরাতে চেয়েছিল?কে চেয়েছিল?কার বা কাদের স্বার্থ বিঘ্নিত হচ্ছিল আন্নামালাই IPS হিসেবে চাকরী করলে?সেই সরানোর কাজটা অতি চালাকির সাথে করা হয়েছে।একজন সৎ মানুষকে ভাল কাজ করার সুযোগ দেওয়া হবে বলা হলে সেই সৎ মানুষটি ওই সুযোগটা কাজে লাগিয়ে অনেক বেশী ভাল কাজ করতে চাইবে। আন্নামালাই এর ক্ষেত্রে এটাই হয়েছিল।এছাড়া মানুষটি সরল ও অবশ্যই কারণ ওনাকে এক সময় দেখা গেছে নিজেকে অপরাধী ভেবে নিজেকে নিজে চাবুক দিয়ে আঘাত করে প্রায়শ্চিত্ত করতে।রাজনীতির ময়দানে এসব সুক্ষ্ম অনুভূতি,সততা কোন কিছুর ই কোন মূল্য নেই।রাজনীতির ময়দানে টিকে থাকতে হলে আন্নামালাইকে বাস্তবমুখী হতে হবে,প্রবল লড়াই করে টিকে থাকার জন্য তৈরী করতে হবে,নিজের জমি কোন মতেই ছাড়া চলবে না,কারোর প্রতি অতি অনুগত হয়ে তার বা তাদের কথায় ত্যাগ স্বীকার করা চলবেনা,কারোর অনুরোধ সঠিক না হলেও “আচ্ছা মেনে নিই”এমন ভাবনা ত্যাগ করতে হবে। এই একই টোপ উত্তরপ্রদেশের অজয়পাল শর্মাকেও দেওয়া হয়েছিল কিন্তু তিনি সেই টোপ খাননি,অবশ্যই বুদ্ধিমান মানুষ।মাথার উপর যোগীজী বসে আছেন,তিনি ভুল সিদ্ধান্ত নিতে দেবেন না।অজয়পাল যদি ওই ফাঁদে পা দিতেন এতদিনে ওনার ও আন্না মালাই এর মত ডাস্টবিনে ই যায়গা হতো।কেউ যেন এমন ফাঁদে আর কোনদিন পা না দেয় সেটাই আশা করবো।ব্যবহার করে ছুঁড়ে ফেলে দিতে বিজেপির মত দক্ষ দল আর বোধহয় পাওয়া যাবেনা।আমার দৃঢ় ধারণা সৎ পুলিশ অফিসার কে তাড়ানোর জন্য আন্নামালাইকে রাজনীতিতে যুক্ত হওয়ার টোপ দেওয়া হয় আবার রাজনীতিতে যাতে গুরুত্বপূর্ণ মুখ হয়ে না থাকে তারজন্য রাজনীতি থেকে ছুঁড়ে ফেলে দেওয়া হয়।কোন সৎ মানুষ এদের ও পছন্দ না। বিজেপি বেশী বুদ্ধি করতে গেছিল, অন্নামালাই কে বাতিল করে নাইনার নাগেন্দ্রনকে আনলো কিন্তু কি লাভ হলো তাদের?কে চেনে এই নাগেন্দ্রকে?কি করতে পেরেছেন এই নাগেন্দ্র?যেটা হয়েছে সেটা খুব খারাপ হয়েছে,তামিলনাড়ু খ্রিষ্টানের হাতে চলে গেছে।এতদিন ও ছিল কিন্তু গোপনে কিন্তু এবার একদম খোলাখুলি ভাবে,হুমকি ধমকির সাথে,যীশুর ছবি হাতে নিয়ে।সাথে বলছে হিন্দুরা তার পছন্দের বাইরে কিছু করলে তাদের একেবারে শেষ করে ফেলা হবে।অপছন্দের কাজটা হলো মুসলমানদের কোন অন্যায়ে ও কিছু বলা যাবেনা।সেটা অবশ্যই খ্রিষ্টানদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে তাতে তো কোন সন্দেহ নেই।মানেটা দাঁড়ালো সংখ্যাগুরু হিন্দু,বিজেপির জন্য সংখ্যালঘু খ্রিষ্টানের হাতে বন্দী হয়ে গেল।এরপর যথেচ্ছ ভাবে ধর্মান্তরিত হবে অত্যাচারের চোটে,ক্রুসেডের শিকার হবে,এতবড় প্রাচীন ভারতীয় সংস্কৃতির ধারক ও বাহক একটা রাজ্য শুধুমাত্র নিজেদের ইগোর জন্য বিজেপি বিদেশের এজেন্ট খ্রিষ্টানদের হাতে তুলে দিল।এরপর নানা খ্রিষ্টান দেশ তামিলনাড়ুর সব ব্যাপারে নাক গলাবে,কর্তৃত্ব করবে।আসলে কি তামিলনাড়ু পরাধীন হয়ে গেল না?জোসেফ বিজয়ের হাত থেকে ক্ষমতা খুব তাড়াতাড়ি ফিরিয়ে নিতে না পারলে তামিলনাড়ু কি রক্ষা পাবে?তামিলনাড়ুর হিন্দুরা রক্ষা পাবে?আর তামিলনাড়ু কে উদ্ধার করতে হলে আন্নামালাই ছাড়া কে পারবেন? নাগেন্দ্র কে দিয়ে করে দেখুক না বিজেপি।আন্নামালাই তামিলনাড়ুর হিন্দুদের একজোট করে ফেলেছিলেন,সব হিন্দু ভোট বিজেপির ঝুলিতে পড়ত কিন্তু বিজেপির চাই তাদের হাতে পুতুল নাচের জন্য একটা পুতুল তাই আন্নামালাই কে ছুঁড়ে ফেলে দিয়েছে।এখন বিজেপির সামনে দুটো পথ,একটা তামিলনাড়ুকে খ্রিষ্টান রাজ্য হতে দেওয়া যা আগামী দিনে খ্রিষ্টান দেশ বলে দাবী উঠবে।বিশাল সংখ্যার হিন্দুর নিধন হবে।দ্বিতীয় পথ হলো ইগো আর পুতুল নাচানোর স্বভাব ছুঁড়ে ফেলে দিয়ে আবার আন্নামালাই কে পুরো স্বাধীনতা দিয়ে,কোন ব্যাপারে নাক না গলিয়ে প্রবল লড়াই করে তামিলনাড়ু উদ্ধার করতে দেওয়া।সেক্ষেত্রে আন্নামালাইকেই মুখ্যমন্ত্রী করতেই হবে।আন্নামালাই কে মুখ্যমন্ত্রীর মুখ হিসেবে জোরালো প্রচার না করলে তামিলনাড়ু জোসেফের হাত থেকে কেউ উদ্ধার করতে পারবেনা। একবার ডাইরেক্ট খ্রিষ্টানের হাতে তামিলনাড়ুর ক্ষমতা এসেছে খ্রিস্টান বিশ্ব যে কোন মূল্যে তা ধরে রাখবে কোন মতেই হাতছাড়া হতে দেবেনা।তামিলনাড়ুর মত প্রাচীন ঐতিহ্যশালী রাজ্য টা বিদেশিদের দ্বারা দখল হয়ে যাবে জোসেফের হাত থেকে উদ্ধার না করতে পারলে। আন্নামালাই নেতৃত্ব দিলে সব হিন্দুরা একজোট হয়ে অন্নামালাইকেই নেতা মানবে।এবার বিজেপি কি চায় বিজেপি ই জানে।পশ্চিমবঙ্গে শুভেন্দু মুখ্যমন্ত্রী করা হয়েছে জনগনের প্রচণ্ড চাপে।সেটা না করলে বিহার,উড়িষ্যার মত ওদের কোন পুতুলকে ই বসাতো আর তাকে ইনভ্যালিড বানিয়ে বসিয়ে রেখে যা খুশী তাই করতো।শুভেন্দু কে বসাতে বাধ্য হয়েও আবোল তাবোল বয়ান দিয়ে চলেছে।শুভেন্দু জানেন ওনাকে কোন মুসলমান ভোট দেয়নি সেখানে ওরা জোর করে বয়ান দিচ্ছে মুসলমানরা ভোট দিয়েছে।হিন্দুদের ভোটে পশ্চিমবঙ্গ জিতে এখন হিন্দুদের অপমান করছে মুসলমানরা ভোট দিয়েছে বলে।মুসলমানরা ই যদি ভোট দেবে তাহলে হিন্দুদের কেন একজোট করেছিল ভোটের জন্য?মুসলমানদের ভোতেই জিতে দেখাত তারপর ওদের নিয়ে রাজত্ব করতো।এখন আমরা পশ্চিমবঙ্গের হিন্দুরা কোন মতেই সেটা করতে দেবনা।হিন্দুদের জন্য কাজ করতেই হবে শুভেন্দুকে ওদের প্রভুত্ব নিজেদের কাছেই রাখুক।তামিলনাড়ুকে রক্ষা করতেই হবে,তাই আমি আন্নামালাই এর সমর্থনে আমার দাবী জানিয়ে যাব।বন্ধুরা আপনারা ও দাবী জানান, আন্নামালাইকে সবাই সর্মথন করতে শুরু করুন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *