নারীপাচার থেকে অঙ্গপাচার

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়টা কেমন মানুষ? অনেক গল্প আছে। আসলে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে পাগলখানায় রাখা উচিত। শ্রেয়া পাণ্ডে তার খুব কাছের বান্ধবী। ওই শ্রেয়া পাণ্ডে বিদেশে গিয়ে তার মেয়ের প্রথম জন্মদিন পালন করেছিল, কোটি কোটি টাকা খরচ করে।ফিরহাদ হাকিমের কি চক্রান্ত? পশ্চিমবঙ্গে ৯৩ হাজারেরও বেশি মেয়েদের মিসিং ডায়েরি আছে। ওই মেয়েদের বিক্রি করা হয়, আর সীমান্তের কাছে যারা বিধায়ক, তাদের নেতা ফিরহাদ হাকিম আর সিদ্দিক উল্লা চৌধুরী। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কিছুই বলেনি তাদের। সে তো সব কিছুই দেখছিলো, তাই না?ত্বহা সিদ্দিকি মেয়েদের টিএমসির টিকিট পেতে লোভ দেখাতো। যদি টাকার বন্দোবস্ত থাকে, তাহলে টাকা চান, আর গরীব হলে তার সঙ্গে অন্যায় করে। এনপিজে হোটেলে সে মেয়েদের ডাকে। পরে জানা গেল, ভাই রোজ নিজের নিজের বোন আর কন্যাদের দিয়ে এই কাজ করায়। সিনেমার গল্প থেকেও বেশি কাহিনী। সরকারি হাসপাতালে, সেন্ট্রাল অ্যাভিনিউয়ের কাছে যে মেডিক্যাল হাসপাতালের পিছনের আঙিনায়, সেখানে কমপক্ষে লাখ লাখ মৃতদেহের হাড় পড়ে ছিল। তাদের কিডনি, ফুসফুস, চোখ, ভোকাল কর্ড। সব কিছু। সব জিনিস খুলে বিক্রি করা হয়। হঠাৎ একদিন সকালে খবর আসে যে ওই প্রপার্টি খনন করার সময় মা আর দুই মেয়ের কাটা হাত পাওয়া গেছে।পশিমবঙ্গের ভেতর এত ঘটনা ঘটে যার সম্পর্কে বাইরে কেউ কিছু জানতেও পারেনা।এমন কিছু গল্প যা অকথিত ছিল বা ওখানের বাতাসে ভাসছিল। মানুষ কথা বলত, কিন্তু কোনো মিডিয়া চ্যানেল সেটা কভার করেনি।এখানে বলা হবে শুভেন্দু অধিকারীর সম্পর্কে। বলা হবে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সম্পর্কে। বলা হবে ফিরদ হাকিম সম্পর্কে। বলা হবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সম্পর্কে। যখন বাইরে থেকে মানুষ শুভেন্দু অধিকারীকে দেখে, তারা ভাবেন এই তো কে? নন্দীগ্রামে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে হারিয়েছেন, ভবানীপুরেও হারিয়েছেন। তার আগ্রেশন ও সব কিছু নিয়ে, শুভেন্দু অধিকারী আসলে কে? এখানে নাজিয়া ইলাহী খানের বক্তব্য আছে সবার সম্পর্কে।তার বয়ান অনুসারে —- শুভেন্দু অধিকারী দাদা খুবই ভালো শিক্ষিত আর বড় পরিবারের মানুষ। এটা মনে করো না, রাজনীতিতে আসার পরেই ওরা গাড়ি দেখেছে বা এয়ার কন্ডিশনার পেয়েছে বা দামী জিনিসপত্র দেখেছে, যেমন ফিরহাদ হাকিমদের মতো। ফিরহাদ বাজাজের ফটফটিয়া চালাতো। আমরা যখন তৃণমূল কংগ্রেসে এসেছিলাম, তখন ওরা সম্পদ দেখেছে। কিন্তু শুভেন্দু অধিকারী দাদা এমন একটা পরিবারে জন্ম নিয়েছে যেখানে পড়াশোনাও ভালো হয়েছে আর একটা ভালোভাবেই গড়ে ওঠা পরিবার ছিল। শিশির বাবু,অর্থাৎ শুভেন্দু অধিকারী দাদার বাবা, খুবই সভ্য মানুষ। খুবই সুন্দর মেজাজের মানুষ, কিন্তু নিজের কথায় অটল, মান সম্মানের জন্য সবসময় লড়াই করেন। যদি কিছু ভুল মনেহয়, আজও সরাসরি বলে দেন। যখন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে ছিল, তখনও কিছু ভুল দেখলে বলতেন আর শিশির বাবুর মতোই শুভেন্দু অধিকারীর স্বভাব—যে কোনো ভুল তাড়াতাড়ি ধরিয়ে দেনা, তাড়াতাড়িই সেটাকে ঠিক করার চেষ্টা করেন। শুভেন্দু দার এই স্বভাব তাঁর বাবার মতোই, যিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বানিয়েছেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তো এটা পর্যন্ত জানতেন না যে পলিটিক্সের ‘পি’ কীভাবে লেখা হয়। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এটা পর্যন্ত বুঝতেন না কিভাবে ভাষণ দিতে হয়। হ্যাঁ, মাটিতে গিয়ে কিভাবে গড়াগড়ি মারা যায়, রাস্তায় সাড়ি খুলে খুলে কিভাবে নাটক সাজানো যায়, আর গাড়ির ওপর চড়ে কেমন করে মুজরা টাইপ কিছু দেখাতে হয়—এই সব মমতা জানত কিন্তু একটা পরিপাটি রাজনীতি কেমন হয় সেটা শেখানো বা বোঝানো এই অধিকারী পরিবারই করে। যেই লোকজন মমতাকে সিঙুর, নন্দীগ্রাম এসব জায়গায় নিয়ে গিয়েছিল, তারা ঠিক এই অধিকারী পরিবারই। কি হয়েছিল তখন? মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে গাড়ি পর্যন্ত ছিল না। তখন শুভেন্দু অধিকারী দাদা ছিলেন যারা ওদের জন্য গাড়ি নিয়ে আসতেন, গাড়িতে ছিল বিসলেরি জল, তোয়ালে, চালক, গাড়িতে তেল ভরা, চালকের হাতে কিছু টাকা দিয়ে কিছু খাবার ও দিতেন, দুই-চারটা প্যাকেট ক্যামেরাম্যানদের দিতে দিতেন কারণ অধিকারী পরিবার ভাবত যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একটা আগুনের মেয়ে, ওর নামও হয়েছে, আমরা আর ওরা মিলেই বাংলার জন্য কিছু ভাল করব। কারণ লেফট ফ্রন্টের কারণে বাংলা পুরোটা ডুবছিল, বাংলা একদম শেষ হতে চলেছিল। আর সবাই জানে যে কমিউনিস্ট পার্টি আর বামপন্থীরা নক্সালদের অনেক বেশি তৈরী করে। নক্সালদের সাথে সাথে যেসব নক্সালের গ্যাং আছে তারা অস্ত্র আর বারুদের দিকে খুব সহজেই চলে যায়। তাই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পরিবারটা ভাবল,নক্সালদের শেষ করতে, অপরাধ দমন করতে, বাংলাকে বাঁচাতে এই মহিলা ঠিকঠাক। কিন্তু কেউ জানত না যে ক্ষমতা আর শাসনযন্ত্র মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাতে আসলেই সে নিজের মতো চলতে শুরু করবে। এসব বাংলা ভাষার এমন কিছু শব্দ যা অনেক সময় মানুষ বুঝে উঠতে পারে না। যেমন ধরো, তুমি আমাকে কোনো পাওয়ার দিলে। আমরা যখন তোমাকে পাওয়ার দিচ্ছি, তখন আমি বলব পঙ্কজ ভাইয়া, আপনি। আর তুমি যখন দিয়েছো, তখন আমি বলব পঙ্কজ ভাইয়া, তুমি। আর যখন আমি একেবারে পাওয়ারের মধ্যে ঢুকে গেছি, তখন বলব, এ শুন, ইধার। এই ভাষার পরিবর্তন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কথায় হয়েছে। এজেন্ট আসলো গেলো। মানুষ সরতে লাগলো। এজেন্ট আসলো গেলো। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মধ্যে এবং যারা পুরানো লোকেরা যারা সত্যিই তৃণমূল কংগ্রেস গঠন করেছিল, যারা নিজের হাতে ব্যানার আর পোস্টার বানাতো, নিজের হাতে দেওয়ালে লেখা করতো, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্য পুরো একটা শক্তির ব্লূপ্রিন্ট তৈরি করছিলো তারা। সেইসব লোকদের অপমান করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাদের বের করে দিয়েছেন। শুভেন্দু অধিকারী আর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মধ্যে ঝগড়া, মানে দূরত্ব কিভাবে হলো? যেকোনো সভ্য বাড়ির, ভাল শিক্ষিত পরিবারের কেউ আবার সামনে অপমান সহ্য করতে পারে না।সেটা হোক অর্জুন সিং বা শুভেন্দু অধিকারী দাদা, সবাই বলত, “তুমি আমাদের এভাবে অপমান করতে পারবে না।” কারণ সবাই রক্ত ঝরিয়েছে, ঘাম ঝরিয়েছে। সবাই টাকাপয়সা দিয়েছিল তৃণমূল কংগ্রেস গড়তে, এগানোর জন্য। পরে যখন দেখা গেল, শুধু ভাইপো, পিসি আর যারা নতুন এসেছে—ফিরহাদ হাকিম এসেছে, মহুয়া মৈত্র এসেছে, শায়নী ঘোষ এসেছে। তারপর আবার পাঞ্জা পরিবার, যারা তাদের রক্ত দিয়েছে, যারা তাদের সম্পত্তি দিয়েছে, পুরো পাঞ্জা পরিবারকে সাইডে করে শশী পাঞ্জা, যিনি বউ ছিলেন, যিনি দক্ষিণ ভারতের ছিলেন, তিনি পুরোটা নিয়েই নিয়েছিলেন আর মমতার একদম কাছাকাছি চলে এসেছিলেন। যেভাবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তার নিজের মানুষের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন, মনে হয় যদি কেউ ডাইন থাকে, তো সে প্রতিবেশীদের ক্ষতি করেনা কিন্তু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সেই ডাইন যিনি সাত বাড়ি ও ছাড়েননি। যারা প্রথম তাকে সৃষ্টি করেছিলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই সেই লোকের কাঁধে আঘাত করতে শুরু করেছিলেন আর এখান থেকেই ঝামেলা শুরু আর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যেইভাবে অবমাননা করতেন, সেটা তো ছিলই। আর যখন ওদের ভাইপো অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় রাজনীতিতে এলেন, দিল্লিতে সব রকম কুকর্ম করতেন, অশ্লীলতা, মজা-ঠাট্টা সব কিছু, তারপর হঠাৎ করে বাংলায় এসে একদম বদলে গেছেন। অভিষেক ব্যানার্জি হলেন সেই যে ললিত হোটেলে মদ খেয়ে লুটপাট করতেন। কেউ জানতেও পারত না, সবকিছু চাপা পড়ে গেছে, দিল্লিতে তার বিরুদ্ধে মলেস্টেশন আর ধর্ষণের এফআইআর দেওয়া আছে। কেউ জানতে পারল না যে তিনি কতবার ফেল করেছেন আর কতগুলো গাড়ির এক্সিডেন্ট করেছেন এনসিআর-এ। একদম হাজি হয়ে সে পশ্চিমবঙ্গে পৌঁছালেন এবং তারপর একটা গোল্ডেন স্পুন নিয়ে জন্মানো বাচ্চার মতো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাকে ক্ষমতা তুলে দিলেন।চোখের সামনে যে ছেলে বড় হয়েছে,তিনি তাদের আঙুল দেখিয়ে কথা বলছেনা শুভেন্দু অধিকারী দাদা কে। তিনি আঙুল দেখিয়ে কথা বলছেন অর্জুন সিং এর সাথে। তিনি আঙুল দেখিয়ে কথা বলছে বড় বড় নেতা মন্ত্রীদের সাথে। তো এটা কে সহ্য করবে? কেউ পারে না সহ্য করতে। যদিও শুভেন্দু অধিকারী দাদাকে বুঝানোর অনেক চেষ্টা করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু অধিকারী দাদা যিনি তাঁর মান সম্মানের জন্য বাঁচেন আর মান সম্মানের জন্য মরেন।উনি যা বলবেন মুখের উপর বলবেন, পেছনে বলেন না। আর কোন ষড়যন্ত্র গড়ার দরকার নেই। যেমন ওরা বলেছে ভারতীয় জনতা পার্টিকে মাইনরিটি মোর্চার দরকার নেই। মানে মাইনরিটি মোর্চার দরকার নেই। মাইনরিটি মোর্চা কী করে? টাকা নষ্ট হয়। এই ফিরহাদ হাকিমের কী ব্যাপার? কী করে এত কাছে চলে এসেছে ও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আর অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের?ফিরহাদ হাকিম যখন তৃণমূলের নতুন সরকার এসেছিল, তখন ফিরহাদ হাকিম ঘুরতো সঞ্জয় বক্সীর সামনে পিছনে। সঞ্জয় বক্সীর জুতা পর্যন্ত তুলে নিয়ে কালীঘাটে দিত ফিরহাদ হাকিম। ফিরহাদ হাকিম কালিঘাটে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে দেখা করার জন্য চার-পাঁচ ঘণ্টা বসে থাকত। আর কখনো মলয় ঘটককে, কখনো পার্থ চট্টোপাধ্যায়কে, কখনো সঞ্জয় বক্সীকে, কখনো সুব্রত বক্সীকে হাত জোড় করে বলত, “এক মিনিটের জন্য দিদিকে দেখা করিয়ে দাও।” ও প্রিপেয়ার হয়ে কালি ঘটে দিদির বাড়িতে যেত। স্টিলের টিফিন থাকত, শুকনো রুটি আর ভিন্ডির ভুজিয়া আর বাজাজের ফটফটিয়া নিয়ে আসত। তারপর ধীরে ধীরে ফিরহাদ হাকিম মমতার সঙ্গে ক্লোজ হওয়া শুরু করল। ফিরহাদ হাকিম মমতাকে বিশ্বাস করিয়েছিলেন মুসলিম ভোট সব তোমার পকেট যাবে। ফিরহাদ হাকিম মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে বললেন, তার বাবা লভ জিহাদ করেছে। ফিরহাদের মা হিন্দু আর বাবা মুসলমান ছিলেন। তো ফিরহাদের বাবা লভ জিহাদের অপরাধ করেছে। এরপর ফিরহাদ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে ঝাড়ু দিতেন,বাসন মাজতেন। ড্রাইভার যদি না আসতো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের, তো ফিরহাদ হাকিম ড্রাইভার হয়ে যেতেন। এইভাবে ধীরে ধীরে ধীরে ধীরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ব্লাড লাইন তৈরি হয়ে ফেলেছেন, আর তার পর ধীরে ধীরে ফারহাদ হাকিম সঞ্জয় বক্সীকে সরিয়ে দিলেন। সুব্রত বক্সীকেও সরিয়ে দেওয়া হলো। তিনি পার্থ চ্যাটার্জীকে সরিয়ে দিলেন। মানে সবাইকে তিনি এক এক করে সরিয়ে দিতে লাগলেন। ফিরহাদ হাকিম এখনও কলকাতার মেয়র, আর সবাই জানে ও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সবচেয়ে প্রিয় মন্ত্রী। ২৯ এপ্রিল রাত ১২ টায় ঝড়ো বৃষ্টিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যখন ওয়ার হাউসে যান, নির্বাচনী কমিশনেও তাকে ফিরহাদ হাকিমকেই নিয়ে যেতে হয়। ওদের সম্পর্ক কতটা ঘনিষ্ঠ। ফিরহাদ হাকিমের যদি অপরাধের কোনো তথ্য বের করতে হয়, তাহলে খিদিরপুরে একজন লালা আছে, তাকে একটু জিজ্ঞেস করলেই সব জানা যাবে। লম্বা, ফর্সা, ঘেঁষা চুলের একটা লালা আছে। ওই লালাকে ধরে ফেলতে হবে, সব সত্য সামনে এসে আসবে। চার বছর আগে খিদিরপুরে একটা ঘটনা ঘটেছিল। লালার আদেশে ফিরহাদ হাকিমকে একটা প্রপার্টি ডেভেলপ করতে হয়েছিল। ওই প্রপার্টিটাতে দুই বোন আর তাদের মা থাকতেন। আমরা সেই বাঙালি হিন্দুদের প্রপার্টির কথা বলছি। সেখানে ঝগড়া শুরু হয়। আদালত-বিচার, থানার পুলিশ সব কিছুতে ব্যাপারটা জড়িয়ে যায়। একদিন সকালে খবর আসে, ওই প্রপার্টির জায়গায় খোঁড়াখুঁড়ি করার সময় দুই বোন আর মায়ের কাটা মৃতদেহ পাওয়া গেছে। পুলিশ লালাকে ধরে নিয়ে আসে আর মর্ডার কেসে গ্রেফতার করে। ওই জায়গাটা চলে যায়। তার পর দুই সপ্তাহের মধ্যে লালার বেলও হয়ে যায় মর্ডার কেসে। আজ খিদিরপুরের ওই যায়গায় একটা প্রপার্টি তৈরী হয়ে গেছে দুই মেয়ে আর এক হিন্দু মায়ের রক্তে। দ্বিতীয়টা পোর্ট এরিয়ায়, বালিগঞ্জ থেকে, বালিগঞ্জের পর খিদিরপুর, তারপর ইকবালপুর, তারপর গার্ডেন রিচ, তারপর রামনগর, তারপর মেটিয়া ব্রুজ, তারপর নাদিয়াল,পোর্ট এরিয়া। ওই পোর্ট এরিয়ায় ফিরহাদ হাকিম তার মেয়র হওয়ার সুবিধা নিয়েছেন, ৩০০ স্কয়ার ফিট জায়গায় তিন তলা বিল্ডিং বানিয়েছেন। ৭৫০ স্কয়ার ফিট জায়গায় সাত তলা বিল্ডিং, ৫০০ স্কয়ার ফিট জায়গায় পাঁচ তলা বিল্ডিং আর তাতে লিফটও আছে। অথরিটিজ কিছুই করতে পারবে না, কারণ তিনি নিজেই মেয়র। কতগুলো এমন বিল্ডিং আছে যেগুলোতে সবাই মুসলমান, যেখানে কেউ মারা গেলে দেহ নিচে নামানো হয় দড়ি দিয়ে ঝুলিয়ে। কেউ অসুস্থ হলে ধীরে ধীরে মারা যায় কারণ গলি এত সরু যে সেখানে না অ্যাম্বুলেন্স ঢুকতে পারে, না ফায়ার ব্রিগেড, আর মরদেহ তুলতেও কেউ যেতে পারে না। যদি মুসলমান হয়, তাহলে জানাজাও উঠানো যায় না। এই অবস্থা করে ফিরহাদ হাকিম বসিয়েছেন।ফিরহাদ হাকিমের নেতৃত্বেই গার্ডেনরিচে,একজন কাউন্সিলর ছিল মুন্না।যার ছেলেটা খুব বড় হিরো হয়। এখন সেই মুন্না কাউন্সিলর হয়ে বসে আছে। মুন্নার ছেলেটা যেই কাউন্সিলর হলো, পোর্টে যে জল আছে,তার ওপর তার একটা শিপ থাকে ।তার শিপের মধ্যে, জলের ওপর ইলিগ্যাল কল সেন্টার চলে যাতে ট্রেস না হয়। তারা আলাদা কাজ করে, ওই কল সেন্টারটা ওয়েস্টার্ন কান্ট্রিজ আর আরবিয়ান কান্ট্রিজের মানুষদের কাছে ফেক ফোন করে যে ,”আমরা ইনসুরেন্স কোম্পানি।” আমরা মেডিকেল ইনস্যুরেন্সের সাথে যুক্ত। আর তারপর ওরা তাদের ক্রেডিট কার্ড আর ডেবিট কার্ড থেকে টাকা তুলে নেয়। পশ্চিমবঙ্গে, বিশেষ করে কলকাতায় রাত ১২টার পর পার্ক স্ট্রিট,সল্ট লেক, লেকটাউনে যদি মার্সেডিজ বা ল্যাম্বরগিনি দেখা যায় সেগুলো ওরকম একটা ইলিগ্যাল কল সেন্টারের মালিক যে ছেলে তার,যে রাত ১২টার পর বের হয়। সারারাত লঞ্চ বা নৌকায় বসে কল সেন্টার চালায়। সারারাত বিদেশি টাকাকে লুটে নেয় আর দিনভর ঘুমায়, আর রাতে এই কাজ করে। দ্বিতীয়টা হল মুন্না, সে ফরহাদের খুবই ক্লোজ ছিল, প্রায় দেড় বছর বা দুই বছর জেলেও ছিল মর্ডার কেসে। মেটিয়া ব্রুজ পুলিশ স্টেশনের আফিম, চরস, গাঁজা, কোকেনের সাপ্লাই মুন্নার ছেলের মাধ্যমে হয়। তৃতীয়টা, অবৈধ নির্মাণ তো বাদই দাও।চতুর্থ হল ধর্মান্তকরন, পুরো পোর্ট এরিয়াতে ধর্মান্তরনের ধুম পড়েছে। টিসিএসের কথা বলবে? না কি ঝাঙ্গুর পীরের কথা বলবে? কিছুই না তারা। পশ্চিমবঙ্গের কলকাতা পোর্ট এরিয়াতে যা ধর্মান্তরন হয়েছে, তার কল্পনাই কেউ করতে পারবে না। টিসিএস ফেইল। ঝাঙ্গুর পীর ফেইল। উত্তর প্রদেশের সব মামলাও ফেইল। যা পোর্টে ফিরহাদ হাকিমের নেতৃত্বে মুন্নার কাউন্সিলর ছেলে করাচ্ছে। পশ্চিমবঙ্গ আর কলকাতায় যতো মুসলিম মহল্লা আছে সব জায়গায় বোরখা ব্যবসা চলে, ঘরের ভেতর প্রায় ৯০% বাড়িতেই আর পরিবার থেকেই মুসলিম পুরুষরা তাদের বউ কন্যাদের দিয়ে এটা করায় আর তার টাকা ফিরহাদ হাকিমের কাছে যায়। কলকাতায় একটা এলাকা আছে বালিগঞ্জ, বালীগঞ্জের সামনে গেলে মেফেয়ার রোড পাওয়া যায়,মেফেয়ার রোডের ভিতরে আছে পাঞ্জাব ওয়েলফেয়ার নামে একটা অনেক বড় পাঞ্জাবিদের ওয়েলফেয়ার, খুব সুন্দর একটা বিল্ডিং। তার পিছনে, যাকে মেফেয়ার রোড বলা হয়, তার পিছনে একটা মুসলিম বস্তি আছে, চামরু খানসামা লেন আর এর পাশে একটু এগোলেই এক কিলোমিটার দূরে আছে ক্যালজি পট্টি। এই দুই এলাকায় যদি সার্চ করলে বা পুলিশ রেইড করলে, প্রতি ঘরেই প্রোস্টিটিউশন ব্যবসা দেখতে পাবে আর এই জায়গাগুলো সম্পূর্ণ মুসলিম অধ্যুষিত, একটাও হিন্দু থাকে না সেখানে,একটাও হিন্দু নেই। শুরুতে তো সবাই ভাবতো ঝুপড়ি ঘরের লোক আর হাতে আইফোন থাকে, এত ময়লা ঝুপড়িতে,ফোর হুইলার গাড়ি, বাইক, এত দামী রয়্যাল এনফিল্ডের বাইক, এত দামী দামী কাপড় সব মেয়েরা পরে কি করে?পরে জানা গেল, ভাইজনরা বাড়িতে তো নিজের নিজের বোন-মেয়েদের দিয়ে প্রস্টিটিউশন করায়।নেপাল, মণিপাল আর বাংলাদেশ থেকে যেসব মেয়ে বাচ্চা আসে, গুগল সার্চ করলে দেখা যাবে পশ্চিমবঙ্গেই ৯৩ হাজারেরও বেশি মেয়েদের মিসিং ডায়েরি আছে। ১০ বছরে কোথায় হারিয়ে গেছে ওই মেয়েগুলো?ওই মেয়েগুলোকে বিক্রি করা হচ্ছে আর এই বর্ডারের আশেপাশের যে বিধায়করা আছে, তাদের নেতা হলো ফিরহাদ হাকিম আর সিদ্দী উল্লাহ চৌধুরী, আর ফুরফুরা শরীফের পীর ত্বহা সিদ্দিকি।ত্বহা সিদ্দিকি একজন পীর,ত্বহা সিদ্দিকি মেয়েদের তৃণমূল কংগ্রেসের টিকিট পেতে লোভ দেখাতো।টাকা থাকলে, তাহলে টাকা খেতো আর যদি দরিদ্র হতো, তাহলে তার সাথে অন্য কিছু ব্যবহার করতো। ত্বহা সিদ্দিকী এখন পর্যন্ত কত হাজার হাজার মেয়ের সঙ্গে সম্পর্ক করেছে কেউ জানেনা।টিএমসির বিভিন্ন নেতাদের টিকিট পাওয়ার লোভে আর নিজের জন্যও ব্যবহার করেছে। সে একটা পাতলা লিনেনের লুঙ্গি পরে থাকে ভিতরে কোনো ইননার গার্মেন্ট থাকে না আর সে টুপি পরে থাকে। মেহন্দি লাগিয়ে দাড়ি রাখে। গুগলে সার্চ করলেই তাহা সিদ্দিকী ফুফুরা শরীফ আসবে, আর তার সামনে ইচ্ছাকৃতভাবে বউ-বেটিরা বোরখা বা হিজাব পরে। বহু মেয়েই আসে। ইচ্ছাকৃতভাবে সে বারবার পা ঝাঁকায়। মানে কল্পনা করতেই পারা যায় ওখানে কি অবস্থা। ফিরহাদ হাকিমের এয়ারপোর্টের কাছে একটা হোটেল আছে, যেটা আসলে ফিরহাদ হাকিমেরই কিন্তু সে কারো নামে করিয়ে রেখেছে। ওই হোটেলের নাম এনপিজে হোটেল। এনপিজে হোটেলে তাহা সিদ্দিকী মেয়েদের ডাকে আর ডেকে নিয়ে তাদের ধর্ষণ করে। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় কিভাবে কাছে এল? অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের গালাগালি, ডাণ্ডা, রুচিবহির্ভূত আচরণ আর তার বুট লিকিং করা যে শিখে নেবে সে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের খুব কাছাকাছি হয়ে যাবে। কী ধরনের মানুষ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়? অনেক গল্প আছে মানে শুনতে পাওয়া যায় যে একটু ছেঁড়া ছেঁড়া স্বভাবের, বা কাউকে ও বুঝতে চায় না। ওর একটা ইমেজ আছে যে ও বড় কর্পোরেট বানিয়েছে, টিএমসিকে চালিয়েছে, মহুয়া মৈত্রকে আনতে কাজ করেছে,সায়নী ঘোষকে আনতে কাজ করেছে, নুসরত জাহানকে পিক করেছে। এটা কোন চরিত্র ? শ্রেয়া পাণ্ডে ও তার খুব ঘনিষ্ঠ বন্ধু। ওরা তো ইলেকশনও লড়েছে, আর অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের খুব কাছাকাছি ছিল। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এর আসলে পাগলখানায় থাকা উচিত, ও তো একদম সাইকোটিক। ওর ওপর ইলেকট্রিক শক দেওয়া উচিত, ও এতটাই সাইকোটিক। যদি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এখানে বসে থাকে, আর কেউ দুই-তিন বার যাওয়া আসা করে,ও চুপ থাকবে, দুই বছর পর ওকে মারিয়ে ফেলবে, এমন অনেক ঘটনা আছে। একবার এক বাচ্চা ছিল, একটু মানসিক সমস্যাযুক্ত, ও ওইভাবে করেছিল সাত বছর ধরে। তারপর ওকে ট্রাকে চাপা দেয়া হয়েছিল। অনেক ঘটনা আছে। এক-দুইটা নয়। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কতগুলো ঘটনা শুনুন। কখনো সঞ্জয় বক্সী ওকে অপমান করেছে, আবার কখনো সঞ্জয় বক্সীকে এতটাই গালি দিয়েছে যে পুরো পরিবারের রাজনৈতিক জীবনের উপর প্রভাব পড়েছে। আর এই সঞ্জয় বক্সীই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ি চালাতো, মমতাকে ঘি আর সব গ্রোসারি জিনিসপত্র এনে দিতো। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় দিল্লিতে গাড়ি চালাতো, মেয়েদের নিয়ে বজ্জাতি করতো আর সেই গাড়ি রেন্টে দিয়ে হায়ার করাতো সঞ্জয় বক্সী। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ছোট ছিল,সঞ্জয় বক্সি তো তার বাবার বয়সের,বাবার থেকেও হয়তো বড় ,তার ও বড় ছেলে আছে। তাই ভালো করে ও অভিষেক কে বলেছিল, ‘ভাই একটু সাইডে যাও।ওতেই ওর রাগ হয় তাই ক্ষমতায় আসার পরে,সঞ্জয় বক্সীকে এমন সাইড করলো যে আজও ওর পরিবার ক্ষমতা থেকে দূরে আছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কিছু বলেননি।উনি তো সবই দেখে যাচ্ছিলেন, পার্টিতে যা কিছু ঘটছিল। যদি একটা ঘর থাকে যেখানে সকালবেলা উঠে যোগ ব্যায়ামের পর ভালো কিছু হয়। মজার মজার কথা হয়। পৃথিবীর খবর, দেশের খবর, রাজ্যের খবর শোনা হয়। পড়াশোনার ব্যাপারেও কথা হয়। তখন ওই পরিবেশে বাচ্চারা ভালো থাকে, যেকোনো জায়গায় ই যাক। আরেকটা ব্যাপার হলো, সকালে ওঠার পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিয়ে কথা হয়, তার কাণ্ডকারখানা, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কথা, তার অপরাধমূলক মনোভাব, তার সাইকিক স্বভাব, তার ঝুঁকিপূর্ণ রাগ, তার অসভ্যতা, তার অহংকার সব কিছু তখন খারাপ লাগে। যদি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একটু সভ্য থাকতেন তাহলে অভিষেক ও সভ্য হতেন। মমতা নিজেই অনেক অহংকারী। মমতা নিজেই সভ্য নন, তিনি আসলে অনেক অসভ্য। সে সবসময় থেকেই বেহায়া। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যেভাবে,যে ভাষার ব্যবহার করেন, কোনো ভাল বাড়ির মেয়ে এমনভাবে কথা বলে না। যেভাবে তার শরীর সবসময় ঝকঝকে আর চকচকে দেখায়। চাইলেই তার যুবকালের ভিডিও বা বর্তমান ভিডিও দেখো, অদ্ভুত একটা ঝকঝকানি আছে তার। নারী মুখ্যমন্ত্রী মানেই আন্দোলনকারী, এনার্জেটিক এসব নয় কারণ নারী মুখ্যমন্ত্রীর মধ্যে জয়ললিতাকেও দেখা গেছে মায়াবতীকেও দেখা গেছে। আর এছাড়াও বড় বড় পদে নারীদের দেখা যায়। এই শরীরের ভাষা নিয়েই বলা হচ্ছে। মানুষ সেটা থেকে দূরে থাকে। মানুষ তার কাছে থাকে না। কেউ বলে, উনি একদম স্ট্রিট ফাইটার। মানে, ওটা হাওয়াই চপ্পল আর সাদা শাড়ি দিয়ে গোটা বাংলা জয়ের এক বাংলা নারীর কথা। আমরা তো দেখি কাস্টমাইজড ৪৫ লাখ টাকার আইফোন হাতে, আর সাদা শাড়ি, যা ১০ থেকে ২০ হাজার টাকার। ওগুলো গলির দোকান থেকে আসে? না, শোরুম থেকে আসে শাড়ি। নাজিয়া ইলাহী খানের বক্তব্য অনুসারে,”আমি বহুবার যখন তৃণমূলের ছিলাম, অনেকবার মঞ্চে তাকে শাড়ি দিয়েছি, আমার কাছে ফটোগ্রাফ আছে।” উনি যে শাড়ি পরেন তা ১০,০০০, ১২,০০০, ১৫,০০০ টাকার নীচের শাড়ি পরেন না। ৪৫ লাখ টাকার কাস্টমাইজড ফোন।যে চশমা পরেন, সেটা কমপক্ষে দুই থেকে দেড় লাখ টাকার হয়, যা কাস্টমাইজড।GKB অপটিক্যালসে। তাহলে এটা বোকা বানানোর একটা ভালো টেকনিক। আমরা কিন্তু একটা সময় পর্যন্ত মানুষকে বোকা বানাতে পারি, তারপর আর পারি না। এখন ফিরহাদ হাকিমের মেয়েরা ঈদে কেনাকাটার জন্য প্যারিসে যায়। আর শ্রেয়া পাণ্ডে মেয়ের প্রথম জন্মদিন বিদেশে সেলিব্রেট করেছিল কোটি কোটি টাকা খরচ করে। মানে ওদের জন্য ডলসে গাবানা আর লুই ভিটোঁ এর কোনো দামই নেই। ডলসে গাবানার সানগ্লাসটা চার লাখ টাকার মতো, লুই ভিটোঁর স্যান্ডেলগুলো তিন থেকে দেড় লাখ টাকার মতো, আর জ্যামি চুর অ্যাকসেসরিজ পার্সগুলো ২৫ লাখ টাকার মতো। এগুলো সবাই ওরা ব্যবহার করে। আমরা তো কেবল স্বপ্নেই দেখতে পারি। আমাদের সামর্থ্য নেই এসব ব্যবহারের। এটা হল পিসি ভাইপোর ভবিষ্যত, কারণ অনেক ধরনের কেস আছে আর অনেক বেগেজও আছে। শারদা কেলেঙ্কারি, নারদা কেস আছে,তারপর পার্থ চ্যাটার্জির কেস আছে,শিক্ষক নিয়োগ স্ক্যাম আছে,ওবিসি ওয়ালা বিষয় আছে। নগর নিগম ওয়ালা অর্থাৎ লটারিআরও কেস।নাজিয়া ১২টা একসাথে ফাইল করেছিল। ওরা জেলে যাবে নাকি বাঁচবে, দুটোই হতে পারে?শেষমেশ সেটা ওই সেকশনে চলে আসে যেখানে কখনো না কখনো ছাড়া বা জামিন তো পেতেই হয়। কিন্তু ফাইল যখন খোঁড়াখুঁড়ি হবে, তখন অগনিত হত্যাকাণ্ডও সামনে আসবে। আমাদের দেশের,পশ্চিমবঙ্গের মেয়েদের বিক্রি করা আর অর্গান ট্রাফিকিংয়ের মামলাও সামনে আসবে। অর্গান ট্রাফিকিং আসলে কি? কখনও আরব দেশে, কখনও বাংলাদেশে পশ্চিমবঙ্গের মেয়েদের বিক্রি করা হচ্ছিল।গুগলে সার্চ করলেই পাওয়া যাবে।বিদেশি দেশগুলো সবচেয়ে বেশি কঙ্কাল আমাদের পশ্চিমবঙ্গ থেকে নিয়ে যায়। আগে দিল্লিতে পাওয়া যেত, অন্য রাজ্যে হাড় পাওয়া যায় না,যাদের মারা হয়,সেসব দেহ থেকে হাড় বিদেশি কোম্পানিগুলো নিয়ে যায়। এক সময়ে তাদের মনে হয়, সন্দেহ হয়,”আমরা যতই অর্ডার করি, ওরা আমাদের পাঠায়। এতো কোথা থেকে আনে? তখন তদন্ত শুরু হয়েছিল। যখন তদন্ত শুরু হল, গর্ভনমেন্ট হাসপাতালের ব্যাকইয়ার্ডে, যেটা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল,সেন্ট্রাল এভিনিউতে, তার পিছনে লাখ লাখ মৃতদেহের হাড় পড়ে ছিল। লাখ লাখ! আপনি গুগলে সার্চ করুন, শুধু এটাই লিখুন—‘মৃতদেহের হাড়ের ব্যবসা’—সবচেয়ে প্রথম আসবে পশ্চিমবঙ্গ। এটা তো আগে থেকেই হত,আর এখনো হয়, যেমন আমরা করতাম। দেখো না, হঠাৎ করে একটা বাচ্চা মিসিং হয়ে গেল। একটা জিডি করা হলো, তারপর আর বাচ্চাটা মিললো না। তো তার কিডনি, ফুসফুস, চোখ, ভয়েস কর্ড—এই সব জিনিসগুলো বের করে বিক্রি করা হয়। সার্জারি সংক্রান্ত বিষয়টা মমতা এত দ্রুত কেন চাপা দিলো? কেন ও এত চিন্তিত ছিল? সেখানে যে ডিন ছিল, চেয়ারম্যান ছিল, উপরের সব ডাক্তাররা যারা ছিল, তাদের মধ্যে যে দুশ্চিন্তা ছিল, সেটা কেন ছিল? কারণ পশ্চিমবঙ্গে যত মেডিক্যাল হাসপাতাল আছে, কলকাতা সহ দুর্গাপুর, আসানসোল সব জায়গায় অর্গান ট্রাফিকিং চলে।যেমন ধরো মেডিকেল কলেজ বা সরকারী হাসপাতালে গর্ভবতী একজন নারী গেলে। এবার ধরো, একটা ওয়ার্ডে ১০টা বাচ্চা জন্মালো। রেকর্ড দেখো। পাঁচটা বাচ্চা তারা বলবে মৃত জন্মেছে। রেকর্ড দেখো। মৃত বাচ্চার তো কোনো হিসেব নেই। ওগুলো হাসপাতাল হয়তো ফেলে দেয়। এখন পরিবার যদি বলে, দেখাও তো আমাদের, তারা দেখায় না। বলে, বোন, তুমি দেখো না,দেখলে কষ্ট হবে,বা হয়তো বলবে দেখানো যাবেনা ঘরে যাও। নিজের বাচ্চার লাশও তারা দেখতে পায়না। কেন? কারণ সেই শিশু মরা জন্মায় না, কারণ ওর অর্গান ট্রাফিকিং করতে হয়, তাই ওকে মারা হয়।মনে হচ্ছে যে পশ্চিমবঙ্গে যত ইন্টার্ন থাকে, যারা এমবিবিএস করে, ইন্টার্নশিপের সময় টিএমসির নেতা আর তাদের চিন্টু মিন্টুরা ওই বাচ্চাদের গাঁজার নেশা করায়। আরজি করে শুনেছি ড্রাগসেরও খেলা ছিল। আর সেটা হয়তো সত্যি। হয়তো কেউ সেটা ফাঁস করতেই চেয়েছিল। এর আগেও আরজী করে দুই নার্স আত্মহত্যা করেছিল। এবার বারাকপুরের ও এক ছেলে আত্মহত্যা করেছে। প্রতি বছর ওই হাসপাতালে কেউ না কেউ আত্মহত্যা করে। শুধু চিট ফান্ডের সমস্যা না, তৃণমূল, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় আর তাদের বড় নেতাদের বিরুদ্ধে অনেক অভিযোগ আছে। অবৈধ নির্মাণের কথা আছে, অর্গান ট্রাফিকিংয়ের কথা আছে, ধর্ষণের মামলা আছে। মেয়েদের বিক্রির ঘটনা আছে, হত্যার কথা আছে, ধর্মান্তরের ঘটনা আছে। অনেক ব্যাপার আছে।পুলিশের সব জানা থাকে। হ্যাঁ, একদম এ টু জেড,এই পুলিশ যারা কলকাতার, বিশেষ করে গোটা পশ্চিম বাংলার, ওদের উপর তদন্ত করা খুব দরকার।যদি ভালো করে তদন্ত করা হয়, তাহলে ৭০% পুলিশ অফিসারের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠে আসবে, অপরাধমূলক অভিযোগ। তবে এত নতুন কোথা থেকে আনবেন? চোরকেও তো রাখা যায় না। অপরাধী ধরার লোকটাই যদি নিজেই অপরাধী হয়, তাহলে সেটাও তো চলবে না। আরজি করের ছেলেটা কে যে ধরেছিল, পুলিশ ডিপার্টমেন্টের ও একটা সিভিক পুলিশ,যার নাম সঞ্জয় রাই। পুলিশের লোকটা বাজে ছেলে,সে মদ খায়,সে নিজের বউকে পেটায়। সে পর্ণ মুভি দেখে আর পুলিশের ইউনিফর্ম পরে থাকে। পুরো মদ খেয়ে বেহুঁশ থাকে আর তারপর গিয়ে এক রেসিডেন্ট ডাক্তারের ওপর ধর্ষণ করে।এত ব্রুটাল ওকে মেরে ফেলে,এটাই মমতার পুলিশ। কত থানার অফিসার ইনচার্জ আছে যারা অফিসার ইনচার্জের রুমে খারাপ পাড়ার মেয়ে ডেকে এনে উত্যক্ত করে থানার ভিতরেই। এখন হয়তো পুলিশ ভয় পেয়ে অনেক কিছু থামিয়ে রেখেছে বউর জন্য। যদি ২৯ তারিখের আগে কেউ ১০টা পর থানায় চলে যায়, জিডি লিখায় বা কিছু খুঁজে বেড়ায়, তো বড় বাবুর কি অবস্থা হবে? বড় বাবু মদ খাচ্ছে, চিকেন পকোড়া আর মাটন সিক কাবাব আসছে। সেখানে সব বিল্ডাররা বসে আছে আর ঠিক হচ্ছে যে, ইলিগ্যাল কন্সট্রাকশন যা রাজা বাজারে করছ, প্রতি স্কয়ার ফুটে আমাদের ₹৩০০ দিতে হবে, বাকিটা তুমি বানিয়ে ফেলো। এটাই কাজ ছিল, আর ওরা বেশিরভাগ টিএমসি ওয়ালা হয়।এই ছিল আমাদের পুলিশ অফিসারের কাজ। কিন্তু আমাদের পুলিশ অফিসারের কাজ হলো চোর ধরার। এমন ছিল না। এখন যখনই বিজেপির কেউ কিছু বলছে, সঙ্গে সঙ্গে ২০০/৩০০পুলিশ এসে আটকাতে চাইছে।পুলিশ তখন বেঙ্গালুরু যাচ্ছে,গুরগাঁও, নয়ডা, সব জায়গায় যাচ্ছে। একটু কার্টুন বানিয়েছিল যাদবপুর ইউনিভার্সিটির এক প্রফেসর। তাঁকে আটক করে ফেলেছিল। দারুণ দুঃখ লাগে ওর জন্য, ও তো এক নির্দোষ মেয়েই ছিল।নাজিয়ার নামে ৭১টা এফআইআর হয়েছে, সেটাই পশ্চিমবঙ্গ। বাংলার কিছু অন্ধকার গোপনীয়তা রয়েছে। রাজনীতি, পুলিশ বিভাগ, মেডিকেল কলেজ—এসব আপনাদের সামনে আসা উচিত। আপনি এই দেশের মানুষ। আপনি সিদ্ধান্ত নিন বাংলায় যা যা ঘটছে, সরকার সেটাকে স্বীকার করবে কি না।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *