অপরিহার্য নেতাজী

ময়ূখ রঞ্জন ঘোষ রিপাবলিক চ্যানেল ছেড়ে দিয়েছেন কারণ তাকে  নেতাজিকে নিয়ে কোন প্রোগ্রাম করতে দেওয়া হয়নি।অনন্ত মহারাজ বা নগা ভিক্ষারী নেতাজীকে গালিগালাজ দিচ্ছে তা  নিয়ে ফেসবুকে পোস্ট করলেও রিপাবলিক কোন প্রোগ্রাম করেনি বা করতে দেয়নি কাউকে।এখন প্রশ্ন হলো কে করতে দিচ্ছেনা?অর্নব?অর্নবকে কে নিষেধ করছে?একটাই নাম মনে আসে আর সেটা হলো প্রধানমন্ত্রী মোদী।মোদী গান্ধী ভক্ত ওনার ই টার্গেট শুধু ভারতে না পুরো পৃথিবীতে গান্ধীকে পাকাপাকি ভাবে প্রতিষ্ঠা করা আর সেটা করতে হলে তো নেতাজীকে বিসর্জন দিতেই হবে কেননা নেতাজীর অস্তিত্ব যতক্ষণ থাকবে ততক্ষণ গান্ধীর মত একটা পাপাত্মা,দুরাত্মাকে সব মানুষ গ্রহন করবে না।মোদী যখন নেতাজীকে নিয়ে আদিখ্যেতা করছিলেন তখন ই আমার মনে হয়েছিল নেতাজীকে বিসর্জন দেওয়া হবে।যাতে ওনাকে কেউ সন্দেহ না করে তারজন্য একটু ঢং ঢাং তো করতেই হয়।মমতা নাকি নগাকে ২৪ সালে কি পুরস্কার টুরস্কার দিয়েছিলেন তাই এখন কেউ কেউ বিজেপির দোষ ঢাকার জন্য তার নাম বলছে কিন্তু ২৬ সালে নগা নেতাজীকে গালি দেবে এটা মমতা ২৪ সালে কি করে জানবেন?আরেকটা কথা হলো নগা কে মমতা পুরস্কার দিয়েছেন মানে ওনার কাছের লোক সেটা জানার পর ও বিজেপি কেন তাকে দলে রাখলো?আরও বড় কথা এইসবের পরেও মোদীর একটা কথাও কেন শোনা গেল না?কেন নগার উপর কোন পদক্ষেপ নিলেন না?চারদিক তোলপাড় হচ্ছে আর মোদী শুনতে পাননি?এটা বিশ্বাস করতে হবে নাকি?এই নগা লোকটা একটা বিচ্ছিন্নতাবাদী, কুচবিহারকে আলাদা রাজ্য করতে চায়,পশ্চিমবঙ্গ থেকে বিচ্ছিন্ন করতে চায় মমতা ই বা কেন তার সাথে সুসম্পর্ক রেখে চলেন?কেন তাকে পুরস্কার দেন?কোচবিহার আলাদা করবে বলে?মোদী ই বা কেন এমন লোককে দলে পুষছেন যে পশ্চিমবঙ্গ থেকে কুচবিহারকে বিচ্ছিন্ন করতে চায়?তাহলে কেন ধরে নেব না মমতা আর মোদী দুজনেই পশ্চিমবঙ্গ থেকে কোচবিহার কে আলাদা করার সমর্থক আর দুজনেই নেতাজীর বিরোধী?

 

গান্ধী ভারত বর্ষের বুকে বৃটিশদের রোপন করা একটা বিষবৃক্ষ আর নেতাজী বৃটিশদের বিতাড়ন করার একটা আস্ত সিস্টেম তাই দুজনকে কোন অবস্থাতেই একসাথে রাখা যায়না আর যারা গান্ধীকে রেখে নেতাজীকে বিসর্জন দিতে চায় তারা কেউ ভারত প্রেমী কোন মতেই হতে পারেনা।তারা সবাই ভারত ধ্বংস কারী এবং ভারত দখলকারী বৃটিশদের এজেন্ট।সবাই একটা কথা মনে রাখবেন বৃটিশরা কোনদিন ই ভারত ছেড়ে যায়নি,শুধুমাত্র নেহেরু কে দিয়ে শুরু করে ভারত সরকার নামের একটা শাসন যন্ত্র,যা আসলে ওদের ই কর্তৃত্ব বহাল রেখেছে তাও মাত্র ১০০ বছরের জন্য লিজ হিসেবে।সেটাও করেছে নেতাজীকে দমন করার মত শক্তি বৃটিশদের ছিলনা তাই।ভাবুন সবাই,আমাদের দেশ আমাদের ই দয়া করে লিজ দিয়েছে মাত্র ১০০ বছরের জন্য।

নেতাজী থাকলে এটা করতে পারত  বৃটিশরা?নেতাজীকে ওরা কত টা ভয় পেতো!তাই জীবিত বা মৃত যেকোন অবস্থায় ই পাওয়া গেলে ওদের হাতে তুলে দিতে হবে বলে বলে দিয়েছিল।

কত টা ঔদ্ধত্য থাকলে এটা করার সাহস পায় আর দেশের মানুষ কত টা মূর্খ হলে এসব খোঁজ না রেখে শত্রুদের হাতের পুতুলদের উপর ভরসা করে বসে থাকে আর দেশের লোক কতটা নিকৃষ্ট হলে শত্রুদের দালাল হিসেবে সাময়িক ক্ষমতা ভোগ করে সন্তুষ্ট থাকতে পারে!এর অর্থ ২০৪৭ সালে সেই ১০০ বছরের তথাকথিত লিজ শেষ হবে তাই তখন তারা আইনত ভাবেই আবার ক্ষমতা ফিরিয়ে নিতে পারবে।তাহলে ২০৪৭ সালে আমাদের কাছে দুটো পথ থাকবে।একটা আবার রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ করা অথবা আবার আত্মসমর্পণ করা।যে ভাবে দ্রুত ভারতকে ধর্মান্তরিত করে খ্রিস্টান করা চলছে তাতে আর কয়েক বছর পর হিন্দু থাকবে কিনা সন্দেহ।বেশী সংখ্যার হিন্দুদের ধর্মন্তরিত করা হয় গেলে শেষের দিকে ক্রুসেড শুরু করবে যাতে বাকিরা ও হতে বাধ্য হয়,যে মডেল উত্তর পূর্ব ভারতে করেছে সেভাবেই করবে আর সবাই খ্রিস্টান হয়ে গেলে কারা বাধা দেবে ওদের ক্ষমতা দখলে?সাথে নেতাজী কে গালিগালাজ করে নেতাজী সমর্থকদের(ওরা জানে নেতাজীর সমর্থক বিশাল) মুছে ফেলতে পারলে প্রতিবাদ করার আর কেউ ই থাকবে না।গান্ধীর সমর্থকরা তো ব্রিটিশদের শাষণ ই আবার চাইবে, এখনও তারা বৃটিশদের ই সর্মথন করে।

 

কে গান্ধী?গান্ধী ভারতের বিরুদ্ধে,ভারতের কর্তৃত্ব চিরদিন হাতে রাখার,বৃটিশদের একটা হাতিয়ার।একটা মানুষ দেশের জন্য কতটা ক্ষতিকর হলে কোন দেশপ্রেমিক মানুষ তাকে হত্যা করে নিজে ফাঁসি কাঠে ঝুলতে পর্যন্ত একবার ভাবেনা?গান্ধী ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন, খ্রীষ্ট ধর্ম গ্রহন করেছিলেন,ফ্রীম্যাসন ছিলেন।হিন্দুর অহিতে চির দিন কাজ করেছেন।ভারতকে চিরদিন ব্রিটিশদের হাতে রাখার পক্ষপাতী ছিলেন,কোনদিন স্বাধীনতা আসুক তা চাননি।তারপর ও কি মানতে হবে তিনি ভারতের ভাল চাইতেন?তাই তাঁকে যারা সর্মথন করবে তারাও একই সারিতে থাকবে কিনা আপনারাই ভাবুন।গান্ধী কবে স্বাধীনতার জন্য লড়াই করেছেন?কি ভাবে করেছেন?স্বাধীনতার জন্য ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে লড়াই করলেন অথচ তাঁকে কোনদিন একটা ফুলের ডাটি দিয়েও একটা বাড়ি মারা হয়নি অন্যদিকে বাদবাকি স্বাধীনতা সংগ্রামীরা দলে দলে ফাঁসিতে প্রাণ দিচ্ছিলেন,গুলিতে প্রাণ দিচ্ছিলেন,আন্দামানে চরম অত্যাচারিত হচ্ছিলেন,জেল খাটছিলেন।উল্টো দিকে গান্ধী আর নেহেরুকে বৃটিশরা মাঝে মাঝে লোক দেখানো বন্দী করতো,করে কোন না কোন প্যালেসে রাখতো। ব্রেকফাস্ট থেকে ডিনার কি খাবে তার আয়োজন করতো,বাবুর্চি পুষত,পড়ার জন্য পেপার সাপ্লাই করতো,লেখার জন্য কাগজ – কলম সাপ্লাই করতো,রোজ তারা চিঠী লিখতো।তাদের সেবায় যাতে কোন ত্রুটি নাহয় তা নিশ্চিত করতো।এই লোক স্বাধীনতা সংগ্রামী?পৃথিবীর আর কোন দেশের ইতিহাসে এমন আর একজন ও স্বাধীনতা সংগ্রামী কেউ দেখাতে পারবেন?গান্ধীর শরীরে কোথাও একটা আলপিনের দাগ ও ছিল না।অথচ তার ভক্তদের ই দলে দলে প্রাণ যেত বৃটিশদের বিরোধিতা করতে গিয়ে।তাহলে কোন মন্ত্রবলে গান্ধীর গায়ে টোকাও পড়েনি কোনদিন?গান্ধী কেন রামকৃষ্ণের মত ইসলাম আর খ্রিস্টান গ্রহন করেছিলেন?তাকে কেন দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে টেনে আনতে গেল বৃটিশরা?কি এমন মহান কাজ তাকে দিয়ে করানো হতো? লক্ষ লক্ষ টাকা খরচ করে কেন তাকে ভিক্ষারীর সাজে,নিরামিষ ভোজী বানিয়ে পুষত বৃটিশরা(দক্ষিণ আফ্রিকায় গান্ধী কি নিরামিষ খেতেন?)ফ্রিম্যাসনিক স্টাইলে কেন গান্ধী বহু নারীকে একসাথে নিয়ে ব্যাভিচার করতেন?বহু নারীর উপর শারীরিক আর মানসিক অত্যাচার চালাতেন?এই লোককে ভারতের হিরো কেন বানানো হচ্ছে?এমন লোককে যিনি হিরো বানাতে মরিয়া তিনি কি করে সন্দেহের বাইরে থাকতে পারেন?নিশ্চিত করে বলতে পারি অবশিষ্ট কাজটা মানে পুনরায় বৃটিশদের হাতে ক্ষমতা ফিরিয়ে দেওয়ার কাজ ই চলছে বর্তমানে।সেই কান্ডারীর নামটা কি আবার ও বলতে হবে?

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *