জিহাদ কথা

​‘প্রত্যেক মুসলিমকে বছরে অন্তত একবার অবশ্যই জিহাদে যেতে হবে… দুর্গের ভেতরে যদি নারী এবং শিশুরাও থাকে, তবুও তাদের বিরুদ্ধে ভারী পাথর বা তীর নিক্ষেপের যন্ত্র ব্যবহার করা যেতে পারে। তাদেরকে আগুনে পুড়িয়ে কিংবা ডুবিয়ে মারা যেতে পারে।’ — (ইমাম আল গাজ্জালী, মোহাম্মদের পরে যিনি ইসলামের সর্বোচ্চ পন্ডিত)

​‘শক্তি প্রয়োগে অথবা বুঝিয়ে সুঝিয়ে প্রত্যেককে ইসলামে ধর্মান্তরিত করা ও মুসলিম মিশনের সর্বজনীনতার কারণে (এর প্রসারের জন্য) যুদ্ধে যাওয়া মুসলিমদের ধর্মীয় দায়িত্ব।’ — (ইবনে খালদুন, দ্য মুকাদ্দিমা, নিউইয়র্ক, পৃষ্ঠা ৪৭৩)

​মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ৯/১১’র মর্মান্তিক হামলা বিশ্বে নাটকীয় পরিবর্তন এনেছে, যা বহুদিন অব্যাহত থাকবে। বিশ্বব্যাপী ইসলামে অবিশ্বাসীাদের বিরুদ্ধে জিহাদ বা ধর্মযুদ্ধের নামে আল-কায়েদা ও তার সমমনা মুসলিম দলগুলোর বেপরোয়া হিংস্রতা ইসলামিক-অনৈতিক উভয় বিশ্বকেই নিরাপত্তাহীনতা ও অস্থিরশীলতার মধ্যে ফেলে দিয়েছে।

​বিশ্বব্যাপী বৃহত্তর মুসলিম জনগোষ্ঠীর মধ্যেও আচারসর্বস্ব ইসলামের পুনরুত্থানের একটা জোয়ার বয়ে চলছে। উভয় প্রবণতাই পশ্চিমা ও অন্যত্র ধর্মনিরপেক্ষ গণতান্ত্রিক দেশসমূহের ভবিষ্যৎ নিরাপত্তার ক্ষেত্রে একটা মারাত্মক হুমকি। হিংস্র জিহাদী দলগুলো বিশ্বব্যাপী ইসলামি ধর্মীয় আইন (শরীয়া)-ভিত্তিক কঠোর ইসলামি শাসন কায়েমের লক্ষ্যে বেপরোয়া হিংস্রতা, মৃত্যু ও ধ্বংসলীলা চালানোর মাধ্যমে আধুনিক ধর্মনিরপেক্ষ গণতান্ত্রিক ও প্রগতিশীল বিশ্বব্যবস্থাকে ধ্বংস করতে চায়। বর্তমানে ইসলামের পুনরুজ্জীবনের যে অহিংস জোয়ার চলছে, মুসলিমদের মধ্যে তার একটা ব্যাপক আবেদন রয়েছে এবং তারাও ঠিক একই লক্ষ্যে পৌঁছাতে চায়, তবে ভিন্ন পন্থায়। পশ্চিমা সমাজের রীতি ও সামাজিক আচরণ – যেমন বাক্ স্বাধীনতা, বিপরীত লিঙ্গের মধ্যে মেলামেশা এবং সমকামিতা ইত্যাদি – যা ইসলামের দৃষ্টিতে গর্হিত, সেগুলোকে ক্রমশ দমনের দাবির মাধ্যমেও তারা সেখানে শরীয়া আইন প্রতিষ্ঠার পথ সুগম করে চলছে।

​২০০৬ সালের এক জরীপে দেখা যায়, শতকরা ৪০ ভাগ ব্রিটিশ মুসলিমরা শরীয়া আইন দ্বারা শাসিত হতে চায়। পক্ষান্তরে, শতকরা ৬০ ভাগ মুসলিম নিজস্ব সম্প্রদায়ের আইনগত বিষয়গুলো নিষ্পত্তির জন্য শরীয়া কোর্ট দেখতে চায়। ‘সেন্টার ফর সোস্যাল কোহিশন ইন দ্য ইউ.কে.’-র সাম্প্রতিক এক সমীক্ষায় দেখা যায় যে, ব্রিটিশ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মুসলিম ছাত্রদের শতকরা ৪ ভাগ ইসলামকে রক্ষা ও এগিয়ে নেওয়ার জন্য ‘হত্যাকাণ্ড’ (আল-কায়েদা ইত্যাদি পরিচালিত) সমর্থন করে; ৩২ ভাগ মনে করে ইসলামের রক্ষায় হত্যাকাণ্ড ন্যায়সঙ্গত। ব্রিটেনে শতকরা ৪০ ভাগ মুসলিম চায় শরীয়া আইন প্রবর্তন; এর বিরোধিতা করে ৩৭ ভাগ।১ বিশ্বব্যাপী মুসলিম খিলাফত শাসন প্রতিষ্ঠা সমর্থন করে প্রায় ৩৩ ভাগ; এ ধারণার বিরোধী মাত্র ২৫ ভাগ।১ সমীক্ষায় এও জানা যায় যে, মুসলিমদের মধ্যে উগ্রবাদ ক্রমশ বেড়ে চলেছে এবং তরুণ মুসলিমরা ধর্মীয়ভাবে তাদের পিতা-মাতার প্রজন্মের চেয়ে বেশি মৌলবাদী। বর্তমান সময়ে ব্রিটিশ জনসংখ্যার মাত্র ৩.৫ ভাগ মুসলিম হলেও তারা নিজ সম্প্রদায়ের মধ্যে অনেক বিষয়ে বেআইনিভাবে ব্যাপক চর্চা করে চলেছে। অবস্থা এ রকম যে, ক্যান্টারবেরির আর্চ-বিশপ রোয়ান উইলিয়ামস ২০০৮ সালের ফেব্রুয়ারি বললেন: ব্রিটেনে শরীয়া আইনের প্রবর্তন অবশ্যম্ভাবী। তিনি একে বৈধ করে নেওয়ার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।২

​মুসলিম জনসংখ্যার প্রেক্ষিতে ব্রিটিশ সরকার তালাক, আর্থিক বিবাদ, এমন কি অভ্যন্তরীণ সহিংসতার ব্যাপারগুলো মীমাংসায় একটি বৈধ শরীয়া আদালত প্রতিষ্ঠার নির্দেশ দিতে বাধ্য হয়েছে। ‘দ্য ডেইলি মেইল’ জানায়, গত গ্রীষ্ম পর্যন্ত এ আদালত ১০০টিরও বেশি মামলা নিষ্পত্তি করেছে বলে দাবি করেছে। শুধু তাই নয়, এর সঙ্গে তারা ৬টি অভ্যন্তরীণ সহিংসতার ফৌজদারি মামলাও নিষ্পত্তি করেছে। আদালতটি ভবিষ্যতে আরও বেশি সংখ্যক ছোট ছোট মামলা হাতে নেওয়ার আশা পোষণ করে।৩ এটা যুক্তরাজ্যে শরীয়া আইন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে গুরুত্বপূর্ণ একটা ধাপ।

​ইসলামিক ‘জিহাদ’ কিংবা ‘ধর্মযুদ্ধ’-এর অর্থ হলো আল্লাহর পথে লড়াই করা, যা কোরানের বহু আয়াতের মাধ্যমে আল্লাহ্ স্বয়ং ইসলামের ধর্মতত্ত্বে সন্নিবেশিত করেছেন। যেমন বলা হয়েছে ২:১৯৩ নং আয়াতে।৪ কোরানে জিহাদ সম্পর্কে ২০০-টিরও বেশি ঐশীবাণী ( আয়াত) রয়েছে। বর্তমান সময়ের সহিংস জিহাদের সুবিখ্যাত নায়ক ওসামা বিন লাদেন অবিশ্বাসীাদের (অমুসলিমদের) বিরুদ্ধে তার জিহাদী প্রচারণার যে ধর্মীয় ব্যাখ্যা দিয়েছেন, তা হলো:৫

​মুসলিম ও অবিশ্বাসীাদের মধ্যে সম্পর্কের ব্যাপারে আল্লাহর সংক্ষিপ্ত ভাষ্য: “আমরা তোমাদেরকে অস্বীকার করি। এক আল্লাহতে বিশ্বাস স্থাপন না করা পর্যন্ত তোমাদের ও আমাদের মধ্যে অনন্তকাল ঘৃণা ও শত্রুতা বিরাজ করবে।” সুতরাং (মুসলিমদের) অন্তরে (অমুসলিমদের প্রতি) একটা প্রচণ্ড বিদ্বেষমূলক শত্রুতা রয়েছে। আর এ প্রচণ্ড শত্রুতা অর্থাৎ লড়াই নিবৃত্ত হবে যদি অবিশ্বাসীরা ইসলামের কর্তৃত্বের কাছে নত হয়, অথবা যদি তাদের



Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *