তিব্বত ও সিআইএ

১৯৫০-এর দশক থেকে তিব্বতি প্রতিরোধ আন্দোলন এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের Central Intelligence Agency বা CIA-এর সম্পর্ক শীতল যুদ্ধের ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। এই সম্পর্ককে বুঝতে হলে একদিকে তিব্বতের রাজনৈতিক পরিস্থিতি, অন্যদিকে চীন-আমেরিকা বিরোধ, সোভিয়েত-আমেরিকান শীতল যুদ্ধ এবং Dalai Lama-এর ধর্মীয় ও রাজনৈতিক ভূমিকা—এই সবকিছুকে একসঙ্গে দেখতে হয়। CIA-এর তিব্বত অভিযান সম্পর্কে এখন যে তথ্য জানা যায়, তার বড় অংশ এসেছে পরে প্রকাশিত মার্কিন সরকারি নথি থেকে। সেই নথিগুলোতে দেখা যায়, CIA তিব্বতি প্রতিরোধকে অর্থ, প্রশিক্ষণ, অস্ত্র, যোগাযোগ ব্যবস্থা, রাজনৈতিক প্রচার এবং গোয়েন্দা সহায়তা দিয়েছিল। একই সঙ্গে Dalai Lama এবং তাঁর ঘনিষ্ঠ সহযোগীদের জন্যও গোপন আর্থিক সহায়তার ব্যবস্থা করা হয়েছিল। তবে এই ইতিহাসকে শুধু “CIA বনাম চীন” হিসেবে দেখলে বিষয়টি অসম্পূর্ণ হয়; এর মধ্যে তিব্বতি জনগণের নিজস্ব রাজনৈতিক আকাঙ্ক্ষা, ধর্মীয় পরিচয়, চীনের সঙ্গে সংঘাত এবং আন্তর্জাতিক শক্তির নিজস্ব স্বার্থ—সবই ছিল।১৯৪৯ সালে চীনে কমিউনিস্ট বিপ্লব সফল হওয়ার পর Mao Zedong-এর নেতৃত্বে People’s Republic of China প্রতিষ্ঠিত হয়। এরপর চীনা সরকার তিব্বতের ওপর তার রাজনৈতিক ও সামরিক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার দিকে এগোয়। ১৯৫০ সালে People’s Liberation Army তিব্বতে প্রবেশ করে। চীনা সরকারের বক্তব্য ছিল তিব্বত চীনের ঐতিহাসিক অংশ এবং সেখানে কেন্দ্রীয় সরকারের কর্তৃত্ব পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা হচ্ছে। অন্যদিকে তিব্বতি পক্ষের একটি অংশ এই ঘটনাকে নিজেদের রাজনৈতিক স্বাধীনতা ও ঐতিহ্যের ওপর আক্রমণ হিসেবে দেখেছিল। পরবর্তী দশকে এই বিরোধ ক্রমশ তীব্র হয়।১৯৫১ সালে তিব্বতি প্রতিনিধিদের সঙ্গে চীনা সরকারের একটি চুক্তি হয়, যা সাধারণভাবে Seventeen Point Agreement নামে পরিচিত। চীনা পক্ষের মতে এই চুক্তি তিব্বতের চীনের সঙ্গে পুনঃএকীকরণকে স্বীকৃতি দিয়েছিল, যদিও তিব্বতের ধর্মীয় ও সামাজিক ব্যবস্থার কিছু বিশেষ অধিকার বজায় রাখার কথা বলা হয়েছিল। তিব্বতি পক্ষের মধ্যে পরবর্তীকালে এই চুক্তি নিয়ে গভীর অসন্তোষ তৈরি হয়। CIA-এর পরবর্তী তিব্বত কর্মসূচির পটভূমিতে এই রাজনৈতিক পরিস্থিতি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।Dalai Lama তখন তিব্বতের ধর্মীয় নেতা হওয়ার পাশাপাশি রাজনৈতিক নেতৃত্বের কেন্দ্রেও ছিলেন। তিব্বতি বৌদ্ধ ঐতিহ্যে Dalai Lama-এর মর্যাদা শুধু একজন সাধারণ ধর্মীয় নেতার মতো নয়। তিনি তিব্বতি সমাজে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আধ্যাত্মিক প্রতীক ছিলেন। ফলে তিব্বতের রাজনৈতিক প্রশ্ন আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তুলতে তাঁর ভূমিকা বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। CIA পরবর্তী সময়ে এই ধর্মীয় মর্যাদার রাজনৈতিক গুরুত্ব সম্পর্কে সচেতন ছিল। ১৯৭১ সালের একটি মার্কিন সরকারি নথিতে বলা হয়, Dalai Lama তিব্বতি জনগণের আধ্যাত্মিক নেতা হিসেবে সম্মানিত ছিলেন এবং তাঁর নেতৃত্ব তিব্বতি প্রশ্নকে আন্তর্জাতিকভাবে দৃশ্যমান রাখতে সাহায্য করেছিল। �Office of the HistorianCIA-এর তিব্বতি কার্যক্রম অবশ্য ১৯৫৯ সালে হঠাৎ শুরু হয়নি। মার্কিন সরকারি নথিতে দেখা যায়, ১৯৫০-এর দশকের মাঝামাঝি সময় থেকেই তিব্বতি প্রতিরোধের সঙ্গে CIA-এর যোগাযোগ ও সহায়তার পরিকল্পনা শুরু হয়েছিল। ১৯৫৬ সালের দিকে CIA তিব্বতি প্রতিরোধের কিছু অংশকে সহায়তা করার কর্মসূচি শুরু করে। ১৯৬৮ সালের একটি CIA memorandum-এ বলা হয়েছে যে Tibetan program-এর কিছু অংশ ১৯৫৬ সালেই শুরু হয়েছিল। এই কর্মসূচিতে political action, propaganda, paramilitary এবং intelligence operations অন্তর্ভুক্ত ছিল। �Office of the Historian১৯৫৬ সালে Dalai Lama ভারতে আসেন। বুদ্ধের মহাপরিনির্বাণের ২৫০০ বছর পূর্তি উপলক্ষে তিনি ভারতে এসেছিলেন। সেই সময় তিব্বতের পরিস্থিতি নিয়ে ভারতীয় সরকারের সঙ্গেও আলোচনা হয়। একটি CIA নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে Dalai Lama তিব্বতের anti-Communist resistance-এর জন্য ভারতীয় সরকারের কাছে সাহায্য চেয়েছিলেন, কিন্তু ভারতীয় সরকার তখন সরাসরি সেই সাহায্য দিতে রাজি হয়নি। �Office of the Historianএই সময় CIA তিব্বতি প্রতিরোধের সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত হতে শুরু করে। তিব্বতি যোদ্ধাদের প্রশিক্ষণ দেওয়া, অস্ত্র সরবরাহ করা, যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং চীনা বাহিনীর গতিবিধি সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করা ছিল এই সহযোগিতার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। CIA-এর নিজস্ব প্রকাশিত ইতিহাস অনুযায়ী, ১৯৫৮ থেকে ১৯৬৪ সালের মধ্যে Colorado-র Camp Hale-এ প্রায় ৩০০ তিব্বতি freedom fighter-কে গোপনে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছিল। তাঁদের guerrilla warfare, intelligence gathering, radio communication, map reading, parachute operations, propaganda এবং covert operations-এর প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। �CIACamp Hale ছিল এই গোপন কর্মসূচির একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। জায়গাটি পাহাড়ি এবং ঠান্ডা আবহাওয়ার জন্য বেছে নেওয়া হয়েছিল, কারণ CIA মনে করেছিল এখানকার পরিবেশ তিব্বতের কিছু অঞ্চলের সঙ্গে তুলনামূলকভাবে মিল রয়েছে। তিব্বতি প্রশিক্ষণার্থীরা Camp Hale-কে “Dumra” নামে ডাকতেন। CIA-এর প্রকাশিত বিবরণ অনুযায়ী, প্রশিক্ষণের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল radio communication এবং Morse code। তিব্বতি প্রশিক্ষণার্থীদের মধ্যে ইংরেজি জানা ব্যক্তিরা প্রশিক্ষক ও যোদ্ধাদের মধ্যে অনুবাদের কাজ করতেন। �CIAএই প্রশিক্ষণের উদ্দেশ্য ছিল তিব্বতের ভেতরে এবং সীমান্তবর্তী অঞ্চলে Chinese forces-এর বিরুদ্ধে guerrilla resistance গড়ে তোলা। প্রশিক্ষিত যোদ্ধাদের কেউ তিব্বতে প্রবেশ করতেন, কেউ parachute-এর মাধ্যমে নির্দিষ্ট এলাকায় নামতেন এবং পরে স্থানীয় প্রতিরোধ গোষ্ঠীর সঙ্গে যোগাযোগ করতেন। CIA-এর বিবরণ অনুযায়ী, এই যোদ্ধারা পরে আরও অনেক তিব্বতি insurgent-কে প্রশিক্ষণ দিতে সাহায্য করেছিলেন। তবে শেষ পর্যন্ত এই সশস্ত্র আন্দোলন তিব্বতের ওপর চীনা নিয়ন্ত্রণ ভাঙতে সফল হয়নি। �CIA১৯৫৮ সালে CIA তিব্বতি resistance-এর জন্য covert support-এর প্রাথমিক অনুমোদন পায়। পরের বছর পরিস্থিতি নাটকীয়ভাবে পরিবর্তিত হয়। ১৯৫৯ সালের মার্চ মাসে Lhasa-তে বড় ধরনের বিদ্রোহ শুরু হয়। ১০ মার্চ থেকে পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। তিব্বতি জনগণের একটি বড় অংশ Dalai Lama-কে ঘিরে সমবেত হয় এবং চীনা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সংঘাত বাড়তে থাকে। CIA-এর তৎকালীন নথিতেও Lhasa-র বিদ্রোহ, Dalai Lama-এর নিরাপত্তা এবং তাঁর ভারত অভিমুখে যাত্রার বিবরণ পাওয়া যায়। �Office of the Historian +1১৭ মার্চ ১৯৫৯-এর কাছাকাছি সময়ে Dalai Lama Lhasa ত্যাগ করেন। এরপর দীর্ঘ ও বিপজ্জনক যাত্রার মাধ্যমে তিনি ভারতের দিকে চলে যান। ১৯৫৯ সালের ৩১ মার্চ তিনি ভারতে প্রবেশ করেন। ভারত সরকার তাঁকে রাজনৈতিক আশ্রয় দেয়। তাঁর সঙ্গে বহু তিব্বতি শরণার্থীও ভারতে আসে। পরে Dharamshala তিব্বতি নির্বাসিত সমাজের প্রধান কেন্দ্র হয়ে ওঠে।Dalai Lama ভারতে চলে আসার পর CIA-এর কর্মসূচির চরিত্র আরও বিস্তৃত হয়। এর আগে তিব্বতের ভেতরের প্রতিরোধকে সহায়তা করার ওপর বেশি গুরুত্ব ছিল; পরে Dalai Lama এবং তাঁর নির্বাসিত অনুসারীদের কেন্দ্র করে রাজনৈতিক, প্রচারমূলক এবং গোয়েন্দা কার্যক্রমও বাড়ানো হয়। ১৯৭১ সালের একটি সরকারি নথিতে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে যে Dalai Lama ভারতে পালিয়ে আসার পর CIA তাঁকে এবং তাঁর immediate entourage-কে covert subsidy দেয় এবং ভারতে ও বিদেশে তিব্বতি সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান বজায় রাখার জন্য অর্থ ও নির্দেশনা দেয়। �Office of the Historianএখানে CIA ও Dalai Lama-এর সম্পর্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক বোঝা যায়। CIA Dalai Lama-কে শুধুমাত্র ধর্মীয় নেতা হিসেবে দেখেনি; তাঁকে তিব্বতি রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক পরিচয়ের আন্তর্জাতিক প্রতীক হিসেবেও ব্যবহারযোগ্য বলে মনে করেছিল। ১৯৬৮ সালের CIA memorandum-এ বলা হয়েছিল, political action ও propaganda-এর লক্ষ্য ছিল Dalai Lama-এর নেতৃত্বে autonomous Tibet-এর ধারণাকে তিব্বতিদের মধ্যে এবং বিদেশে সমর্থন করা। একই নথিতে Chinese Communist expansion মোকাবিলার কথাও বলা হয়েছিল। �Office of the HistorianCIA-এর ১৯৬৪ সালের একটি নথিতেও একই ধরনের লক্ষ্য পাওয়া যায়। সেখানে বলা হয়েছিল, Tibetan program-এর উদ্দেশ্য ছিল autonomous Tibet-এর রাজনৈতিক ধারণাকে তিব্বতের ভেতরে এবং বিদেশে, বিশেষ করে ভারতে, জীবিত রাখা এবং Communist China-র অভ্যন্তরে সম্ভাব্য রাজনৈতিক পরিবর্তনের ক্ষেত্রে resistance-এর সক্ষমতা তৈরি করা। একই কর্মসূচির মধ্যে Dalai Lama-এর entourage-কে subsidy, Nepal-ভিত্তিক Tibetan guerrilla force-কে সাহায্য এবং রাজনৈতিক ও propaganda training-এর ব্যবস্থা ছিল। �Office of the Historianএই সময় Nepal-ও CIA-এর তিব্বত কর্মসূচিতে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। Nepal-এর Mustang অঞ্চলে Tibetan guerrilla force গড়ে তোলা হয়। এই বাহিনীর সদস্যরা সীমান্তের কাছাকাছি অবস্থান করত এবং তিব্বতের ভেতরে intelligence collection ও সীমিত paramilitary operations চালাত। ১৯৬৯ সালের একটি মার্কিন নথিতে বলা হয় যে CIA ১৯৫৮ সাল থেকে Dalai Lama-এর Tibetan resistance movement-এর guerrilla-দের সহায়তা করে আসছিল এবং তাদের বড় একটি অংশ Nepal-এর নিরাপদ এলাকায় অবস্থান করছিল। �Office of the Historian১৯৬১ সালের শুরুতে Tibetan resistance-এর জন্য অস্ত্র সরবরাহের ব্যবস্থাও করা হয়েছিল। ১৯৬৪ সালের একটি সরকারি memorandum-এ উল্লেখ করা হয় যে Nepal-Tibet সীমান্তে প্রায় ২,০০০ সদস্যের একটি paramilitary force গড়ে তোলা হয়েছিল এবং ১৯৬১ সালের জানুয়ারিতে air-drop-এর মাধ্যমে তাদের একটি অংশকে অস্ত্র দেওয়া হয়েছিল। �Office of the Historianতিব্বতি যোদ্ধাদের শুধু অস্ত্র বা সামরিক প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়নি। CIA তাদের intelligence collection-এর জন্যও ব্যবহার করেছিল। ১৯৬৮ সালের একটি নথিতে বলা হয়, CIA ও তিব্বতিদের যৌথ intelligence collection operations-এর সংখ্যা এবং গুরুত্ব আগের কয়েক বছরে উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছিল। তিব্বতের ভেতরে reporting agents পাঠানো এবং Chinese military ও political developments সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ ছিল এই কাজের অংশ। �Office of the Historianঅর্থের বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। CIA-এর তিব্বত কর্মসূচি ছোট কোনো প্রতীকী সহায়তা ছিল না। ১৯৬৪ সালের একটি পর্যালোচনায় Tibetan operations-এর projected annual cost ছিল প্রায় ১.৭৩৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। ১৯৬৮ সালে মার্কিন নথিতে বলা হয়, প্রশিক্ষণ কর্মসূচির কিছু অংশ বন্ধ হওয়ার ফলে খরচ কমে প্রায় ১.১৬৫ মিলিয়ন ডলারে নামানো হয়েছিল। �Office of the Historianতবে ১.৭৩৫ মিলিয়ন ডলারকে ১৯৫৯ সালের Dalai Lama-কে দেওয়া সরাসরি অর্থ হিসেবে উল্লেখ করা ঠিক নয়। এটি ছিল বৃহত্তর Tibetan operations-এর একটি বার্ষিক projected cost। এর মধ্যে বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামরিক, গোয়েন্দা ও অন্যান্য কার্যক্রম অন্তর্ভুক্ত ছিল। এই পার্থক্যটি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ CIA-এর তিব্বত কর্মসূচি কয়েকটি আলাদা অংশ নিয়ে গঠিত ছিল।Dalai Lama-এর entourage-কে দেওয়া অর্থও ছিল কর্মসূচির একটি অংশ। ১৯৭১ সালের CIA report-এ বলা হয়, ১৯৫৯ সালে Dalai Lama ভারতে আসার পর তাঁর immediate entourage-কে covert subsidy দেওয়া শুরু হয়। একই সঙ্গে তিব্বতি সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানকে ভারতে এবং বিদেশে টিকিয়ে রাখার জন্য অর্থ ও guidance দেওয়া হয়। �Office of the Historianএই সহায়তার রাজনৈতিক উদ্দেশ্যও নথিতে পরিষ্কার। CIA-এর দৃষ্টিতে Dalai Lama-এর নেতৃত্বে তিব্বতি নির্বাসিত সমাজকে সংগঠিত রাখা হলে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে Tibet question জীবিত রাখা সম্ভব হবে। Propaganda-এর মাধ্যমে বিশ্বে তিব্বত সম্পর্কে awareness ও sympathy বাড়ানোর চেষ্টা করা হয়। পাশাপাশি intelligence operation-এর মাধ্যমে তিব্বতের রাজনৈতিক ও সামরিক পরিস্থিতির খবর সংগ্রহ করা হয়। �Office of the Historian১৯৬৩ সালে CIA আরও বড় রাজনৈতিক কর্মসূচি তৈরি করে। ১৯৬৪ সালের একটি সরকারি নথিতে বলা হয়, ১৩৩ জন তিব্বতিকে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে গিয়ে political, propaganda এবং paramilitary techniques-এর প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছিল। একই সঙ্গে Dharamshala-তে Dalai Lama-এর entourage-কে subsidy দেওয়া এবং Nepal-ভিত্তিক guerrilla force-কে সমর্থন অব্যাহত রাখা হয়েছিল। �Office of the Historian১৯৬৪ সালের পর যুক্তরাষ্ট্র তিব্বতি নির্বাসিত সমাজকে আরও রাজনৈতিকভাবে সংগঠিত করার চেষ্টা করে। Geneva এবং New York-এ Tibetan offices বা “Tibet Houses” চালানো হচ্ছিল। New York office United Nations-এর প্রতিনিধিদের মধ্যে Tibetan cause-এর পক্ষে সমর্থন তৈরির চেষ্টা করত। Geneva office তিব্বতি refugee resettlement এবং আন্তর্জাতিক relief agencies-এর সঙ্গে যোগাযোগের কাজে যুক্ত ছিল। ১৯৬৮ সালের CIA memorandum-এ এই প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রমের বিস্তারিত বিবরণ রয়েছে। �Office of the Historianএখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, CIA শুধু অস্ত্রধারী guerrilla-দের নিয়ে কাজ করছিল না। নির্বাসিত তিব্বতি সমাজকে একটি সংগঠিত রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক সত্তা হিসেবে ধরে রাখার কাজও কর্মসূচির অংশ ছিল। অর্থাৎ CIA-এর তিব্বত নীতি ছিল একদিকে paramilitary resistance, অন্যদিকে political organization, propaganda এবং intelligence collection-এর সমন্বয়।Dalai Lama-এর ধর্মীয় পরিচয় এই পুরো ব্যবস্থায় বিশেষ গুরুত্ব বহন করেছিল। তিনি তিব্বতি জনগণের কাছে একজন আধ্যাত্মিক নেতা ছিলেন। তাঁর এই মর্যাদা রাজনৈতিক আন্দোলনকে একটি শক্তিশালী প্রতীক দিয়েছিল। CIA-এর ১৯৭১ সালের নথিতেও বলা হয়েছিল যে Dalai Lama-এর আধ্যাত্মিক মর্যাদা তাঁকে তিব্বতি cause-এর আন্তর্জাতিক প্রতীক হিসেবে কার্যকর করে তুলেছিল। �Office of the Historianতবে এর অর্থ এই নয় যে Dalai Lama CIA-এর কর্মচারী ছিলেন বা তাঁর সমস্ত রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড CIA পরিচালনা করত। বরং নথি থেকে যে সম্পর্ক দেখা যায় তা হলো—মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা তাঁর নেতৃত্বাধীন তিব্বতি রাজনৈতিক ও প্রতিরোধ আন্দোলনের কিছু অংশকে গোপনে অর্থ ও অন্যান্য সহায়তা দিচ্ছিল। Dalai Lama ও তাঁর অনুসারীদের নিজস্ব রাজনৈতিক ও ধর্মীয় লক্ষ্যও ছিল। এই দুই পক্ষের লক্ষ্য সব ক্ষেত্রে একই ছিল এমন বলা যায় না।১৯৬০-এর দশকে CIA-এর তিব্বত কর্মসূচি চলতে থাকলেও তিব্বতের ভেতরে এর ফল সীমিত ছিল। ১৯৬৮ সালের একটি CIA memorandum-এর footnote-এ CIA প্রতিনিধি James Critchfield-এর মন্তব্য উদ্ধৃত করা হয়েছিল যে তিব্বতের ভেতরে অর্জন ছিল “minimal”, যদিও তিব্বতের বাইরে কার্যক্রমের ফল তুলনামূলকভাবে বেশি ছিল। অর্থাৎ CIA নিজেই বুঝেছিল যে Tibet-এর ভেতরে রাজনৈতিক ও সামরিক প্রভাব সৃষ্টি করা খুব কঠিন ছিল। �Office of the Historianএটি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ কখনও কখনও CIA-এর তিব্বত অভিযানকে এমনভাবে উপস্থাপন করা হয় যেন এর মাধ্যমে চীনা শাসন প্রায় ভেঙে পড়ার অবস্থায় চলে গিয়েছিল। সরকারি নথি তার চেয়ে অনেক বেশি সীমিত সাফল্যের ছবি দেয়। Tibetan guerrilla operations দীর্ঘদিন চললেও তারা চীনা নিয়ন্ত্রণ শেষ করতে পারেনি। CIA-এর নথিতে intelligence collection ও সীমিত paramilitary activity-এর কথা থাকলেও তিব্বতের ভেতরে রাজনৈতিক প্রভাব সীমিত ছিল।১৯৬০-এর দশকের শেষদিকে আন্তর্জাতিক রাজনীতির পরিস্থিতিও বদলাতে শুরু করে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন ছিল যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের সম্পর্কের ধীরে ধীরে উন্নতি। Richard Nixon-এর প্রশাসন চীনের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার দিকে এগোতে থাকে। Washington-এর কাছে Soviet Union-এর বিরুদ্ধে China-র সঙ্গে সম্পর্ক উন্নত করা ক্রমশ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। ফলে Tibet নিয়ে আগের মতো বড় covert program চালিয়ে যাওয়া মার্কিন কৌশলের সঙ্গে আর পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল না।১৯৬৯ সালের পর Tibetan paramilitary operations ধীরে ধীরে কমিয়ে আনার পরিকল্পনা শুরু হয়। মার্কিন সরকারি নথিতে বলা হয়, Nixon administration-এর প্রথম দিকে CIA-এর প্রস্তাব অনুযায়ী Tibetan paramilitary programme ধীরে ধীরে বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। �Office of the Historian১৯৭১ সালে CIA-এর Tibetan programme-এর অর্থও কমতে থাকে। ১৯৭১ সালের একটি নথিতে বলা হয়েছিল যে guerrilla support বাদ দিলে অন্যান্য Tibetan operations-এর জন্য অর্থায়ন আগের বছরে ৫০০,০০০ ডলারের বেশি থেকে কমিয়ে প্রায় ৩৬৩,০০০ ডলারে নামানোর প্রস্তাব করা হয়েছিল। �Office of the Historian১৯৭২ সালে এই পরিবর্তন আরও স্পষ্ট হয়। ৬ সেপ্টেম্বর ১৯৭২-এর একটি মার্কিন সরকারি memorandum-এর বিষয় ছিল “CIA Program of Support to the Dalai Lama, Tibetan Operations, and the Tibetan Forces in Nepal।” সেখানে বলা হয়, ১৯৭২ অর্থবছরে CIA-এর Tibetan programme-এর খরচ ছিল প্রায় ৫৫৭,০০০ ডলার এবং ১৯৭৩ অর্থবছরের জন্য প্রায় ৪৩৭,০০০ ডলার বাজেট করা হয়েছিল। Dalai Lama ও তাঁর entourage-কে subsidy, Nepal-এর Tibetan contingency force, press activities, intelligence activities এবং New York office-কে সহায়তা দেওয়া তখনও চলছিল। �Office of the Historianকিন্তু একই নথিতে দেখা যায়, এই সহায়তা ধীরে ধীরে কমিয়ে আনা হচ্ছিল। Nepal-এর paramilitary force-এর support বন্ধ করার পরিকল্পনা ছিল এবং ১৯৭৪ সালের মধ্যে সেই force-এর maintenance শেষ করার কথা বলা হয়েছিল। প্রায় ১,৮০০ সদস্যের force-এর মধ্যে অনেককে training ও resettlement-এর দিকে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনাও ছিল। �Office of the Historianআরও গুরুত্বপূর্ণ হলো, মার্কিন নীতিতে তখন একটি পরিবর্তন আসছিল। ১৯৭২ সালের নথিতে বলা হয়, New York office-সহ কিছু রাজনৈতিক কার্যক্রম ধীরে ধীরে বন্ধ করার পরিকল্পনা ছিল। পরিবর্তিত কর্মসূচির লক্ষ্য ছিল Dalai Lama-এর Tibetan cultural, ethnic এবং religious identity রক্ষার প্রচেষ্টাকে সমর্থন করা, কিন্তু আগের মতো aggressive propaganda বা political action-এ যুক্ত না থাকা। �Office of the Historianএর পেছনে প্রধান কারণ ছিল Washington-Beijing rapprochement। ১৯৭২ সালে Nixon-এর China visit এবং Mao Zedong-এর সঙ্গে বৈঠক আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে বড় পরিবর্তন আনে। যুক্তরাষ্ট্র চীনের সঙ্গে নতুন সম্পর্ক তৈরি করতে চেয়েছিল। সেই পরিস্থিতিতে CIA-এর তিব্বতি guerrilla programme চালিয়ে যাওয়া কূটনৈতিকভাবে সমস্যাজনক হয়ে উঠেছিল।ফলে ১৯৭০-এর দশকের প্রথম ভাগে CIA-এর Tibetan covert programme ধীরে ধীরে শেষ হয়ে যায়। এর অর্থ অবশ্য এই নয় যে তিব্বতি প্রশ্ন শেষ হয়ে যায়। Dalai Lama নির্বাসিত অবস্থায় Tibetan cause আন্তর্জাতিকভাবে তুলে ধরতে থাকেন। কিন্তু মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থার সরাসরি paramilitary support-এর যুগ শেষ হয়ে যায়।এই পুরো ইতিহাসে Dalai Lama-এর ভূমিকা তাই দুইভাবে দেখা যায়। প্রথমত, তিনি তিব্বতি জনগণের ধর্মীয় নেতা এবং নির্বাসিত তিব্বতি সমাজের প্রতীক। দ্বিতীয়ত, Cold War-এর সময় তিনি মার্কিন সরকারের কাছে Communist China-র বিরুদ্ধে একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক প্রতীক হয়ে ওঠেন। CIA এই রাজনৈতিক গুরুত্বকে কাজে লাগিয়ে তাঁর নেতৃত্বাধীন তিব্বতি আন্দোলনের বিভিন্ন অংশকে সহায়তা করেছিল। সরকারি নথি এই বিষয়টি স্পষ্ট করে। �Office of the Historian +1কিন্তু Dalai Lama-এর আন্দোলনকে পুরোপুরি CIA-এর তৈরি আন্দোলন বলা ঐতিহাসিকভাবে সঠিক হবে না। তিব্বতে চীনা কর্তৃত্ব নিয়ে স্থানীয় অসন্তোষ CIA-এর তৎপরতার আগেই ছিল। তিব্বতি প্রতিরোধের নিজস্ব সামাজিক ও রাজনৈতিক ভিত্তি ছিল। CIA সেই বিদ্যমান প্রতিরোধকে Cold War-এর মার্কিন কৌশলের সঙ্গে যুক্ত করে এবং তার কিছু অংশকে অর্থ, প্রশিক্ষণ ও অস্ত্র দিয়ে সহায়তা করে। এই পার্থক্যটি খুব গুরুত্বপূর্ণ।একইভাবে এটাও বলা ঠিক হবে না যে Dalai Lama-এর সমস্ত রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড CIA-এর নির্দেশে পরিচালিত হয়েছিল। বরং সরকারি নথি দেখায়, CIA তাঁকে এবং তাঁর অনুসারীদের বিভিন্নভাবে সাহায্য করেছিল এবং Tibetan cause-এর আন্তর্জাতিক প্রচার ও রাজনৈতিক সংগঠনকে সমর্থন করেছিল। কিন্তু তিব্বতি নেতৃত্বের নিজস্ব সিদ্ধান্ত, ভারত সরকারের ভূমিকা এবং আন্তর্জাতিক বৌদ্ধ ও মানবাধিকার সমর্থনের মতো অন্যান্য কারণও গুরুত্বপূর্ণ ছিল।তিব্বতি আন্দোলনের সঙ্গে CIA-এর সম্পর্কের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো ভারত। Dalai Lama ভারতে আশ্রয় পাওয়ার পর Dharamshala নির্বাসিত তিব্বতি সমাজের কেন্দ্র হয়ে ওঠে। CIA-এর অনেক কার্যক্রমও India এবং Nepal-এর সঙ্গে যুক্ত ছিল। ১৯৬৪ সালের নথিতে Dharamshala-তে Dalai Lama-এর entourage, Nepal-এর guerrilla force এবং India-ভিত্তিক Tibetan political activity-র কথা একসঙ্গে এসেছে। �Office of the Historianভারত অবশ্য CIA-এর তিব্বত কর্মসূচির অংশ ছিল না একই অর্থে। ভারত সরকার Dalai Lama-কে রাজনৈতিক আশ্রয় দিয়েছিল, কিন্তু Cold War-এর সময় India নিজস্ব Non-Aligned policy অনুসরণ করছিল। তাই CIA-এর কর্মকাণ্ড, ভারতীয় সরকারের নীতি এবং Dalai Lama-এর নিজস্ব রাজনৈতিক অবস্থানকে পৃথক করে দেখা দরকার।CIA-এর তিব্বত কর্মসূচির ইতিহাস থেকে আরও একটি বিষয় বোঝা যায়—গুপ্ত অভিযান কখনও শুধু অস্ত্র দিয়ে পরিচালিত হয় না। এখানে অস্ত্র ও guerrilla training-এর পাশাপাশি propaganda, রাজনৈতিক সংগঠন, refugee network, international lobbying, intelligence collection এবং অর্থায়ন ছিল। ১৯৬৮ সালের CIA report-এ এই বিভিন্ন উপাদান একসঙ্গে উল্লেখ করা হয়েছে। �Office of the Historian১৯৫৯ থেকে ১৯৭০-এর দশকের প্রথম ভাগ পর্যন্ত CIA এবং Tibetan resistance-এর সম্পর্ক তাই একটি দীর্ঘমেয়াদি covert partnership-এর রূপ নিয়েছিল। শুরুতে লক্ষ্য ছিল তিব্বতের ভেতরে Chinese control-এর বিরুদ্ধে resistance শক্তিশালী করা। পরে Dalai Lama-এর নেতৃত্বে Tibetan political identity ও international support বজায় রাখাও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। শেষ পর্যন্ত China-US relations পরিবর্তিত হওয়ায় এই covert programme ধীরে ধীরে বন্ধ হয়ে যায়।এই ইতিহাসের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য প্রমাণ পাওয়া যায় মার্কিন সরকারের প্রকাশিত Foreign Relations of the United States বা FRUS-এর নথিতে। সেখানে ১৯৫৯ সালের Dalai Lama-এর পলায়ন, CIA-এর covert support, Tibetan guerrilla training, Nepal-based force, political action, propaganda, intelligence operations এবং পরবর্তী অর্থ কমানোর সিদ্ধান্ত—সবকিছুর সরকারি রেকর্ড পাওয়া যায়। এমনকি ১৯৫৮–৬০ সালের নথিতেও Allen Dulles-এর সঙ্গে Eisenhower administration-এর Tibet নিয়ে আলোচনা এবং Dalai Lama-এর resistance-এর জন্য সহায়তার প্রস্তুতির উল্লেখ রয়েছে। �Office of the Historian +2তবে এই সরকারি রেকর্ডেরও সীমাবদ্ধতা আছে। FRUS-এর সম্পাদকীয় ভূমিকায় বলা হয়েছে যে Tibet-সংক্রান্ত নির্বাচিত নথির প্রায় ১২ শতাংশ অংশ CIA declassification করেনি এবং intelligence activities, sources ও methods সম্পর্কিত কিছু অংশ প্রকাশ করা হয়নি। ফলে আজ যে ইতিহাস জানা যায় তা গুরুত্বপূর্ণ হলেও সম্পূর্ণ নয়। �Office of the Historianএই সীমাবদ্ধতার কারণে CIA-এর তিব্বত অভিযান নিয়ে গবেষণায় সাবধানতা প্রয়োজন। যা প্রকাশিত নথিতে আছে তা নিশ্চিতভাবে বলা যায়; কিন্তু যে অংশ এখনও গোপন বা redacted, তার বিষয়ে অনুমানকে প্রমাণ হিসেবে ব্যবহার করা উচিত নয়। বিশেষ করে CIA কতটা সরাসরি Dalai Lama-এর রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নিয়ন্ত্রণ করেছিল, কোন কোন ব্যক্তিকে কীভাবে নিয়োগ করেছিল বা প্রতিটি রাজনৈতিক ঘটনার পেছনে CIA-এর কতটা ভূমিকা ছিল—এসব প্রশ্নের উত্তর সব ক্ষেত্রে প্রকাশ্য নথিতে নেই।সব মিলিয়ে Dalai Lama-এর আন্দোলন এবং CIA-এর সম্পর্ক ছিল Cold War-এর একটি বাস্তব এবং নথিভুক্ত অধ্যায়। ১৯৫০-এর দশকের মাঝামাঝি থেকে CIA তিব্বতি প্রতিরোধকে গোপনে সহায়তা করতে শুরু করে। ১৯৫৮ সালে covert support-এর অনুমোদন, ১৯৫৯ সালে Dalai Lama-এর ভারতে পলায়নের পর তাঁকে ও তাঁর entourage-কে covert subsidy, Camp Hale-এ তিব্বতি যোদ্ধাদের প্রশিক্ষণ, Nepal-এ guerrilla force, অস্ত্র ও যোগাযোগ ব্যবস্থা, Tibet-এর ভেতরে intelligence collection, আন্তর্জাতিক propaganda এবং Tibetan political institutions-কে সহায়তা—সবই এই কর্মসূচির অংশ ছিল। �Office of the Historian +2এই সম্পর্কের মূল কারণ ছিল Cold War-এর ভূরাজনীতি। যুক্তরাষ্ট্র Communist China-র প্রভাব কমাতে চেয়েছিল এবং Tibet-কে সেই বৃহত্তর কৌশলের একটি অংশ হিসেবে দেখেছিল। অন্যদিকে Dalai Lama এবং তিব্বতি প্রতিরোধের নিজস্ব লক্ষ্য ছিল তিব্বতি জনগণের রাজনৈতিক, ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক পরিচয় রক্ষা করা এবং চীনা নিয়ন্ত্রণের বিরোধিতা করা। দুই পক্ষের লক্ষ্য কিছু জায়গায় মিলেছিল, তাই সহযোগিতা তৈরি হয়েছিল।শেষ পর্যন্ত এই সহযোগিতা তিব্বতের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ পরিবর্তন করতে পারেনি। CIA-এর নিজস্ব নথিতেই তিব্বতের ভেতরে অর্জনকে সীমিত বলা হয়েছিল। কিন্তু এই কর্মসূচির ফলে Tibetan cause আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে দীর্ঘ সময় দৃশ্যমান থাকে এবং Dalai Lama নির্বাসিত তিব্বতি সমাজের সবচেয়ে পরিচিত আন্তর্জাতিক প্রতীকে পরিণত হন। ১৯৭০-এর দশকের শুরুতে China-US rapprochement-এর কারণে CIA-এর covert support ধীরে ধীরে কমে যায় এবং paramilitary programme বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। �Office of the Historian +2অতএব, Dalai Lama ও CIA-এর ইতিহাসকে সবচেয়ে সঠিকভাবে বলা যায় একটি Cold War-era covert relationship হিসেবে, যেখানে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা তিব্বতি প্রতিরোধ ও নির্বাসিত তিব্বতি নেতৃত্বকে রাজনৈতিক, আর্থিক, সামরিক ও গোয়েন্দা সহায়তা দিয়েছিল। এটি কেবল ধর্মীয় সম্পর্ক ছিল না, আবার কেবল সামরিক সম্পর্কও ছিল না। ধর্মীয় নেতৃত্ব, রাজনৈতিক পরিচয়, আন্তর্জাতিক প্রচার, guerrilla warfare এবং intelligence collection—সবকিছু মিলিয়ে এটি একটি বহুমাত্রিক কর্মসূচি ছিল। এর সূচনা হয়েছিল চীন-আমেরিকা Cold War সংঘাতের প্রেক্ষাপটে, আর এর অবসান ঘটে যখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের China policy পরিবর্তিত হয়ে Beijing-এর সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের দিকে যায়। এই কারণেই Dalai Lama ও CIA-এর সম্পর্কের ইতিহাস শুধু তিব্বতের ইতিহাস নয়; এটি Cold War-এর আন্তর্জাতিক রাজনীতি, ধর্মীয় নেতৃত্বের রাজনৈতিক

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *