নিরামিষ অতিথি দেব

বাড়িতে অতিথিকে ডেকে তার পছন্দ মত খাদ্য পরিবেশন করা ই ভদ্রতা আর নিজের পছন্দ মত খাদ্য তাকে জোর করে খেতে বাধ্য করা টা চরম রকম অভদ্রতা।ভারতে এখন নিরামিষ খাদ্য নিয়ে বাড়াবাড়ি মানসিক রোগের আকার ধারণ করেছে।এভাবে কি অতি হিন্দু হওয়ার চেষ্টা চলছে?নাকি এক ধরনের ডিক্টেটরশিপ চলছে? ব্রিকস এর সম্মেলনে নিমন্ত্রিত এবং আগত অতিথিদের জোর করে নিরামিষ খেতে বাধ্য করে কোন ধরনের অতিথি সেবা হলো সেটা আমার মাথায় ঢুকলো না।নিরামিষ এর প্রচার করতে হলে নিরামিষ আর আমিষ দু রকমের খাদ্য রাখা যেতে পারতো কিন্তু জোর করে শুধু নিরামিষ রেখে প্রমাণ করা হলো ভারত অতিথি সেবায় অক্ষম,গরীব, ভিখারী দেশ।যেসব খাদ্য ছিল,ওগুলো কোন খাদ্য হলো বিদেশীদের পরিবেশন করার জন্য?রাম রাম!আলুর ঝোল,কয়েক রকম ডাল তাও একদম ঘরোয়া খাওয়ার মত(আমি তো ঘরে ও এর থেকে ভাল করে রান্না করি),ডেজার্ট এর নামে সস্তার জিলিপি, মিলেটের হালুয়া। গতে বাধা রাজমা,পনির,পালং,সয়া শসে ডুবানো কিছু ঘাসপাতা,নুডলস সেদ্ধ,কিছু মাশরুম,মিলেট সেদ্ধ,মিলেটের হালুয়া সামান্য কিছুটা করে,ফ্রজেন রুটি(রুটি কেউ ফ্রজেন দেয় কাউকে?),কিছু নান এমন ই ছাতা মাথা সব খাদ্য।আমার তো এমন খাবার দাবার দেখেই লজ্জা লাগছিল।যারা এসেছিল সবাই প্রবল ভাবে আমিষাশী তাদের এমন সব খাদ্য তো গলা দিয়ে নামবেনা।দেশের ভেতরে কোন সম্মেলন হলে তবু বলতাম আচ্ছা ঠিক আছে কিন্তু বিদেশী অতিথিদের এমন আপ্যায়ন বোধহয় ভারতে কোন কালে হয়নি।সাধে কি আর বলছি রোগ!ওদিকে গুজরাটের ইলিশ বেচে বেচে পকেট ভরছে তখন হিন্দুত্ব বিপদে পড়ছে না আবার এমন নষ্টামি ও করছে। ছিঃছিঃ!তাও নিরামিষ রান্নাগুলো করার জন্য কোন বাঙালী কে দায়িত্ব দিত তাহলে কয়েক শত ভাল ভাল নিরামিষ রান্না করে তাক লাগিয়ে দিত,মিস্টি পশ্চিমবঙ্গের থেকে নিতে পারত তাহলে ভারতের শ্রেষ্ঠ মিষ্টি দিতে পারত।অন্য রাজ্যের ও স্পেশাল কিছু রাখতে পারতো,সব রাজ্যের স্পেশাল খাদ্যগুলো রাখতে পারতো কিন্তু সেসব না করে সব থেকে সাধারণ হালুয়া(তাও আবার মিলেটের হালুয়া!) আর জিলিপি?ইস!গুজরাটের রান্না মোটেই ভাল মনে হলোনা দেখে।তারপর সেই গুইরাটি ছাড়া আর কিছু চলবে না।ভারত মানে গুজরাট হয়ে গেছে।রাম মন্দিরে গয়না থেকে পাথর গুজরাট ছাড়া হবেনা।বিদেশীদের খাওয়ানো গুজরাট ছাড়া হবেনা তাতে দেশের নাম ডুবলে ডুবুক।জিনপিং এসব খাদ্য দেখে ভয়ে পালিয়েছে হোটেলে।বাকিরা কোনমতে হয়তো ওষুধের মত গিলেছে ভদ্রতা করে। মোদী যখন কোন দেশে যায় তখন সেই দেশ তার জন্য নিরামিষ খাদ্যের আয়োজন করে।ওদের পছন্দের মাছ,মাংস জোর করে খাওয়ানোর চেষ্টা করেনা।এমনকি ভারতীয় সেফ নিয়ে যায়।মোদীর ও কি সেটাই করা উচিৎ ছিলনা?এরপর থেকে সবদেশ যদি তাকে মাছ,মাংস খেতে দেয়,নিরামিষ না রাখে সেটা কি অন্যায় কিছু হবে নাকি?গুজরাতিরা আতিথেয়তা,ভদ্রতা মোটেই জানেনা,রুচি বোধের ও খুব অভাব যতই পয়সা থাক,একথা বলতে বাধ্য হলাম।দেখে মনে হলো এগুলো মোদীর প্রিয় খাদ্য।নিমন্ত্রণ করে আমরা নিজেদের প্রিয় খাদ্য কাউকে খাওয়াই না,তার প্রিয় খাদ্য খাওয়াই।মটন,চিকেন,প্রণ,রসমালাই,কালাকান্দ,কাজু কিশমিশ দেওয়া ভারতীয় পোলাউ,বেকড রসগোল্লা,মিষ্টি দই,পাঞ্জাবের অনেক ভাল ভাল ড্রাই মিষ্টি আছে,রাজস্থানের আছে, ডাল বাটি চুরমা,ভারতের মত খাদ্যের বৈচিত্র্য কোথাও নেই।বেছে বেছে কত কি রাখা যেত কিন্তু ভারতের মালিক তো গুজরাট তাই গুজরাটের বাইরের কিছু দেওয়া চলবেনা।বরাত টা তো গুজরতিদের পেতে হবে।অন্য কেউ রোজগার করে ফেললে কি করে হবে?এর আগে G 20 তেও বলতে গেলে শুধু মিলেটের বন্যা বওয়ানো হয়েছিল।মিলেট এর প্রচার করা হচ্ছে ভাল কথা,করা হোক কিন্তু যারা কোনদিন খায়নি তারা হঠাৎ করে কি খেতে পারে নাকি?তাছাড়া সেগুলো রাখলেও তাদের পছন্দের খাদ্য রাখাটা তো আগে উচিৎ।তাদের পছন্দের খাদ্য খাওয়ার পর তারা ওগুলো টেস্ট করতো সেটা অন্য কথা।ভারতকে জোর করে ঘাস খেকো ভারত বানিয়ে ছাড়বে।এক রাম রক্ষা নেই সুগ্রীব তার দোসরমোদীর জ্বালায় ই সবাই অতিষ্ঠ তার সাথে আছে ইসকন,আর্য সমাজ,জেনারেল বৈষ্ণবরা,জেনারেল নিরামিষাশীরা, জৈনরা।সব মিলে ঘাস পাতা চালু করে হিন্দুত্ব বাঁচাবে!ওদিকে মুসলমানরা হত্যা করে আর লাভ জেহাদ করে হিন্দু শেষ করছে।খ্রিষ্টানরা ধর্মান্তরিত করে হিন্দু শেষ করছে।তখন কোন হেলদোল নেই,হিন্দুদের বাঁচাবার কোন দায় নেই।তখন বলা হবে মুসলমান মুক্ত ভারতের কথা যারা বলবে তারা হিন্দু না।মুসলমান বা খ্রিস্টান হলে কে নিরামিষ খাবে?তাদের কি জোর করে খাওয়াতে যাবে না পারবে জোর দেখাতে?তাদের তো বলার ও সাহস হবেনা।তাহলে কি কারনে জোর করে সবাইকে নিরামিষ খাইয়ে ভীতু কাপুরুষ করার প্রয়াস চলছে?

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *