ইসলাম একটি একেশ্বরবাদী এবং আব্রাহামিক ধর্ম; যা আল্লাহর বানী (কোরআন) এবং নবী মুহাম্মাদ-এর প্রদত্ত শিক্ষা পদ্ধতি, জীবনাদর্শ (সুন্নাহ এবং হাদিস নামে লিপিবদ্ধ) দ্বারা পরিচালিত। ইসলাম শব্দটি এসেছে আরবি س-ل-م শব্দটি হতে; যার দু'টি অর্থঃ ১. শান্তি ২. আত্মসমর্পণ করা। সংক্ষেপে, ইসলাম হলো শান্তি (প্রতিষ্ঠা)'র উদ্দেশ্যে এক ও অদ্বিতীয় ঈশ্বর (আল্লাহ)-এর কাছে আত্মসমর্পণ করা।(এই শান্তি কেমন শান্তি যা আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য করে?ধরা যাক আমার আত্মসমর্পণ করতে ইচ্ছা হলো না তার অর্থ কি আমি অশান্তি করছি?বিনা কারণে আমি কারোর কাছে আত্মসমর্পণ করতে কেন বাধ্য হবো?আমার আত্মমর্যাদা আমি কেন বিসর্জন দেবো?যা মানুষকে আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য করে তা কিভাবে শান্তি হয়?তাকে কি জবরদস্তি বলা হয়না?কারোর কি করে অধিকার হয় কোন কিছুকে এক ও অদ্বিতীয় বলার?আল্লাহ যে এক ও অদ্বিতীয় তার প্রমান কোথায়?একটা জাতি কোন কিছুকে এক ও অদ্বিতীয় বললেই কি তা এক ও অদ্বিতীয় হয়ে যায়?অন্য কেউ তো অন্য কিছুকে এক ও অদ্বিতীয় বলতে পারে)।অনেকের ধারণা যে, মুহাম্মদ হলেন এই ধর্মের প্রবর্তক। তবে মুসলমানদের মতে, তিনি এই ধর্মের প্রবর্তক নন, বরং আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রেরিত সর্বশেষ ও চূড়ান্ত রাসূল (পয়গম্বর)। খ্রিষ্টীয় সপ্তম শতকে তিনি এই ধর্ম পুনঃপ্রচার করেন। পবিত্র কুরআন ইসলাম ধর্মের মূল ধর্মগ্রন্থ। এই ধর্মে বিশ্বাসীদের মুসলমান বা মুসলিম বলা হয়। মুসলিমরা যেকোনো জাতি, বর্ণের মানুষকে ইসলাম ধর্মে ধর্মান্তরিত হতে উৎসাহিত করে। মুসলমানরা বিশ্বাস করেন, কুরআন গ্রন্থটি আল্লাহরবাণী এবং এটি তার দ্বারা স্বর্গীয় দূত জিব্রাইল-এর মাধ্যমে মুহাম্মদ-এর নিকট প্রেরিত। তাদের বিশ্বাসঅনুসারে মুহাম্মদ স্রষ্টার সর্বশেষ বার্তাবাহক। মুসলমানরা বিশ্বাস করে যে ইসলাম হচ্ছে একটি পরিপূর্ণ ও সার্বজনীন ধর্ম এবং কুরআন হচ্ছে সর্বোত্তম জীবন বিধান।(মুসলমানদের কে অধিকার দিয়েছে ইসলাম কে সার্বজনীন ধর্ম বলার?সর্বজন কেন ইসলাম মানবে?যার মুসলমানের ঘরে জন্ম হয়নি সে কেন ইসলাম মানবে?কোরান যে সর্বোত্তম জীবন বিধান এটা ঠিক করার অধিকার ই বা কে মুসলমানদের দিলো?মুসলমানদের কাছে সর্বোত্তম জীবন বিধান হতে পারে অন্য ধর্মাবলম্বীদের কাছে কেন সর্বোত্তম হবে?অন্য ধর্মাবলম্বীদের ইসলাম গ্রহনে জোর করার অধিকার কে তাদের দিলো?কারোর অধিকার অন্য কেউ হরণ করতে পারে কি?ওদের এই কাজ যদি ন্যায্য হয় তাহলে অন্য ধর্মাবলম্বীরা ও মুসলমানদের কেন জোর করে ধর্মান্তরিত করবে না?আর সেটা করলে ওরা কোন আওয়াজ করার অধিকার রাখে কি?)?মুসলমানরা মৃত্যুর পরে পুনরুত্থানের উপর বিশ্বাস করে। এই দিনটিকে হাশরের দিন বলা হয়। এই দিন প্রত্যেক মানুষের কৃতকর্মের বিচার করা হবে এবং এর ভিত্তিতে বেহেশত বা দোযখে পাঠানো হবে। তারা আরও বিশ্বাস করে ভাগ্যের ভাল-মন্দ সবকিছু আল্লাহর পক্ষ থেকে নির্ধারিত।ইহুদি ও খৃস্ট ধর্মের ন্যায় ইসলাম ধর্মও ইব্রাহিমীয়।বর্তমান বিশ্বে মুসলমানের সংখ্যা আনুমানিক ১.৮ বিলিয়ন এবং তারা পৃথিবীর প্রধান ধর্মাবলম্বী গোষ্ঠীসমূহ।। এবং দ্বিতীয় বৃহত্তম ধর্মাবলম্বী গোষ্ঠী। মুহাম্মদ ও তার উত্তরসূরীদের প্রচার ও যুদ্ধ জয়ের ফলশ্রুতিতে ইসলাম দ্রুত বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে।বর্তমানে সমগ্র বিশ্ব জুড়ে, বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্য, উত্তর আফ্রিকা, দক্ষিণ এশিয়া, পূর্ব আফ্রিকা, পশ্চিম আফ্রিকা, মধ্য এশিয়া, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, পূর্ব ইউরোপে মুসলমানরা বাস করেন। আরব দেশের মুসলমানরা মোট মুসলমান জনসংখ্যার শতকরা মাত্র ২০ ভাগ।যুক্তরাজ্যসহ বেশ কিছু বলকান অঞ্চলদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম ধর্ম ইসলাম।(গায়ের জোরে ইসলাম প্রতিষ্ঠিত ও প্রসারিত হয়েছে সেটা ওদের লেখাতেই প্রমানিত।আরব কে ইসলামের জন্মস্থান বলা হয় তাহলে সেখানে ১.৮ বিলিয়ান মুসলমানদের মাত্র ২০ শতাংশ কেন থাকে?পৃথিবীর অন্য দেশগুলোতে কেন এবং কোন অধিকারে মুসলমানরা বেশী থাকে?মুসলমান দেশগুলোতে কি অন্য ধর্মাবলম্বীদের মুসলমানদের থেকে বেশী সংখ্যায় থাকতে দেয় তারা?অন্য ধর্মের দেশে তাহলে কেন এবং কোন অধিকারে তারা সংখ্যায় বেশী থাকবে)?মুসলমানদের ধর্ম বিশ্বাসের মূল ভিত্তি আল্লাহর একত্ববাদ।তারা আরও বিশ্বাস করেন, তাদের পবিত্র গ্রন্থ কুরআন নিখুঁত, অবিকৃত ও মানব এবং জ্বিন জাতির উদ্দেশ্যে অবতীর্ণ আল্লাহর সর্বশেষ বাণী, যা পুনরুত্থান দিবসে বা কেয়ামত পর্যন্ত বহাল ও কার্যকর থাকবে। তবে কিছু সম্প্রদায়, যেমনঃ আহমদী বা কাদিয়ানী নামক একটি সম্প্রদায় মনে করে মুহাম্মদ শেষ নবী নন; বরং যুগের চাহিদা মোতাবেক নবুওয়াতের ধারা অব্যহত থাকবে। এবং শিয়াদের একটি বিরাট অংশ বিশেষ ইসমাঈলীয়দের মধ্যে প্রচলিত বিশ্বাস যে, ইমাম ইসমাঈল আখেরী নবী ছিলেন। (মুসলমানরা যদি মনে করে তাদের কোরান সমস্ত মানব জাতির জন্য অবতীর্ণ তারমানে কি সব মানুষকে সেটা মানতে হবে?যারা মুসলমান নয় তারা কেন মানবে?কোন গোত্রের মুসলমান ও মহম্মদকে শেষ নবী না মানে সেটা তাদের ব্যাপার,সবাই কে কন্ট্রোল করার অধিকার মুসলমানরা কোথায় পেল?আর কোরান যদি সব জাতির জন্য ই অবতীর্ণ হয়ে থাকে তাহলে অন্য ধর্মাবলম্বী তৈরী হলো কি করে?অন্য ধর্মাবলম্বী তো থাকার ই কথা না)।ইসলামী বিশ্বাস অনুসারে, আদম হতে শুরু করে আল্লাহ্ প্রেরিত সকল পুরুষ ইসলামের বাণীই প্রচার করে গেছেন। কুরআনের সূরা ফাতিরে বলা হয়েছে,“"নিঃসন্দেহে আমি তোমাকে (মুহাম্মদ) পাঠিয়েছি সত্যের সাথে সুসংবাদদাতা এবং সতর্ককারীরূপে। আর এমন কোনো সম্প্রদায় নেই, যাঁদের মধ্যে একজন সতর্ককারী পাঠানো হয়নি।"৩৫:২৪।"ইসলামের দৃষ্টিতে ইহুদি ও খ্রিস্টান উভয় ধর্মাবলম্বীরাই ইব্রাহিমের শিক্ষার ঐতিহ্য পরম্পরা। উভয় ধর্মাবলম্বীকে কুরআনে "আহলে কিতাব" বলে সম্বোধন করা হয়েছে । কুরআনের সূরা আলে ইমরানে আহবান করা হয়েছে।(আব্রাহামিক ধর্মগুলো যদি সব ইব্রাহিমের মতবাদ অনুসারে পালিত হয় তাহলে আব্রাহামিক মতের প্রথম ধর্ম ইহুদী ধর্ম তাহলে তারপর আবার খৃষ্ট ধর্ম আর ইসলাম ধর্মের সৃষ্টি কেন করতে হলো?ইহুদী ধর্ম যদি নির্ভুল না হয় তাহলে খৃষ্ট ধর্ম আর ইসলাম ধর্ম ই বা কি করে নির্ভুল হবে?ইব্রাহিম যা প্রতিষ্ঠা করেছে সেটাই তো তাহলে ভুল প্রমান হয় খৃষ্টান আর মুসলমানরা যদি দাবী করে তারা আগের ভুল সংশোধন করেছে তাহলে প্রমান হয় ইব্রাহীম মানে আব্রাহামিক ধর্মের প্রতিষ্ঠাতা ঠিক নয় আর সেটা যদি যীশু আর মুহম্মদ সংশোধন করে থাকে তার অর্থ হলো যীশু মহম্মদ ঠিক।এবার তাহলে প্রশ্ন হলো ধর্ম কে যদি সংশোধন করার দরকার হয় তাহলে আর ধর্ম কিসের?তাহলে ওই তিনটা ধর্মের কোনটাই ধর্ম না কারণ তিনটা ধর্মই মোটামুটিভাবে একই নিয়ম কানুন অনুসরণ করে চলে)।“"তুমি (মুহাম্মদ) বল, হে কিতাবীগণ, এসো সেই কথায় যা তোমাদের এবং আমাদের মধ্যে এক; যেন আমরা আল্লাহ ব্যতীত কারও ইবাদত না করি। কোনো কিছুকেই তাঁর শরিক না করি। এবং আমাদের কেউ কাউকে আল্লাহ ব্যতীত উপাস্য হিসেবে গ্রহণ না করি। যদি তাঁরা মূখ ফিরিয়ে নেয় তবে বল, তোমরা স্বাক্ষী থাক; অবশ্যই আমরা মুসলিম।"৩:৬৪”(মহম্মদ কোথায় এই অধিকার পেল সবাইকে আল্লাহর ইবাদত করতে বলার?আব্রাহামিক ধর্মের প্রথম প্রথম ধর্ম ইহুদী ধর্ম তাহলে এক ঈশ্বর মানতে হলে সেটাই সবার মানা উচিৎ ছিল কিন্তু মানুষ সেটা না মেনে দ্বিতীয় বার খৃষ্ট ধর্ম বানালো,গডের সৃষ্টি করলো,খৃষ্টান জাতির জন্ম দিলো,তারপর তাতে ও হলো না,তৃতীয় বার আবার মহম্মদকে ইসলাম ধর্মের জন্ম দিতে হলো,আল্লাহর জন্ম দিতে হল,মুসলমান জাতির জন্ম দিতে হলো।জন্ম দিলো তো মুসলমানরা মানুক আল্লাকে,মুহম্মদ সবাই কে কেন বাধ্য করতে চাইবে আল্লাহর ইবাদত করার জন্য?কেউ আল্লাহকে না মানলে মুসলমানদের সাক্ষী থাকার ই বা কি দরকার)?এই ধর্ম দুটির গ্রন্থসমূহের বিভিন্ন ঘটনা ও বিষয়ের উল্লেখ কুরআনেও রয়েছে, তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে রয়েছে পার্থক্য। ইসলামি বিশ্বাসানুসারে এই দুই ধর্মের পন্ডিতগণ তাদের নিকট প্রদত্ত আল্লাহ্-এর বাণীর অর্থগত ও নানাবিধ বিকৃতসাধন করেছেন। ইহুদিগণ তৌরাতকে (তোরাহ) ও খৃস্টানগণ ইনজিলকে নতুন বাইবেল বলে থাকে।(কে কার ধর্মগ্রন্থ বিকৃত করেছে সেটা ঠিক করার অধিকার মুসলমানদের কে দিলো?ভুল বা ঠিক সেটা যাদের ব্যাপার তারাই বুঝুক।তাছাড়া কি ভাবে নির্ণয় করলো মহম্মদ আগের গ্রন্থ দুটোতে বিকৃতি করা হয়েছে ?কে বিকৃত করেছে?যদি আল্লাহর বানী ইহয় তাহলে বিকৃত হলো কি করে?হয় বলতে হয় আল্লাহই বিকৃত করে পাঠিয়েছে,তারমানে আল্লাহ বিকৃত কথাবার্তা ই বলে।অথবা ইহুদী আর খৃষ্টানরা বিকৃত করেছে।আর যদি ইহুদী আর খৃষ্টানো বিকৃত করে থাকে তারমানে আল্লাহর ক্ষমতা মোটেই নেই কারণ তার বক্তব্য কে মানুষরা বিকৃত করার ক্ষমতা রাখে)।মুসলমানগণ বিশ্বজগতের সৃষ্টিকর্তাকে 'আল্লাহ' বলে সম্বোধন করেন। ইসলামের মূল বিশ্বাস হলো আল্লাহর একত্ববাদ বা তৌহিদ। আল্লাহর একত্বের সাক্ষ্য দেওয়া ইসলামের পাঁচটি মূল স্তম্ভের মধ্যে প্রথম, যাকে বলা হয় শাহাদাহ। এটি পাঠের মাধ্যমে একজন স্বীকার করেন যে, আল্লাহ্ ব্যতীত অন্য কোনো উপাস্য নাই এবং মুহাম্মদ [(সাঃ)] তাঁর প্রেরিত বাণীবাহক বা রাসূলসুরা এখলাছে আল্লাহর বর্ণনা দেয়া হয়েছে এভাবে, [قُلْ هُوَ اللهُ أَحَدٌ. اللهُ الصَّمَدُ. لَمْ يَلِدْ وَلَمْ يُولَدْ. لَمْ يَلِدْ وَلَمْ يُولَدْ. وَلَمْ يَكُنْ لَهُ كُفُوًا أَحَدٌ] {الاخلاص:১-৪}“"বলুন, তিনি আল্লাহ, এক, আল্লাহ অমুখাপেক্ষী, তিনি কাউকে জন্ম দেননি এবং কেউ তাঁকে জন্ম দেয়নি এবং তাঁর সমতুল্য কেউ নেই।"১১২:১-৪”(মুসলমানরা সব সময় দাবী করে আল্লাহ তাদের পৃথিবীতে পাঠিয়েছে,এখানে আবার বলছে তিনি কাউকে জন্ম দেয়নি তাহলে মুসলমানদের জন্ম হলো কি ভাবে)?আল্লাহ্ শব্দটি আল এবং ইলাহ যোগে গঠিত। আল অর্থ সুনির্দিষ্ট এবং ইলাহ অর্থ উপাস্য, যার অর্থ সুনির্দিষ্ট উপাস্য। খৃস্টানগণ খৃস্ট ধর্মকে একেশ্বরবাদী বলে দাবী করলেও মুসলিমগণ খৃস্টানদের ত্রিত্ববাদ(trinity) বা এক ঈশ্বরের মধ্যে পিতা, পুত্র ও পবিত্র আত্মার মিলন, এই বিশ্বাসকে অস্বীকার করেন। ইসলামি ধারণায় আল্লাহ সম্পূর্ণ অতুলনীয় ও পৌত্তলিকতার অসমতুল্য, যার কোনোপ্রকার আবয়বিক বর্ণনা অসম্ভব। মুসলিমরা তাদের সৃষ্টিকর্তাকে বর্ণনা করেন তাঁর বিভিন্ন গুণবাচক নাম ও গুণাবলীর মাধ্যমে। কিতাবুল ঈমানে আল্লাহর বর্ণনা এভাবে আছে :আল্লাহ এক, অদ্বিতীয়, অতুলনীয়। তার কোন অংশ বা অংশিদার বা শরিক নেই। তিনি কারো উপন নির্ভরশীল নন, বরং সকলেই তার উপর নির্ভরশীল। তার কোন কিছুর অভাব নেই। তিনিই সকলের অভাব পূরণকারী। তিনি কারো পিতা নন, পুত্র নন, তাঁর সমতুল্য কেউ নেই। একমাত্র তিনি সবকিছুর সৃষ্টিকর্তা,রক্ষাকর্তা ও পালনকর্তা। কোন জ্ঞান বা চক্ষু আল্লাহ তাআলাকে আয়ত্ব করতে পারেনা।(যার কোন আকার নেই তার আবার গুন থাকে কি করে?নাম ই বা থাকে কি করে?ধরা যাক আমার গান গাইতে ইচ্ছা হলো কিন্তু আমার কোন আকার নেই তাহলে আমার গলা ও নেই,মুখ ও নেই তাহলে আমি গান কি করে গাইবো?মুখ ছাড়া কিছু উচ্চারণ করতে পারবো না,গলা ছাড়া স্বর নির্গত হবেনা তাহলে গান কিভাবে গাইবো?কে গাইবে?আমার তো কোন আকার নেই অর্থাৎ আমি বলে কোন কিছুর অস্তিত্ব ই নেই তাহলে আমার গান করার ইচ্ছা ই বা কি ভাবে হবে।আল্লাহর কোন কিছুর অভাব নেই যখন তখন সারা পৃথিবী দখল করার ইচ্ছা কেন হয়)?তিনি চিরকাল আছেন এবং থাকবেন। তিনি অনাদি ও অনন্ত। আল্লাহ ছাড়া আর কোন মাবুদ নাই। শুধু তিনিই ইবাদত (উপাসনা) পাওয়ার যোগ্য। তিনি সর্বশক্তিমান। আল্লাহ তায়ালা দুনিয়াতে ঘটমান সব কিছু দেখতে ও শুনতে পান। তাঁর কোনো কিছুর প্রয়োজন নেই, তিনি সবকিছুর ঊর্ধ্বে।যার অস্তিত্ব ই নেই সে আছে এবং থাকবে কি ভাবে?যযার কোন অস্তিত্ব ই নেই তার আবার কিসের উপাসনা?অস্তিত্ব নেই তো উপাসনা কি ভাবে গ্রহন করবে?যার কোন অস্তিত্ব ই নেই সে ই শুধু কি করে ইবাদত পাওয়ার যোগ্য হয়? অস্তিত্ব বিহীন কোন কিছুর শক্তি কোথায় থাকবে?শক্তি থাকার জন্য তো একটা আধার থাকা চাই।কিছু দেখা এবং শোনার জন্য চোখ এবং কান থাকতেই হবে,আল্লাহর যখন কোন অস্তিত্ব ই নেই চোখ এবং কান কোথায় থাকবে আর কি ভাবে সে সব দেখবে আর সব শুনবে?সে যখন সব কিছুর উর্দ্ধে তার যখন কোন কিছুর প্রয়োজন নেই তখন ইবাদত দিয়ে সে কি করবে)?মুসলিমরা বিশ্বাস করে, আল্লাহর বর্ণনা মানুষের কল্পনা, বিজ্ঞান, দর্শন দ্বারা জানা সম্ভব না।(কিছু দিয়েই যখন আল্লাহকে জানা যাবে না তখন মুসলমানরা জানলো কি করে যে আল্লাহ বলে কিছু আছে)?ফিরিশতা বা ফেরেশতা ফারসী শব্দ। ফেরেশতা আরবী প্রতিশব্দ হলো 'মালাইকা'। ফেরেশতায় বিশ্বাস ইসলাম ধর্মে বিশ্বাসের একটি মূল নীতি। এরা অন্য সকল সৃষ্টির মতই আল্লাহর আরেক সৃষ্টি। তাঁরা মুলত আল্লাহর দূত। তারা সর্বদা ও সর্বত্র আল্লাহর বিভিন্ন আদেশ পালনে রত এবং আল্লাহর অবাধ্য হবার কোনো ক্ষমতা তাদের নেই। ফেরেশতারা নূর তথা আলোর তৈরি। তারা খাদ্য ও পানীয় গ্রহণ করেন না। তারা পবিত্র স্থানে অবস্থান করেন। তারা আল্লাহর আদেশ অনুসারে যেকোনো স্থানে গমনাগমন ও আকৃতি পরিবর্তনের ক্ষমতা রাখেন।('ফেরেশতা' শব্দটি ফার্সি কিন্তু ফেরেশতা নাকি আল্লাহর দূত তো আল্লাহ কেমন শক্তি যে নিজের দূতের জন্য নিজের ভাষা ব্যাবহার না করে অন্যের থেকে ভাষা ধার করে ব্যাবহার করতে হলো? মানে গ্যাঁজাখুরি গল্পে বিশ্বাস ইসলাম ধর্মে একটা মূল নীতি?ফেরেশতাতা আলো দিয়ে তৈরী হলে কি করে আল্লাহর হুকুম পালন করে?কি করে আল্লাহর বাধ্য হয়?প্রান বিহীন কিছু কি কারোর আদেশ পালন করতে পারে?আলো কোনদিন কারোর আদেশ পালন করেছে একথা কেউ কখনও শুনেছে?আলো আবার আকৃতি কি ভাবে গ্রহন করবে?কোথাও যাবেই বা কি ভাবে)?ফেরেশতাদের সংখ্যা অগণিত। ইসলামে তাদের কোনো শ্রেণীবিন্যাস করা না হলেও চারজন গুরুদায়িত্ব অর্পিত প্রধান ফেরেশতার নাম উল্লেখযোগ্য:(শ্রেনীবিন্যাস ছাড়া আলো হয়?বেশী আলো,কম আলো অন্তত তো থাকতেই হবে)।জিব্রাইল – ইনি আল্লাহর দূত ও সর্বশ্রেষ্ঠ ফেরেশতা। এই ফেরেশতার নাম তিনবার কুরআন শরীফে উল্লেখ করা হয়েছে (সূরা ২:৯৭; ৯৮, ৬৬:৪)। সূরা ১৬:১০২ আয়াতে জিব্রাইল ফেরেশতাকে পবিত্র রূহ বা রুহুল ক্বুদুস বলা হয়েছে। আল্লাহর আদেশ-নিষেধ এবং সংবাদ আদান-প্রদান যেসব ফেরেশতার দায়িত্ব, জিব্রাইল তাদের প্রধান। জিব্রাইল-ই আল্লাহর বাণী নিয়ে নবীদের কাছে গমনাগমন করেন। এই ফেরেশতাকে ইসলামের নবী মুহাম্মদ তার নিজস্ব আকৃতিতে মোট দুইবার দেখেছেন। পবিত্র কোরআনে সূরা আন নাজমে বলা হয়েছে,(আলোর ও তাহলে রুহ থাকে?রুহ মানে আত্মা,আলোর আত্মা,কেমন হয়?দেহ নেই অথচ খবর আদান প্রদান করছে,কি ভাবে করছে?কিছুর সাথে মিল পাচ্ছেন পাঠকগন?হিন্দু ধর্মের নারদ মুনি কে হাইজ্যাক করেছে কি মহম্মদ?নারদ মুনি ই তো খবর আদান প্রদানের কাজ করতেন। উপরে একবার বলা হয়েছে জিব্রাইলের শরীর আলো দিয়ে তৈরী আবার বলা হয়েছে তার নিজস্ব আকৃতিতে মহম্মদ তাকে দুবার দেখেছে,তাহলে ব্যাপার টা কি দাঁড়ালো?আলোর কোন আকৃতি হয়না কিন্তু তা স্বত্তেও মহম্মদ তাকে দুবার নিজের আকৃতি তে দেখেছিল,কি ভাবে সেটা সম্ভব হয়েছিল?কেমন ছিল সেই আকৃতি)?“"সে ঊর্ধ্বাকাশের উপরিভাগে। তারপর সে কাছে এলো। অতঃপর সে আরো কাছে এলো। তাঁদের মাঝে ব্যবধান থাকল দুই ধনুকের বা তাঁর চাইতেও কম। অতঃপর সে তাঁর বান্দার কাছে ওহী পৌঁছে দিল, যা তাঁর পৌঁছানোর ছিল। সে যা দেখেছে, অন্তর তা মিথ্যা প্রতিপন্ন করেনি। তোমরা কী সে বিষয়ে বিতর্কে লিপ্ত হতে চাও, যা সে নিজের চোখে দেখেছে। সে তাঁকে আরও একবার দেখেছিল। সিদরাতুল মুন্তাহার কাছে।” ৫৩:৭-১৪”প্রাসঙ্গিক হাদিসসমূহ: মুসলিম শরীফ ৩২৯, ৩৩০, ৩৩২, ৩৩৩, ৩৩৪ এবং ৩৩৬(আল্লাহ যখন নিজের চোখে দেখেছে তখন বর্ননা করতে অসুবিধা কি?তাতে বিতর্কের কি আছে?আকার হীন অালো কি ভাবে ওহী পৌঁছে দিল মহম্মদের কাছে?মুখ আর কন্ঠ ছাড়া ওহীগুলো বললো কি ভাবে?মহম্মদ একজন শক্তিশালী নবী তার কাছে ওহী পাঠানোর জন্য জিব্রাইল কে কেন দরকার হলো?আল্লাহ নিজেই তো বলতে পারতো আর মহম্মদ তার ক্ষমতা বলে সেসব শুনে নিতে পারতো।জিব্রাইলের কষ্ট করে দুবার যাওয়া আসার দরকার কি ছিল)?মিকাইল – কুরআনের ২:৯৭ আয়াতে এই ফেরেশতার নাম উল্লেখ করা হয়েছে। ইনি বৃষ্টি ও খাদ্য উৎপাদনের দায়িত্বপ্রাপ্ত।(এ তো দেখি হিন্দুধর্মের দেবরাজ ইন্দ্রকে হাইজ্যাক করেছে,ইন্দ্র বজ্র,বৃষ্টি আর নদীর জল দিলে হিন্দুরা চাষবাস করে। সর্বশক্তিমান আল্লাহ তাহলে নিজের ক্ষমতায় বৃষ্টি আর খাদ্য দিতে পারেনা?দেবরাজ ইন্দ্র কে ধরে নিয়ে যেতে হয় বৃষ্টি আর খাদ্য উৎপাদন করার জন্য?মুসলমানরা তাহলে কেন বলে খাদ্য দেবে আল্লাহ?এবার থেকে বলুক খাদ্য দেবে অন্নপূর্না)।ইসরাফিল – এই ফেরেস্তা আল্লাহর আদেশ পাওয়া মাত্র শিঙ্গায় ফুঁক দেওয়ার মাধ্যমে কিয়ামত বা বিশ্বপ্রলয় ঘটাবেন। তার কথা কুরআন শরীফে বলা না হলেও হাদিসে উল্লেখ করা হয়েছে।(আল্লাহর ধ্বংস করার ও ক্ষমতা নেই?ধ্বংস করার জন্য ও ইসরাফিলের উপর আল্লাহকে নির্ভর করতে হবে?এ ও তো দেখি হিন্দুধর্মের মহেশ্বর বা শিব কে হাইজ্যাক করে নিয়ে রেখেছে ধ্বংস করার জন্য,হিন্দু ধর্মে মহেশ্বর বা শিব বা মহাদেব ই বিশ্বপ্রলয় ঘটিয়ে থাকে।এত দীনতা আল্লাহর?সব কিছুর জন্য ই তো দেখি হিন্দু দেবতাদের উপর নির্ভর করে থাকতে হচ্ছে)।মালাকুল-মাউত – ইনি মৃত্যুর ফেরেশতা ও প্রাণ হরণ করেন।(মুসলমানদের মৃত্যুর জন্য ও আলাদা ফেরেস্তা দরকার?আল্লাহ মুসলমানদের প্রানটাও নেবার ক্ষমতা রাখে না?এখানেও তো দেখি হিন্দুদের যমরাজকে এবং যমদূতদের ধরে রেখেছে মুসলমানদের প্রান নেওয়ার জন্য)।বিশেষ শ্রেণীর ফেরেশতা যাদেরকে কুরআনে 'কিরামান কাতিবিন' (অর্থ: সম্মানিত লেখকগণ) বলা হয়েছে তাঁরা প্রতিটি মানুষের ভালো মন্দ কাজের হিসাব রাখেন। কবরে মুনকির ও নাকির নামের দুই ফেরেশতা মানুষকে তার কৃত কর্মের ব্যাপারে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। মালিক নামের ফেরেশতা নরক বা জাহান্নামের রক্ষণাবেক্ষণ করেন এবং রিদওয়ান নামের আরেক ফেরেশতা জান্নাত বা বেহেশতের দেখভাল করেন বলে বর্ণিত আছে। ইসলাম, খৃস্টান ও ইহুদী ধর্ম ছাড়া হিন্দুধর্মেও ফেরেশতা তথা স্বর্গীয় দূতদের অস্তিত্বের কথা বলা হয়েছে।(আরে আরে ইসলামের এত দৈন্য?আল্লাহ তো দেখি কিছুই করার ক্ষমতা নেই,শুধু মুসলমানদের দিয়ে মানুষ হত্যা করানো ছাড়া।হিন্দুদের ভাল মন্দ কাজের হিসাব তো চিত্রগুপ্ত লিখে রাখে,তাকে ও ধরে নিয়ে গেছে মুসলমানদের পাপ পূন্যের হিসাব লিখে রাখার জন্য?অবশ্য মুসলমানদের কোন পূন্যের হিসাব লিখতে হবেনা শুধু পাপের হিসাব ই লিখতে হবে কারণ আল্লাহ তাদের কোন পূন্যের কাজ করতে বলেনি,শুধু পাপ ই করতে বলেছে।জান্নাত দেখার দায়িত্ব দেবরাজ ইন্দ্র আর জাহান্নাম দেখার দায়িত্ব যমরাজকে দিতে হয়েছে?হিন্দুধর্মে স্বর্গ আর নরকের মালিক তো এরা দুজন ই।সব কিছুর জন্য যখন হিন্দু দেবতাদের উপর ই নির্ভর করতে হয় তখন আল্লাকে বাতিল করে হিন্দু দেবতাদের উপর নির্ভর করলে ই হয়)।আসমানী কিতাব হলো মূলত আল্লাহর বাণী যা আল্লাহ তায়ালা হযরত জিব্রাইল (আঃ) নামক ফেরেশতার মাধ্যমে রাসূলগণের নিকট প্রেরণ করেছেন।প্রধান আসমানী কিতাব ৪টি; যথাঃ ১. তাওরাত ২. যবূর ৩. ইঞ্জিল ৪. কুরআন মাজীদ এ ছাড়াও আরও ১০০ সহিফা বা ছোট আসমানী কিতাব নাজিল হয়েছে।(কোরান ছাড়া কোনটাই ইসলামিক কিতাব না বা কোনটাই মুসলমানরা লেখে নি তাহলে প্রথম তিনটি কিতাব নিয়ে কেন মুসলমানরা টানাটানি করে?বা ওগুলোকে ও আশমানী কিতাব বলে দাবী করে?ওগুলো আশমানী কিতাব হোক বা জমিনের কিতাব হোক ওগুলো তো মুসলমানদের না।ওগুলো মুসলমানের শত্রু কাফেরদের কারণ মুসলমানরা ইহুদী এবং খৃষ্টান সবাইকে ই কাফের বলে।তাহলে তাদের কিতাবের উপর কিসের অধিকার?নাকি নিজেদের ক্ষমতায় কিছু লিখতে পারেনি ওই দুই ধর্মাবলম্বীদের লেখা কিতাব চুরি করে ইসলাম জাহির করে)?হাত্তাত আজিজ এফেন্দির হস্তলিখিত - কুরআনের প্রথম সুরা।কুরআন মুসলিমদের মূল ধর্মগ্রন্থ। তাদের বিশ্বাস পবিত্র এই কুরআন স্রষ্টার অবিকৃত, হুবহু বক্তব্য। বিশ্বাস করা হয়, আল্লাহ নিজেই কুরআনের সংরক্ষণের দায়িত্ব নিয়েছেন। এর আগে স্রষ্টা প্রত্যেক জাতিকে বিভিন্ন গ্রন্থ পাঠিয়েছেন, কিন্তু সেগুলোকে বিকৃত করা হয়। কুরআনকে আরও বলা হয় "আল-কুরআন" । বাংলায় "কুরআন"-এর জায়গায় বানানভেদে "কোরআন" বা "কোরান"ও লিখতে দেখা যায়।(স্রষ্টা যদি বিভিন্ন জাতিকে ধর্মগ্রন্থ পাঠালো ই তখন একবারে ঠিক টা পাঠাতে পারলো না?নাকি কি লিখবে প্রথমে বুঝতে পারেনি?আর বিকৃত হলে কে করেছে?আল্লাহ ই করেছে কারণ সব তো আল্লাহর ই বলা।তাহলে আল্লাহ ও ভুলভাল বলে)?ইসলাম ধর্মমতে, জীব্রাইল ফেরেশতার মাধ্যমে নবী মুহাম্মদ-এর নিকট ৬১০ খ্রিস্টাব্দ থেকে ৬ই জুলাই, ৬৩২ খ্রিস্টাব্দে তাঁর মৃত্যু অবধি বিভিন্ন সময়ে আল্লাহ তাঁর বাণী অবতীর্ণ করেন। এই বাণী তাঁর (মুহাম্মদের) অন্তঃস্থ ছিলো, সংরক্ষণের জন্য তাঁর অনুসারীদের দ্বারা পাথর, পাতা ও চামড়ার ওপর লিখেও রাখা হয়।(আল্লাহ কোরান লেখার জন্য কিছু দিতে ও পারলো না?সেই পৃথিবীর পাথর,পাতা,চামড়া এসবের উপর নির্ভর করতে হলো)?অধিকাংশ মুসলিম পবিত্র কুরআনের যেকোনো পাণ্ডুলিপিকে অত্যন্ত শ্রদ্ধা করেন, স্পর্শ করার পূর্বে ওজু করে নেন। কুরআন জীর্ণ ও ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়লে আবর্জনা হিসেবে ফেলে দেয়া হয় না, বরং কবর দেয়ার মত করে মাটির নিচে রেখে দেয়া হয় বা পরিষ্কার স্রোতের পানিতে ডুবিয়ে দেয়া হয়।(পবিত্র কোরানকে মৃতদেহের মতো কবর দেওয়া হয় পচে যাবার জন্য?জলে ফেলে দেওয়া হয় নর্দমার জলের সাথে মিশবার জন্য?এখন তো নদী,সমুদ্র সব কিছুতে নর্দমার জল মেশে।এ কেমন শ্রদ্ধা)?প্রত্যেক মুসলিমই কুরআনের কিছু অংশ এর মূল ভাষা আরবিতে মুখস্থ করে থাকেন, কমপক্ষে যেটুকু আয়াত নামাজ আদায়ের জন্য পড়া হয়। সম্পূর্ণ কুরআন মুখস্থকারীদের হাফিজ (সংরক্ষণকারী) বলা হয়। মুসলিমরা আরবি কুরআনকেই কেবলমাত্র নিখুঁত বলে বিশ্বাস করেন। সকল অনুবাদ মানুষের কাজ বিধায় এতে ভুল-ত্রুটি থাকার সম্ভাবনা থেকে যায় এবং বিষয়বস্তুর মূল প্রেরণা ও সণেটিক উপস্থাপনা অনুবাদকর্মে অনুপস্থিত থাকতে পারে বিধায় অনুবাদসমূহকে কখনোই আরবি কুরআনের সমতুল্য ও সমান নিখুঁত গণ্য করা হয় না, বরং এগুলোকে সর্বোচ্চ ‘অর্থানুবাদ’ হিসেবে অভিহিত করা হয়।(মুসলমানরা যখন আরবী কোরানকেই আসল কোরান বলে মনে করে তাহলে সব মুসলমানের কি আরবীতে ই কথা বলা উচিৎ না?আরবে গিয়ে ই থাকা উচিৎ না?মুসলমানরা নিজেদের বাঙ্গালী বলে দাবী করে কোন আক্কেলে?বাঙ্গালী হলে সে মুসলমান হতে পারেনা আর মুসলমান হলে বাঙ্গালী হতে পারেনা।আরবীতে সনেট হয়না)।বলা হয়, হযরত আদম থেকে শুরু করে হযরত মুহাম্মদ পর্যন্ত আল্লাহ পৃথিবীতে প্রায় ১,২৪,০০০ (আনুমানিক) নবী ও রাসূল পৃথিবীতে পাঠিয়েছেন আর তাদের মধ্যে হযরত আদম সর্ব প্রথম মানুষ ও আল্লাহর সর্ব প্রথম নবী এবং সর্ব শেষ ও সর্ব শ্রেষ্ঠ নবী ও রাসূল হযরত মুহাম্মদ।(মহম্মদ যদি সর্বশ্রেষ্ঠ নবী হয় তাহলে তার আগে কেন ১,২৪,০০০ নবী পাঠাতে হয়েছিল আল্লাহকে?একবারে সর্বশ্রেষ্ঠ নবী পাঠাতে পারেনি?ধর্মগ্রন্থ একবারে সঠিক পাঠাতে পারেনি,নবী একবারে সঠিক পাঠাতে পারেনি,এতে কি প্রমান হয়না আল্লাহর নিজের সৃষ্টির উপর ই বিশ্বাস নেই?অথবা যোগ্যতা কম তাই ক্রমাগত চেষ্টা করে তবে ভাল সৃষ্টি করেছে?এতো নীচু ক্লাস থেকে ছাত্রদের পড়ার মতো হলো ব্যাপার টা)।মুসলিমগণ বিশ্বাস করে যীশু(ঈসা) আল্লাহর পুত্র নন বরং তিনি আল্লাহর রাসূল। তাঁর উপর ইঞ্জিল কিতাব নাজিল হয়েছে। তিনি কেয়ামতের আগে পৃথিবীতে আবার আসবেন এবং মুহাম্মাদের অনুসারী হিসেবে মৃত্যু বরণ করবেন ।(যীশুকে মহম্মদের অনুসারী হিসেবে মরার জন্য আবার কেন আসতে হবে?মহম্মদ ই তো যীশুর আগে চাইলে পৃথিবীতে আসতে পারতো যীশুকে তার অনুসারী বানাবার জন্য)।মুহাম্মদ ছিলেন তৎকালীন আরবের কুরাইশ বংশেরএকজন। নবুওয়াত প্রাপ্তির পূর্বে তাঁর গুণের কারণে তিনি আরবে "আল-আমীন" বা "বিশ্বস্ত" উপাধিতে ভূষিত হন। স্রষ্টার নিকট হতে নবুওয়াত প্রাপ্তির পর তিনি মানুষকে ইসলাম ধর্ম এর দিকে দাওয়াত দেন। তাঁকে ইসলামের শ্রেষ্ঠ বাণী-বাহক (নবী) হিসেবে শ্রদ্ধা ও সম্মান করা হয়। বিশ্বাস করা হয়, পূর্বের একেশ্বরবাদী ধর্ম বিভিন্ন সময় পরিবর্তিত ও বিকৃত হয়ে গিয়েছিল।(এক ঈশ্বরবাদী ধর্ম ই যদি হয় তাহলে বার বার সৃষ্টির দরকার টা কি?একবারে করলে হোত না?আব্রাহামিক ধর্মগুলো যদি ঈশ্বরের ই সৃষ্টি হয় তাহলে তা পরিবর্তিত আর বিকৃত হয় কি করে?যে ঈশ্বর তার প্রবর্তিত ধর্ম কে অটুট ভাবে রক্ষা করতে পারেনা তাকে মানার কি দরকার?তার কি মান পাওয়ার যোগ্যতা আছে?)ইসলাম ধর্মমতে, তিনি চল্লিশ বছর বয়স হতে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত ২৩ বছরের বিভিন্ন সময়ে জিব্রাইলের মাধ্যমে ঐশী বাণী লাভ করেন। এই বাণীসমূহের একত্ররূপ হলো পবিত্র কুরআন, যা তিনি মুখস্থ করেন ও তাঁর অনুসারীদের (সাহাবী) দিয়ে লিপিবদ্ধ করান। কারণ, তিনি নিজে লিখতে ও পড়তে জানতেন না।(কোরান টা একবারে কেন লেখা হলো না?আল্লাহর ও কি একবারে মাথায় আসেনি কি কি ওহী পাঠাবে?আল্লাহ যখন মহম্মদকে ওহীগুলো দিয়েছিল তখন আবার তার সেগুলো মুখস্ত করার কেন দরকার হয়েছিল?এমনি ই তো মাথায় থাকার কথা।)কুরআনে বলা হয়েছে,“"তুমি তো এর আগে কোনো কিতাব পড় নি এবং স্বহস্তে কোনো কিতাব লেখনি যে অবিশ্বাসীরা সন্দেহ পোষণ করবে।”২৯:৪৮ “"সে যদি আমার নামে কোনো কথা রচনা করতো, তবে আমি তাঁর ডান হাত ধরে ফেলতাম, অতঃপর কেটে দিতাম তাঁর গ্রীবা। তোমাদের কেউ তাকে রক্ষা করতে পারতে না।" ৬৯:৪৪-৪৭ ”(আল্লাহ এত নিষ্ঠুর যে তার প্রিয় বান্দার ও হাত ধরে গ্রীবা কেটে দিতো তাও আবার তার ব্যাপারে ই লেখার মতো কোন সামান্য কাজের জন্য? আল্লাহ তাকে নিজে লেখার ক্ষমতাটুকুও দিতে পারলো না?আল্লাহর প্রিয় বান্দাকে আল্লাহর কথা লেখার জন্য ও অন্যের উপর নির্ভর করতে হলো)?মুসলিমরা বিশ্বাস করেন, ঐশ্বিক বাণী প্রচারের ক্ষেত্রে ইসলামের নবী কখনো ভুল করেননি। আরো বিশ্বাস করা হল, তাঁর জীবনকালে তিনি সম্পূর্ণ আলৌকিকভাবে মেরাজ লাভ করেন।মুসলিমদেরকে শেষ বাণীবাহক মুহাম্মদের নাম উচ্চারণ করার সাথে সাথে "সাল্লাল্লা-হু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম" বলতে হয়। এর অর্থ: 'আল্লাহ তাঁর উপর রহমত এবং শান্তি বর্ষণ করুন।' একে বলা হয় দরুদ শরীফ। এছাড়াও আরও অনেক দরুদ হাদীসে বর্ণীত আছে। তাঁর মধ্যে এটাই সর্বপেক্ষা ছোট। কোনো এক বৈঠকে তাঁর নাম নিলে দরুদ একবার বলা অবশ্যকর্তব্য (ওয়াজিব)।(আল্লাহর নবীর উপর শান্তি ও রহমত বর্ষিত হোক একথা সাধারণ মানুষকে কেন প্রার্থনা করতে হয়?আল্লাহ কি নিজে থেকে তার প্রিয় নবীকে শান্তি আর রহমত দেবেনা?তাহলে কি সে শান্তি আর রহমত পাওয়ার যোগ্য না)?