সিআইএ-ইসকন যোগ

ACYPL একটি মার্কিন রাষ্ট্রীয় সংস্থা, যার কাজ হল বিশ্বের উদীয়মান রাজনৈতিক নেতৃত্বকে আমন্ত্রণ জানিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রশাসনিক কাঠামো, সংস্কৃতি ও রাজনীতি সম্পর্কে অবগত করা। এটি "সফট পাওয়ার" কৌশলের অংশ হিসাবে কাজ করে, বিশেষ করে তথাকথিত "থার্ড ওয়ার্ল্ড" দেশে। বহু ভারতীয় রাজনৈতিক নেতাই এই কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেছেন—এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন নরেন্দ্র মোদী (১৯৯৩)।
ACYPL-এর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট তরুণ নেতাদের মধ্য দিয়ে একটি নীতিগত বন্ধন সৃষ্টি করে, যার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হল ধর্মীয় সংগঠনগুলির (যেমন, ইসকন) সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ যোগাযোগ বৃদ্ধি।
ইসকনের অনেক প্রভাবশালী মুখ, যেমন ভক্তিবেদান্ত স্বামী নরসিংহ মহারাজ, ACYPL ও মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘনিষ্ঠ মহল থেকে বারবার আমন্ত্রিত হয়েছেন।
২. নরেন্দ্র মোদী, RSS ও ইসকনের মেলবন্ধন
নরেন্দ্র মোদীর রাজনৈতিক উত্থানকালে গুজরাটে ইসকনের প্রকল্পগুলি রীতিমতো রাষ্ট্রীয় স্তরে সমর্থন পায়। মোদী নিজে একাধিকবার ইসকনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ বজায় রেখেছেন। গুজরাটে ইসকনের কৃষ্ণ মন্দির নির্মাণে রাজ্য সরকারের বরাদ্দ, ভূমি প্রদান এবং ট্যাক্স ছাড়—এসব ইঙ্গিত দেয় রাজনৈতিক স্তরে একটি সুসংগঠিত সমঝোতা।
ইসকন তার ‘সাংস্কৃতিক কূটনীতি’-র মাধ্যমে গুজরাট সরকারের সঙ্গে সাংস্কৃতিক সম্মেলন, খাদ্যবিতরণ, কৃষ্ণানন্দ প্রচার ইত্যাদির আয়োজক হয়ে ওঠে। মোদী নিজেও বিভিন্ন ইসকন আয়োজিত অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন ও ইসকনের আন্তর্জাতিক প্রতিনিধি দলের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এই যোগাযোগ শুধু আধ্যাত্মিক স্তরে সীমাবদ্ধ নয়; বরং এটিকে আন্তর্জাতিক সম্পর্কের এক কৌশলগত বিন্যাস বলেই অনেকে মনে করেন।
৩. সিআইএ, ইসকন ও ACYPL: ত্রিমুখী ‘সফট পাওয়ার’ পদ্ধতি
৩.১. ধর্মীয় অনুপ্রবেশ কৌশল
সিআইএ ১৯৭০-৮০’র দশক থেকেই ভারত, পাকিস্তান ও বাংলাদেশে ইসকনকে ‘কালচারাল ট্রোজান হর্স’ হিসাবে ব্যবহার করে আসছে। বিভিন্ন সময় ইসকনের অন্তর্ভুক্ত বিদেশি মিশনারি বা প্রচারকদল মার্কিন ডিপ্লোমেটিক চ্যানেল দিয়ে ‘সীমান্তছাড়া’ (exempt from visa norms) প্রবেশ করেছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
ACYPL-এর অধীনে ভারতে পাঠানো যুব প্রতিনিধিদের অনেকে ইসকনের সদস্য ছিলেন। এরা ভারতে দীর্ঘমেয়াদী সাংস্কৃতিক প্রকল্প, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে "মূল্যনির্ভর শিক্ষা" প্রবর্তন ও মন্দির স্থাপন উদ্যোগে সক্রিয় ছিল।
৪. সরকারি প্রকল্পে ইসকনের প্রবেশ: মিড-২০১০স থেকে বর্তমান পর্যন্ত
২০১৪ সালের পর, কেন্দ্রীয় সরকারের মিড ডে মিল প্রকল্প, স্বচ্ছ ভারত অভিযান, খাদ্য বিতরণ, স্বেচ্ছাসেবী কার্যক্রমে ইসকন সরাসরি অন্তর্ভুক্ত হতে থাকে।
উদাহরণস্বরূপ:
দিল্লি, হায়দরাবাদ, বেঙ্গালুরু, জয়পুরে ইসকনের রান্নাঘর থেকে লক্ষ লক্ষ মিড ডে মিল সরবরাহ।
কেন্দ্রীয় মানবসম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রকের সঙ্গে MoU করে “মূল্যশিক্ষা” নামে প্রকল্প চালু।
Skill India, Digital India-এর মতো কর্মসূচিতে যুবক-যুবতীদের ‘আধ্যাত্মিক প্রশিক্ষণ’ (Spiritual Orientation) 
এই কর্মকাণ্ডে ইসকনের পৃষ্ঠপোষক বিদেশি এনজিও যেমনঃ Food for Life Global, Temple of the Vedic Planetarium Project (TOVP) প্রভৃতি বিদেশি অর্থে সাহায্যপ্রাপ্ত।
(অথচ ওরা বেদকে কোন মান্যতা এ দেয় না।ওরা শুধু শ্রীকৃষ্ণ ছাড়া অন্য কোন কাউকে,অন্য কোন কিছুকে কোন ওরকম মান্যতা এ দেয়না আব্রাহামিকদের মত।)
৫. বিদেশি অনুদান ও FCRA লাইসেন্সের ব্যবহার
ইসকনের অধীনস্থ সংগঠনগুলি FCRA (Foreign Contribution Regulation Act) লাইসেন্সধারী। ২০১৪-২০২২ সময়কালে, সরকারি নথি অনুযায়ী, শুধু ইসকনের ব্যাঙ্গালোর ও মায়াপুর শাখা মিলিয়ে প্রায় ₹৮০০ কোটি টাকার বিদেশি অনুদান গ্রহণ করেছে।
তহবিল আসে মূলত:
যুক্তরাষ্ট্র (ISKCON USA, Bhaktivedanta Foundation)
যুক্তরাজ্য (George Harrison Foundation)
রাশিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা ও ব্রাজিলের শাখা ইসকন
এই অর্থ শুধু ধর্মীয় কার্যকলাপেই নয়; শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, ডিজিটাল স্কিলিং প্রভৃতি শাখায় ব্যবহৃত হয়েছে, যাতে রাষ্ট্রীয় অনুমোদনপ্রাপ্ত প্রকল্পগুলির সঙ্গেও সমন্বয় হয়েছে।
৬. রাজনৈতিক ও বুদ্ধিজীবী সহায়তা: সংঘ পরিবার ও গেরুয়া বুদ্ধিজীবীরা
ইসকনের সঙ্গে হিন্দু জাতীয়তাবাদী শক্তির বিশেষ মেলবন্ধন লক্ষ্য করা যায়:
বিশ্ব হিন্দু পরিষদ ও ইসকনের যৌথ কনফারেন্স
হিন্দু ইকো-স্পিরিচুয়ালিজম নিয়ে BJP সাংসদের বক্তৃতা (যেমন: সুব্রহ্মণ্যম স্বামী, বিনয় সহস্রবুদ্ধে)
ইসকনের সহযোগিতায় ধর্মশিক্ষা আইন প্রণয়ন প্রস্তাব
নরেন্দ্র মোদীর বক্তৃতা ২০১৬ সালে ইসকনের আন্তর্জাতিক সম্মেলনে:
> “ISKCON has brought Indian spirituality and Krishna consciousness to the world. The Government of India shall continue to support your noble mission.”
৭. রাজনীতি ও আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে ইসকনের ব্যবহার
নতুন ভারতীয় রাষ্ট্রনীতি অনুযায়ী, ধর্মকে শুধু আধ্যাত্মিক ক্ষেত্র নয় বরং “সাংস্কৃতিক কূটনীতি” (Cultural Diplomacy) হিসাবে ব্যবহারের প্রয়াস বেড়েছে। ইসকনের মাধ্যমে ভারত সরকারের soft power বিস্তারের কয়েকটি দৃষ্টান্ত:
রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর বিদেশ সফরে ইসকনের আন্তর্জাতিক প্রতিনিধিদল অন্তর্ভুক্ত
মায়াপুরে তৈরি Vedic Planetarium (যার মূল অর্থদাতা আমেরিকান ইসকন শাখা) এখন “ভারতের ইউনেস্কো সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য” রূপে তুলে ধরার প্রস্তাব
ভারতীয় দূতাবাসে ইসকনের ধর্মীয় উৎসব আয়োজনের উদ্যোগ (বিশেষ করে ওয়াশিংটন, মস্কো, লন্ডনে)
৮. সমালোচনা ও বিরোধী মত
বিভিন্ন বামপন্থী দল ও বুদ্ধিজীবী মহল, ইসকনের রাষ্ট্রীয় প্রবেশকে রাষ্ট্রীয় ধর্মায়ন (State-sponsored spiritualization) বলে সমালোচনা করেছে। 
তাদের মতে:সরকারপৃষ্ঠপোষকতা ইসকনকে অতিরিক্ত সুবিধা দেয়।বিদেশি প্রভাবশালী গোষ্ঠী দ্বারা সাংস্কৃতিক আত্মনিয়ন্ত্রণ হারাচ্ছে ভারত।ধর্ম ও প্রশাসনের ভেদরেখা দুর্বল হয়ে পড়ছে।
উপসংহার:এই অধ্যায় থেকে স্পষ্ট যে, ইসকন এখন শুধুই এক ধর্মীয় আন্দোলন নয়। এটি মার্কিন রাষ্ট্রীয় কৌশলের সহায়ক, ভারতীয় রাষ্ট্রনীতির অংশ এবং নয়া ভারতীয় কূটনীতির একটি হাতিয়ার। ইসকনের সঙ্গে ACYPL, CIA ও মোদী প্রশাসনের ত্রিমুখী সম্পর্ক রাষ্ট্র ও ধর্মের সীমা পুনর্নির্ধারণ করছে।
তথ্যসূত্র (পৃষ্ঠা ও এডিশন সমেত)
1. Bhaktivedanta Swami Prabhupada. The Science of Self-Realization. Bhaktivedanta Book Trust, 2006 Edition. pp. 1–320.

2. William Blum. Killing Hope: U.S. Military and CIA Interventions Since World War II. Common Courage Press, 2004. pp. 312–350.

3. Robert Dreyfuss. Devil’s Game: How the United States Helped Unleash Fundamentalist Islam. Henry Holt, 2006. pp. 72–90.

4. S. K. Datta-Ray. Looking East to Look West: Lee Kuan Yew's Mission India. Penguin Books, 2009. pp. 182–195.

5. Government of India. FCRA Annual Reports, 2014–2022. Ministry of Home Affairs. www.fcraonline.nic.in

6. ACYPL Official Website – www.acypl.org (accessed April 2025)

7. P. N. Benjamin. Communalism in India: A Historical Perspective. Rupa Publications, 2008. pp. 144–169.

8. BJP Manifesto, 2014, 2019 Editions.

9. Subramanian Swamy. Hindutva and National Renaissance. Har-Anand Publications, 2017. pp. 112–134.

10. Press Information Bureau Archives, Government of India (2015–2024)

11. www.iskcon.org – official archives and public documents (accessed April 2025)

12. Jean Bricmont. Humanitarian Imperialism: Using Human Rights to Sell War. Monthly Review Press, 2006. pp. 91–105.

13. Interviews archived in EPW (Economic and Political Weekly), various issues, 2016–2022.

14. Parliamentary Debates, Lok Sabha Secretariat, 2018–2023 Sessions.

15. New York Times, “India’s Modi and the Krishna Movement”, April 14, 2016.

16. Hindustan Times, “ISKCON Kitchens to Serve 20 Lakh Meals”, Sept 23, 2021.

17. UNESCO India Country Report (Draft), 2023.

18. Tehelka, “God, State and the Outsider: The Rise of ISKCON”, Issue No. 23, 2017.

19. M.S. Golwalkar. Bunch of Thoughts, Sahitya Sindhu, 1966. pp. 234–256.

20. Outlook India, “Spiritual Politics: Modi’s Soft Power Diplomacy”, April 2020.
Chat GPT থেকে পাওয়া তথ্য –

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *