রাজনীতির বয়সসীমা: একবিংশ শতাব্দীর জরুরি প্রশ্ন

ভারতে সরকারি চাকরির সর্বোচ্চ বয়সসীমা এক নয়; পদভেদে আলাদা। সাধারণ (General/UR) প্রার্থীদের জন্য: অধিকাংশ কেন্দ্রীয় সরকারি চাকরি: 27–32 বছর UPSC Civil Services (IAS, IPS, IFS): 32 বছর। GovtJobsNet +1 কিছু বিশেষজ্ঞ, অধ্যাপক, বিজ্ঞানী, চিকিৎসক বা অভিজ্ঞতা-ভিত্তিক পদে: 40–50(৫০ বছর বয়সে চাকরি পেয়ে লাভ কি জানিনা।মাত্র ১০ বছর চাকরী করতে পারবে।)বছর বা তারও বেশি হতে পারে। The Economic Times +1 সংরক্ষিত শ্রেণির জন্য সাধারণত: OBC: +3 বছর SC/ST: +5 বছর PwBD: +10 বছর (কখনও 15 বছর পর্যন্ত) Free Job Alert +1 ফলে কিছু ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ বয়স 45–47 বছর পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। GovtJobsNet +1 ভারতের অনেক কেন্দ্রীয় চাকরিতে আগে সাধারণত সর্বোচ্চ বয়সসীমা ২৭ বছর ছিল, পরে কিছু পদে তা ৩০ বছর বা তারও বেশি করা হয়েছে। উদাহরণ হিসেবে, Staff Selection Commission-এর CGL পরীক্ষার কিছু পদের ক্ষেত্রে ২০১৬ পর্যন্ত বয়সসীমা ছিল ১৮–২৭ বছর, যা ২০১৭ থেকে ২০–৩০ বছর করা হয়। The Indian Express +1 বর্তমানে কয়েকটি জনপ্রিয় পরীক্ষার সাধারণ বয়সসীমা হলো: পরীক্ষা বর্তমান সাধারণ বয়সসীমা Union Public Service Commission Civil Services ২১–৩২ বছর Staff Selection Commission CGL ১৮–২৭, ১৮–৩০, ২০–৩০ বা ৩২ বছর (পদভেদে) IBPS PO ২০–৩০ বছর RRB NTPC ১৮–৩৩ বছর PrepTools +1 পশ্চিমবঙ্গে সরকারি চাকরির সর্বোচ্চ বয়সসীমা দীর্ঘদিন সাধারণভাবে ৪০ বছর ধরা হতো অনেক Group C ও D পদের ক্ষেত্রে। ২০২৬ সালে রাজ্য সরকার সেটি বাড়িয়ে বিভিন্ন গ্রুপে আলাদা করেছে। The Times of India +1 বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী: চাকরির গ্রুপ বর্তমান সর্বোচ্চ বয়সসীমা Group A ৪১ বছর Group B ৪৪ বছর Group C ৪৫ বছর Group D ৪৫ বছর এই পরিবর্তন ১১ মে ২০২৬ থেকে কার্যকর হয়েছে। The News Mill +1 আগে সাধারণভাবে: Group A-এর বহু পদে সর্বোচ্চ বয়স ছিল প্রায় ৩৬ বছর। Group B-এর ক্ষেত্রে প্রায় ৩৯ বছর। Group C ও D-এর ক্ষেত্রে প্রায় ৪০ বছর। নতুন নিয়মে এগুলি যথাক্রমে ৪১, ৪৪ ও ৪৫ বছরে উন্নীত করা হয়েছে। The News Mill +1 পশ্চিমবঙ্গে সরকারি চাকরির বয়সসীমা আগে সব পদের জন্য এক ছিল না। তবে সাধারণভাবে: সময় সর্বোচ্চ বয়সসীমা ২০১১ সালের আগে অনেক পদে ৩২ বছর বা তার কম ২০১২–২০২৬ Group C ও D-এর জন্য ৪০ বছর ২০২৬ থেকে Group C ও D-এর জন্য ৪৫ বছর ২০১১ সালের শেষদিকে পশ্চিমবঙ্গ সরকার নিয়ম বদলে Group C ও Group D পদের সর্বোচ্চ বয়সসীমা ৪০ বছর করে। তার আগে বহু চাকরিতে সর্বোচ্চ বয়স ৩২ বছর ছিল। WBXPress ২০২৬ সালে আবার নিয়ম পরিবর্তন করে: Group A → ৪১ বছর Group B → ৪৪ বছর Group C → ৪৫ বছর Group D → ৪৫ বছর করা হয়েছে। The Times of India +1 মোটামুটি ভাবে এই হলো দেশের সরকারী চাকরী পাওয়ার বয়স সীমা আর ৬০ বছর বয়স হলো চাকরী থেকে অবসর নেওয়ার বয়সসীমা এর মানে আমরা নিশ্চই ধরে নেব ৬০ বছর বয়সে কর্ম ক্ষমতা কমে যায়,শারীরিক সামর্থ্য কমে যায়,কিছু কিছু ক্ষেত্রে ব্রেইনের ও কর্ম ক্ষমতা কমে যেতে পারে স্বাস্থ্যের অবস্থা অনুসারে।ব্যতিক্রম নিশ্চই থাকে,অনেক সময় ১০০ বছরের মানুষের ও ব্রেইন যথেষ্ট সচল থাকে,স্বাস্থ্য ভাল থাকে,সচল থাকে কিন্তু সেসব দিয়ে পুরো মানবজাতির বিচার করা যায়না। কি কারণে এই কথাগুলোর অবতারনা করলাম এবার সেই প্রসঙ্গে আসি। চাকরীর বয়সসীমা নির্দিষ্ট করা থাকলে রাজনীতি করার জন্য কেন বয়সসীমা নির্দিষ্ট করা থাকবে না?নেতা,মন্ত্রী, সাংসদ হওয়ার নির্দিষ্ট বয়সসীমা থাকবেনা?ওই কাজগুলো করার জন্য ব্রেইন সচল থাকার কথা ভাবা হবেনা?শরীরের সামর্থ্যের কথা ভাবা হবেনা?কর্ম ক্ষমতা কমে যাওয়ার কথা ভাবা হবেনা?তর্কের খাতিরে কেউ বলতেই পারেন তারা সব কিছুর সামর্থ্য নিয়েই কাজ করেন। হ্যাঁ অবশ্য ই তা করেন কিন্তু প্রশ্ন তো সেটা না,প্রশ্ন তাদের ক্ষেত্রে ও অবশ্যই একটা নির্দিষ্ট বয়স সীমা তো থাকা উচিৎ। সরকারী চাকুরী জীবীদের ও অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যায় ৬০ বছরের থেকেও অনেক বেশী বয়সের মানুষদের দিয়ে ও জোর করে কাজ করানো হয়৭৫ বছরের মানুষকে দিয়েও কাজ করানো হয়।সেটাই বা কেন হবে?প্রথম কথা এত বয়স হয়ে গেলে তাদের কর্ম ক্ষমতা থাকলেও এক সময় শরীরে বিশ্রাম দরকার হয় বা ধরা যাক কোন একজন ডাক্তার কে দিয়ে ওই বয়সে অপারেশনের কাজ জোর করে করতে বাধ্য করা হলো সেক্ষেত্রে তাঁর দ্বারা কোন ভুল হতেই পারে,হাত কেঁপে রোগীর কোন বড় রকমের ক্ষতি হতেই পারে তার দায় কার হবে?ক্ষতি কি দিয়ে পূরণ হবে? দ্বিতীয় কথা রিটায়ার করার বয়সের পরও যদি পুরাতনরাই কাজ করে যান তাহলে নতুন ইয়ং ছেলেমেয়েরা কাজের সুযোগ পাবে কোথা থেকে?বেকার সমস্যা দূর হবে কি করে?তারা জীবন শুরু করবে কি করে?তাদের কোন যুক্তিতে ৪৫/৫০ বছর বয়সে চাকরীর সুযোগ দেওয়া হবে?ওই বয়সে চাকরী করে তারা কি করবেন?ওই বয়সে বিবাহ করবেন?সংসার শুরু করবেন?সন্তান জন্ম দেবেন?সেটা কি সম্ভব?সম্ভব হলেও তাদের মানুষ করবেন কি ভাবে?শরীরে সেই সামর্থ্য থাকবে? নেতা মন্ত্রীদের কথায় ফিরি।ইয়ং ছেলেমেয়ে নেতা মন্ত্রী হলে দুর্নীতি কম করবে কারণ তখন তাদের মনগুলো অত বিষিয়ে যায়না,দুর্নীতি তে অত বেশী দক্ষ হয়ে উঠতে পারেনা,যেটা ৬০/৭০ বছর বয়সের একজন মানুষ হয়ে ওঠে।২২/২৪/৩০ বছর বয়সের ছেলেমেয়েদের শরীরে পরিশ্রমের ক্ষমতা অনেক বেশী থাকে ফলে কাজে উদ্যম অনেক বেশী থাকবে।রাজনীতিকে যারা পেশা হিসেবে নেবেন তাদের বেতনটাও শুরু হবে অন্য সব চাকুরী জীবিদের সমান বয়সে।সেই নিয়ম অনুসারে তাদের ক্ষেত্রে ও অবসরের বয়স নির্দিষ্ট থাকতে হবে অন্য সব চাকরিজীবির মত ই।৬০ বছর বয়স হলে তাদের ও অবসর নিতে হবে।চাকরীজীবিদের যেমন বর্তমানে পেনশন ব্যবস্থা তুলে দেওয়া হয়েছে তেমন ভাবেই রাজনীতিবিদদের ও পেনশন ব্যবস্থা তুলে দিতে হবে।পাঁচ বছর কেউ সাংসদ হলেই সারা জীবন কি কারনে পেনশন ভোগ করবেন?ফ্রিতে চিকিৎসা সুবিধা ভোগ করবেন?ট্রাভেলিং অ্যালায়েন্স ভোগ করবেন?গাড়ি,তেলের খরচ সব পাবেন?কাজের লোকের বেতন ও ভোগ করবেন?একটা চশমা ও কয়েক লক্ষ টাকা দিয়ে কিনতে পারবেন?এমন শখ কি সাধারণ চাকরীজীবিদের হতে পারেনা?তারা কেন সেই শখ বা প্রয়োজন পূরণ করতে পারবে না?তাও সারা জীবন সরকারকে নিজের শ্রম দিয়ে ও?হয় সবার জন্য পেনশন চালু হোক বা রাজনীতিবিদদের ও অবসরকালের পর পেনশন দেওয়া বন্ধ করা হোক।রাজনীতিবিদদের বেতন অনেক বেশী থাকে তাই পেনশন ও বেশী পান।বাজার কি আলাদা আলাদা মানুষের জন্য আলাদা আলাদা মূল্য নির্ধারণ করে চলে?তাহলে যাদের বেতন কম তারা কেন সরকারী অ্যালাউন্স বেশী পাবেনা রাজনীতিবিদদের থেকে?তারা চিকিৎসা করায় পারেনা অনেক সময়,কেন ফ্রি চিকিৎসা পাবেনা?ট্রাভেল অ্যালাউন্স পাবেনা?তাদের ঘুরতে ইচ্ছা হতে পারেনা? প্লেন ভাড়া,ট্রেন ভাড়া সবাই কেন পাবে না? এসব তো হলো লিগ্যাল কথা। এরপর রাজনীতিবিদদের তো আবার সাথে আছে লুটের টাকা,জনগনের টাকা লুটে নামে,বেনামে নানা দেশে পাচার করে,সেটার পরিমাণ কত তা তো স্বয়ম ভগবান ও উদ্ধার করতে পারবেন না।তাদের কয়েকশ প্রজন্ম ও খেয়ে শেষ করতে পারবে না সেই সম্পদ।এসব যাতে কোন মতেই করতে না পারে তারজন্য কোন বিশেষ ব্যবস্থা কেন করা হয়না?সবার ই তাতে স্বার্থ বিঘ্নিত হবে? ভোটে কেন কোন দল টাকা খরচ করবে?এসব কেন আইন করে বন্ধ করা হয়না?কোন দল খরচ করলেই তাকে ব্যান করে দিতে হবে ভোট অংশ নেওয়া থেকে।ভোটের জন্য কোন রকম তোলাবাজি,ডোনেশন নেওয়া চলবেনা।তারজন্য সরকারী টেলিভিশন মাধ্যমে প্রচার সীমাবদ্ধ রাখতে হবে সব দলকে।কোন মানুষকে টাকা দিয়ে ভোট চাওয়া বন্ধ করতে হবে।কোন দেশে এত দুর্নীতি থাকবে কি কারনে?

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *