বাংলাদেশে কালিমা পতাকার আড়ালে কারা? সালাফি জিহাদিদের গোপন কৌশল উন্মোচন–
ইনকোয়ারি বলে কোন কিছু দেখা যায়নি। তারপরও বিভিন্ন ধরনের সোশ্যাল মিডিয়া মনিটরিং, বিভিন্ন ধরনের কমিউনিকেশন মনিটরিং, ওপেন সোর্স ইন্টেলিজেন্স যেটাকে আমরা ওসিন্ট বলি এগুলোর মাধ্যমে একটা এনালাইসিস করা হয়েছে এখানে। এই যে তৌহিদী জনতা কারা? পতাকার এই যে কনটেক্সটটা সেটা কিন্তু এই জায়গা থেকেই এসেছে।খেয়াল করলে দেখবেন, ধর্ম অবমাননা বা ইসলামের নামে ইসলাম অবমাননা। এই কয়েকটা শব্দ বা কয়েকটা সেন্টিমেন্টাল হাইলি সেন্সিটিভ টপিককে ওয়েপনাইজ করে বাংলাদেশে অনেক মানুষকে হত্যা করা হয়েছে। মাজারগুলোতে আক্রমণ করে মাজার ভেঙে দেওয়া হয়েছে।
যদিও মাজারগুলো কিন্তু অনেক মানুষের আস্থার এবং ধর্মীয় অনুভূতির জায়গা। কিন্তু একটা গ্রুপ এই জিনিসটাকে সম্পূর্ণ ইসলাম বিরোধী বলে দাবি করেছে এবং তারা নিজেদেরকে ইসলামের একচ্ছত্র রিপ্রেজেন্টেটিভ মনে করে। কোন কোন ক্ষেত্রে তারা নিজেদেরকে ইসলামের মালিক মনে করে?তাদের ইসলাম রক্ষা করার নাম দিয়ে তারা তাদের এই কাজগুলো করেছে। এখন হঠাৎ করে কালেমার পতাকা কেন বা কালেমার পতাকা দিয়ে তাদের কি লাভ? প্রথমে বুঝতে হবে এই পতাকার বিষয়টা কি? একটা ধর্ম তিনটা ধাপে চর্চা হতে পারে। একটা হলো স্পিরিচুয়ালি, একটা হলো পলিটিক্যালি
আরেকটা হলো ইকোনমিক্যালি।
স্পিরিচুয়ালি চর্চা কোনটা? যেটাতে একটা মানুষ ব্যক্তিগতভাবে নামাজ আদায় করে, রোজা রাখে, মানুষজনকে সহায়তা করে, সে মিথ্যা কম বলার চেষ্টা করে। অর্থনৈতিক পার্টটাতে গিয়ে এই ক্ষেত্রে দুটো পার্ট আছে। একটা হলো গিভার, একটা হলো টেকার। সেই ক্ষেত্রে যারা টেকার হয় তারা ধর্মকে কেন্দ্র করে একটা অর্থনৈতিক ব্যবস্থা করে তোলে। এটা মাজার ভিত্তিক দান বাক্সের ব্যবসাও হতে পারে। এটা আবার হুজুরদের ওয়াজের ব্যবসাও হতে পারে। এটা আবার মাদ্রাসায় যে ডোনেশন নেওয়া হয়, সেটাও হতে পারে। এটা আবার প্রত্যেক রোজার বা ঈদের সময়, যাকাত কিংবা সদকার নামে বা চামড়া বিক্রির টাকার নামে যে টাকা আদায় করা হয়, সেটাও হতে পারে।
এছাড়া ধর্মের নামে আরো অনেক ধরনের অর্থনৈতিক ব্যবস্থা আছে যেমন ধর্মীয় ব্যাংকিং এটাকে কেন্দ্র করেও একটা ধর্মীয় অর্থনীতি দাঁড়াতে পারে। এবার আসেন রাজনৈতিক পার্টটা কি? ধর্মের মোরকে একটা রাষ্ট্রীয় নীতিকে চালনা করার যে পার্টটা বা ক্ষমতার শিখরে যাওয়ার যে বিষয়টা সেটা হলো রাজনীতি। মানুষ স্বভাবগতভাবেই একটু ক্ষমতার লোভী। এটা ধর্মীয় নেতার কথাই বলুন বা সাধারণ মানুষের কথাই বলুন। তো যেহেতু ধর্মীয় সেন্টিমেন্টের প্রতি মানুষ অনেক সংবেদনশীল থাকে। তাছাড়া ধর্মের কথায় আপনি একটা মানুষকে খুব ইজিলি কনভিন্স করতে পারবেন মবিলাইজ করতে পারবেন।
সুতরাং ধর্মকে ব্যবহার করে রাজনীতি করা এটা কিন্তু ঐতিহাসিকভাবে অনেক পুরনো। ইভেন আমরা যদি হিস্ট্রিক্যালি দেখি যে ইসলাম বা আব্রাহামিক ধর্মগুলো পৃথিবীতে আসার আগে ও এই ধর্মের ব্যবহারের মাধ্যমে রাজনৈতিক ফায়দা লোটার কিন্তু ইতিহাস আছে।একদম সেই ভাইকিংসদের টাইমে চলে যান। সেখানেও পাবেন তারা বিভিন্ন জায়গায় মানুষের জমি দখল করতো, সম্পদ দখল করতো এবং তারা গডের নামে সেটা চালাতো। কারণ আপনি যখন কন্টিনিউয়াসলি অন্যের উপর জুলুম করবেন তখন কিন্তু আপনার পক্ষের লোক দলের মধ্যেও এক ধরনের প্রশ্ন তৈরি হবে।
কারণ মানুষের ভিতরে একটা মিনিমাম এথিক্সতো থাকে। তখন সেই মানুষগুলাকে কনভিন্স করার জন্য আপনার যে পলিটিক্যাল অ্যাকশনস সেগুলোকে লেজিটিমাইজ করার জন্য তখন আপনি যেটার ব্যবহার করবেন সেটা হলো ধর্ম বা সুপারন্যাচারাল একটা পাওয়ার। তো এটার ব্যবহার আমরা পরবর্তীতে আব্রাহামিক রিলিজিয়নের মধ্যে যদি মেজর যে তিনটা রিলিজিয়ন জুডাইজম সেখানেও আমরা দেখেছি এটা যদি আমরা খ্রিস্টানিটি তেও দেখি তারা ক্রুসেড করেছে এরপর আমরা যদি ইসলামিজম এর ব্যাপারে আসি আমাদের ভুলে গেলে হবে না ইসলামিক ক্রুসেড ও ছিল যেটাকে আমরা খেলাফত বলি এখন ইসলাম ধর্মের সময়ও বিভিন্ন গোত্রের মধ্যে ছিল তাদের পারস্পরিক শত্রুতা সেগুলোকে তারা ধর্মের মাধ্যমে জাস্টিফাই করতো এবং সেই রাজনৈতিক ক্ষমতার দৌড় পুরো মুসলমান জাতিকে কিন্তু মেজর দুটো ভাগে ভাগ করে রেখেছে সুন্নি এবং শিয়া এই সুন্নি এবং শিয়ার যে সূত্রপাত বা যে মূল সেটা কিন্তু সম্পূর্ণ রাজনৈতিক। ঠিক এইভাবেই ধর্মের কিন্তু একটা রাজনৈতিক ব্যবহার আছে।
খ্রিস্টানরা একসময়
রাষ্ট্রব্যবস্থা থেকে ধর্মটাকে সরিয়ে নেয়। সেক্যুলারিজম চলে আসে। সেকুলারিজম মানে হলো স্টেট এবং চার্চকে সেপারেট করে ফেলা। সেগ্রিগেট করা এবং পরবর্তীতে ইসলামিক খিলাফত ছিল,সেটার পতন আমরা দেখতে পাই। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পরে যখন অটোমানদের পরাজয় হয় খেলাফত ব্যবস্থার একটা পতন ঘটে। তারপর মোটামুটি আমরা তুর্কিতে দেখি একটা সেক্যুলার গণতন্ত্র এস্টাবলিশ হয়। তার পাশাপাশি কিছু কিছু জায়গায় ধর্মের নামে রাজতন্ত্র থেকে যায়। এর পরবর্তীতে যেই গোত্রটা আসলে ওই সময়ে হেরে গিয়েছিল খেলাফতের টাইমে তাদের একটা দল বা একটা মতবাদ কিন্তু রয়ে
যায়।
ইভেন ওয়ার্ল্ড ওয়ার টুর টাইমে জার্মানিতে যখন হিটলারের পতন হয়। নাজিদের একটা গ্রুপ কিন্তু তারপরও রয়ে যায়। যারা ভিতরে ভিতরে মবিলাইজ করে নিওনাজি নামে পৃথিবীতে আছে।এরকম খিলাফত বাহিনীও এরকম মানে আন্ডারগ্রাউন্ডে রয়ে যায়। যার অন্যতম একটা চেয়ার হলো মুসলিম ব্রাদারহুড। আপনারা যদি মুসলিম ব্রাদারহুডের হিস্ট্রিটা দেখেন বা তাদের যে ডকট্রিন আছে এগুলো সম্পর্কে একটু পড়ার সুযোগ পান তাহলে আপনারা বুঝবেন যে বর্তমান যে রাজনৈতিক বাস্তবতা এবং জিওপলিটিক্যাল এবং গ্লোবাল অর্ডার আছে সেটাকে এড্রেস করে
ওরা কিছু প্রস্তাবনা দিয়েছে।
তার মধ্যে অন্যতম হলো প্রথমে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় মিশে যাওয়া। তারপর মানবাধিকার এবং মর্ডান যে লিবারেল ডেমোক্রেটিক ভ্যালুস আছে সেগুলোকে ইউজ করে নিজেদের প্রথমে একটা ইকোনমিক এবং পলিটিক্যাল বেইজ রেডি করা। যখন মানুষজনকে কনভার্শন বা প্রিচিং এর মাধ্যমে ইভেন যারা স্পিরিচুয়াল ইসলাম চর্চা করে তাদেরকে পলিটিক্যাল ইসলাম চর্চার জন্য আগে খুবই সাটেল ওয়েতে মেসেজিং এর মাধ্যমে ধর্মের নামে তাদেরকে অনবোল্ড করা।তারপর নিজেদের স্ট্রং হোল্ড নিয়ে একটা জিনিস দখল করে নেয়া এবং পরবর্তীতে খিলাফত প্রতিষ্ঠা করা।
এটাই কিন্তু মুসলিম ব্রাদারহুডের নিউ ডকট্রিন।মুসলিম ব্রাদারহুডের সেই ডকট্রিনটাকে কেন্দ্র করে কিন্তু অনেকগুলো সাবডকট্রিন হয়েছে। এর মধ্যে আপনারা যদি ইরানের আইআরজিসি আয়াতুল্লাহ খোমেইনীর যে রেডবুক আছে সেটা ফলো করেন তখনও দেখবেন সে জায়গাতেও সেইম মোটামুটি এই আদর্শটারই একটা ছায়া দেখতে পাবেন। আপনারা যদি মাওলানা আবু আলা মৌদুদী যখন 1941 সালে জামাতে ইসলাম প্রতিষ্ঠা করেছিল তার যে আদর্শ বা মতাদর্শ নিয়ে এসেছিল সেটাকেও যদি আপনারা চেক করেন দেখবেন মুসলিম ব্রাদারহুডের এই সেইম ডকট্রিনটার আদর্শেই সে তার প্রস্তাবনাগুলো রেখেছিল যেটা এখনো জামাতে ইসলাম বাংলাদেশ, জামাতে ইসলাম পাকিস্তান, জামাতে ইসলাম কাশ্মীর,জামাতে ইসলাম হিন্দ,এর চর্চা করে এর পাশাপাশি আরো একটা গ্রুপ যাদেরকে বলা হয় সালাফী বা ওয়াহাবী যারা একসময়কার খারেজীদের বংশধর তারাও এই জিনিসটা চর্চা করে এবং এই সালাফীরা কারা? আইএসএস, আল-কায়েদা, বোকো হারাম এই যে কট্টরবাদী জিহাদী সন্ত্রাসী সংগঠনগুলাকে চেনেন তারা যেই মতাদর্শের অধিকারী সেগুলোই হলো সালাফী জিহাদী মতাদর্শ। এখন এদের মতাদর্শে আপনারা দেখবেন, তারা একটা সময়ের ইসলামের যে ভায়োলেন্ট যুগ ছিল, সেই সময়ের এই যে রক্তপাত এই জিনিসটাকে গ্লোরিফাই করে।
আর এরা কিন্তু এসে সরাসরি বলবে না আপনাকে যে “আমি সালাফি বা আমি জিহাদি” এবং এরা খুব সফটলি এগুলো চর্চা করবে। তাদের কিছু সিম্পটম আছে। সবসময় খেয়াল করে দেখবেন তারা একটা আরব ধাচের ড্রেস পড়বে। তারা থোব পড়বে। তারা আপনার আমার মত নরমাল দুই সাইডে কাটা বাংলা পাঞ্জাবি পড়বে না। তারা থোবের নীচে আমরা যে রকম সাদা পায়জামা পড়ি ওরকম পড়ে না। তারা মাথায় শুধু টুপি পড়ে কিন্তু খান্ত হবে না। তারা টুপির সাথে দেখবেন যে একটা আলাদা করে পাগড়ি পড়ার চেষ্টা করবে।
আরেকটা জিনিস খুব
ভালোভাবে খেয়াল করবেন।
তাদের গোফ থাকবে না। তারা গোফটাকে চেছে ফেলবে। এটার কারণ হলো ইসলামের নবী মোহাম্মদ যখন যুদ্ধ করতেন ওই ওয়ার্ড টাইম আইডিওলজিতে তিনি গোঁফ চেঁচে ফেলতেন। তারা বিশ্বাস করে তারা একটা যুদ্ধক্ষেত্রে আছে। কারণ সারা পৃথিবীকে যেহেতু এরা দুইটা অংশে ভাগ করে নেয়। একটাকে ওরা বলে দারুল ইসলাম আরেকটাকে বলে ওরা দারুল হারব। দারুল ইসলাম মানে হলো যেখানে ইসলামের খিলাফত বা শরীয়া শাসন এস্টাবলিশ করা হয় গেছে। আর দারুল হারব হলো যেখানে শরীয়া শাসন এস্টাবলিশ হয়নি। এরা যখন দারুল হারবে থাকে সবকিছুকে একটা যুদ্ধক্ষেত্র মনে করে।
তারপর দেখবেন তারা
কিছু বিদ্রোহী জজবার গান শুনবে সেটাকে তারা কিন্তু গজল বা হামনাট বলবে না তারা বলবে নাশিদ এবং সেই নাশিদগুলো শুনে দেখবেন যে সেইখানে ইসলামের এক সময়কার খুব রক্তাক্ত ভায়োলেন্ট সময়কে খুবই গ্লোরিফাই করা হয় তারা মানে বর্তমানের যুবক সমাজকে প্রথমে তুচ্ছতাচ্ছিল্য করবে যে কি করছো তোমরা তোমাদের রক্ত কি টগবগ করে জ্বলে ওঠে না এমনিতে তারা ওদের দেখতে পারে না কিন্তু তারপরও রাজনৈতিক ফায়দার জন্য তারা দেখবেন যে শুধু গাজা নিয়ে কথা বলবে। তারা দেখবেন শুধু এই যে ইরানে হামলা হচ্ছে, ইসরাইল করছে সেটা নিয়ে কথা বলবে।
কিন্তু কন্টিনিউয়াস
ইয়েমেনে যে এক মুসলমান আরেক মুসলমানকে মেরে ইরান বা গাজার তুলনায় 10 গুণ বাচ্চা মেরে ফেলছে সেটা নিয়ে তাদের কোন কথা বলতে দেখবেন না। তারা দেখবেন সবসময় ইসলাম ধর্ম চর্চা করো, পালন করো এই কথাগুলো বলবে না। তারা স্পেসিফিক ওয়ার্ড ইউজ করবে। তারা দেখবেন আপনার কাছে ইসলাম ধর্ম কায়েম করতে বলবে। তারা নামাজ আদায় করার কথা বলবে না। তারা বলবে সালাত কায়েম করো। দেখবেন জামাতএর মত
রাজনৈতিক দল এ সকল শব্দ খুব সফটলি আপনার ভিতরে একটা ধর্মের রাজনৈতিক মতাদর্শ হিসেবে ইনজেক্ট করবে।
তারা ধর্মের দাওয়া,তালিম এই
শব্দগুলোকে ব্যবহার করবে এবং তারা আপনাকে ফিল করাবে যে যেই প্রবলেমটা একচুয়ালি আপনার না সেটাকেও আপনার প্রবলেম বানাবে এবং এই ক্ষেত্রে ইউজ করবে উম্মাহ। পুরা মুসলমান জাতি একটা উম্মাহ। ইয়েমেনের মুসলমানরা কিন্তু তখন আর আপনার সামনে উম্মাহ হবে না। সেখানকার বাচ্চা মারা যাওয়া আপনাদের সামনে আসবে না। সুদানে আরব আমিরাতের ফান্ডিং এ যে হাজার হাজার মানুষকে ধর্ষণ করা হচ্ছে, খুন করা হচ্ছে সেই মুসলমানরা আপনার উম্মার রেডারে আর পড়বে না। এদের খুব ভালো ভালো নিউজ চ্যানেলও আছে। যেমন আল জাজিরার মত চ্যানেল এদের আছে। টিআরটি নিউজের মতো এদের চ্যানেল
আছে যেগুলো তুর্কি থেকে চলে।
এরা দেখবেন বিভিন্ন জায়গায় বিভিন্ন লিবারেল সেকুলার ভ্যালুস গুলাকে ইউজ করে ওসব জায়গায় মিশে যাবে। এরা দেখবেন অক্সফোর্ড, ক্যামব্রিজ, হারভার্ড, বাথ এরকম রিনাউন জায়গাগুলোতে বিভিন্ন স্টুডেন্ট অ্যাসোসিয়েশন বা ইউনিয়নগুলোতে ইচ্ছা করে যাবে। একটা জিনিস খেয়াল করে দেখেন একটা প্যালেস্টেনিয়ান লোক সে অক্সফোর্ড ইউনিয়নে এসে অক্সফোর্ড ইউনিয়নের প্রেসিডেন্ট হয়ে যাবে। অক্সফোর্ডের মত জায়গায় হঠাৎ করে দেখবেন ফ্রি প্যালেস্টাইন মুভমেন্ট শুরু হয়ে গেছে।
ঠিক যেভাবে আমাদের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের
ডাকশো টা দখল হয়ে গেছে। মনে করেন সর্বমিত্র চাকমা সেও ফ্রি প্যালেস্টাইন, ফ্রি প্যালেস্টাইন বলে চিল্লায়। যেখানে আসলে সে তার নিজের ফ্রি পাহাড় বলতে পারছে না। তারা প্যালেস্টাইন বোঝে গাঁজা বুঝে কিন্তু পাহাড় বোঝে না। ওইখানে যে একটিভ মিলিটারি এস্টাবলিশমেন্ট আছে সেটা কিন্তু তারা বোঝে না। পাহাড়ে চাকমা জাতির বাচ্চা-কাচ্চাদেরকে শিক্ষার নামে মাদ্রাসায় নিয়ে আব্দুর রহিম, আব্দুস সলিম নাম রেখে দেয় সেটা নিয়ে তাদের কোন কথা বলতে দেখা যাবে না।
এইভাবে আপনাকে কিন্তু সম্পূর্ণ
প্যারালাইজড করে ফেলবে। তারা এরকম রাজনৈতিকভাবে অনেক কিছু করে ফেলবে। একটা সময় আস্তে আস্তে তারা পার্লামেন্টে যাবে আজকে বিরোধী দল হয়েছে কালকে সরকারী দল হবে পরশুদিন কোঅলিশন গভর্নমেন্টের মাধ্যমে সরকার ফর্ম করবে এবং মনে রাখবেন তারা যে বর্তমানে বাংলাদেশে আছে সেই জিনিসটা জানান দেওয়ার জন্য বিভিন্ন সুযোগ খুঁজবে আপনাকে নরমালাইজ করে ফেলবে যে আপনি এগুলা দেখে দেখে হ্যাবিচুয়েটেড হয়ে যাবেন যেমন ধরুন কালেমার পতাকা,যে পতাকা তালেবান ইউজ করে যে পতাকা আইএসএস ইউজ করে সেই পতাকাগুলাকে আপনার চোখের সামনে এখানে
ওখানে একবার করে উড়াবে তারপর আবার দুইবার উড়াবে তারপর পুরা রাস্তা জুড়ে উড়াবে আর ওরা সুযোগ খুঁজবে।
না হলে খেয়াল করে দেখবেন আর যদি ব্রাজিল আর্জেন্টিনার পতাকায় আপনার অবজেকশন থাকে আপনি বাংলাদেশে বাংলাদেশের পতাকা উড়ান ওরা সেটা উড়াবে না। ওরা হঠাৎ করে এই দেশে একটা অপ্রাসঙ্গিক পতাকা উড়াবে। তারা কি যুক্তি খাটাবে? 92% মুসলমানের দেশে কালেমার পতাকা তো উড়তেই পারে। তাই না? এখন এইটা নিয়ে কথা বলতে সবাই কিন্তু একটু ভয় পায়। কারণ যেই লোকটা রাজনৈতিক ইসলামে এখন ওইভাবে বিশ্বাস করে না তার সেন্টিমেন্ট যদি হার্ট হয়ে যায়।
এই যে ধর্মভীরুতা সেটার সুযোগ নিয়েই ইসলামিস্ট যারা তারা তাদের স্বার্থ কায়েম করে নেবে। মনে রাখবেন এই যে কালেমার পতাকাটা দেশের সব জায়গায় ছড়ানো হচ্ছে এটাতে আমাদের কি প্রবলেম হচ্ছে? বাংলাদেশের অর্থনীতি একটা হাইলি ইনভেস্টমেন্ট ডিপেন্ডেন্ট ইকোনমি। বিভিন্ন জায়গা থেকে রেমিটেন্স আসে। বিভিন্ন ধরনের ফরেন ডিরেক্ট ইনভেস্টমেন্ট বা এফডিআই আসে বলেই ফ্যাক্টরির চাকাগুলা ঘুরে। বিদেশী অর্ডার আসে বলেই গার্মেন্টস গুলা চলে। লেবার ইন্ডাস্ট্রি চলে।
বিশ্বের ওয়ার্ল্ড অর্ডার বা গ্লোবাল পাওয়ার এখনো যেভাবে কাজ করে সেই জায়গাতে এই গ্রুপটার উত্থান বাংলাদেশে হোক বা না হোক পশ্চিমা বিশ্ব যদি দেখে অ্যাপারেন্টলি এই ধরনের উত্থান বাংলাদেশে হচ্ছে তারা কিন্তু আর ইনভেস্টমেন্ট করবে না ওইভাবে বাংলাদেশে গার্মেন্টস এর অর্ডার আসবে না অর্থনৈতিকভাবে সহায়তা দেওয়ার ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক যে সাহায্য সহায়তা সংস্থা যেমন আইএমএফ ওয়ার্ল্ড ব্যাংক তারা কিন্তু আর এগিয়ে আসতে চাইবে না এবং এই জিনিসগুলোতে হিউজ ডিপেন্ডেন্সি আছে আওয়ামী লীগ সরকারের দুর্নীতি বা আওয়ামী লীগ সরকারের উন্নয়ন দেশের অর্থনীতি
কিন্তু অনেকি বড় হয়ে গেছে।
হঠাৎ করে এই অর্থনীতিকে ছোট করে ফেলা কিন্তু সহজ না। বহু মানুষ না খেয়ে মরবে এই জিনিসটা।আপনাদের বাসার আশেপাশে আপনাদেরকে সোশ্যাল মিডিয়াতে একটা গোত্র এসে বুঝিয়ে যাচ্ছে কালেমার পতাকা উড়াও আর আপনারাও আবেগে ডুগডুগি বাজাচ্ছেন অথবা আপনারা অনেকে বাজাচ্ছেন না। আপনারা দেখে কিছু বলছেন না। কিন্তু ধীরে হলেও এমন এ হবে। যারা আপনাদেরকে নাশিদ শোনাবে এই গ্রুপটাকে ভালো করে চিহ্নিত করুন।
এদেরকে নজরদারিতে রাখুন। এদেরকে সামাজিকভাবে বয়কট করুন। এদেরকে আর্থিকভাবে বয়কট করুন। না হলে কিন্তু দুদিন পরে আপনি বিপদে পড়বেন। বিপদে পড়বে বাংলাদেশ