স্কুলে ডিম খাওয়ানো এবং ইসকন

স্কুলে বাচ্চাদের ডিম দেওয়া উচিৎ বা উচিৎ না এই নিয়ে জোর তর্ক চলছে।স্কুলে সপ্তাহে কয়টা ডিম বাচ্চাদের দেওয়া হতো?রোজ না দিলে এমন কি পুষ্টি লাভ হতো?আমি এখানে ডিম দেওয়া বা না দেওয়ার থেকেও বেশী আলোচনা করবো অন্য নানা দিক নিয়ে,যা ইসকনের পক্ষে এবং বিপক্ষে দু দিকেই থাকবে।মিড ডে মিল বামন্থীরাও দিত,তারা কয়টা ডিম দিত?সপ্তাহে রোজ দিত কি?না দিলে এখন কেন প্রটিনের চিন্তায় ঘুম আসছে না?তৃনমূল কয়টা দিত?সপ্তাহে একদিন অর্ধেক ডিম ও দিত তাহলে চিৎকার টা কেন করছে?বিজেপির হয়তো মনে হয়েছে ইসকন ভাল ভাবে পরিচালনা করতে পারবে তাই তাদের হাতে তুলে দিয়েছে খাদ্য বণ্টনের দায়িত্ব।প্রথমে আমি ইসকনের পক্ষে কিছু কথা বলছি তারপর বিপক্ষের কথাগুলো ও বলবো অবশ্যই।ইসকন ১৬ টা রাজ্যের স্কুলে খাদ্য বন্টন করছে তাই তাদের যথেষ্ট অভিজ্ঞতা আছে সেইজন্য তারা সফল ভাবে পরিচালনা করবে এই বিষয়ে কোন সন্দেহ নেই।হাইজিন অনেকটাই সুরক্ষিত থাকবে কারণ তারা পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা অনেক বেশী মেনে চলে।খাবারের মান ও অনেকটাই ভাল থাকবে।সব রকম মিলিয়ে অনেক বেশী পুষ্টিকর খাদ্য ই বাচ্চারা পাবে যা সপ্তাহে একটা ডিম থেকে আসতে পারেনা। আলুর ঝোল আর পোকা ধরা চালের ভাত খেয়ে কোন পুষ্টি হয়না বাচ্চাদের।মিলমেকার বা সোয়া নাগেটস কেমিক্যালে ভরা,কোন মানুষের এ সেগুলো খাওয়া উচিৎ না। কখনও খেলেও গরম জলে ফুটিয়ে তারপর সাদা জল না বেড় হওয়া পর্যন্ত জলে ভাল করে ধুয়ে জল চিপে বেড় করে তারপর রান্না করা উচিৎ।সেখানে ওই মিল মেকার ডাইরেক্ট ঝোলে দিয়ে বাচ্চাদের খাওয়ানো হয় ফলে বাচ্চাদের পেট ব্যাথা হয় বলে জানা যায়।তারমানে বাচ্চাদের খাওয়ানোর নামে তো শারীরিক ক্ষতি ই করা হয়।কোন রকম শাক,সবজি দেওয়া হয়না, ডাল দেওয়া হয়না,মাছ,মাংস ও দেওয়া হয়না,পনির বা দুধ ও দেওয়া হয়না,রুটি বা ফল ও দেওয়া হয়না,ঘি বা বাটার ও দেওয়া হয়না।কিছু ই না দিয়ে বাচ্চাদের পুষ্টি নিয়ে এখন সবার চিন্তায় ঘুম পালিয়ে চলে গেছে।ইসকন তো বলছে সব কিছু দেবে তাই সেটা নিশ্চই গ্রহনযোগ্য।তবে তারাও মিলমেকার খাওয়াবে বলছে যেটাকে আমি সমর্থন করছি না। অনেকে রামকৃষ্ণ মিশনকে কেন দায়িত্ব দেওয়া হলোনা সেই প্রশ্ন তুলছে,তারা মাছ মাংস দিত বলা হচ্ছে। তবে রামকৃষ্ণ মিশনকে দায়িত্ব দিলে কি লাভ হতো?একে তো রামকৃষ্ণ মিশনের এমন কোন অভিজ্ঞতা নেই,দ্বিতীয়ত ওরা কর্ম বিমুখ,অলস,বিলাসী ওদের দ্বারা হতো ই না।ওদের ইসকনের মত গোপালন করার ব্যবস্থা নেই তাই যথেষ্ট দুধ,পনির,ঘি ওদের তো নেই ই দেবে কোথা থেকে?এছাড়া যেটা গুরুত্বপুর্ন কথা সেটা হলো ওরা নিজেরা প্রচুর মাছ,মাংস,ডিম,দুধ,পায়েস খেলেও অন্য কাউকে কিছুই খাওয়ায় না।জনগণকে জলের মত খিচুড়ি(যার মধ্যে খারাপ চাল,গম,সাবু, ডাল যা খুশী তাই দেয় গরুর জাবরার মত)আর আলুর ঝোল আর এক চামচ পায়েস নামের সামান্য দুধ ভাত খাওয়ায়।ওদের ভাল খাওয়ানোর মত মন বা চরিত্র কোনটাই নেই।যারা মোটা মোটা ডোনেশন দেয় তাদের আলাদা স্পেশাল হলে নিয়ে গিয়ে পোলাউ পনির খাওয়ায় মাছ,মাংস,ডিম কাউকেই খাওয়ায় না। এবার বলা যায় কোন NGO কে কেন দায়িত্ব দেওয়া হলো না?তারা আমিষ খাওয়াতো।কথা হলো যেখানে সরকার ই অর্থ চুরি করে খাওয়ায়নি,স্কুল কর্তৃপক্ষ চুরি করে খাওয়ায়নি সেখানে কোন NGO চুরি করবেনা,ভাল করে খাওয়াবে এই নিশ্চয়তা কোথায়?কুম্ভে আদানী খাওয়ানোর আয়োজন করেছিলেন কিন্তু সেটাও ইসকনের মাধ্যমেই কারণ তারা এই কাজ সফল ভাবে করতে পারে।কোন প্রাইভেট সংস্থা ও কি দাবী করেছে তারা সক্ষম?বা চুরি না করে তারা ঠিকমত খাওয়াবে?সবদিক বিবেচনা করে আপাতত ইসকনকে নির্বাচন করা ই সঠিক পদক্ষেপ বলে মেনে নিতে হয়। এবার ইসকনের বিপক্ষে বেশ কিছু কথা না বললেই নয় যদিও সেসব খাদ্যের মান নিয়ে নয় কারণ সে বিষয়ে এখুনি বলার সময় আসেনি। ইসকন এমন একটা সংস্থা যারা সম্পূর্ণ সনাতন ধর্মকে স্বীকার তো করেই না উল্টে সনাতন ধর্ম মানেই ইসকন এমন কথা ই বলে থাকে।এর অর্থ তারা সনাতন ধর্মের সব মত আর পথকে অবজ্ঞা করে,অসম্মান করে।শুধু চৈতন্য দেবের পথকে ই মান্যতা দেয়।সনাতনীদের ধর্ম এটা নয়।সনাতন মানে শৈব,সনাতন মানে শাক্ত,সনাতন মানে বৈষ্ণব,সনাতন মানে গাছ পূজারী,সনাতন মানে পাথর পূজারী,সনাতন মানে নদী পূজারী,সনাতন মানে সাপ পূজারী,সনাতন মানে আকাশ পূজারী,সনাতন মানে বাতাস পূজারী,সনাতন মানে সূর্য পূজারী।সনাতন মানে সমস্ত বিশ্ব চরাচর সমস্ত প্রকৃতির মাঝেই ইশ্বর আবার ইশ্বরের মাঝেই সমস্ত বিশ্ব চরাচর।সনাতন কখনো ই শুধুমাত্র কৃষ্ণের পূজারী হতে পারেনা বা শুধু মাত্র কৃষ্ণ পূজা মানেই সনাতন হতে পারেনা।শুধুমাত্র কৃষ্ণ পূজা আগামী দিনে সবাইকে যীশুর অনুগামী করে তুলবে কারণ ওদের মধ্যে অনেকেই এখন ই বলে থাকে কৃষ্ণ মানেই যীশু।প্রভুপাদ গীতার ভিন্ন অর্থ করেছেন,কৃষ্ণকে ই একমাত্র ইশ্বর বলেছেন।শুধু মাত্র নিরামিষকেই খাদ্য বলেছেন,আমিষকে অখাদ্য বলেছেন। প্রভুপাদ (অভয়চরণ দে) তাঁর শৈশব ও যৌবনের শুরুতে প্রচলিত বাঙালি গৃহস্থ পরিবারের সদস্য ছিলেন। তাঁর জীবনের বিষয়ে যা জানা যায় তিনি জন্মেছিলেন এক বৈষ্ণব পরিবারে। তাঁর বাবা গৌরমোহন দে ছিলেন গভীরভাবে গৌড়ীয় বৈষ্ণব সম্প্রদায়-এর অনুসারী। পরিবারে সাধারণত নিরামিষ ভোজনের প্রচলন ছিল। প্রভুপাদ নিজেই বিভিন্ন সময়ে উল্লেখ করেছেন যে ছাত্রজীবনে বন্ধুদের অনুরোধে এক-দু’বার মাংস চেখে দেখেছিলেন, কিন্তু তা তাঁর ভালো লাগেনি এবং পরে আর খাননি।তার মানে ওনার মনে আমিষ নিয়ে কোন সমস্যা ছিলনা তবে ছোট থেকে মানুষ যা খেতে অভ্যস্ত তার বাইরে নতুন কিছু খেতে ভাল লাগবে না এটাই স্বাভাবিক কথা।তেমন ই যারা ছোট থেকে আমিষ খায় তাদের হঠাৎ করে নিরামিষ খাওয়ার অভ্যাস করাতে গেলে তাদের ও ভাল লাগবে না। তরুণ বয়সে তিনি জাতীয়তাবাদী আন্দোলন ও মহাত্মা গান্ধী-র স্বদেশি আদর্শের প্রতি সহানুভূতিশীল ছিলেন। এমনকি বিদেশি পণ্য বর্জনের অংশ হিসেবে ব্রিটিশ শিক্ষাব্যবস্থার কিছু সুযোগও প্রত্যাখ্যান করেছিলেন।গান্ধীর অনুসারী হওয়ার জন্য ও নিরামিষ খাওয়ার প্রতি আগ্রহী হয়েছেন কারণ গান্ধী দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে ভারতে ফিরে আসার পর নিরামিষ বিলাসিতা শুরু করেন,নিরামিষ খাওয়ার অভ্যাস করেন লক্ষ লক্ষ টাকা খরচের বিনিময়ে। পরে ১৯২২ সালে ভক্তিসিদ্ধান্ত সরস্বতী ঠাকুর-এর সঙ্গে সাক্ষাৎ তাঁর জীবনে বড় মোড় আনে। এরপর তিনি ধীরে ধীরে গৌড়ীয় বৈষ্ণবধর্মের প্রচার কে জীবনের প্রধান লক্ষ্য করেন এবং পরবর্তীতে ইন্টারন্যাশনাল সোসাইটি ফর কৃষ্ণ কনশাসনেস (ISKCON) প্রতিষ্ঠা করেন। এমন নাম দেওয়ার ই বা কি অর্থ?কৃষ্ণ তো একান্ত ই ভারতের দেবতা তাঁকে আন্তর্জাতিক চরিত্র বানানোর কি অর্থ?প্রায়োজনটাই বা কি? ইন্টারন্যাশনাল সোসাইটি ফর কৃষ্ণ কনশাসনেস (ISKCON)-এর ক্ষেত্রে Society-এর অর্থ হলো– সমিতি সংঘ সংস্থা সমাজ Consciousness শব্দের বাংলা অর্থগুলো হলো— চেতনা সচেতনতা চৈতন্য (বিশেষত আধ্যাত্মিক বা দার্শনিক প্রসঙ্গে) বোধ তাই International Society for Krishna Consciousness-এর আসল বাংলা অর্থ হলো আন্তর্জাতিক কৃষ্ণচেতনার সমাজ কিন্তু ওরা বলে থাকে আন্তর্জাতিক কৃষ্ণভাবনামৃত সমিতি আন্তর্জাতিক কৃষ্ণভাবনামৃত সংঘ আন্তর্জাতিক কৃষ্ণভাবনামৃত সংস্থা ইত্যাদি। ইন্টারন্যাশনাল সোসাইটি ফর কৃষ্ণ কনশাসনেস (ISKCON)-এর ক্ষেত্রে Krishna Consciousness-এর আক্ষরিক অর্থ হবে: কৃষ্ণচেতনা কৃষ্ণ-সচেতনতা কৃষ্ণ-চৈতন্য তবে ইসকনের বাংলা প্রকাশনায় “কৃষ্ণভাবনামৃত” শব্দটি বেশি ব্যবহৃত হয়। এটি আক্ষরিক অনুবাদ নয়; বরং একটি ভাবানুবাদ। শব্দটি গঠিত হয়েছে: কৃষ্ণ ভাবনা অমৃত অর্থাৎ, “Krishna Consciousness”–এর সরাসরি বাংলা “কৃষ্ণচেতনা”, কিন্তু ইসকনের নিজস্ব পরিভাষায় “কৃষ্ণভাবনামৃত” শব্দটি প্রতিষ্ঠিত ও বহুল ব্যবহৃত। কিন্তু কথা হলো বাংলা এবং ভারতীয় শব্দগুলো ব্যবহার না করে উনি “রামকৃষ্ণ মিশনের” মত ই কেন বিদেশী শব্দ ব্যবহার করলেন?প্রভুপাদ শিক্ষা জীবনে স্কটিশ চার্চ কলেজে লেখাপড়া করেছেন তাই বলাই যায় তিনি খ্রিস্টান ধর্মের প্রতি বিরূপ ছিলেন না কারণ কলেজ টা ই চার্চের অধীনে।ওনার বৈষ্ণব মত প্রচারের ইচ্ছা হতেই পারতো অন্য ধর্মাবলম্বীদের কাছে কিন্তু হিন্দুদের আবার হিন্দু বানানোর মানেটা কি?মেইনস্ট্রিম হিন্দুদের উনি ইসকনী বানানোর প্রথা কেন চালু করলেন?উনি যদি শঙ্করাচার্যের মত সব পথকে মান্যতা দিতেন তাহলে উনি নিশ্চই গ্রহনযোগ্য হতেন কিন্তু উনি সব পথকে তুচ্ছ করে, হেয় করে শুধুমাত্র বৈষ্ণব মতকে ই একমাত্র পথ বলে প্রতিষ্ঠিত করেছেন।বৈষ্ণব জীবন যাত্রা ছাড়া সব ধরনের জীবন যাত্রাকে নিকৃষ্ট বলেছেন।এমন প্রবৃত্তি তো আব্রাহামিকদের মত হিন্দু বিরোধী।মুসলমান এবং খ্রিষ্টানরা এমন হিন্দু বিরোধিতা করে থাকে,এভাবে ধর্মান্তরিত করে থাকে,এভাবে নিন্দা এবং সমালোচনা করে থাকে,ঘৃনা করে থাকে,অবজ্ঞা করে থাকে। এই ইসকন যখন স্কুলের বাচ্চাদের নিরামিষ খাওয়াবে তখন তাদের মাথায় ঢুকিয়ে দেবে আমিষ খাদ্যের প্রতি ঘৃনা করা,কৃষ্ণ ছাড়া বাকি সব দেবদেবীকে ঘৃনা করা। গরীব বাচ্চারা বাড়িতে ভাল খেতে পায়না,অনেক সময় মোটেই পায়না তারা ইসকনের খাদ্য খেয়ে তাদের বোঝানো কথা মেনে বাড়িতে আমিষ খাওয়ার বিরোধিতা করবে,কৃষ্ণ ছাড়া অন্য দেবদেবী পূজার বিরোধিতা করবে।এটা অনেকটাই খ্রিস্টানদের রাইস ব্যাগ পলিসির মত কাজ করবে,খাদ্যের বদলে মগজ দখল করা,হৃদয় দখল করা।এর সাথে ওদের মুসলমান,খ্রিস্টানদের মত এ নাছোড় মানসিকতা।স্কুলের পর ওরা সব ছাত্র ছাত্রীর বাড়িতে হানা দেবে ইসকনী বানাবার জন্য,যেটা ওরা করে থাকে পাড়ায়,পাড়ায়,বাড়িতে,বাড়িতে গিয়ে।এরফলে মেইনস্ট্রিম হিন্দু সমাজ ভেঙ্গে যাবে,কোন পথের অস্তিত্ব থাকবে না,কোন মতের অস্তিত্ব থাকবে না।খুব দ্রুত ই সম্পূর্ণ হিন্দু সমাজ ইসকনী সমাজে রূপান্তরিত হয়ে যাবে।যারা হবেনা তাদের অবজ্ঞা করা হবে,ঘৃনা করা হবে যা ওরা করে থাকে। কি?আব্রাহামিকদের মত হচ্ছে না কি?এই ধাপ পার করার পর যে ধাপ আসবে তাতে সবাইকে একসাথে বোঝানো হবে কৃষ্ণ ই যীশু।কি?কিছু করার থাকবে তখন?প্রতিবাদ করার জন্য কেউ থাকবে অবশিষ্ট?যদি কিছু লোক থেকেও যায় তারা প্রতিবাদ করতে পারবে?বা প্রতিবাদ করলে টিকে থাকতে পারবে? অন্যদিকে বিজেপি এবং আরএসএস সমেত হিন্দী ভাষীরাও বেশির ভাগ ই নিরামিষ খাদ্যের পক্ষে বলে, বাঙালীরা আমিষ খায় বলে তাদের রাক্ষস বলে,অসম্মান করে তাই তারাও সবাই ঘুর পথে পশ্চিমবঙ্গে নিরামিষ খাদ্য চাপানোর চেষ্টা করছে।এই পথে জয় আসবেই কারণ রাইস ব্যাগ পলিসি সব সময় ই সফল হয়।তারসাথে বাঙালি খাদ্য(আমিষ বাদে বিশাল সম্ভার),সংস্কৃতি,পোশাক,ভাষা সব তো কব্জা করেই নিয়েছে সেসব খ্রিস্টান সম্পদ বানিয়ে নেবে) ইসকন যে খ্রিস্টানদের এজেন্ট সংস্থা,CIA এজেন্ট সংস্থা সেসব সমেত আমি কেন এসব কথা বলছি তার কারণগুলো আরেকটা লেখায় আনবো।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *